রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩

হারে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

হারে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের


নিউজিল্যান্ডের কাছে ৪৪ রানে হেরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ। এর আগে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ল্যাথাম-ইয়ং ঝড়ে নিউজিল্যান্ড ২৩৯ রান সংগ্রহ করে। তবে বাংলাদেশের জেতার জন্য ২৪৫ রানের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়। বৃষ্টি আইনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের এই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

ডিএলএস পদ্ধতিতে ৩০ ওভারে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ২৪৫ রান। ৯ উইকেটে বাংলাদেশ তুলতে পেরেছে ২০০ রান। ইনিংসের শেষ বলে বোল্ড হয়েছেন হাসান মাহমুদ। ফলে অভিষেকে উইকেটের দেখা পেয়েছেন উইলিয়াম ও’রর্ক।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ রোববার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় টাইগার শিবির।

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সাদা বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের রেকর্ড মোটেও ভালো নয়। আজকের আগ পর্যন্ত ১৬ ওয়ানডে ও ৯ টি-টোয়েন্টি খেলে সবকটিতেই হেরেছে টাইগাররা।

এদিকে বাংলাদেশ দলে ফিরেছেন সৌম্য সরকার। ছুটি কাটিয়ে ফিরেছেন লিটন দাসও। নিউজিল্যান্ড দলে অভিষেক হয়েছে অলরাউন্ডার জশ ক্লার্কসন ও উইলিয়াম ও’রুর্কের।

বাংলাদেশ একাদশ

নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), লিটন দাস, এনামুল হক, তাওহিদ হৃদয়, আফিফ হোসেন, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, সৌম্য সরকার, হাসান মাহমুদ, শরীফুল ইসলাম।

নিউজিল্যান্ড একাদশ

উইল ইয়াং, রাচিন রবীন্দ্র, হেনরি নিকোলস, টম ল্যাথাম, টম ব্লান্ডেল, মার্ক চাপম্যান, জশ ক্লার্কসন, অ্যাডাম মিলনে, ইশ সোধি, জ্যাকব ডাফি, উইলিয়াম ও’রুর্ক।

 

একরাতে সব নেতাকে মুক্তির প্রস্তাবেও রাজি হয়নি বিএনপি: কৃষিমন্ত্রী

একরাতে সব নেতাকে মুক্তির প্রস্তাবেও রাজি হয়নি বিএনপি: কৃষিমন্ত্রী



বিএনপিকে ভোটে আনতে সব চেষ্টাই করেছে আওয়ামী লীগ। এমনকি একরাতে সব নেতাকে জেল থেকে মুক্তির প্রস্তাবেও বিএনপি রাজি হয়নি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক।

তিনি বলেন, বারবার নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়েছে, বিএনপি নির্বাচনে আসলে নির্বাচন পিছিয়ে দেয়া হবে। শুধু পিছিয়ে দেয়া নয়, বলা হয়েছে, সবাইকে জেল থেকে ছেড়ে দেয়া হবে।

আজ একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপির ২০ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার না করলে বাংলাদেশে আজকে হরতালের দিন গাড়ি চলতো না।

এছাড়া আমাদের কোনো গত্যন্তর ছিল না। যেটা করেছি আমরা চিন্তাভাবনা করেই করেছি। তাদের জেলে না রাখলে দেশ অচল হয়ে যেতো।

শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৩

ঋণের টাকা ছাড় দিলেও দুর্নীতি, মুদ্রাপাচার ও সুশাসনে নজর রাখছে আইএমএফ

ঋণের টাকা ছাড় দিলেও দুর্নীতি, মুদ্রাপাচার ও সুশাসনে নজর রাখছে আইএমএফ


চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় দ্বিতীয় কিস্তিতে বাংলাদেশকে ঋণের টাকা ছাড় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ)। শর্তারোপ করে ঋণের টাকা ছাড় দেওয়া হলেও দুর্নীতি, মুদ্রাপাচার এবং সুশাসনের বিষয়ে নজরদারি রেখেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

শুক্রবার সকালে আইএমএফ’র এশীয় ও প্যাসিফিক বিভাগের আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারীর করা এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন আইএমএফের এশীয় ও প্যাসিফিক বিভাগের প্রধান রাহুল আনন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত ও সমাপনী বক্তব্য দেন রাহুল আনন্দ। এর আগে বাংলাদেশের ওপর কান্ট্রি রিপোর্ট প্রকাশ করে সংস্থাটি। রিপোর্টে বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে পর্যালোচনা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন রাহুল আনন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের আশংকার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে মুশফিক জানতে চান, একতরফা নির্বাচন আয়োজনের মুহূর্তে বাংলাদেশ সরকারকে আইএমএফ’র এই ২য় কিস্তির ঋণ ছাড় দেওয়াটা চলমান স্বৈরশাসনকে ইন্ধন যুগাবে এবং রাজনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করে তুলবে বলে আশংকা করছেন বিশ্লেষকরা। আপনাদের মূল্যায়নই বলে দিচ্ছে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে সরকার আর এ অবস্থায় ছাড় দিলে ভবিষ্যতে শর্ত পূরণের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি অনিশ্চিত থেকে যায়। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?

প্রতিবেদকের এই প্রশ্নের জবাবে আইএমএফ মিশন প্রধান বলেন, কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে আইএমএফ সরাসরি কোনো মন্তব্য করবেনা। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও করছেনা।

আইএমএফ’র রিপোর্টে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে বাংলাদেশের নির্বাচন অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় বাধা দুর্নীতি উল্লেখ করে এই প্রতিবেদক জানতে চান, বাংলাদেশে দূর্নীতি এবং মুদ্রাপাচার সবচেয়ে বড় সমস্যা। ক্ষমতাসীন সরকারের তরফে এই দুই ক্ষেত্রেই পৃষ্ঠপোষকতা করা হয় মর্মে অভিযোগ রয়েছে। গত দেড় দশকের বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৬১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে বলে এক রিপোর্টে জানিয়েছে গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি, যা প্রায় ২০১৬-১৭ সালের জিডিপির ২৫ শতাংশ। এ বিষয়গুলো কী আইএম এফ নজর দিচ্ছে?

জবাবে রাহুল আনন্দ বলেন, আমরা দূর্নীতি এবং মুদ্রা পাচারের উপর নজর দিচ্ছি। বিষয়টি স্যতিই দেশের অর্থনীতির জন্য অশুভ। আমাদের অংশীজনদের সাথে আমরা মুদ্রা পাচারের বিষয়টি পরিস্কার অবস্থান তুলে ধরেছি। আপনি বাংলাদেশ ব্যংকের রিপোর্ট ঘটালেও এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান জানতে পারবেন। সুশাসন, দূর্নীতি ও মুদ্রাপাচার রোধে আমাদের পদক্ষেপ আরও বেগবান হবে।

বাংলাদেশকে প্রবৃদ্ধি সহায়ক সংস্কারে মনোনিবেশ করার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। এজন্য কঠোর আর্থিক নীতিমালা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন রাহুল আনন্দ। তিনি বলেন, একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমাতে আরও নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সরকারকে তিনটি বিষয়ে জোর দিতে বলেছে সংস্থাটি।

প্রথমত, কর রাজস্ব বৃদ্ধি এবং অগ্রাধিকার নয় এমন খাতের ব্যয়কে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে কর্তৃপক্ষ সামাজিক উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং জলবায়ু খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করতে পারবে কর্তৃপক্ষ। সরকারি অর্থনৈতিক এবং বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনাকে অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি করতে হবে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক ঝুঁকি হ্রাসের ক্ষেত্রে।

দ্বিতীয়ত, মুদ্রানীতির কাঠামো আধুনিকায়ন করে এবং আর্থিক নীতি উন্নত করে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে উৎসাহিত করা যাবে। বিনিময় হার আধুনিকায়ন করার জন্য আরও সংস্কার করতে হবে। তাতে শক্তিশালী হবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। এর ফলে বাহ্যিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

তৃতীয়ত, ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করতে, নজরদারি করতে এবং সুশাসনের অধীনে আনতে এখাতের ঝুঁকিগুলোর সংস্কার কর্মকাণ্ডে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যকে সমর্থন করতে বেসরকারি আর্থিক খাতকে গতিশীল করতে হবে।

রাহুল আনন্দ বলেন, আইএমএফ এক্সিকিউটিভ বোর্ড তার আইএমএফ সমর্থিত প্রোগ্রামের প্রথম রিভিউ এবং আর্টিক্যাল ৪ নিয়ে আলোচনা শেষ করেছে ১২ই ডিসেম্বর। এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি হিসেবে দ্বিতীয় কিস্তির প্রায় ৪৬ কোটি ৮৩ লাখ ডলার ছাড় দেয়ার অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড। সব মিলে এখন পর্যন্ত ছাড় দেয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে ৯৩ কোটি ৬৬ লাখ ডলার।

আইএমএফ’র নির্বাহী পর্ষদের সভায় ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের অনুমোদনের পর গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের অনুকূলে ৬৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার ছাড়ের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় সংস্থাটির পর্ষদ। স্থানীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার মতো।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আইএমএফ গত জানুয়ারিতে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করে। গত ফেব্রুয়ারির শুরুতেই প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার ছাড় হয়। ৭ কিস্তিতে ৪২ মাসে পুরো ঋণ পাওয়ার কথা রয়েছে। বর্ধিত ঋণ সহায়তা (ইসিএফ), বর্ধিত তহবিল সহায়তা (ইএফএফ) ও রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ) এ ৩টি ভাগে ঋণ দিচ্ছে আইএমএফ।

সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফ প্রধান বলেছেন, সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতি কঠোর করেছে, মুদ্রা বিনিময় হার নমনীয় করার অনুমতি দিয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা সন্তোষজনকই এবং আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির বেশির ভাগ লক্ষ্যমাত্রা ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশ পূরণ করেছে।

ভালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে গভীর করার পরামর্শ দেন রাহুল আনন্দ।

বাংলাদেশ গত জুন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। আইএমএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে যে অব্যাহতি চেয়েছিল বাংলাদেশ, সংস্থাটি তা অনুমোদন করেছে। চলতি ডিসেম্বর শেষে রিজার্ভ সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে নতুন করে। আইএমএফ বলেছে, ডিসেম্বর শেষে নিট রিজার্ভ থাকার কথা ছিল ২৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এখন তা ১৭ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার অন্তত থাকা উচিত।

আইএমএফ জানায়, গত অক্টোবরে দেশের নিট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ১৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, আর মোট রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। আর জুনে ২৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও নিট রিজার্ভ ছিল ১৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

 

বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৩

যুক্তরাষ্ট্র 'ম্যানেজড' নয়, বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের আটক ও নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র 'ম্যানেজড' নয়, বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের আটক ও নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ

 'কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিরোধীদল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা উদ্বেগজনক প্রবণতা'

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার যেভাবে বিরোধীদল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভুয়া সংবাদ এবং ভিডিও বানিয়ে প্রচার করেছে সেটি এক ধরনের উদ্বেগজনক প্রবণতা বলে মন্তব্য করেছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের দূরত্ব কমিয়ে 'ম্যানেজ' করা এবং নির্বাচনের পর সমর্থন দেওয়া নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন এবং তার প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সময়ে দেওয়া বক্তব্যগুলোকে উড়িয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে বিরোধীদলের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে গণহারে গ্রেফতার এবং কারাগারের ভিতর নির্যাতনের ঘটনার বিষয়টি তাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

বুধবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বিশ্বের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে যুক্তরাষ্ট্র এবং বিরোধীদলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সরকারি প্রোপাগান্ডা নিয়ে প্রকাশিত অনুসন্ধানী রিপোর্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ম্যানেজ করা নিয়ে ক্ষমতাসীন মন্ত্রীদের করা মন্তব্য প্রসঙ্গে এভাবেই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন ম্যাথিউ মিলার।

সকল পক্ষ যেনো স্বাধীনভাবে, হয়রানি এবং সহিংসতা মুক্ত  নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে নির্বাচনের আগে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে একাধিক  প্রশ্ন করেন স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেন্ট মুশফিকুল ফজল আনসারী।

প্রথম প্রশ্নে মুশফিক জানতে চান, "আজই প্রকাশিত দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে বলা হয়েছে, আসন্ন সাজানো নির্বাচনকে সামনে রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া সংবাদ এবং ভিডিও বানিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের বিরোধীদলগুলি এবং নেতার বিরুদ্ধে এক পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা শুরু করেছে। এই রিপোর্টের অভিযোগের বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের অবস্থান কী?"

জবাবে মিলার বলেন, "আপনি ভুয়া সংবাদ এবং বাংলাদেশের নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো নিয়ে যে রিপোর্টের কথা বলেছেন সেই রিপোর্টটি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ব্যবহার বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত এবং প্রভাবিত করার একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা।"

উল্লেখ্য, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস তাদের এক রিপোর্টে বলেছে, নির্বাচনের আগে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে বিরোধীদলকে ঘায়েল করতে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন  আওয়ামী লীগ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি করে প্রধান বিরোধীদল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে ভুয়া ভিডিও এবং খবর প্রচার করেছে সরকারের মদদপুষ্ট কিছু মিডিয়া।

অপর এক প্রশ্নে এই প্রতিবেদক জানতে চান, "ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশে মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে জনগণের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানিয়েছে। কারণ তথাকথিত নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরো বাংলাদেশকে একটা কারাগারে রুপান্তরিত করেছে ক্ষমতাসীন সরকার। ডিসেম্বরের ১৮ তারিখ থেকে নির্বাচনী প্রচারণা ছাড়া সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন এবং তার সহকারি প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে ম্যানেজ করে নিয়েছে। নতুন সরকার গঠন করার পর তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন জানাবে। এবিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?"

জবাবে মিলার যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, "গণহারে বিরোধীদলের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের গ্রেফতার এবং কারাগারের ভিতরে গ্রেফতারকৃতদের নির্যাতনের বিষয়টি আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আমরা সব পক্ষকে আহবান জানাই তারা যেনো সংযত হয় এবং সহিংসতা পরিহার করে।"

তিনি বলেন, "বাংলাদেশ সরকারকে আহবান জানাচ্ছি, তারা যেনো নির্বাচনের আগে সব অংশীদারদের সাথে একসঙ্গে কাজ করে।" 

নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে পরিবেশ তৈরির উপর গুরুত্বারোপ করে এই মুখপাত্র বলেন, "পরিবেশ এমন হতে হবে যেখানে  সকল পক্ষই প্রাক নির্বাচনী এবং নির্বাচনের সময় সব কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে। সেখানে কোনো ধরনের হয়রানি, সহিংসতা এবং হামলার ঘটনা যেন না ঘটে।"

মিলার আরও বলেন, "এটা আমাদের বিশ্বাস যে একটি সুস্থ গণতন্ত্রে ভিন্ন মতের স্বাধীনতা, সংলাপ এবং আলোচনা নির্বাচন নিয়ে বিরাজমান সমস্যা সমাধানের উপায়।"

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ম্যানেজড হয়ে গেছে মর্মে প্রচারণা চালাচ্ছিলো ক্ষমতাসীনরা। গত ২৪ নভেম্বর, সিলেটে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেন, নির্বাচনের পর তারা নতুন সরকার গঠিন করলে সেই সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দিবে বলে তিনি মনে করেন।

গত ১২ ডিসেম্বর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, নির্বাচন ও মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দূরত্ব কেটে গেছে।

আরও পড়ুন>> গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধাগ্রস্থ করায় গুয়েতেমালার ১০০ এমপির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বিধিনিষেধ

মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৩

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধাগ্রস্থ করায় গুয়েতেমালার ১০০ এমপির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বিধিনিষেধ

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধাগ্রস্থ করায় গুয়েতেমালার ১০০ এমপির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বিধিনিষেধ


 

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আইনের শাসনে বাধাগ্রস্ত করায় মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়েতেমালার ১০০ কংগ্রেস সদস্যসহ প্রায় ৩০০ নাগরিকের ওপর ভিসা বিধিনিষেধ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

ভিসা বিধিনিষেধের আওতায় আসা ব্যক্তিদের মধ্যে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন। গুয়েতেমালার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত বেরনারডো আরেভালো শুক্রবার তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউটরদের আনা আইনি পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করার পর যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যবস্থা নিল। বেরনারডো আরেভালোর নির্বাচনে বিজয় বাতিল চেয়ে ওই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রসিকিউটররা। তাদের এই পদক্ষেপকে ন্যায়ভ্রষ্ট ও ‘অভ্যুত্থানচেষ্টা’ আখ্যায়িত করেছেন বেরনারডো আরেভালো।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য গুয়েতেমালার ‘পাবলিক মিনিস্ট্রি’র বিভিন্ন পদক্ষেপেরও কঠোর সমালোচনা করেছে ওয়াশিংটন। অন্যান্য দেশে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর যে ভূমিকা পালন করে, সেই কাজ গুয়েতেমালায় করে থাকে ‘পাবলিক মিনিস্ট্রি’। তাদের পক্ষ থেকে গুয়েতেমালার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বাতিল ছাড়াও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা–কর্মচারী এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত বেরনারডো আরেভালোর একটি বিষয়ে দায়মুক্তি প্রত্যাহারেরও অনুরোধ করেছে পাবলিক মিনিস্ট্রি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বিবৃতিতে বলেছেন, ‘গণতন্ত্রবিরোধী বহু কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় এসব নির্লজ্জ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেছেন, গুয়েতেমালার জনগণ তাদের কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্যকে অবশ্যই শ্রদ্ধা জানাতে হবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা আরেভালো গত জুনে অনুষ্ঠিত গুয়েতেমালার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করেন। এর মধ্য দিয়ে আগস্টের দ্বিতীয় দফা ভোটের জন্য উপযুক্ত বিবেচিত হন তিনি। এর মধ্যে আরেভালো ও তার মধ্য বামপন্থী দল সিড মুভমেন্ট পার্টির বিরুদ্ধে কয়েক দফা তদন্ত করে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর। বেশ কয়েক বছর আগে দলের নিবন্ধন নেওয়ার সময় অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে এসব তদন্ত হয়।

গত আগস্টে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফা ভোটে গুয়েতেমালার সেনাবাহিনীর সমর্থনপুষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিপুল ভোটে জয় পান আরেভালো। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো তার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছে।

আরও পড়ুন>> পাকিস্তানের সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি হামলা, নিহত অন্তত ২৪

পাকিস্তানের সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি হামলা, নিহত অন্তত ২৪

পাকিস্তানের সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি হামলা, নিহত অন্তত ২৪


 

পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের এক থানায় একটি বিস্ফোরক ভর্তি ট্রাক এসে ধাক্কা লাগালে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্তত ২৪ জন নিহত হন। এই হামলার দায় নিয়েছে তালেবান সংশ্লিষ্ট একটি সশস্ত্র সংগঠন।

দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আজ মঙ্গলবারের এ ঘটনার বিষয়টি জানিয়েছে রয়টার্স।

এই বোমা ও বন্দুক হামলার ঘটনাটি ঘটেছে আফগানিস্তানের সীমান্তে অবস্থিত পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান জেলায়।

দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, এই থানাটি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তাদের অস্থায়ী বেস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করছিল।

তারা জানান, একাধিক জঙ্গি সদস্য প্রথমে থানাকে চারপাশ দিয়ে ঘিরে রাখা প্রাচীরে ট্রাক দিয়ে ধাক্কা দেয়। তারপর অন্যান্যরা সেখানে বন্দুক হামলা চালায়। কর্মকর্তারা আশংকা করছেন, থানার ভেতর সংরক্ষিত সামরিক বাহিনীর গোলাবারুদে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।

নাম না প্রকাশের শর্তে এএফপিকে এক স্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, 'অনেকেই ঘুমে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। তাদের পরনে সামরিক পোশাক ছিল না। আমরা এখন খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি তারা সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন কী না।'

নিহতের সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে পুলিশের জনসংযোগ বিভাগের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা এখনো সাড়া দেয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি এই হামলার নিন্দা জানান এবং নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেন। মন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ বিষয়টি জানা গেছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত উদ্ধার সংস্থার কর্মকর্তা আইজাজ মেহমুদ জানান, একাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং কয়েকজনের পরিস্থিতি আশংকাজনক।

তিনি আরও জানান, 'আমরা এখনো গুলির শব্দ পাচ্ছি (থানার ভেতর থেকে)'।

তালেবান সংশ্লিষ্ট পাকিস্তানী জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-জিহাদ পাকিস্তান (টিজেপি) এক বিবৃতির মাধ্যমে এই হামলার দায় নিয়েছে। জঙ্গি সংগঠনটি জানায়, এই হামলার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।

তবে পাকিস্তানে তালেবানের মূল শাখা, তেহরিক-ই-তালেবানের (টিটিপি) সঙ্গে এই হামলার কোনো যোগসূত্র আছে কী না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

টিটিপি বেশ কয়েক বছর ধরে পাকিস্তান সরকার ও এর নানা সংস্থার বিরুদ্ধে সংঘাত চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংগঠনের উৎস সরকার উৎখাত করে ইসলাম-ভিত্তিক কট্টর শাসন ব্যবস্থা চালু করা।

আরও পড়ুন>> ৮ রানের লিড হতেই অলআউট নিউজিল্যান্ড

৮ রানের লিড হতেই অলআউট নিউজিল্যান্ড

৮ রানের লিড হতেই অলআউট নিউজিল্যান্ড


 

মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনের খেলা ঠিকঠাক মতো হলেও দ্বিতীয় দিনে একটি বলও মাঠে গড়ায়নি। আর তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হয় দুপুর ১২টায়। বৃষ্টির পর খেলতে নেমে ৮ রানের লিড নিয়েই অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করে ১৭২ রান। কিউইদের ইনিংস থামে ১৮০ রানে।

কিউইদের মধ্যে ব্যাট হাতে বড় ভূমিকা রাখেন ফিলিপস। দলকে বড় লিড এনে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। মারকুটে ব্যাট করে সেঞ্চুরির পথে হাঁটছিলেন তিনি। তবে তাকে সেঞ্চুরিবঞ্চিত করেছেন শরিফুল ইসলাম। বাঁহাতি এই পেসারের ফুল লেন্থের বলে উইকেটরক্ষক নুরুল হাসানের হাতে ক্যাচ হন তিনি। ৭২ বলে ৮৭ রান করেন তিনি।

এর আগে বৃষ্টির পর তৃতীয় দিন মাঠে নেমেই আক্রমনাত্মক ব্যাটিং করে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন ড্যারিল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস। তবে সেটি বেশিক্ষণ চলতে দেননি অফস্পিনার নাঈম হাসান। কিউইদের ৬০ বলে ৪৯ রানের জুটি ভাঙেন তিনি।

২১তম ওভারে নাঈমকে লং অন অঞ্চলে আকাশে তুলে মারেন মিচেল। মিড অফ অঞ্চল থেকে দৌড়ে এসে ৩৯ বলে ১৮ করা মিচেলকে দুর্দান্ত ক্যাচ বানান মেহেদী হাসান মিরাজ।

এরপর ব্যাক টু ব্যাক বল করতে এসে মিচেল স্যান্টনারকে ফেরালেন নাঈম। ব্যাটের কানায় বল লাগিয়ে প্রথম স্লিপে থাকা নাজমুল হোসেন হাতের ধরা পড়েন স্যান্টনার। ৭ বলে ১ রান করেন এই কিউই ব্যাটার।

এর আগে ম্যাচের দ্বিতীয় দিন গতকাল বৃহস্পতিবার ঘূর্ণিঝড় মিগজাউমের প্রভাবে সারাদিনই বৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে মাঠে গড়াতে পারেনি খেলা। আজ শুক্রবার সকাল পৌনে ৯ টায় খেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সেটিও সম্ভব হয়নি।

এর আগে বুধবার প্রথম দিনের খেলা নির্বিঘ্নেই শেষ হয়েছিল। স্পিনারদের দাপটে দুই দলের’ই মোট ১৫টি উইকেট পড়ে প্রথম দিনে। আজ ৫ উইকেটে ৫৫ রান নিয়ে মাঠে নেমেছে নিউজিল্যান্ড ব্যাটার ড্যারিল মিচেল এবং গ্লেন ফিলিপস।

শেরে বাংলা স্টেডিয়াসে প্রথম দিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিলো ১৭২ রানে। সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন মুশফিকুর রহিম। ৩১ রান করেন ডানহাতি ব্যাটার শাহাদাত হোসেন।

জবাব দিতে নেমে ৪৬ রানে নিউজিল্যান্ড হারায় ৫ উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ৩ উইকেট এবং ২ উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম।

আরও পড়ুন>> ভূরাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে: এফবিসিসিআই

ভূরাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে: এফবিসিসিআই

ভূরাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে: এফবিসিসিআই


 

বর্তমান বিশ্ব ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের ফলে বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ইতিমধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করেন শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলম। তিনি বলেছেন, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন দেশের ব্যবসায়ীরা।

শনিবার রাজধানীর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন মাহবুবুল আলম। এফবিসিসিআইয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘রাজনীতি যার যার, অর্থনীতি সবার’ এই মূলমন্ত্র মেনে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রাজনৈতিক সহিংসতা, ভেদাভেদ ভুলে দেশের অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাহবুবুল আলম বলেন, ব্যবসায়ীরা দেশের অর্থনীতির প্রাণ। অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি আরও বলেন, ‘দেশের ব্যবসায়ীরা সুষ্ঠুভাবে নিজ নিজ ব্যবসা পরিচালনা করতে চান। দেশের ব্যবসা, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ খুবই জরুরি।’

দেশের ব্যবসা–বাণিজ্য এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোকে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ‘অসহিষ্ণু কর্মকাণ্ড’ থেকে বিরত থাকার জন্যও আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।

মাহবুবুল আলম বলেন, ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশ থেকে উত্তরণ–পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাণিজ্য পরিবেশ ও নীতিমালা আধুনিকায়ন করতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ইস্যু যেমন আন্তসীমান্ত বাণিজ্য ও সংযুক্তি, বিনিয়োগ, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বেসরকারি খাতের সুপারিশ প্রণয়ন, শুল্ক ও করব্যবস্থা, অবকাঠামো, সাপ্লাই চেইন ও লজিস্টিক সাপোর্ট, জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, টেকনিক্যাল এবং ভোকেশনাল ও কারিগরি শিক্ষা— এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে বেসরকারি খাতের অবস্থান এবং সুপারিশমালা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরা জরুরি।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ব্যবসায়ীদের কল্যাণে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের গ্রহণ করা বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি। এ সময় পুরান ঢাকায় নতুন শাখা অফিস খোলা ও উত্তরায় একটি ভোকেশনাল সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা, গুলশানে এফবিসিসিআইয়ের সম্প্রসারিত অফিস চালু, এফবিসিসিআই ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের উদ্বোধন, পুরুষ জামানতকারী ছাড়াই নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা কিস্তি প্রাপ্তি, আয়কর জমা দেওয়ার সময়সীমা দুই মাস বাড়ানোসহ নীতি অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে দেশের বেসরকারি খাতের সুরক্ষায় বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন মাহবুবুল আলম।

গত বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী, এফবিসিসিআইয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন, আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং নতুন একটি প্রতিষ্ঠানকে নিরীক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী, সহসভাপতি খায়রুল হুদা চপল, মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার, ড. যশোদা জীবন দেবনাথ, শমী কায়সার, রাশেদুল হোসেন চৌধুরী, মো. মুনির হোসেন, পরিচালকবৃন্দ এবং এফবিসিসিআইয়ের সাধারণ পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন>> বিশ্বজুড়ে দুর্নীতিবাজ বিদেশি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

বিশ্বজুড়ে দুর্নীতিবাজ বিদেশি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

বিশ্বজুড়ে দুর্নীতিবাজ বিদেশি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা


 দুর্নীতিতে জড়িত বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ৩০ বর্তমান ও সাবেক বিদেশি কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বলা হয়েছে, বড় রকম দুর্নীতিতে জড়িত এসব ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে অবৈধ হবেন। এসব ব্যক্তি সরকারি পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের জন্য সেই পদকে অপব্যবহার করেছেন। এতে কোন কোন দেশের কোন কোন কর্মকর্তার নাম আছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি জে. ব্লিঙ্কেন তার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ১১ই ডিসেম্বর পোস্ট করা এক বিবৃতিতে এসব কথা জানিয়েছেন।

এতে তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসে ১১ই ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে যেসব মানুষ দুর্নীতিতে যুক্ত তাদের জবাবদিহিতা উৎসাহিত করতে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যেসব ব্যক্তি দুর্নীতিতে জড়িত তারা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা বিস্তৃত করার এক ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যারা সরকারি পর্যায়ে দুর্নীতি করেছে তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র নিরাপদ স্বর্গ হতে পারে না। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র তার সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে।

তিনি আরও বলেছেন, গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কির অধীনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধামে এই নিষেধাজ্ঞা পরিপূরক ও শক্তিশালী করা হয়েছে। আফগানিস্তানের সাবেক দু’জন কর্মকর্তা এবং ৪৪টি সহযোগী এনটিটি এর আওতায় আছে।

তারা বহুজাতিক দুর্নীতিতে যুক্ত। সম্মিলিতভাবে এসব ব্যবস্থা নেয়ার মাধ্যমে দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিস্তৃত জবাবদিহিতাকে উৎসাহিত করা হবে এবং এতে ভবিষ্যত দুর্নীতি রোধ হবে। জবাবদিহিতা উৎসাহিত করতে বিভিন্ন ‘টুলস’ বা উপায় ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অধীনে ২০২৩ সালে দুর্নীতিতে জড়িত কমপক্ষে ২০০ ব্যক্তি ও এনটিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যেকোনো রকম দুর্নীতি মোকাবিলায় হাতে থাকা সব রকম উপায় বা টুলস ব্যবহার করবে যুক্তরাষ্ট্র এবং এ জন্য তারা মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে অব্যাহতভাবে সহযোগিতা করে যাবে। এর মাধ্যমে অসৎ ব্যক্তিদের (ম্যালাইন অ্যাক্টর) জবাবদিহিতা উৎসাহিত করা হবে।

আরও পড়ুন>> মির্জা আব্বাসের দুর্নীতি মামলার রায় পেছালো II অবরোধ শুরু, রাজধানীতে রিজভীর নেতৃত্বে মিছিল

মির্জা আব্বাসের দুর্নীতি মামলার রায় পেছালো II অবরোধ শুরু, রাজধানীতে রিজভীর নেতৃত্বে মিছিল

মির্জা আব্বাসের দুর্নীতি মামলার রায় পেছালো II অবরোধ শুরু, রাজধানীতে রিজভীর নেতৃত্বে মিছিল


 

সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের রায়ের তারিখ পিছিয়ে আগামী ২৮ ডিসেম্বর ধার্য করেছেন আদালত। আজ ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক মঞ্জুরুল ইমামের আদালতে মামলাটি রায়ের জন্য ছিল। তবে রায় প্রস্তুত হয়নি। এজন্য আদালত তা পিছিয়ে ২৮ ডিসেম্বর ধার্য করেন।

দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বলেন, আজ মির্জা আব্বাসের দুর্নীতি মামলার রায়ের তারিখ ধার্য ছিল। বিচারকের বাবা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাই মামলার রায় প্রস্তুত হয়নি। আগামী ২৮শে ডিসেম্বর রায়ের তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭ কোটি ৫৪ লাখ ৩২ হাজার ২৯০ টাকার সম্পদ অর্জন এবং ৫৭ লাখ ২৬ হাজার ৫৭১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ১৬ আগস্ট দুদকের উপপরিচালক মো. শফিউল আলম রাজধানীর রমনা থানায় মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

অবরোধ শুরু, রাজধানীতে রিজভীর নেতৃত্বে মিছিল

সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ে এবং বেগম খালেদা জিয়াসহ নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে বিএনপির এগার দফায় ডাকা ৩৬ ঘণ্টার অবরোধ শুরু হয়েছে। অবরোধের সমর্থনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে মিছিল ও পিকেটিং করেছে দলের নেতাকর্মীরা।

আজ সকাল ৭টার দিকে বাংলা মোটর থেকে মিছিল শুরু করে কারওয়ান বাজার সোনারগাঁও মোড়ে এসে মিছিলটি শেষ করেন তারা।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ড. খোন্দকার আকবর হোসেন (বাবলু), কেন্দ্রীয় ড্যাব নেতা ডাঃ শরীফুল ইসলাম, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সভাপতি তারেকুজ্জামান তারেক, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক মাসুদ খান পারভেজ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহবুব মাসুম শান্ত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, সাবেক কাউন্সিলর ও রামপুরা থানা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক নীলুফার ইয়াসমীন নিলু, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন, যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সদস্য এ.এস.এম. জাহিদ সাগর, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সভাপতি মাহবুব মিয়া, রাফিজুল হাই রাফিজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আউয়াল, এইচ এম আবু জাফর, সহ সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন,

আজিজুল হক জিয়ন, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আরিফুর রহমান আমিন, পপি আক্তার, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক মিয়া, জাকারিয়া হোসেন ইমন, দুলাল, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ, সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক জান্নাতুল নওরিন উর্মি, সদস্য মাকসুদা মনি, আনিচুর রহমান খান, শারমিন সুলতানা রুমা, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সম্পাদিকা ফাতেমা তুজ জোহরা মিতু, ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দা সুমাইয়া পারভীন, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দিন ইমন, রাশেদুল আমিন, ঢাবি যুগ্ম সম্পাদক রাজু আহমেদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল আরেফীন, জাবি সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হুমায়ূন হাবিব হিরন, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ ছানাউল্লাহ্, আবু সালেহ হিরোন, প্যাব সভাপতি কামরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক মহসিন হোসেন, দপ্তর সম্পাদক হাসান, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, খসরু আহমেদ হিরন, শাহবাগ যুবদল নেতা নুরুল ইসলাম, সুলতান,

ঘিওর উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক বিল্টু খান, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েল রানা, মিজানুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা মহিউদ্দিন মাহি, ডাঃ জিসান, উপস্থিত রমনা থানা ১৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, ঢাকা মহানগর পূর্বের ছাত্রনেতা রাসেল হোসাইন, মাহমুদুল ইসলাম তুফান, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল নেত্রী জুবাইদা ইসলাম জেরিন, মিরাজ হোসেন, রাকিব, আব্দুর রব সিয়াম, ফজলে রাব্বি, অর্ক, আরিফ, ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, জাসাস ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য জাকির হোসেন, হাতিরঝিল থানা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রিপন, বরিশাল আগৈলঝড়ার যুগ্ম আহ্বায়ক এসেন্ট রায়, মোঃ নাসির মিজি, ফরহাদ-সহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় রুহুল কবির রিজভী বলেন, হামলা করে, মিথ্যা মামলা দিয়ে, গায়েবি সাজা দিয়ে সরকারের পতন ঠেকানো যাবে না। বাংলাদেশের জনগণ ভাগাভাগি ও পাতানোর নির্বাচন হতে দেবে না। তিনি বলেন,গায়েবি মামলা দিচ্ছে পুলিশ, স্বাক্ষীও দিচ্ছে পুলিশ আর প্রহসনের বিচারের নামে তড়িঘড়ি করে রায় দিচ্ছেন দলীয় চেতনায় সাজানো কিছু বিচারক। সরকার নির্দেশিত রায় পাঠ করছেন তারা। এ ধরণের প্রহসনের রায় দেশবাসী প্রত্যাখ্যান করেছে ।

আরও পড়ুন>> অবরোধের সমর্থনে ঢাকায় জামায়াতের বিক্ষোভ ও মিছিল

অবরোধের সমর্থনে ঢাকায় জামায়াতের বিক্ষোভ ও মিছিল

অবরোধের সমর্থনে ঢাকায় জামায়াতের বিক্ষোভ ও মিছিল


 সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ১১ দফায় অবরোধের প্রথমদিনে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে পৃথক পৃথকভাবে এসব মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের উদ্যোগে ফার্মগেট ও পান্থপথ সড়কে অবরোধের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নেতাকর্মীরা। এসময় উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ও প্রচার মিডিয়া সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকার বলেন, গণবিচ্ছিন্ন সরকার জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্যই কথিত নির্বাচনের নামে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম তামাশার আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু সচেতন জনগণ তাদের সে ভাঁওতাবাজীর নির্বাচন বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেবে না। তাই সরকারকে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিয়ে অবিলম্বে ফরমায়েশী তফসিল বাতিল, পদত্যাগ এবং কেয়াটেকার সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানাচ্ছি।

এছাড়া উত্তরের মজলিসে শূরার সদস্য এডভোকেট আব্দুল হামিদের নেতৃত্বে মিরপুর ৬০ ফিট আমতলা বাজার এলাকায় অবরোধের সমর্থনে মিছিল করেছেন নেতাকর্মীরা। আব্দুল্লাহপুর বেড়ীবাঁধ সড়কে মিছিল ও সমাবেশ করেছেন নেতাকর্মীরা। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন উত্তরের মজলিসে শুরা সদস্য মাওলানা এম এ আলম। মগবাজার এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন নেতাকর্মীরা। উত্তরের মজলিশে শূরা সদস্য কে এইচ আমিনের নেতৃত্বে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিরপুর-১৩ নং এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কর্মীরা।

এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন উত্তরের মজলিসে শূরা সদস্য ডা. হাবিবুর রহমান। রামপুরায় বিক্ষোভ ও পিকেটিং করেছেন নেতাকর্মীরা। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন উত্তরের মজলিশে শুরার সদস্য আমীর আবু আকাশ।

এদিকে অবরোধের সমর্থনে সকালে রাজধানীর খিলগাঁও, শনির আখড়া, হাজারীবাগ ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতাকর্মীরা।

সকালে শনির আখড়ায় সড়ক অবরোধ করে মিছিল করেছেন নেতাকর্মীরা। দক্ষিণের মজলিসে শুরা সদস্য শাহজাহান খানের নেতৃত্বে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।এসময় দক্ষিণের মজলিসে শুরা সদস্য শাহজাহান খান বলেন, সরকারের দীর্ঘ ১৫ বছরের অপশাসন ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণ আজ রাজপথে নেমে এসেছে। দেশে যে গণরোষ তৈরি হয়েছে, তাতে অচিরেই এই সরকার ভেসে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

আরও পড়ুন>> দুই সপ্তাহে কারাগারে বিরোধী দলের ৫ সদস্যের মৃত্যু

দুই সপ্তাহে কারাগারে বিরোধী দলের ৫ সদস্যের মৃত্যু

দুই সপ্তাহে কারাগারে বিরোধী দলের ৫ সদস্যের মৃত্যু

এএফপির রিপোর্ট


সরকারি কর্মকর্তা ও আত্মীয়-স্বজনদের উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এএফপি বলেছে, গত দুই সপ্তাহে জেলখানায় মারা গেছেন প্রধান বিরোধী দলের ৫ জন সদস্য। অন্যদিকে আগামী মাসে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মানুষ রাস্তায় নেমেছে। এএফপি আরও লিখেছে, ৭ই জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এর ফলে বর্তমান ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করে দেয়া হয়েছে।

বিএনপি বলছে, তাদের পুরো নেতৃত্ব এবং কমপক্ষে ২০ হাজার নেতাকর্মীকে গত ৫ সপ্তাহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা অস্বাভাবিক দমনপীড়ন।

এএফপি লিখেছে, ২৮শে অক্টোবর রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশের পর এই দমনপীড়ন শুরু হয়েছে। গ্রেপ্তারের সংখ্যা নিয়ে বিএনপির দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে পুলিশ। তবে প্রকৃতপক্ষে কতজন বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে, সেই সংখ্যা প্রকাশ করেনি পুলিশ। আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে রোববার ঢাকায় সমবেত হয়েছিলেন বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মী। এর মধ্যে ছিলেন আটক করা নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা।

গত মাসে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তার হিসাবে বলে যে, ২৮শে অক্টোবর মহাসমাবেশের পর বিরোধী দলের কমপক্ষে ১০ হাজার সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওই র‌্যালিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। তাতে একজন পুলিশ সদস্য ও ৫ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। প্রায় ৩০০ বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। গত মাসে ইসলামপন্থি সবচেয়ে বড় দল জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হয়। বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী বলেছে, কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছেন।

বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল বলেছেন, গত দুই সপ্তাহে তাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে যে ৫ জন কারা হেফাজতে মারা গেছেন তাদের হিসাব রেখেছেন। তিনি বলেন, আমরা পূর্ণাঙ্গ বিচারবিভাগীয় এবং পক্ষপাতিত্বহীন তদন্ত দাবি করি এসব মৃত্যুর। আমরা জানতে পেরেছি দেশজুড়ে দমনপীড়নের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার করার পর বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আত্মীয়স্বজনরা বলছেন, তাদের প্রিয়জনদেরকে জেলখানায় গাদাগাদি করে অমানবিক পরিবেশে রাখা হয়েছে।

গাজীপুরের স্থানীয় বিএনপির এক নেতা আসাদুজ্জামান খান হিরা’কে (৪৫) উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কাশিমপুর কারাগার থেকে হাসপাতালে নেয়ার পর ১লা ডিসেম্বর তিনি মারা যান। তার এক কাজিন বলেছেন, অন্য বন্দিদের কাছ থেকে আমরা জানতে পেরেছি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ তার ওপর নির্যাতন করেছে। এতে তিনি কারাগারের ভিতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার অবস্থার অবনতিতে পুলিশ তাকে গাজীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি মারা যান।

কমপক্ষে দুই সপ্তাহ আগে রাজশাহী থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে বিএনপির স্থানীয় একজন কর্মী একে আজাদ সোহেলকে (৪৭)। তার এক ভাই বলেছেন, হাসপাতালে নেয়ার পর বৃহস্পতিবার তিনি মারা গেছেন। তার ওই ভাই আরও বলেন, গ্রেপ্তারের সময় সোহেল ছিলেন পুরো সুস্থ। পুলিশ তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে। হাতকড়া পরায়। আমাদের সন্দেহ নিরাপত্তা হেফাজতে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। প্রতিশোধ নেয়া হতে পারে এই ভয়ে পরিবারের সদস্যরা নাম প্রকাশ করতে চাইছেন না।

গত দুই সপ্তাহে নিরাপত্তা হেফাজতে থাকা ৫ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন সহকারী ইন্সপেক্টর জেনারেল (জেল) সাজ্জাদ হোসেন। তবে মৃত ব্যক্তিদের নির্যাতনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। বলেছেন, এসব মানুষ স্বাভাবিকভাবেই মারা গেছেন।

সমালোচকরা যখন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন যে, আসন্ন নির্বাচনে বিরোধী দলকে একপেশে করে রাখার জন্য টার্গেট করেছে তারা, তখন সরকার বলছে- তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তদারকিতে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকায় বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্রের পশ্চাৎধাবন এবং হাজারো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কারণে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন>> রূপগঞ্জে দুই প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে নিহত ৩

রূপগঞ্জে দুই প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে নিহত ৩

রূপগঞ্জে দুই প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে নিহত ৩


 নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচল শেখ হাসিনা সরণীতে দুই প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় সড়কের সুলফিনা এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়ায় গেছে। তিনি হলের রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম। নিহত বাকি দুইজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। আহতরা হলেন- নিহত নুরুল ইসলামের ছেলে পাপ্পু, চালক শুক্কুর আলী, আরেক প্রাইভেকারের চালক মিলনসহ পাঁচজন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পূর্বাচল ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার উদ্দিপন ভক্ত জানান, সকাল দশটায় বেপরোয়া গতিতে আসা কুড়িল বিশ্বরোডগামী একটি যাত্রীবাহী প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের একপাশ থেকে আরেকপাশে ছিটকে পড়ে। এ সময় কাঞ্চন গামী একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে ওই প্রাইভেটকারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুই প্রাইভেটকারের ড্রাইভারসহ আটজন গুরুতর আহত হয়।

আহত‌দের উদ্ধার করে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা ক‌রেন।

মেঘনায় গভীর রাতে দুই লঞ্চের সংঘর্ষ, নিহত ১

মেঘনার হাইমচর এলাকায় মাঝরাতে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন।

সোমবার (১১ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১টার দিকে ঘন কুয়াশায় পড়ে সুরভী-৮ ও টিপু-১৪ লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যাত্রীর নাম মো. সোহেল। তার শ্বশুরবাড়ি ভোলার ইলিশায়। তিনি ঢাকায় চাকরি করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার মরদেহ ঢাকার সদরঘাটে রয়েছে।

সুরভী-৮ লঞ্চের পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, তারা সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় যাত্রী নিয়ে ভোলার ইলিশাঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। রাত পৌনে ১টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চরফ্যাশনগামী টিপু-১৪ চাঁদপুরের হাইমচর এলাকায় ঘন কুয়াশার মধ্যে পথ হারিয়ে তাদের লঞ্চে আঘাত করে। এতে সুরভী লঞ্চের কেবিন অংশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আঘাত পেয়ে মারা গেছেন সোহেল নামে এক যাত্রী।

এ সময় ঘুমন্ত যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত লঞ্চ ও সোহেলের মরদেহ সদরঘাটে আছে বলে জানান তিনি।

টিপু-১৪ লঞ্চটি নির্দেশনা অমান্য করে তাদের লঞ্চে আঘাত করে জানিয়ে মিজান বলেন, এতে তাদের ৩০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে টিপু-১৪ লঞ্চের ইনচার্জের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন>> অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আহ্বান অস্ট্রেলিয়ার