বুধবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৩

২০ কোটির পর কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর নোবেলের আরো ৮০ লাখ টাকা জব্দ

২০ কোটির পর কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর নোবেলের আরো ৮০ লাখ টাকা জব্দ


 কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ কায়সার নোবেলের আরো ৮০ লাখ টাকা জব্দ করেছে দুদক।

রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দীনের নেতৃত্ব দুদকের একটি দল কক্সবাজার জেলা ডাকঘরে নোবেলে নামে সঞ্চয়ী হিসাবে থাকা এসব টাকা জব্দ করেন।

এর আগে ১লা সেপ্টম্বর চার ব্যাংক থেকে নোবেলের ২০ কোটি টাকা জব্দ করেছিলো দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত একটি মামলার প্রেক্ষিতে জাবেদ কায়সার নোবেলসহ আরো ১০ জনের ব্যাংক ও সঞ্চয়ী হিসাব অনুসন্ধান করেছে দুদকে। অনুসন্ধানে জাবেদ কায়সার নোবেলের নামীয় বেসিক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, মিচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক এবং ট্রাস্ট ব্যাংক কক্সবাজার শাখায় ২০ কোটির বেশি টাকার সন্ধান পাওয়া যায়। গত ১ সেপ্টেম্বর এসব টাকা জব্দ করা হয়। অনুসন্ধানে নোবেলের নামে জেলা ডাকঘরে আরো বিপুল টাকার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে অভিযান চালিয়ে ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

সূত্র মতে, ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কথিত মধ্যস্থতার (দালালি) মাধ্যমে এসব হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তাই নোবেলের নামীয় এসব ব্যাংক ও সঞ্চয়ী হিসাবে রক্ষিত টাকাগুলো জব্দ দেখানো হয়েছে।

দলের সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেন কয়েস লোদী

দলের সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেন কয়েস লোদী


 সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেন চার বারের সিটি কাউন্সিলর ও সাবেক প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েছ লোদী।

বৃহস্পতিবার (১৮ মে) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা কয়েস লোদী এ ঘোষণা দেন।

নগরীর লামাবাজারস্থ একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সিসিকের ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কয়েছ লোদী জানান, দলের সিদ্ধান্ত মেনে বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে তিনি কোনো নির্বাচনে অংশ নেবেন না।

কয়েস লোদী বলেন, আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দলীয়ভাবে অংশ নিচ্ছে না। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই সরকারের অধিনে কোনো পাতানো নির্বাচনে না যাওয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন। বিএনপির দলীয় এ সিদ্ধান্ত মেনে সরকার ও সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের অধীনে আমি কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব না।

সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি কয়েস লোদী বলেন, চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অসংখ্য নেতাকর্মীদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এমন অবস্থায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া মানে সেই সকল নেতাকর্মীদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা, দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা; এমনকি দেশের কোটি জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা।

তার ভাষ্য, দেশে গণতন্ত্র নেই। মানুষ নিজের ইচ্ছে মতো ভোট দিতে পারছে না, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী, ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনার, জুনায়েদ আহমদ, আনসার আলীসহ বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীদের গুম করে রাখা হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে শত শত মামলা চলমান। অসংখ্য নেতাকর্মী আজ কারাগারে বন্দি। আমি নিজেও একাধিক মিথ্যা মামলার আসামী।

২০০২ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেব দায়িত্ব পালন করে আসা কয়েস লোদী বলেন, দীর্ঘ ২০ বছরে আমার ওয়ার্ডবাসী আমাকে যে ভালোবাসা ও সম্মান দিয়েছেন এই ঋণ আমি কোন দিনই শোধ করতে পারব না। যত দিন বেঁচে থাকব তা আমার জীবনে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক কয়েস লোদী অভিযোগ করেন, সিলেট সিটি কর্পোরশেন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে সিলেট সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক শামীম মজুমদার এমনকি সিসিকের ৪নং ওয়ার্ডের পানি শাখার কর্মচারী সাইফুর রহমান ইমনসহ নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডের বহুসংখ্যক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে শুরু করে পরবর্তীতে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছি। বিএনপির সাথে আমার সম্পর্ক মা ও সন্তানের মতো। আমি যেহেতু বিএনপির কর্মী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বুকে লালন করি, সেহেতু আমার ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়ার চেয়ে আমার দল ও আমার দেশ বড়। আমার কাছে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খোকনকে পিটিয়ে পুলিশে দিলো ছাত্রলীগ

ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খোকনকে পিটিয়ে পুলিশে দিলো ছাত্রলীগ


 জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনকে পিটিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছে ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে এ ঘটনা ঘটে।

ছাত্রদলের এক নেতা জানান, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খোকন গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সম্রাটসহ তার মগবাজার নয়াটোলার বাসায় যাবার পথে মগবাজার মাজারের সামনে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী তার পথ রোধ করে। তারা বলে, তুই ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খোকন না? এ কথা বলেই ছাত্রলীগের কর্মীরা এলোপাতাড়ি মারতে থাকে খোকনকে। মুহূর্তের মাঝেই ১৫ থেকে ২০ মোটরসাইকেলযোগে সেখানে ছাত্রলীগের আরও কর্মী এসে তাদের সাথে যোগ দেয়। তার পাঁচ মিনিট পর পুলিশের পোশাকে চারজন দুটি মোটরসাইকেলে এসে আহত খোকনকে তুলে নিয়ে যায়। এসময় দৌড়ে রক্ষা পান ছাত্রদলের সাবেক নেতা সম্রাট।

ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং যুবদলের গ্রাম সরকার বিষয়ক সহ সম্পাদক মহিনদ্দিন রাজু জানান, আমরা খবর পেয়ে খোকনের সন্ধানে হাতিরঝিল থানায় যোগাযোগ করলে থানা থেকে জানানো হয়, খোকন থানায় নেই।

১৭ দিন পর উদ্ধার টানেলে আটকা ৪১ শ্রমিক


১৭ দিনের আটকাবস্থা পর ভারতের উত্তরাখণ্ডের টানেলের ভেতর থেকে বের করে আনা হয়েছে সব শ্রমিকদের। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে অভিযান শুরুর পর ৪১ জনকে টানেলের ভেতর থেকে বের করা হয়। খবর এনডিটিভির।

১২ নভেম্বর থেকে আটকে থাকা শ্রমিকদের বের করে আনতে ৬০ মিটার লম্বা একটি পাইপ স্থাপন করা হয়। এই পাইপের মধ্যে দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি চাকাচালিত স্ট্রেচারে করে শ্রমিকদের বাইরে নিয়ে আসা হয়। দীর্ঘ ১৭ দিনের দুঃস্বপ্নময় এক যাত্রার পর বাইরে আলোর মুখ দেখছেন এসব শ্রমিক।

এনডিটিভি জানায়, শ্রমিকদের উদ্ধারে প্রথমে পাইপটি দিয়ে ভেতরে যান বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন উদ্ধারকারীরা। কিভাবে চাকাচালিত স্ট্রেচারে করে বের হতে হবে— সে ব্যাপারে আটকে পড়া শ্রমিকদের নির্দেশনা দেন তারা। এছাড়া শ্রমিকদের স্বাস্থ্যও পরীক্ষা করেন তারা। এরপর তাদের স্ট্রেচারে শুইয়ে দেওয়া হয়। শোয়ানোর পর বাইরে থেকে টেনে টেনে শ্রমিকদের বের করে নিয়ে আসা হয়।

সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, উদ্ধার কাজটি ধীরে ধীরে করা হয়। যেন বাইরে এসে শ্রমিকরা আগে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেন। বর্তমানে সেখানকার তাপমাত্রা মাত্র ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ


 দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার সংখ্যা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থাটির দেওয়া তথ্যমতে বাংলাদেশের প্রকৃত জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সংস্থাটির কার্যালয়ে আয়োজিত প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়।

সেখানে জানানো হয়, দেশের মোট জনসংখ্যার ১১ কোটি ৬০ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ জন গ্রামে বসবাস করেন। আর শহরে বাস করেন ৫ কোটি ৩৭ লাখ ৬৩ হাজার ১০৭ জন।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, ২০১১ সালে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৯৭৬ জন করে বাস করলেও ২০২২ সালে এসে প্রতি বর্গকিলোমিটারে এক হাজার ১১৯ করে বাস করছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি আছেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন। মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করছেন প্রকল্প পরিচালক মো. দিলদার হোসেন।

এর আগে প্রাথমিক প্রতিবেদন দেয় সংস্থাটি। পরে তৃতীয় পক্ষ হিসাবে যাচাই-বাছাই করে আরও একটি প্রতিবেদন দেয় বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দেশের জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১। গত জুলাইয়ে বিবিএস প্রকাশিত পরিসংখ্যানে যা দেখানো হয়েছিল ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬।

২০০১ সালে দেশে জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৪৩ লাখ ৫৫ হাজার ২৬৩ জন। ১৯৯১ সালে ছিল ১০ কোটি ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৯৯২ জন। ১৯৮১ সালে ছিল ৮ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার ৯৬৫ জন এবং ১৯৭৪ সালে দেশে জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ৭১ জন।

সংসদ ভেঙে দেয়া, বিরোধী নেতাকর্মীদের মুক্তির আহ্বান

সংসদ ভেঙে দেয়া, বিরোধী নেতাকর্মীদের মুক্তির আহ্বান


 মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশে আবারও একতরফা বা সাজানো নির্বাচন আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার এক আলোচনা সভায় তারা বলেন, নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকার নির্বিচার মামলা, গ্রেপ্তার ও সাজা দিয়ে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ রুদ্ধ করছে।

‘আবারও সাজানো নির্বাচন: নাগরিক উৎকণ্ঠা’ শীর্ষক আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর পান্থপথে দৃক পাঠ ভবনে। আলোচকদের আশঙ্কা, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক না হলে গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। তাই বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মুক্তি দিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনের নতুন তফসিল দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

আলোচনায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, বর্তমান সংবিধান অনুসারে ডিসেম্বরের শেষ দিকে সংসদ ভেঙে দিলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ রয়েছে। তার মতে, ‘সিরিয়ার আসাদ মডেলে’ এ দেশে বিরোধী দলের আন্দোলন দমন করা হচ্ছে। এ অবস্থা কোনোভাবে সমর্থন করার মতো নয়। তিনি বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মুক্তি দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানান।

আলোচনার সভাপতিত্ব করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, এখন যে নির্বাচনের পরিকল্পনা হচ্ছে, তা শুধু নিয়ন্ত্রিত বা সাজানো নয়, তা একতরফা নির্বাচন। সঠিক ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে ভোটারদের যথার্থ বিকল্প ও বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দরকার।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, ২৮ অক্টোবরের পর সব শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভয়াবহ একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মুখোশ পরে বাড়ি বাড়ি হামলা করা হচ্ছে, পুলিশ কিছু করছে না। তিনি বলেন, শুধু ভোট নয়, মজুরি, শিক্ষা আর স্বাস্থ্যের কথা বলতে গিয়েও মানুষ এখন নির্যাতিত হচ্ছে।

আনু মোহাম্মদ বলেন, সরকার সব সময় বলছে, তারা খুবই জনপ্রিয় এবং জনগণ তাদের সঙ্গে আছে। তাহলে তো সরকারের এমন একটি অবস্থা তৈরি করা উচিত, যাতে জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারে।

নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা শিরিন হক বলেন, ‘সংলাপ নিয়ে সরকারের ধারাবাহিক উপেক্ষা দেখে বোঝা যায় একতরফা নির্বাচনের মানসিকতা তাদের অনেক আগে থেকেই ছিল। তাদের এ পরিকল্পনা দেখে আমরা ভীত, তরুণসমাজ হতাশাগ্রস্ত।’

আলোচনার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনের আয়োজন ২০১৮ সালের চেয়েও নগ্ন, বেপরোয়া ও উদ্ধত। এ নির্বাচনের ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট ঘনীভূত হবে। আর এই নির্বাচনকে সমর্থনকারী দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি অন্যায্য সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পাবে।

আসিফ নজরুলের মতে, বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বিচার মামলা, সাজা প্রদান এবং নির্যাতনের মাধ্যমে সরকার দুটি লক্ষ্য অর্জন করতে চায়। এক. নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় বিএনপির অংশগ্রহণের সুযোগ রুদ্ধ করা। দুই. সাজানো নির্বাচনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আন্দোলনের শক্তিকে ধূলিসাৎ করা। এ কাজে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করছে সরকার।

ব্রতীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন মুরশিদ বলেন, নির্বাচন কমিশন সবচেয়ে শক্তিশালী। তাদের উচিত হবে অনৈতিক ও অযৌক্তিকভাবে যাদের রাজবন্দী হিসেবে আটকে রাখা হয়েছে, তাদের মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

আলোচনা সভা পরিচালনা করেন আলোকচিত্রী ও দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলম। এতে আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী, সামাজিক আন্দোলনের কর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

লালবাহিনী জানে না পুলিশ

লালবাহিনী জানে না পুলিশ


 পরনে খাকি প্যান্ট। গায়ে লাল টি-শার্ট। চোখে কালো চশমা। হাতে ও কোমরে অত্যাধুনিক অস্ত্র। সম্প্রতি রাজবাড়ী জেলার প্রধান সড়কে অস্ত্র হাতে মহড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  ছড়িয়ে পড়ে। জেলা পুলিশের বিশেষ এই গ্রুপকে নিয়ে চলছে নানান আলোচনা-সমালোচনা। স্পেশাল টাস্কিং গ্রুপ নামে এই টিম গঠন করেছে জেলা পুলিশ। তবে বিষয়টি জানে না পুলিশ সদর দপ্তর। পুলিশের সাবেক একজন আইজিপি জানিয়েছেন এটা একজন পুলিশ সুপার করতে পারেন না। ওই টিমের নাম ও পোশাক নিয়ে ইতিমধ্যে আপত্তি জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার জি এম আবুল কালাম আজাদের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে গঠিত ৩০ সদস্যের দুটি বিশেষ টিম তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজবাড়ী জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে বিশেষ এই টহল টিম বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেছে। রাজবাড়ী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতেখায়রুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপারের সার্বিক নির্দেশনা এবং তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ একাধিক কর্মকর্তার নেতৃত্বে এই স্পেশাল টাস্কিং গ্রুপ গঠিত হয়। ইতিমধ্যে আমরা পুলিশের নতুন টিম এসটিজি নিয়ে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। তিনি বলেন, টিমটির ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক অস্ত্রের পাশাপাশি বিশেষ পোশাক ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট রয়েছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক যেকোনো নাশকতা এবং তৎপরতার ক্ষেত্রে এটি কাজ করবে। নির্বাচনের পরেও কুইক রেসপন্স টিম হিসেবে এসটিজি গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। 

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশন) আনোয়ার হোসেন বলেন, এটা হচ্ছে ইন্টারনাল ম্যানেজমেন্ট। প্রত্যেক জেলায় পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি কুইক রেসপন্স টিম থাকে। কোনো একটি ঘটনা ঘটলে যাতে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে। রাজবাড়ী পুলিশ সুপারকে বলা হয়েছে স্পেশাল টাস্কিং ফোর্স নাম নয়, কুইক রেসপন্স টিম হিসেবে তারা অন্য সব ইউনিটের মতো কাজ করবেন। লাল গেঞ্জি পরিহিত বিশেষ এই পুলিশের পোশাক সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশের এই ভিডিওটি আমি দেখেছি। এভাবে তাদের না করার জন্য বলা হয়েছে। এটা তো পুলিশের কোনো অনুমোদিত পোশাক না। সদর দপ্তর থেকে আমরা তাদের বলেছি- পুলিশের অনুমোদিত পোশাক যেটা সেটাই তারা পরবেন। কোনো কারণে যদি প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে তারা সাদা (সিভিল) পোশাকে ডিবি পুলিশের মতো ডিউটি করবেন। সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু এটা পুলিশের কোনো অনুমোদিত পোশাক না।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক মানবজমিনকে বলেন, একজন পুলিশ সুপার তার এলাকায় অপরাধ দমনে যেকোনো কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। তারা পোশাক হিসেবে পুলিশের পোশাক পরবেন। আইনগতভাবে এটা তিনি করতে পারেন না। আইনে বলা আছে পুলিশের পোশাকের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডি’র মতো পোশাক পরতে পারবেন। সিভিল কোডে যেটা বলা আছে তাই পরবেন। পুলিশের পোশাক পরা আর বিশেষ ইউনিফর্ম এক কথা না। বিশেষ ইউনিফর্ম তিনি তৈরি করতে পারেন না।

রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার জি এম আবুল কালাম আজাদকে এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন এবং ক্ষুদেবার্তা পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি।-মানবজমিন

ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে যুবদল নেতাকে

ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে যুবদল নেতাকে


কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত যশোরের যুবদল নেতা আমিনুর রহমান মধুকে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে হাসপাতালে। এছাড়া তার পরিপূর্ণ চিকিৎসায়ও বাধা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবারের। পুলিশের এমন আচরণে মর্মাহত পরিবার ও স্বজনরা। এমনটি সমীচীন নয় বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন আইনজীবীরা। আমিনুর রহমান মধু যশোর জেলা যুবদলের সহসভাপতি। তিনি সদর উপজেলার আমদাবাদ ডিগ্রি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাহিত্য ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক।

মধু একই সংগঠনের যশোর জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট যশোর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। দলীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২রা নভেম্বর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের আমদাবাদ ডিগ্রি কলেজ থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় ১২ই নভেম্বর আমিনুর রহমান মধু হৃদরোগে আক্রান্ত হন। কারাগার থেকে তার দুই পায়ে ডান্ডাবেড়ি ও হাতকড়া লাগিয়ে প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ওই রাতেই তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

পরদিন ১৩ই নভেম্বর কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়। দুই পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে ও ডান হাতে হাতকড়া লাগানো অবস্থায় হাসপাতালের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয় তাকে। আবার ওই হাতে একগুচ্ছ দড়ি পেচানো ছিল।  তার শরীরে ডান্ডাবেড়ি এবং হাতকড়া এমনভাবে লাগানো যাতে সামান্য নড়েচড়ে বসারও কোন সুযোগ নেই। তার বাম হাতে ক্যানোলা লাগানো।বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ( খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, একটা ফ্যাসিস্ট সরকারের হাতে আইনের শাসন ও মানবাধিকার কতটুকু পর্যদুস্ত হতে পারে, আমিনুর রহমান মধুকে জামিন না দেয়া ও চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার ঘটনা তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। তাই সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের উচিত, অবিলম্বে রাজপথে নেমে এসে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই অবৈধ কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন ঘটানো।

বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইবাদত আলী খান বলেন, বাংলাদেশে আইন কাগজ কলমে আছে, বাস্তবে নেই। আমিনুর রহমান মধু যে রোগে অসুস্থ তাতে যে কোন সময় একটা দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তার ওপর একজন শিক্ষককে এমন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে রাখা দেশ ও জাতির জন্যে খুবই লজ্জাজনক। তার স্ত্রী- সন্তান অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাই আমি আশা করবো আদালত তাকে জামিন দিয়ে সুচিকিৎসার সুযোগ করে দেবেন।

এ বিষয় যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর বলেন, বিষয়টা খুবই আমনবিক। একজন হৃদরোগ আক্রান্ত ব্যক্তিকে এভাবে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রেখে চিকিৎসা দেয়া মোটেও সমীচীন নয়। আইন আদালত- মানুষের কল্যাণের জন্যে, অকল্যাণের জন্যে নয়।

আমিনুর রহমান মধুর স্ত্রী নাহিদা সুলতানা লাবনী বলেন, পরিবারের অভিভাবক গুরুতর অসুস্থ হয়ে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আমি আমার দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। এমতাবস্থায় তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না। তার ওপর কত অমানবিকভাবে দুই পায়ে ডান্ডাবেড়ি ও হাতে হাতকড়া পরিয়ে রেখেছে। 

মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৩

সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগে মারামারি, আহত ৬

সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগে মারামারি, আহত ৬


 শোবিজ তারকাদের নিয়ে আয়োজিত সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন ৬ জন। শুক্রবার রাতে মিরপুরের শহিদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। মারামারিতে আহত হওয়া খেলোয়াড়দের রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক্স হসপিটালে ভর্তি করা হয়। আহতরা হলেন শিশির সরদার, রাজ রিপা, জয় চৌধুরী, আতিকুর রহমান, শেখ শুভ ও আশিক জাহিদ।

এদিন গ্রুপ পর্বে নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ ও দীপঙ্কর দীপনের দলের খেলা চলাকালীন মাঠে থাকা দুই দলের সতীর্থদের মাঝে উত্তেজনা ছাড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের খেলা শুরু হয়। তবে ম্যাচ শেষে রাত সাড়ে ১১টার পর ফের উত্তেজিত হয়ে পড়েন দুই দলের সতীর্থরা, যা একসময় মারামারিতে রূপ নেয়। সেখানে নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ ও অভিনেতা শরিফুল রাজ গায়ে হাত তোলেন বলে অভিযোগ করেন নায়িকা রাজ রিপা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান।

দীপঙ্কর দীপনের দলের খেলোয়াড় নায়ক জয় চৌধুরী জানান, নির্মাতা রাজ অভিনেতা মনোজ প্রামাণিককে মেরে ফেলার হুমকিও দেন। এ ছাড়া আয়োজকদের নামে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ এনেছেন তিনি।

নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা মনির খান শিমুল খেলছেন দীপঙ্কর দীপনের দলে। এই অভিনেতাও ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ তোলেন আয়োজকদের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।

তবে নির্মাতা দীপঙ্কর দীপন ও আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ বিষয়ে অফিসিয়াল বক্তব্য ও ব্যাখ্যা দেবেন তারা। অন্যদিকে নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ ও তার দলের সদস্যরা মারামারিতে জড়ানোর পরেই মাঠ ছাড়েন।

প্রসঙ্গত গত বৃহস্পতিবার দেশের শোবিজ তারকাদের নিয়ে প্রথমবারের মতো শুরু হয় ‘সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগ’। প্রায় দুই সপ্তাহ প্র্যাকটিস শেষে মিরপুর শহিদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজনের পর্দা নামবে ৩০শে সেপ্টেম্বর।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লো দু’দিন, আরও বন্দি-জিম্মি বিনিময়

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লো দু’দিন, আরও বন্দি-জিম্মি বিনিময়


ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও ইসরাইল ও গাজার যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানো হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। টাইমস অব ইসরাইল খবর দিয়েছে যে, কাতারের সফল মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির এই মেয়াদ বর্ধিত করা হয়েছে। ফলে এই মেয়াদ আজ মঙ্গলবার এবং আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর অর্থ হলো আরও বন্দিকে মুক্তি দেবে দুই পক্ষ। ইসরাইল প্রতিদিন মুক্তি দেবে ফিলিস্তিনি ৩০ জন করে বন্দিকে। সোমবার ৩৩ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরাইল। অন্যদিকে ১১ জন ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস।

ওদিকে বিশ্বনেতাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি। তিনি বলেছেন, বর্তমানে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি যাতে স্থায়ী হয়, সে জন্য তীব্র গতিতে এবং জরুরি ভিত্তিতে তা নিশ্চিত করতে হবে বিশ্ব নেতাদের।

আয়মান সাফাদির নেতৃত্বে ইউনিয়ন ফর দ্য মেডিটারেনিয়ান সম্মেলন চলছে। এতে যোগ দিয়েছেন ওই অঞ্চলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। একই সঙ্গে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে গেছেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল। এ সময়ে তিনি বিবৃতিতে ওই আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির একটিই মাত্র সমাধান। তাহলো- দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান। এ সময়ে তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাওয়া এবং অসলো চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করেন ইসরাইলকে। তিনি বলেন, আমরা সবাই এখানে চরম এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে চাই, তাহলো এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে। এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। আমাদের এই অঞ্চলকে টেকসই এবং ব্যাপক বিস্তৃত শান্তির অধীনে আনতে হবে।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়ে জো বাইডেন বলেছেন, এই চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে গভীরভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা এবং কূটনীতি নিয়ে গভীরভাবে যুক্ত আছি আমি, যাতে একটি ভাল ফল আসে। প্রথম দফা যুদ্ধবিরতির শেষদিন ছিল সোমবার। এদিন ইসরাইলি আরও ১১ জন জিম্মিকে মুক্তি দেয়া সম্পর্কে বাইডেন বলেন, এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০ জন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। তারা পরিবারের কাছে ফিরে গিয়েছেন। মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আছে টিনেজ, মায়েরা এবং দাদী-নানীরা। এ সময় তিনি ইসরাইলি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক চার বছর বয়সী আভিগেইল ইডানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এই বাচ্চাটার পিতামাতা হামাসের ৭ই অক্টোবরের হামলায় নিহত হয়েছেন। তারপর তাকে জিম্মি করে হামাস। জো বাইডেন বলেন, মুক্তি পাওয়ার পর আভিগেইলের পরিবারের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। সে যাতে যথাযথ যত্ন পায় তা নিশ্চিত করতে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে ইসরাইলের সঙ্গে কাজ করছি। এ সময় গাজা উপত্যকায় দুর্ভোগে থাকা নিরীহ মানুষের কাছে আরও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য কোনো দেশ ফিলিস্তিনিদের জন্য অধিক মানবিক সহায়তা দান করেনি। ইসরাইলি সব জিম্মি মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত কাতার ও মিশরকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।

ওদিকে পেন্টাগনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজায় মানবিক সহায়তা অবশ্যই বৃদ্ধি করার কথা ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের কাছে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। রাষ্ট্রীয় ও বিরাষ্ট্রীয় পক্ষকে বর্তমানের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময় তারা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ দু’দিন বৃদ্ধি করা নিয়েও কথা বলেন।

ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনি ৩ শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করার দায়ে এক মার্কিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সে হত্যার দায় স্বীকার করেনি। তার নাম জ্যাসন জে. ইটন (৪৮)। সোমবার ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। তার জামিন নামঞ্জুর করেছে আদালত। নিহত ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীরা হলেন হিশাম আওয়ারতানি, কিন্নান আবদেল হামিদ ও তাহসিন আহমেদ। শনিবার ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্ট ক্যাম্পাসের কাছে তাদেরকে গুলি করা হয়। এতে গুরুতর জখম হন তারা। পরে তাদের মৃত্যু হয়।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, দিপুর অভিষেক

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, দিপুর অভিষেক


 বিশ্বকাপের পর টেস্ট ক্রিকেট দিয়ে মাঠে ফিরছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এই ম্যাচ দিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তৃতীয় চক্রে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ।

এই ম্যাচে নতুন এক ক্রিকেটারের অভিষেকও দেখছে বাংলাদেশ। সিনিয়র ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতিতে এই টেস্টে জায়গা পাচ্ছেন শাহাদাৎ হোসেন দিপু। দলে ওপেনার হিসেবে আছেন মাহমুদুল হাসান জয় এবং জাকির হোসেন। উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালন করবেন নুরুল হাসান সোহান।

এই টেস্টে বাংলাদেশ একাদশ সাজিয়েছে একজন পেসার নিয়ে। শরীফুল ইসলামের পাশাপাশি বোলিং বিভাগ সামাল দিবেন তাইজুল ইসলাম, মেহেদি হাসান মিরাজ এবং নাঈম হাসান।

নিউজিল্যান্ড দলে বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে আছেন ইশ সোধি এবং এজাজ প্যাটেল। দলে খুব বেশি চমক রাখা হয়নি। বোলিং বিভাগে আছেন মোট ৫ বোলার। সোধি এবং এজাজকে সিলেটের সবুজ পিচে সঙ্গ দেবেন পার্ট টাইমার গ্লেন ফিলিপস। দলে আছে দুই পেসারও। অধিনায়ক টিম সাউদির সঙ্গে পেস বিভাগে আছেন কাইল জেমিসন।

বাংলাদেশ একাদশ
নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), জাকির হাসান, শাহাদাত হোসেন, মাহমুদুল হাসান, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ, নুরুল হাসান (উইকেটরক্ষক), তাইজুল ইসলাম, শরীফুল ইসলাম ও নাঈম হাসান।

নিউজিল্যান্ড একাদশ
টিম সাউদি (অধিনায়ক), ডেভন কনওয়ে, টম ল্যাথাম, কেইন উইলিয়ামসন, হেনরি নিকোলস, ড্যারিল মিচেল, টম ব্লান্ডেল (উইকেটকিপার), গ্লেন ফিলিপস, কাইল জেমিসন, ইশ সোধি ও এজাজ প্যাটেল।

ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ কমে ১৬ বিলিয়ন ডলারের নিচে

ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ কমে ১৬ বিলিয়ন ডলারের নিচে


 রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দেশে ডলারের যে সংকট শুরু হয়েছিল, তা এখনো কাটেনি। বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভের যে হিসাব গত সপ্তাহে প্রকাশ করছে, ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ তার চেয়ে অনেক কম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে, ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ এখন ১৬ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের কম।

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ২০২২ সাল থেকেই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি, ভোগ্যপণ্য ও পরিবহন খাতে খরচ বেড়ে যায়। ফলে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের আমদানি খরচ আগের তুলনায় অনেক বাড়ে। তবে সে তুলনায় দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়েনি। এতে আমদানির জন্য ডলারের যে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়, তা চাপ তৈরি করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর। কারণ, জরুরি জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, রাসায়নিক সারসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির দায় মেটাতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে।

গত ২০২১ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ছিল ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার (৪৮ বিলিয়ন)। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে তা কমে হয়েছে ২ হাজার ৫১৬ কোটি ডলার (২৫ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার)। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ ১ হাজার ৯৫২ কোটি ডলার (১৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার)। গত বুধবার ওয়েবসাইটে এই তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এই অর্থের পুরোটা ব্যবহারযোগ্য নয়। আইএমএফও সঠিকভাবে রিজার্ভের হিসাবায়ন করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে পরামর্শ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ এখন ১৬ বিলিয়ন ডলারের কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, রিজার্ভ এখন যে পর্যায়ে নেমেছে, তা সংকটজনক না হলেও উদ্বেগজনক। ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের আমদানি দায় মেটানো যাবে। এটাও ধরে রাখা হয়েছে জোর করে আমদানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে। তা না হলে আরও কমে যেত। এখন আর কৃত্রিমভাবে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা করার প্রয়োজন নেই। এই বাজারকে স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিতে হবে। তাহলে দাম কিছুটা বেড়ে পরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। তখন রিজার্ভ আবার বাড়বে।

মুস্তফা কে মুজেরী আরও বলেন, এখন খোলাবাজারে ডলারের দাম ১২৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ফলে কেউ না কেউ এই দামে ডলার কিনছে, এই দামে হুন্ডি করছে। বৈধ পথে পুরো প্রবাসী আয় দেশে আসছে না। যার মাধ্যমে আবার অর্থ পাচার হচ্ছে। আবার অন্য মাধ্যমেও অর্থ পাচার হচ্ছে। পাচারের অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগে সরকার সফল হয়নি, পাচারও ঠেকাতে পারেনি। ফলে অর্থনীতিতে সংকট এখন বহুমুখী। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এই সংকট সহসা কাটার সম্ভাবনা নেই।

রিজার্ভের হিসাব
বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২-এর ৭/অ ধারার বলে বৈদেশিক মুদ্রার ধারণ ও ব্যবস্থাপনার এখতিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার দায় অর্থাৎ আমদানি দায় পরিশোধের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে রিজার্ভ। আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য রীতি অনুযায়ী, সাধারণত কোনো দেশের হাতে তিন মাসের বৈদেশিক মুদ্রার দায় মেটানোর মতো মজুত থাকতে হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশ করা তথ্যে জানানো হয়েছে, গত বুধবার পর্যন্ত বিপিএম৬ অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ১৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। সেদিন মোট রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার। গত সপ্তাহে রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গেলেও বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় তা আবার বেড়ে ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। কারণ হিসেবে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভের অর্থ বিদেশে বিভিন্ন বন্ড, মুদ্রা ও স্বর্ণে বিনিয়োগ করে রেখেছে।

বিপিএম৬ অনুযায়ী, রিজার্ভ ১৯ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার দেখানো হলেও দেশের ব্যবহারযোগ্য বা প্রকৃত রিজার্ভ আরও কম। কারণ, ওই রিজার্ভ থেকে আইএমএফের এসডিআর খাতে থাকা ২০০ কোটি ডলারের বেশি, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাবে থাকা ১০০ কোটি ডলারের বেশি এবং এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন বা আকুর বিল প্রায় ৫০ কোটি ডলার বাদ যাবে। ফলে এসব দায় বাদ দিলে প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দাঁড়ায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের কিছু কম। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মধ্যে আইএমএফের দায় দ্রুত পরিশোধ করার চাপ নেই।

বাংলাদেশে ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে রিজার্ভ ছিল ৩০০ কোটি ডলার বা ৩ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে তা ১০০ কোটি বা ১ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ২০০১-০২ অর্থবছর পর্যন্ত রিজার্ভ ২ বিলিয়ন ডলারের (২০০ কোটি ডলার) স্তর ছুঁতে পারেনি। তবে এরপর ধীরে ধীরে রিজার্ভ বাড়তে থাকে। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে বৈশ্বিক মন্দা হলে রিজার্ভ সাত বিলিয়ন থেকে কমে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এরপর তা ধীরে ধীরে বাড়ে এবং কোভিডের কারণে আমদানি কমে প্রবাসী আয়ে বড় উত্থান হলে ২০২১ সালের আগস্টে মোট রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

রিজার্ভ বাড়ে–কমে কীভাবে
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ। অবশ্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বিভিন্ন সময় রিজার্ভের অর্থ বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। রিজার্ভ থেকে বেসরকারি খাতকে ঋণ দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, পরে যা আর কার্যকর হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের মূল উৎস প্রবাসী ও রপ্তানি আয়ের উদ্বৃত্ত ডলার ব্যাংকগুলো থেকে কিনে নেওয়া। এ ছাড়া বিদেশি ঋণ, বিনিয়োগ, অনুদান থেকে পাওয়া অর্থ সরাসরি যুক্ত হয় রিজার্ভে। পাশাপাশি জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশের বিভিন্ন বাহিনীর আয়ও সরাসরি রিজার্ভে যুক্ত হয়।

অন্যদিকে, চাহিদা বেড়ে গেলে ডলার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত প্রায় দুই বছরে এ কারণেই রিজার্ভ সবচেয়ে বেশি কমেছে। এখনো সরকারি খাতের খাদ্য, জ্বালানি, রাসায়নিক সার আমদানির দায় মেটাতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি বিদেশি ঋণ ও চাঁদার অর্থও পরিশোধ হয় রিজার্ভের অর্থে। এ ছাড়া প্রতি দুই মাস অন্তর আকুর সদস্যদেশগুলোর আমদানি দায় পরিশোধ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ব্যাংকগুলো নিয়মিত ভিত্তিতে এই দায়ের অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা করে, যা সংস্থাটি একবারে শোধ করে দেয়।

সংকট কতটা কাটল
দেড় বছর ধরে চলা ডলার–সংকট এখনো কাটেনি। আমদানি নিয়ন্ত্রণের কারণে গত সেপ্টেম্বরে আমদানি খরচ কমে হয়েছে ৫২৭ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাঁরা এখনো ঋণপত্র খুলতে চাহিদামতো ডলার পাচ্ছেন না। আবার অনেক উদ্যোক্তাকে ঘোষিত দামের চেয়ে ১২-১৩ টাকা বেশি দামে ডলার কিনতে হচ্ছে। এদিকে গত অক্টোবরে রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ১৩ শতাংশ কমে হয়েছে ৩৭৬ কোটি ডলার। তবে গত মাসে প্রবাসী আয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, এসেছে ১৯৭ কোটি ডলার।

সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য ডলারের জোগান ও খরচের কিছু সূচকে উন্নতি হয়েছে। গত জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে চলতি হিসাবে ৮৯ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত ছিল, গত বছরের একই সময়ে যেখানে ঘাটতি ছিল ৩৬৭ কোটি ডলার। জানা গেছে, ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদি দায় পরিশোধ করে দেওয়ায় ও আমদানি কমায় এই উন্নতি হয়েছে। তবে আর্থিক হিসাবের ঘাটতি এখনো রয়ে গেছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ডলারের দাম নির্ধারণ করে আসছে। সম্প্রতি ডলারের দাম ৫০ পয়সা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠন দুটি। এই সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে সমর্থন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রবাসী ও রপ্তানি আয় কিনতে ডলারের দাম এখন সর্বোচ্চ ১১০ টাকা, আর আমদানি দায় মেটাতে প্রতি ডলার ১১০ টাকা ৫০ পয়সা। তবে প্রবাসী আয়ে সরকারের ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনার পাশাপাশি ব্যাংকও একই পরিমাণ প্রণোদনা দিতে পারবে। ফলে প্রবাসী আয় পাঠালে ডলারপ্রতি সর্বোচ্চ ১১৫ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন উপকারভোগীরা। তবে ব্যাংকগুলো প্রণোদনা ছাড়া ১২১ টাকার বেশি দামে প্রবাসী আয় কিনছে। এর চেয়ে বেশি দামে আমদানিকারকদের কাছে ডলার বিক্রি করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত বছরে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের দায় ছিল ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার, এখন যা কমে হয়েছে ৬৯০ কোটি ডলার। পাশাপাশি চলতি হিসাবে ১০০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত রয়েছে। এখন ঋণপত্র খোলা হচ্ছে তাৎক্ষণিক ডলার পরিশোধের মাধ্যমে। ফলে ভবিষ্যৎ দায় তৈরি হচ্ছে না। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোতে ডলারের চাহিদার চেয়ে জোগান এখন বেশি। ভবিষ্যতে আরও বিদেশি ঋণ আসবে, যাতে রিজার্ভ বাড়বে।-প্রথম আলো

একরামুজ্জামান ও আবু জাফরকে বহিষ্কার করলো বিএনপি

একরামুজ্জামান ও আবু জাফরকে বহিষ্কার করলো বিএনপি


 দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুষ্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান এবং শাহ মো. আবু জাফরকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুষ্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান এবং বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মো. আবু জাফরকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ

দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ


 দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার সংখ্যা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থাটির দেওয়া তথ্যমতে বাংলাদেশের প্রকৃত জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সংস্থাটির কার্যালয়ে আয়োজিত প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়।

সেখানে জানানো হয়, দেশের মোট জনসংখ্যার ১১ কোটি ৬০ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ জন গ্রামে বসবাস করেন। আর শহরে বাস করেন ৫ কোটি ৩৭ লাখ ৬৩ হাজার ১০৭ জন।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, ২০১১ সালে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৯৭৬ জন করে বাস করলেও ২০২২ সালে এসে প্রতি বর্গকিলোমিটারে এক হাজার ১১৯ করে বাস করছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি আছেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন। মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করছেন প্রকল্প পরিচালক মো. দিলদার হোসেন।

এর আগে প্রাথমিক প্রতিবেদন দেয় সংস্থাটি। পরে তৃতীয় পক্ষ হিসাবে যাচাই-বাছাই করে আরও একটি প্রতিবেদন দেয় বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দেশের জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১। গত জুলাইয়ে বিবিএস প্রকাশিত পরিসংখ্যানে যা দেখানো হয়েছিল ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬।

২০০১ সালে দেশে জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৪৩ লাখ ৫৫ হাজার ২৬৩ জন। ১৯৯১ সালে ছিল ১০ কোটি ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৯৯২ জন। ১৯৮১ সালে ছিল ৮ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার ৯৬৫ জন এবং ১৯৭৪ সালে দেশে জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ৭১ জন।

সোমবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৩

রাজের সঙ্গে ভিডিও ফাঁস, পরীমণিকে দুষলেন সুনেরাহ

রাজের সঙ্গে ভিডিও ফাঁস, পরীমণিকে দুষলেন সুনেরাহ


 চিত্রনায়ক শরিফুল রাজের সঙ্গে নায়িকা সুনেরাহ বিনতে কামালের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস হয়েছে। রাজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সুনেরাহ বিনতে কামালের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় আকার-ইঙ্গিতে আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণিকে দোষারোপ করেছেন সুনেরাহ।

রাজের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ফাঁস হওয়া ছবি ও ভিডিও নিয়ে সোমবার (২৯ মে) দিবাগত রাত ৩টা ১০ মিনিটে ভেরিফায়েড প্রোফাইলে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন সুনেরাহ। সেখানেই তিনি আকার-ইঙ্গিতে দোষারোপ করলেন রাজের স্ত্রী পরীমণিকে।

অভিনেত্রী সুনেরাহ লিখেছেন, আপনারা যে ভিডিওগুলো দেখেছেন, (শরিফুল রাজের অ্যাকাউন্টে) সেগুলো পাঁচ বছর আগের। “ন ডরাই” সিনেমার সময়ের। সেই সময় আমরা এভাবেই মজা করতাম, আর প্রতিদিন এভাবে কথা বলার প্র্যাকটিস করতাম। কারণ, আমাদের (বিশেষ করে আমাকে) সিনেমার প্রয়োজনে গালি দিতে হয়েছে এভাবে।

তখন তাকে (শরিফুল রাজ) একটি ছবি পাঠিয়েছিলাম আমি, এটা জানানোর জন্য যে শুটিংয়ে মার খেয়েছি আমি (যেখানে লিয়াকত আমাকে মারে, ন ডরাই সিনেমাটি দেখেছেন যারা, তারা জানবেন বিষয়টি), মার খাওয়ার পর কালশিটে পড়েছিল, উঠে দাঁড়াতেও পারছিলাম না। শুটিংয়ে যেতে পারব না, এটা জানানোর জন্যই পাঠিয়েছিলাম ছবিটি। শুধু তাকে না, পরিচালককেও পাঠিয়েছিলাম।

এছাড়া স্ট্যাটাসের শেষে এসব ছবি ও ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় আকার-ইঙ্গিতে আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণিকে দায়ি করেছেন সুনেরাহ। তিনি লিখেছেন, দয়া করে এ বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না। আমি নিশ্চিত, ওর (শরিফুল রাজ) আইডি হ্যাকড হয়েছে।

আর কে হ্যাক করেছে, আমরা সবাই সেটা জানি, প্রকাশ্যে হইচই করতে কোনো কারণ লাগে না যার (সেই করেছে)। এ ভিডিওগুলো যারা ছড়াবে, তাদের সবার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব আমি। এর আগে সোমবার (২৯ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে কয়েকটি পোস্ট দেয়া হয় রাজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে। সেখানে অশ্লীল ও অসংলগ্ন ভাষায় কথা বলতে দেখা যায় সুনেরাহকে।

প্রথম পোস্টে ১২টি ছবি ও ভিডিও। এর মধ্যে কয়েকটি ছবি রাজ ও সুনেরাহর ভিডিও কলে কথা বলার। আর ভিডিওগুলো রাতের রাস্তায় তাদের ঘোরাঘুরির। অন্য একটি ভিডিওতে মদ্যপ অবস্থায় দেখা গেছে তিশাকে। রাজের ক্যামেরায় লিফটের ভেতরে মদ্যপ অবস্থায় নাচতে দেখা গেছে ছোটপর্দার এ অভিনেত্রীকে।

উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচে শেষ হাসি আর্জেন্টিনার

উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচে শেষ হাসি আর্জেন্টিনার


 উত্তাপ ছড়ানো সুপার ক্লাসিকোতে শেষ হাসি আর্জেন্টিনার। উত্তেজনার এই ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরাই মাঠ ছেড়েছে বিজয়ী বেশে। নানা অনিশ্চয়তা আর ঘটনাবহুল ম্যাচে বুধবার ঘরের মাঠে ব্রাজিলকে ০-১ গোলে হারিয়েছে আলবেসেলেস্তারা।

মাঠের খেলা শুরু হবার আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলো মারকানা। দুই দেশের সমর্থকরা বাড়িয়ে তুললেন উত্তেজনা। কথা কাটাকাটিতে শুরু, গড়ালো মারামারিতে। সংঘর্ষে জড়িয়ে যান নিরাপত্তাকর্মীরাও। একটা সময় আর্জেন্টিনা দল মাঠ ছাড়লে অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় ম্যাচের ভাগ্যও।

তবে দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন নিরাপত্তাকর্মীরা। তবে নির্ধারিত ৬:৩০ মিনিটে শুরু করা যায়নি খেলা। খেলা মাঠে গড়ায় ৭টা থেকে। মাঠেও ছিল সেই উত্তেজনার রেশ। তবে মাঠের খেলায় এগিয়ে গেছে আর্জেন্টিনা। নিকোলাস ওতামেন্দির একমাত্র গোলে জয় নিশ্চিত করেছে তারা।

উত্তাপ ছড়ানো এই ম্যাচে যদিও ছিলেন না ব্রাজিল দলের মূল সাত ফুটবলার। নেইমার-ভিনিসিউসহীন ম্যাচে তাই প্রথমার্ধে ছিল না চিরচেনা সেই ধার। আর্জেন্টিনাও পারেনি প্রথমার্ধে তেমন কোনো চ্যালেঞ্জ জানাতে। গোল থেকে যেন ফাউলেই মন ছিল ফুটবলারদের। কোনো গোল না হলেও ২২টি ফাউল হয় এই সময়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে ছন্দে ফেরার চেষ্টা ব্রাজিলের। তবে বারবার বাঁধা হয়ে দাঁড়ান আলবিসেলেস্তাদের গোল পোস্টের অতন্দ্ররক্ষী এমিলিয়ানো মার্টিনেস। ৫৪তম মিনিটে রাফিনিয়ার বুলেট গতির শট রুখে হতাশা উপহার দেন তিনি। তিন মিনিট পর গাব্রিয়েল জেসুসের শটও ঠেকিয়ে দেন তিনি।

৬৩তম মিনিটে মারাকানার গ্যালারি স্তব্ধ করে দিয়ে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। জিওভান্নি লো সেলসোর কর্নারে অনেকটা লাফিয়ে করা হেডে জাল খুঁজে নেন ওতামেন্দি। এই গোল আর শোধ দিতে পারেনি ব্রাজিল। ফলে ঘরের মাঠে হারের তিক্ত স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ব্রাজিল সমর্থকদের।

এর মাঝে যুক্ত হয় একটি লাল কার্ডও। ৮১তম মিনিটে রদ্রিগো ডি পলকে ধাক্কা দিয়ে লাল কার্ড দেখেন ওয়েলিংটন। ব্রাজিল পরিনত বয় ১০ জনের দলে।

এই জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখলো আর্জেন্টিনা। ৬ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট তাদের। বিপরীতে টানা তিন হারের তিক্ত স্বাদ পেল ব্রাজিল। সেই সাথে ভাঙলো বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ঘরের মাঠে টানা ৬৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড।

২২ বছর পর ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের হারে কঠিন হয়ে উঠেছে বিশ্বকাপের পথ। টানা তিন হার ও এক ড্রয়ে ষষ্ঠ স্থানে নেমে এসেছে ফের্নান্দো জিনিসের দল। ৬ ম্যাচে ব্রাজিলের পয়েন্ট মাত্র ৭।

ঋণের টাকায় পরিশোধ হচ্ছে সরকারি ঋণ?

ঋণের টাকায় পরিশোধ হচ্ছে সরকারি ঋণ?


 ব্যয় বাড়লেও রাজস্ব আহরণ বাড়ছে না। ঘাটতি পূরণে দেশী-বিদেশী উৎসগুলো থেকে প্রতিনিয়ত ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে। বাড়ছে সরকারের দেশী-বিদেশী উৎস থেকে নেয়া ঋণের স্থিতিও। ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে সরকারের নেয়া মোট ঋণের স্থিতি ছিল ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছর (২০২২-২৩) শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ১৭ হাজার ৩১৩ কোটি টাকায়। অর্থ বিভাগের গত মাসে প্রকাশিত ডেবট বুলেটিনের এ হিসাব অনুযায়ী গত এক অর্থবছরে সরকারের ঋণের স্থিতি বেড়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা, যা এ সময় সরকারের আহরিত মোট রাজস্বের প্রায় ৮৩ শতাংশের সমপরিমাণ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আহরণ হয়েছিল ৩ লাখ ৩১ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা।

রাজস্ব ও ঋণের এ অসামঞ্জস্যতায় চাপ বাড়ছে সরকারের কোষাগারে। বাড়ছে ঋণের সুদ বাবদ পরিশোধিত অর্থের পরিমাণও। গত অর্থবছরে সরকারকে ঋণের সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে এ বাবদ বরাদ্দের চেয়ে বেশি। গত অর্থবছরে বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৯০ হাজার ১৩ কোটি টাকা। যদিও পরিশোধ করতে হয়েছে ৯২ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। 

ঋণের কিস্তি পরিশোধ ও বাড়তি সুদব্যয় নির্বাহ করতে অভ্যন্তরীণের পাশাপাশি বহিস্থ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ বাড়াতে হয়েছে সরকারকে। অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঋণের অর্থ পরিশোধের জন্য সরকারকে এখন নতুন করে আরো ঋণ নিতে হচ্ছে। এতে সুদসহ আনুষঙ্গিক ব্যয়ের পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনীতির ঝুঁকির মাত্রাও এখন বাড়ছে। 

বাড়তি এ ঋণের মধ্যে বিদেশী ঋণের অবদানই সবচেয়ে বেশি। গত অর্থবছরে দেশে স্থানীয় উৎস থেকে নেয়া ঋণের স্থিতি বেড়েছে ৯৬ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। আর বিদেশী ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা। বিদেশী ঋণে নির্ভরতা বাড়ায় শঙ্কিত হয়ে উঠছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। টাকার অবমূল্যায়ন ও ডলারের সংকটজনিত কারণে এ ঝুঁকি আরো প্রকট হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজস্ব আয় বাড়াতে না পারলে দেশী-বিদেশী উৎস থেকে নেয়া ঋণ এক সময় বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। ঋণ-জিডিপি অনুপাত এখনো সহনীয় অবস্থানে থাকলেও এখানে ঋণ-রাজস্ব অনুপাত সমজাতীয় অর্থনীতিগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। 

অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌গত অর্থবছরে ঋণের পরিমাণ বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা যদি আমরা বজায় রাখতে না পারি তাহলে এটি আমাদের জন্য বিশাল বোঝা হয়ে যাবে। প্রতি বছর যদি আমাদের ঋণ বাড়তে থাকে তাহলে ঋণের চাপে আমাদের রাজস্ব হারিয়ে যাবে। যে পরিমাণ ঋণ বেড়েছে, সেটি আমাদের রাজস্ব আয়ের প্রায় সমপরিমাণ। এ বিষয়টি আমাদের ঝুঁকি কতটুকু সেটি নির্দেশ করে। আমাদের রাজস্ব অবিশ্বাস্য রকমের কম। আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে আমাদের ঋণ-রাজস্ব অনুপাত ৩৫০ থেকে ৪০০ শতাংশ হয়ে গেছে। এর মানে হচ্ছে আমাদের ঋণ সাড়ে তিন থেকে চার বছরের রাজস্বের সমান, যা অনেক বেশি। ভারতের ঋণ-জিডিপি ৯০ শতাংশ, কিন্তু তাদের ঋণ-রাজস্ব অনুপাত আমাদের চেয়ে কম। যুক্তরাষ্ট্রে ঋণ-জিডিপির অনুপাত ১১০ শতাংশ এবং ঋণ-রাজস্ব অনুপাত ৩০০ শতাংশ। আমাদের রাজস্বের অর্থ দিয়েই ঋণ শোধ করতে হবে, জিডিপি দিয়ে নয়।’
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে স্থানীয় উৎস থেকে নেয়া ঋণের স্থিতি ছিল ৮ লাখ ৪৭ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা, যা ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকায়। একই সময়ের মধ্যে বিদেশী ঋণের পরিমাণ ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকায়। গত অর্থবছরে স্থানীয় ঋণের বিপরীতে ৮৩ হাজার ৮৬ কোটি টাকা ও বিদেশী ঋণের বিপরীতে ৯ হাজার ৪৫২ কোটি টাকার সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে সরকারকে। 

ঋণের স্থানীয় উৎসগুলোর মধ্যে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত—উভয় খাত থেকেই গত অর্থবছরে ঋণ বেড়েছে সরকারের। এর মধ্যে ব্যাংক খাতে বেড়েছে ৮৮ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। এ খাতে ট্রেজারি বিল এবং ট্রেজারি বন্ড ও এসপিটিবির মাধ্যমে সংগৃহীত ঋণের স্থিতি বেড়েছে। অপরিবর্তিত ছিল সুকুকের মাধ্যমে সংগৃহীত ঋণ। অন্যদিকে ব্যাংকবহির্ভূত খাতের মধ্যে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে নেয়া ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমলেও অন্যান্য (জিপিএফ) উৎস থেকে নেয়া ঋণ বেড়েছে।
সক্ষমতার তুলনায় বেশি ঋণ নিয়ে অতীতে সাব-সাহারা অঞ্চলের দেশগুলোর বিপদে পড়ার নজির রয়েছে। এমনকি গত শতকের শেষ দিকে এশীয় অর্থনৈতিক সংকটের মূলেও ছিল অবাধে ঋণগ্রহণের প্রবণতা। বড় অংকের ঋণ বাংলাদেশের জন্যও ফাঁদ হিসেবে দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা। এজন্য সরকারকে আয়ের অনুপাতে ব্যয়ের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। 

সরকারের সাবেক সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌সাব-সাহারা অঞ্চলের দেশগুলো আশি-নব্বই দশকে এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়েছিল। এ দেশগুলোর সম্পদের পরিমাণ ছিল অনেক কম। তারা এত বেশি পরিমাণ বিদেশী ঋণ নিয়েছিল যে এক পর্যায়ে গিয়ে ঋণ নিয়ে ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হয়েছিল। সে সময় তারা কঠিন শর্তের ঋণ দিয়ে সহজ শর্তের ঋণের অর্থ পরিশোধে বাধ্য হয়েছে। বলাবাহুল্য বাংলাদেশও এ ধরনের ঋণফাঁদে পড়তে যাচ্ছে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সহজ শর্তের ঋণ পেয়েছে। কিন্তু এর পর থেকেই সরকার বৈদেশিক মুদ্রার বড় রিজার্ভ গড়ে তোলে এবং সেটিকে সক্ষমতা হিসেবে কাজে লাগিয়ে কঠিন শর্তের বিদেশী ঋণ নিতে শুরু করে। আরেকটি দিক হচ্ছে সরকার মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে। এ অবস্থায় ঋণদাতারা সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার আগ্রহ হারায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘১৯৯৭ সালে এশীয় অর্থনৈতিক সংকটের পেছনেও মাত্রাতিরিক্ত ঋণের প্রভাব ছিল। সে সময় ঋণের টাকায় জাপান, থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো আবাসন খাতে বিপুল অংকের অর্থ বিনিয়োগ করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি কাঙ্ক্ষিত হারে না হওয়ায় ব্যাংকগুলো বিপদে পড়ে। এ অবস্থায় সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ দিয়ে ব্যাংকগুলোকে রক্ষা করা হয়েছিল। অবশ্য দেশগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্য ভালো হওয়ার কারণে এ সহায়তা করা সম্ভব হয়েছিল। যেহেতু আমাদের এখানে কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আয় হচ্ছে না, সেহেতু বড় অংকের ঋণ নিয়ে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা কতুটুকু যুক্তিসংগত হচ্ছে; সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। আমাদের যতটুকু আয় হচ্ছে সেটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ব্যয় করা সমীচীন হবে।’

সরকারের ঋণ স্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ঋণ বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে ঋণ বেড়েছিল ১ লাখ ৪ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে বেড়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। এ সময়ে স্থানীয় উৎস থেকে নেয়া ঋণ বেড়েছে ২৯ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং বিদেশী ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা।

যদিও সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, ঋণের ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকলেও তা সবকিছু হিসাব করেই নেয়া হয়েছে। এজন্য এখন রফতানি আয় ও রেমিট্যান্স আহরণের পরিমাণ বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে সরকার। তাছাড়া অবকাঠামো উন্নয়ন থেকেও রিটার্ন বাড়তে যাচ্ছে। এতে ঋণ পরিশোধের বিষয়টি ভবিষ্যতে দেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে না।

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌ঝুঁকি তো অবশ্যই আছে, ঝুঁকিবিহীন কোনো দেশ নেই পৃথিবীতে। তবে ঝুঁকি যদি হিসাব করে নেয়া হয়ে থাকে, তাহলে ভয়ের কোনো কারণ নেই। আমরা আশা করি, সামনে শুধু ঋণ নয়; আয়ও বাড়বে। অর্থনীতি আরো প্রসারিত হচ্ছে, প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। আয়ের পরিমাণও বাড়বে। ঝুঁকি না নিলে উন্নয়ন করা সম্ভব হতো না। সবকিছু স্থবির হয়ে থাকত। আমরা অবকাঠামো খাতে অনেক বিনিয়োগ করেছি এবং সেখান থেকে অনেক রিটার্ন আসবে বলে প্রত্যাশা করি। কিছু আসছেও। তবে একটি বিষয় আমরা ঋণ করছি ডলারে, কিন্তু আয় করছি টাকায়। এখন আমাদের ডলারে আয় বাড়াতে হবে। তার মানে হচ্ছে রফতানির ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনার মাধ্যমে আয় আরো বাড়াতে হবে। পাশাপাশি রেমিট্যান্সের পরিমাণও আরো বাড়াতে হবে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে শুধু সরকারের নেয়া ঋণের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নেয়া ঋণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সেটি যোগ করা হলে সরকারের ঋণের পরিমাণ আরো বেড়ে যায়। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর গৃহীত ঋণের তথ্য যুক্ত করে প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশী ঋণের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুন শেষে সরকারের বিদেশী ঋণের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৬৬৭ কোটি ৮৪ লাখ ৩০ হাজার ডলার বা ৮ লাখ ২৮ হাজার ১২৭ কোটি টাকা (প্রতি ডলার সমান ১০৮ টাকা ধরে)। সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে এ সময়ে বাংলাদেশের মোট বিদেশী ঋণ ছিল ৯ হাজার ৮৯৩ কোটি ৫৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার বা ১০ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এ বছরের সেপ্টেম্বর শেষে দেশের বিদেশী ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি ডলার (১০০ বিলিয়ন) ছাড়িয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের জুন শেষে প্রতি ডলারের দর ছিল ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা। এ বছরের জুন শেষে এটি দাঁড়িয়েছে ১০৮ টাকায়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার প্রতি ডলারের দর ছিল ১১১ টাকা।-বণিক বার্তা

নমিনেশনের নামে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম অবৈধ: রিজভী

নমিনেশনের নামে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম অবৈধ: রিজভী


 বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নমিনেশন দেওয়ার নামে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম একতরফা ও অবৈধ কার্যক্রম। মনোনয়নের নামে লুটের টাকায় সংসদীয় আসন বরাদ্দের মহোৎসব চলছে।  

রবিবার ভার্চুয়ালে সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দিল্লিতে ৯০ দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের বৈঠককে বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, শনিবার বাংলাদেশের পরাষ্ট্র সচিব দিল্লিতে ৯০টি দেশের কূটনৈতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশে কি সেই সব দেশের দূতাবাসগুলো নেই? দিল্লিতে গিয়ে বৈঠক করতে হলো কেন? ভারতই কেন বা আয়োজন করে দিল? ভারত যদি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয়ে থাকে তাহলে তো তাদের বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের পক্ষে থাকার কথা ছিল। আজকে তো ইউরোপ-আমেরিকা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের পক্ষে সোচ্চার। যে সরকারের একদলীয় দুঃশাসনে দেশের সাধারণ মানুষ সবাই পিষ্ট, সেই সরকারের পক্ষে কাজ করানোর জন্য দিল্লিতে ৯০টি দেশের কূটনৈতিকদের বৈঠক আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। 

রিজভী বলেন, ‘দেশ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এক দুর্বিষহ দুর্বৃত্তদের কাছে আটকে আছে দেশের জনগণ। রাষ্ট্র ক্ষমতাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী যা ইচ্ছে তাই করছেন। দ্বাদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও অবৈধ প্রধানমন্ত্রী থেমে নেই। তার সাজিয়ে তোলা প্রশাসন ও ক্যাডার বাহিনী দিয়ে একাত্তরের সেই ভয়ালরাত্রির পরিস্থিতি বর্তমান বাংলাদেশে তৈরি করেছেন। বর্তমান প্রজন্ম একাত্তরের সেই ভয়ালরাত্রি দেখেনি, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে তারা বুঝতে পারছে তখন কি হয়েছিল। একাত্তরের মতো গ্রামগঞ্জে বিভিন্ন এলাকায় যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেখিয়ে দিচ্ছে কোনটা বিএনপির বাড়ি। বিএনপি নেতাকর্মী কোথায় বসবাস করে, তাদের পরিবার কোথায় বসবাস করে। ঠিক একাত্তর সালে একই ঘটনা ঘটিয়েছে শান্তি কমিটি আলবদর, তারা পাকিস্তানি বাহিনীকে দেখিয়ে দিয়েছে এই বাড়ির মানুষ স্বাধীনতাকামী। একাত্তরের যেন পুনরাবৃত্তি হয়েছে আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের মধ্যে।’

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আগুন সন্ত্রাসীদের ছাড় দেওয়া হবে না। ছাড় তো ইতোমধ্যে আপনি দিয়েছেন আসল অপরাধীকে। এখন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধরবেন, নির্যাতন করে অন্য নেতাদের নাম বলাবেন। গত ১৫ বছর ধরে এই কাজগুলোই তো করেছে প্রধানমন্ত্রীর সাজানো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রধানমন্ত্রী মনে করেছেন, তিনি যা বলেন অবলীলায় দেশের জনগণ তা বিশ্বাস করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী ও তার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রীরা যা বলেন মানুষ তার উলটোটা ভাবেন। দেশের জনগণ মনে করেন প্রধানমন্ত্রীসহ তার মন্ত্রীরা অনর্গল মিথ্যা কথা বলে যান।’

বুধবার অবরোধ ও বৃহস্পতিবার হরতালের ডাক বিএনপির

বুধবার অবরোধ ও বৃহস্পতিবার হরতালের ডাক বিএনপির


এবার একসঙ্গে অবরোধ ও হরতালের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। আগামী বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচি পালন করবে দলটি। আর পরের দিন বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে দলটি।

সোমবার বিকালে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
সপ্তম দফায় বিএনপির ডাকা দুই দিনের অবরোধ কর্মসূচি আজ শেষ হচ্ছে। দলটি এ সপ্তাহেই আবার সারা দেশে এক দিনের অবরোধ ও এক দিনের হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করল।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন এবং দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের মুক্তি ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

রিজভী এ সময় গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার হওয়া নেতা-কর্মীদের তথ্য দেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ৩৮৫ জনকে গ্রেপ্তার এবং ১৩টি মামলায় ১ হাজার ৪৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে ২৯ অক্টোবর সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল দেয় বিএনপি। এর পর থেকে এক-দুই দিন পরপর কখনো অবরোধ, কখনো হরতালের মতো কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে দলটি।


অবরোধের সমর্থনে বগুড়ায় রাস্তা বন্ধ করে বিএনপির মিছিল


জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর ডাকা দেশব্যাপী ৪৮ ঘণ্টার সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধের শেষ দিনেও বগুড়ায় একাধিক স্থানে রাস্তা বন্ধ করে মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি।

সোমবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ৮টায় বগুড়া পৌরসভার ফনিরমোড় এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে মিছিল করে দলটির নেতাকর্মীরা।

মিছিলে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ভিপি সাইফুল ইসলাম ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। পরে সেখানে সমাবেশ করেন তারা। এ সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এছাড়া সোমবার সকাল ৯টায় দ্বিতীয় বাইপাসের বনানী সুজাবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি। এতে নেতৃত্ব দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর হেনা। পাশাপাশি একই দিনে রাস্তা অবরোধ করে মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান গাবতলীতেও।

দেশব্যাপী সড়ক, রেল ও নৌপথে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি চললেও সংবাদপত্রের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং জরুরি ঔষধ পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন থাকবে অবরোধের আওতামুক্ত।

উল্লেখ্য, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর ডাকা দেশব্যাপী ৪৮ ঘণ্টার সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন চলছে আজ। গত ২৮ অক্টোবর সমাবেশ-সহিংসতার পর এটি সপ্তম দফার অবরোধ। এই অবরোধ কর্মসূচি চলবে মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ৬টা পর্যন্ত।

ভোটে বাহিরের থাবা পড়েছে, অর্থনীতি বাঁচাতে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হবে: সিইসি

ভোটে বাহিরের থাবা পড়েছে, অর্থনীতি বাঁচাতে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হবে: সিইসি


 নির্বাচনকে সামনে রেখে বিদেশিদের থাবা দুঃখজনক মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ভোটে বাহিরের থাবা পড়েছে। দেশের অর্থনীতি ও পোশাক শিল্পকে বাঁচাতে হলে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হবে।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনিস্টিটিউটের ভবনে সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির সদস্যদের আইন-বিধি ও কর্মপদ্ধতি বিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আরেকটি দুর্ভাগ্যজনক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আমাদের নির্বাচনে কিন্তু বাহির থেকে থাবা বা হাত এসে পড়েছে। আমাদের অর্থনীতি আমাদের ভবিষ্যত অনেক কিছু রক্ষা করতে হলে নির্বাচনটাকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে হবে। তিনি বলেন, আমাকে যেভাবে ইউনাইটেড স্টেটস কমান্ড করতে পারে। আমি কিন্তু সেইভাবে ইউনাইটেড স্টেটস এর ওয়াশিংটনে গিয়ে হুমকি-ধুমকি করতে পারছি না। এটা একটা বাস্তবতা।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমাকে বাচঁতে হলে, আমার জনগনকে বাঁচতে হলে, আমার গার্মেন্টসকে বাঁচাতে হলে, আমার সাধারণ জনগনকে বাঁচাতে হলে যে দাবিটা আমার, জনগনের, পাশাপাশি বাহিরের। ওরা খুব বেশি দাবি করে নাই। একটাই দাবি বাংলাদেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনটা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে। এখানে কোনো কারচুপির আশ্রয় নেয়া যাবে না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের উপ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, অতি সম্প্রতি আমরা খুব কষ্ট পেয়েছি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং লক্ষ্মীপুরে ওখানেও সিল মারা হচ্ছে।

আমারা সেটা প্রতিহত করতে পারি নাই। আমাদের প্রশাসন পারেনি। আমাদের নির্বাচন কর্মকর্তারা পারেনি। এটা লজ্জাসকর।
সিলমারাটা নির্বাচনের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গিয়েছে দাবি করে সিইসি বলেন, এটা মন্দ সংস্কৃতি। পেশিশক্তির ব্যবহার করা। কালো টাকা ব্যবহার করা। এই ধরণের কারচুপি করা দীর্ঘদিন ধরে চর্চার মাধ্যমে একটা অপসংস্কৃতির চর্চা হয়ে গেছে। ক্রমান্বয়ে এই অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ সকল ক্ষেত্রে আমারা নিরন্তন চেষ্টা করছি। নির্বাচন কমিশন থেকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য নির্বাচন কমিশন যথাসাধ্য চেষ্টা করবে।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সকলে চোখ কান খোলা রেখে সৎভাবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন সিইসি। বলেন, নির্বাচন নিয়ে কিন্তু দেশ একটা সংকটে আছে। বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলাচালে আছে। এখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এখানে সকলকে সমভাবে দায়িত্বশীল হয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা ভাবতে হবে জানিয়ে সিইসি বলেন, আমেরিকার গণতন্ত্র আড়াইশো বছরের বেশি হয়ে গেছে। আমাদের গণতন্ত্র অনেক নতুন। কিন্তু মাঝে মাঝে অনেক ধাক্কা, সামরিক শাসন, গণঅভ্যুথান ইত্যাদি হয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া স্থিরভাবে ৫০ বছর হয়ে উঠতে পারিনি।

নির্বাচনের দিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দেখতে চাই যারা ভোটার তারা আসছে, আসতে পারছে। তাদেরকে বাধা দিচ্ছে না। যদি বাধা দেয়া হয় তাহলে নির্বাচন প্রভাবিত হয়েছে। আমাদের মেয়েরা ছেলেরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

লাইন যেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা থেমে না থাকে জানিয়ে তিনি বলেন, যদি থেমে থাকে তাহলে মনে করা হবে ভিতরে এই (সিলমারা) কাজটি হচ্ছে। লাইনটা চলমান থাকতে হবে। তারপর ওরা (ভোটাররা) ভোটাধিকার প্রয়োগ করে বেরিয়ে আসতে পারছে কি না। ভোটে অবিতর্কিত ফলাফলের প্রত্যাশা করেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল।

বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ৩০০ ‘নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি’ গঠন করে গত বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে ইসি। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দায়িত্ব পাওয়া নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কর্মকর্তারা নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচন কমিশনে ন্যস্ত থাকবেন। এসব কমিটি দায়িত্ব পালনকালে নির্বাচনপূর্ব অনিয়ম সংঘটিত হলে, তা অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন পাঠাবে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে। এরপর সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওই অনুসন্ধান প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিবের কাছে পাঠাবেন।