সোমবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৪

ডলার–সংকটের মধ্যে বিদেশি ঋণ শোধে চাপ আরও বাড়ছে

ডলার–সংকটের মধ্যে বিদেশি ঋণ শোধে চাপ আরও বাড়ছে


 চলমান ডলার-সংকটের মধ্যে বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ বাড়ছে। উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং চীন, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে নেওয়া কঠিন শর্তের অনেক ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে। এ কারণে দ্রুত বাড়ছে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ, যা আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়বে।

সরকার ১০ বছর আগে বছরে যে পরিমাণ বিদেশি ঋণ ও ঋণের সুদ পরিশোধ করত, এখন পরিশোধ করতে হয়েছে তার দ্বিগুণের বেশি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, যদি সরকার নতুন করে আর বিদেশি ঋণ না নেয়, তারপরও সাত বছর পরে ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশকে এখনকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ অর্থ খরচ করতে হবে।

দ্বিপক্ষীয় ঋণ নিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পদ্মা সেতুর রেল-সংযোগ, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেশ কিছু বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আরও অনেক প্রকল্প হচ্ছে বিদেশি ঋণে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব ঋণ পরিশোধের সময়কাল কম। এসব ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়ায় সার্বিক ঋণ পরিস্থিতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এসব ঋণে বাস্তবায়িত বড় প্রকল্পের সুফল পুরোপুরি পাওয়া শুরু হয়নি।

যেমন ১৮ হাজার কোটি টাকা খরচে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করা হয়। এতে ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি চীনা ঋণ নেওয়া হয়েছে। এই পথে এখন দিনে দুটি ট্রেন চলাচল করে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন শুরু হয়নি। ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়ে গেছে। ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার কাছ থেকে ১ হাজার ১৩৮ কোটি মার্কিন ডলার (১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন) ঋণ নেওয়া হচ্ছে, যা বর্তমান মূল্যে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ।

বিদেশি ঋণ পরিশোধের এই চাপ বাড়ছে এমন সময়ে, যখন দেশ দীর্ঘ সময় ধরে ডলার-সংকটের মধ্যে রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ কমছে। কারণ, প্রবাসী আয় কাঙ্ক্ষিত হারে আসছে না। রপ্তানি আয়ও আশানুরূপ নয়।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলসহ বিভিন্ন প্রকল্পের বিদেশি ঋণের রেয়াতি সময় (গ্রেস পিরিয়ড) শেষ হয়ে যাচ্ছে। ঋণ পরিশোধের সময় চলে আসছে। কোনো কোনো প্রকল্পের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে গেছে। এসব কারণে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে।

জাহিদ হোসেন বলেন, ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদেশি ঋণ পরিশোধে টাকার অঙ্কেও খরচ বেড়ে যাচ্ছে, যা বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। সে অনুযায়ী, রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। ডলারের জোগান না বাড়লে বৈদেশিক লেনদেনে বড় ঘাটতি তৈরি হবে।

সাত বছরে ঋণ শোধ দ্বিগুণ হবে
অর্থ মন্ত্রণালয় বিদেশি ঋণ গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধ পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। এই প্রতিবেদনে আগামী কয়েক বছরে ঋণ নেওয়া এবং ঋণ পরিশোধের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, দেশের এখন বিদেশি ঋণ রয়েছে ৭ হাজার ৭৬ কোটি ডলার। এর মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পে নেওয়া ঋণ ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলারের মতো, যা ১০ বছরে আড়াই গুণ বেড়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সরকারি পুঞ্জীভূত বিদেশি ঋণ বাড়তে থাকবে। আগামী অর্থবছরে তা বেড়ে হবে ৮ হাজার ৫২৪ কোটি ডলার। ২০২৯-৩০ অর্থবছরে পুঞ্জীভূত ঋণ কিছুটা কমে হবে ৭ হাজার ২৯১ কোটি ডলার। এই হিসাব তৈরিতে ধরে নেওয়া হয়েছে যে নতুন করে কোনো বিদেশি ঋণ নেওয়া হবে না এবং শুধু প্রতিশ্রুত অর্থাৎ, পাইপলাইনে থাকা ঋণের অর্থই ছাড় করা হবে। জানা গেছে, বর্তমানে পাইপলাইনে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ঋণ রয়েছে।

বিগত ২০২২-২৩ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ২৬৮ কোটি ডলার বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের সব মিলিয়ে ৩২৮ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করতে হবে। আগামী অর্থবছরে তা ৪০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। পরের বছরগুলোতে ঋণ পরিশোধ বাড়তেই থাকবে। ২০২৯-৩০ অর্থবছর নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়াবে ৫১৫ কোটি ডলারে। এরপর ঋণ শোধ কমতে থাকবে।

ঋণ পরিশোধ পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা হয়েছে।

৬ মাসে ঋণ শোধ বেড়েছে ৪৯%
চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) সময়ে ঋণ পরিশোধ আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৯ শতাংশ বেড়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস সময়ে সুদ ও আসল মিলিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের ১৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বেশি বেড়েছে বিগত এক-দুই বছরে। ইআরডির হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল হিসেবে সব মিলিয়ে ২৬৮ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে, আগের বছর যা ছিল ২০১ কোটি ডলার।

বড় প্রকল্পে ঋণ শোধ শুরু
কিছু কিছু বড় প্রকল্পের ঋণ শোধ শুরু হয়েছে, যার একটি রূপপুর। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ২০১৬ সালে ঋণ নেওয়া হয়। এর গ্রেস পিরিয়ড ১০ বছর। আর ১০ বছরে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। অবশ্য এর আগে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য রাশিয়ার কাছে থেকে ৫০ কোটি ডলার নেওয়া হয়েছিল। সেটার কিস্তি দিতে হচ্ছে। ২০২৬ সাল থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল ঋণের অর্থ পরিশোধ শুরু হবে।

ইউক্রেনে হামলার পর রাশিয়ার ব্যাংকগুলোকে আন্তর্জাতিক লেনদেনে বহুল ব্যবহৃত ‘সুইফট সিস্টেম’ থেকে বাদ দেয় পশ্চিমারা। ফলে রূপপুরের ঋণের কিস্তির অর্থ পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে ঋণের এই অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি বিশেষায়িত হিসাবে রাখা হচ্ছে। গত দেড় বছরে তিন কিস্তিতে ৩৩ কোটি ডলার রাখা হয়েছে, যা ঋণ পরিশোধ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

গ্রেস পিরিয়ড ও পরিশোধকাল মিলিয়ে রূপপুরের ঋণের মেয়াদ ২০ বছর। তবে মেট্রোরেল-৬-এর জন্য জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার কাছ থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে বাংলাদেশ সময় পাচ্ছে অন্তত ৩০ বছর। মেট্রোরেলের জন্য নেওয়া হয়েছে ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকার ঋণ।

পদ্মা সেতুর ঋণ পরিশোধের বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির। সেতুটি নির্মাণের জন্য ৩২ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে সেতু কর্তৃপক্ষকে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সেতু কর্তৃপক্ষ তা পরিশোধ করছে। তবে পদ্মা সেতু নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি সমপরিমাণ অর্থ ডলারে পরিশোধ করা হয়েছে। এটিও ডলারের মজুতের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

চীনা ঋণের অর্থে বাস্তবায়নাধীন পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্পের ঋণ পরিশোধ এখনো শুরু হয়নি।

ঋণের পরিমাণ কি উদ্বেগজনক
মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতের তুলনায় অবশ্য বাংলাদেশের ঋণ পরিস্থিতি এখনো গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে আছে। জিডিপির অনুপাতে দেশি-বিদেশি ঋণের হার এখনো ৩৫ শতাংশের নিচে। আইএমএফের (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) হিসাবে, এই হার ৫৫ শতাংশের নিচে থাকলে তাকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কিন্তু বাংলাদেশে ঋণ পরিশোধ নিয়ে চাপের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ দেড়-দুই বছর ধরে চলা তীব্র ডলার-সংকট। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালেও বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ছিল ৪৮ বিলিয়ন (১০০ কোটিতে ১ বিলিয়ন) ডলার, যা এখন ২৫ বিলিয়নে নেমেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ মনে করেন, জিডিপির সঙ্গে নয়, সরকারের রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে ঋণ পরিস্থিতির তুলনা করতে হবে। সে অনুপাতে বাংলাদেশের অবস্থা দুশ্চিন্তাজনক।

আরও কারণ
বাংলাদেশের জন্য ঋণ গ্রহণ ও ঋণ শোধে শীর্ষ পাঁচটি সংস্থা ও দেশ হলো বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান, চীন ও রাশিয়া। বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ বহুপক্ষীয় সংস্থার ঋণ এবং চীন, রাশিয়া ও ভারতের মতো দ্বিপক্ষীয় ঋণের সুদের হার প্রায় সমান। সেবা মাশুলসহ সব মিলিয়ে সুদের হার ২ শতাংশের আশপাশেই থাকে।

কিন্তু সমস্যা হলো ঋণ পরিশোধের সময় নিয়ে। চীন, রাশিয়াসহ দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা বেশ কম। গ্রেস পিরিয়ড বাদ দিলে ১০-১৫ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হয়। এর ফলে প্রতিটি কিস্তিতে বেশি পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হয়। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক, এডিবির মতো প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ গ্রেস পিরিয়ড বাদে ৩০-৩২ বছরে পরিশোধ করতে হয়।

হিসাব করে দেখা গেছে, চীনের কাছ থেকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ নিলে গ্রেস পিরিয়ড বাদে পরবর্তী ১০ বছরে ঋণ ফেরত দিতে হলে বছরে আসল পরিশোধ করতে হবে গড়ে ১০ কোটি ডলার। আর একই পরিমাণ বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে নিলে বছরে আসল পরিশোধ করতে হবে গড়ে ৩ কোটি ৩৩ লাখ ডলার।

অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে প্রতিযোগিতাহীন দরপত্রের মাধ্যমে বিদেশি ঋণের প্রকল্প বাস্তবায়নে সতর্ক হতে হবে। পাশাপাশি যেসব প্রকল্পে বিনিয়োগের বিপরীতে রিটার্ন (সুফল) কম, সেসব প্রকল্প না নেওয়াই ভালো। কারণ, এখন ঋণের সুদাসল পরিশোধই সরকারের বাজেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খাত।- প্রথম আলো

অবশেষে আসিফ মাহতাবকে চাকরিচ্যুতির কারণ জানালো ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি

অবশেষে আসিফ মাহতাবকে চাকরিচ্যুতির কারণ জানালো ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি


 সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের ‘শরীফ থেকে শরীফা’ হওয়ার পাতা ছিঁড়ে চাকরিচ্যুত হন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের খণ্ডকালীন সাবেক শিক্ষক আসিফ মাহতাব। তবে কি কারণে শিক্ষক আসিফ মাহতাবকে চাকরিচ্যুত করা হয় তার কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছিল না ইউনিভার্সিটিটির পক্ষ থেকে। অবশেষে মুখ খুলল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মাহতাবের চাকরিচ্যুত করার বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে।

জনসংযোগ কর্মকর্তা ফাতিয়াস ফাহমিদ সাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি সব মত ও আদর্শের জন্য সহনশীলতা ও সম্মানের ভিত্তিতে গঠনমূলক আলোচনা, বিতর্ক এবং পারস্পরিক মতবিনিময়ে বিশ্বাস করে। ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জাতীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য আচরণ, যা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি সমর্থন করে না।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ব্র্যাকের শিক্ষক আসিফ মাহতাব উৎসের সপ্তম শ্রেণির জাতীয় পাঠ্যবইয়ের পৃষ্ঠা ছেঁড়া এবং পাবলিক ফোরামে অন্যদের একই কাজ করতে বলার ঘটনাটিকে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি একটি ধ্বংসাত্মক কাজ বলে মনে করে। এ ধরনের অশিক্ষকসুলভ আচরণকে তারা কোনোভাবেই সমর্থন করে না। এ কারণে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ২০২৪ সালের স্প্রিং সেমিস্টারের জন্য আসিফ মাহতাবকে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নতুন চুক্তি না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি মাহতাবকে এই সেমিস্টারের প্রস্তুতিমূলক কাজে তার সময় ও প্রচেষ্টার জন্য পারিশ্রমিক প্রদান করবে।

এতে আরও বলা হয়, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি সব ক্ষেত্রে দেশের সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং দেশের প্রচলিত বিধিবিধান মেনে চলার বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাই ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি সমকামিতার প্রচার ও প্রসারের সঙ্গে যুক্ত, সামাজিক মাধ্যমে কিছু মহলের এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি প্রত্যেকটি মানুষের সমান অধিকার এবং সম্ভাবনা বিকাশের পথে সমান সুযোগ সৃষ্টিতে বিশ্বাস করে।

গত ১৯ জানুয়ারি রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ‘বর্তমান কারিকুলামে নতুন পাঠ্যপুস্তক: বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে ‘ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ক গল্প’ পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদ জানান শিক্ষক আসিফ মাহতাব। তার দাবি, সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ‘ট্রান্সজেন্ডারের গল্প’ ঢুকিয়ে শিক্ষার্থীদের মগজধোলাই করা হচ্ছে। এ সময় তিনি সবার সামনে ওই পাঠ্যবই থেকে ‘শরীফ থেকে শরীফা’ গল্পের পাতা ছিঁড়ে ফেলেন।

এরপর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি তাকে সব শিক্ষাকার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয় এবং তার ব্যবহৃত ই-মেইল ডিজেবল করে দেয়। এ নিয়ে দেশজুড়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই গল্পটি বিশ্লেষণ করার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করে দেয়। কমিটি এখনো এ বিষয়ে কাজ করছে।

শনিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৪

এই সরকার জনগণের নয়- ভারত, চীন, রাশিয়ার: গয়েশ্বর

এই সরকার জনগণের নয়- ভারত, চীন, রাশিয়ার: গয়েশ্বর

 ৩০শে জানুয়ারি সারাদেশে কালো পতাকা মিছিল


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, এই সরকার জনগণের নয়, তারা ভারত, চীন, রাশিয়ার সরকার। তাই আমরা এই সরকারকে মানতে বাধ্য নই।

তিনি বলেন, ৭ই জানুয়ারি মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায় নাই। ৭ শতাংশের বেশি মানুষ ভোট দেয়নি।

শেখ হাসিনা দেশের ৭ ভাগ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আর তারেক রহমান ৯৩ শতাংশ মানুষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

আজ বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কালো পতাকা মিছিল শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় আগামী ৩০শে জানুয়ারি দেশের সকল মহানগর, থানা, জেলায় কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেন গয়েশ্বর রায়।

বক্তব্য শেষে কালো পতাকা মিছিলের উদ্বোধন করেন গয়েশ্বর রায়।

যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে রামদা নিয়ে মিছিল, ‘জবাই কর’ বলে স্লোগান

যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে রামদা নিয়ে মিছিল, ‘জবাই কর’ বলে স্লোগান


 নাটোরের সিংড়ায় যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে রামদা ও লাঠিসোঁটা উঁচিয়ে মিছিল নিয়ে সিএনজি (অটোরিকশা) পরিবহন মালিক সমিতির অফিস ভাঙচুর ও দখল নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তারা ‘ধর ধর চাঁদাবাজ ধর, ধরে ধরে জবাই কর’ বলে স্লোগান দেন।

শুক্রবার বেলা ১১টায় সিংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌর আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি জনি হাসান লাবুর নেতৃত্বে মিছিলটি বের করা হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সিংড়া উপজেলা সিএনজি পরিবহন মালিক সমিতির সদস্যদের উন্নয়নের নামে ২০১৫ সাল থেকে প্রতিদিন অটোরিকশাপ্রতি ৪০ টাকা চাঁদা নিচ্ছেন সংগঠনটির সভাপতি সেলিম রেজা সেন্টু ও সাধারণ সম্পাদক রনজু মন্ডল। বৃহস্পতিবার অটোরিকশাপ্রতি ৪০ টাকার পরিবর্তে ২০ টাকা নির্ধারণ করে দেন সিংড়া পৌরসভার মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস। এ সময় তিনি সমিতিতে নতুন সহসভাপতি হিসেবে সামছুজোহা বাপ্পী ও যুগ্ম সম্পাদক পদে সিংড়া পৌর আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি জনি হাসান লাবুর নাম ঘোষণা করেন। সেই দায়িত্ব পেয়েই শুক্রবার মিছিল নিয়ে সমিতির কার্যালয় দখল করতে আসেন সামছুজোহা বাপ্পী ও জনি হাসান। এ সময় সমিতির সভাপতি সেলিম রেজা ও সাধারণ সম্পাদক রনজু মন্ডলের ভাতিজা শ্রমিক নেতা রনি মন্ডলের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে জনি হাসানের নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অস্ত্র নিয়ে সমিতির কার্যালয় ভাঙচুর করে চলে যায়।

এ বিষয়ে সমিতির সভাপতি সেলিম রেজা বলেন, সামছুজোহা বাপ্পী ও জনি হাসান দেশীয় অস্ত্রসহ মিছিল নিয়ে সমিতির কার্যালয় দখল করতে আসে। পরে তারা ভাঙচুর করে অফিস তালাবদ্ধ করে চলে যায়। যাওয়ার সময় জবাই করে
হত্যার হুমকিও দিয়েছে।

চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, মালিক সমিতি অফিস থেকে কোনো চাঁদা উত্তোলন করা হয় না। প্রতিটি সিএনজি থেকে ২০ টাকা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে ১০ টাকা শ্রমিক কল্যাণে ও ১০ টাকা চেইন মাস্টার পান। আমরা শুধু পরিচালনা করি।

সাধারণ সম্পাদক রনজু মন্ডল বলেন, জনি হাসানের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে মালিক সমিতি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও দখল নেওয়া হয়েছে। এতে আমি ও আমার সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

সিংড়া পৌর যুবলীগের সভাপতি জনি হাসান বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর প্রশাসন চাঁদা বন্ধ করতে পারেনি। তাই চাঁদা আদায় বন্ধ করতে অস্ত্রসহ ব্যবসায়ীদের নিয়ে এই মিছিল করা হয়েছে।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মিছিলের বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৪

জাতীয় পার্টির ছয় শতাধিক নেতা–কর্মীর পদত্যাগ

জাতীয় পার্টির ছয় শতাধিক নেতা–কর্মীর পদত্যাগ


 জাতীয় পার্টির (জাপা) ৬৬৮ জন নেতা-কর্মী পদত্যাগ করেছেন। তারা জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হকের (চুন্নু) বিরুদ্ধে দলে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছেন। দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের পদত্যাগকারী এই নেতারা জাপার বর্তমান নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে নতুন করে দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।

জাপা থেকে পদত্যাগকারী এই নেতারা ঢাকা মহানগর উত্তরের ৯টি থানা ও এর আওতাধীন বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটিতে রয়েছেন। থানাগুলো হচ্ছে হাতিরঝিল, মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা, আদাবর, তেজগাঁও, পল্লবী, মিরপুর, বাড্ডা ও রূপনগর।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তন কেন্দ্রে  আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাপার এই নেতা–কর্মীরা তাদের গণপদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন। জাপার এই নেতা–কর্মীদের পদত্যাগের নেতৃত্ব দেন জাপার সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম। তবে জাপার শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে সম্প্রতি তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জি এম কাদের মনে করেন জাতীয় পার্টি একটি মুদিদোকান। তিনি সকালে কার্যালয়ে আসেন, সন্ধ্যায় ফিরে যান। তার একটি ফোরাম আছে, ফাঁদ আছে, তার নির্ধারিত কিছু লোক সারা দিন দোকানদারি করে তাকে হিসাব দেন। হিসাব নিয়ে তিনি বাসায় ফিরে যান। সারা দেশে তিনি একটি সভা-সমাবেশও করেননি।’

জি এম কাদেরের উদ্দেশে শফিকুল ইসলাম এ–ও বলেন, ‘দল হচ্ছে এরশাদের। আমরা এরশাদের আদর্শের সঙ্গে আছি। এই আদর্শ নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। যদি কোনো বাধা দিতে আসেন, বাধা দিয়ে পারবেন না। এই দল করার যোগ্যতা আপনার নাই। আমরা তার নেতৃত্বে দল করব না।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাপার কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম পাঠান। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাপা থেকে অব্যাহতি পাওয়া আরেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সুনীল শুভরায়সহ জাপা কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা মহানগর উত্তর জাপার বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীরা।

লিখিত বক্তব্যে  জাহাঙ্গীর আলম পাঠান বলেন, ‘আমরা জি এম কাদেরের নেতৃত্বে বিপর্যস্ত সংগঠনে অবস্থান করে এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টির ধ্বংস দেখতে চাই না। তাই জি এম কাদেরের সংগঠন থেকে গণপদত্যাগের ঘোষণা করছি। একই সঙ্গে অল্প সময়ের ব্যবধানে নতুন করে জাতীয় পার্টি গঠন করে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।’

বিএনপির নেতাকর্মীদের কারও কথায় মুক্তি দেবে না সরকার: কাদের

বিএনপির নেতাকর্মীদের কারও কথায় মুক্তি দেবে না সরকার: কাদের


 আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের কারও কথায় মুক্তি দেবে না সরকার।

শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপ-কমিটির আয়োজিত শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দাবি করা হচ্ছে বিএনপির ২৫ হাজার নেতাকর্মী জেলে আছে। যারা ট্রেনে আগুন দিয়েছে, বাসে আগুন দিয়েছে, পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা করেছে এবং প্রধান বিচারপতির বাড়িতে হামলা করেছে; তারাই জেলে গেছে। এরা আইনের সঙ্গে ফেস করুক।

তিনি বলেন, ভোটে না আসতে পারার শোকে শোকে বিএনপি পাথর হয়ে গেছে। বিএনপি হচ্ছে বাংলাদেশে ডামি বিরোধী দল। তারা আন্দোলন করবে জনতার ঢল নামবে, এসব শুনে এখন ঘোড়াও হাসে। নিজেদের নিজেরাই ভুয়া বানিয়ে ফেলছে। তারা যতোই আন্দোলন করুক, জনগণ দূরে থাক নেতাকর্মীরাও সাড়া দেবে না।

আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমদ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী, নির্মল কুমার চ্যার্টাজী।

রাজধানীতে এলডিপির কালো পতাকা মিছিল

রাজধানীতে এলডিপির কালো পতাকা মিছিল


 দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতি, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তি, সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও অবৈধ সংসদ বাতিলসহ একদফা দাবি আদায়ে রাজধানীতে কালো পতাকা মিছিল করেছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে এই মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি নাইটিঙ্গেল, বিজয়নগর, পল্টন হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বশিরের নেতৃত্বে মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজি, আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম, প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিলু, প্রকাশনা সম্পাদক মেহেদী হাসান মাহবুব, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আজগর বাবু, সহ দপ্তর ওমর ফারুক সুমন, ঢাকা মহানগর উত্তর এলডিপির সাধারণ সম্পাদক অবাক হোসেন রনি, মহানগর পূর্বের সভাপতি সোলায়মান, দক্ষিণের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বশির বলেন, এই সরকার 'ডামি সরকার'। এরা জনবিচ্ছিন্ন। জনগণ এই সরকারের ওপর অনাস্থা দিয়েছে। এই সরকার 'অবৈধ সরকার'। জনগণের ভোট ছাড়া কেউ বৈধ হতে পারে না। যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় তারা কি করে সংসদে বসে? এই ডামি নির্বাচন কারও কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তাই অতি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।

রাজপথে আছি, থাকবো: মঈন খান

রাজপথে আছি, থাকবো: মঈন খান


 বিএনপির চলমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের প্রসঙ্গে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, আমরা রাজপথে দাঁড়িয়ে আছি। দেশের ১৮ কোটির মানুষের জন্য গণতন্ত্র ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত আমরা রাজপথে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে থাকবো।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (জেটেব) উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 'বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে' এই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

মঈন খান বলেন, আমরা রাজপথে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা রাজপথে দাঁড়িয়ে থাকবো। আমরা শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করি-আমরা বাংলাদেশে রাজনীতি করবো নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পথে। বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, বাকশালে বিশ্বাস করে না। বিএনপি শান্তির রাজনীতি করে, বিএনপি লগি-বৈঠার রাজনীতি করে না। আর যতক্ষণ পর্যন্ত না বাংলাদেশের ১৮ কোটির মানুষের জন্য গণতন্ত্র ফিরিয়ে না আনবো, ততক্ষণ ঠিক এভাবেই আমরা রাজপথে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে থাকবো।

তিনি বলেন, সবাই মিলে শপথ নিয়েছি-বাংলাদেশে আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো। দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবন-যাত্রার মান আমরা উন্নত করবো।

আমরা এই আর্দশে রাজনীতি করি। আওয়ামী লীগের মতো ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।

ড. মঈন বলেন, ৭ই জানুয়ারি নির্বাচনের নামে এখানে একটি প্রহসনের নাটক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের কোটি কোটি মানুষ সেই নির্বাচনকে বর্জন করেছে। আর এখানে কোন নির্বাচন হয় নাই। এখানে ইলেকশনের নামে সিলেকশন হয়েছে। এটা শুধু বিএনপি ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ শুধু বলে নাই, আওয়ামী লীগের যারা ভোটার ছিলো, তারাও এই নির্বাচনে যায় নাই। কারণ তারা জানে, এই নির্বাচনে কে নির্বাচিত হবে এবং কে হবে না, এটা ভোট দিয়ে নির্ধারিত হবে না, এটা নির্ধারিত হয়েছে রাজধানী থেকে।

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, সরকার বলছে, বাংলাদেশ না কি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দ্রুত উন্নয়নকামী দেশ। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যদি বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দ্রুত উন্নয়নকামী দেশ হয়ে থাকে তাহলে সেদেশে কেনো আজকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সমানে দাঁড়িয়ে দরিদ্র মানুষদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করতে হচ্ছে। কোথায় সেই উন্নয়ন? কার জন্য সেই উন্নয়ন? এই প্রশ্ন আজকে করতে হবে।

জেটেবের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফখরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বুধবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৪

বাংলাদেশের নির্বাচন ইস্যুতে অটল যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশের নির্বাচন ইস্যুতে অটল যুক্তরাজ্য


 বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাজ্য যে অভিমত দিয়েছিলেন, সেই অবস্থানেই রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।

বুধবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মানদণ্ড অনুযায়ী হয়নি বলে অভিমত দিয়েছিল। যুক্তরাজ্য সেই অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি। তবে বাংলাদেশে নির্বাচন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রশ্নে ইতিবাচকভাবে যুক্ত থাকবে যুক্তরাজ্য।

সারাহ কুক বলেন, আপনারা জানেন, যুক্তরাজ্য সরকার নির্বাচন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে গত ৮ জানুয়ারি একটি বিবৃতি দিয়েছে। আমরা এ বিষয়গুলো নিয়ে সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইতিবাচকভাবে আলোচনা চালিয়ে যাব।

তিনি বলেন, আমরা যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ সম্পর্ক শক্তিশালী, ব্যবসা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা অংশীদারত্ব জোরদার, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন এবং রোহিঙ্গাদের কল্যাণের মত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।

দুই দিন পর বিজিবি সদস্যের লাশ ফেরত দিলো বিএসএফ

দুই দিন পর বিজিবি সদস্যের লাশ ফেরত দিলো বিএসএফ

 


ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোহাম্মদ রইশুদ্দীনের লাশ দুই দিন পর ফেরত দিয়েছে বিএসএফ।

বুধবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার দিকে যশোরের শার্শা উপজেলার শিকারপুর সীমান্ত দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে রইশুদ্দীনের মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গত ২২ জানুয়ারি শার্শা উপজেলার ধান্যখোলার জেলেপাড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে সিপাহি মোহাম্মদ রইশুদ্দীন নিহত হন। ওইদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিজিবির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হয়। রইশুদ্দীনের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকা সাহাপাড়ার শ্যামপুরে।

এদিকে, মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) রইশুদ্দীনের গ্রামের বাড়ি শ্যামপুরে গিয়ে দেখা যায়, টিনের একচালা একটি ঘর ও পাশের রান্নাঘরে তালা। শৈত্যপ্রবাহের কারণে দুই শিশুসন্তান (চার বছরের মেয়ে ও চার মাস বয়সী ছেলে) নিয়ে স্ত্রী নাসরিন বেগম উঠেছেন ভাশুরের বাড়িতে। সেখানে গ্রামবাসী এসে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।

রইশুদ্দীনের বাবা কামরুজ্জামান জানান, তিন ছেলের মধ্যে সবার ছোট রইশুদ্দীন ছিলেন পরোপকারী। নাতি-নাতনিকে যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপারে সরকারের সহায়তা চান তিনি।

অন্যদিকে, রইশুদ্দীনের স্ত্রী নাসরিন ক্ষণে ক্ষণে মূর্ছা যাচ্ছেন। জ্ঞান ফিরতেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছেন, ‘দুইটা অবুঝ বাচ্চা ও আমারে একা ফেলে চলে গেল। তাদের মানুষ করব কীভাবে? ওরে ছাড়া আমি চলব কীভাবে?’

৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আহমেদ হাসান জামিল বলেছেন, ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের কাছে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবাদ পাঠানো হয়েছে।

বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সোমবার ভোর ৫টার দিকে বিজিবি যশোর ব্যাটালিয়নের ধান্যখোলা বিওপির জেলেপাড়া পোস্টসংলগ্ন এলাকায় একদল গরু চোরাকারবারিকে ভারত সীমান্ত অতিক্রম করতে দেখে বিজিবির টহল দল। এ সময় টহল দলের সদস্যরা তাদের ধাওয়া দিলে দৌড়ে ভারতের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় টহল দলের সদস্য সিপাহি মোহাম্মদ রইশুদ্দীন চোরাকারবারিদের পেছনে ধাওয়া করতে করতে ঘন কুয়াশার কারণে দলছুট হয়ে পড়েন। প্রাথমিকভাবে তাকে খুঁজে পাওয়া না গেলেও পরে জানা যায়, বিএসএফের গুলিতে আহত হয়ে ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় জালিয়াপাড়ার কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, সোমবার ভোরে তারা অন্তত ৭-৮ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন। পরে সকালে সীমান্তের ওপারে এক যুবককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তারা বলেন, ধান্যখোলা জালিয়াপাড়া সীমান্ত দিয়ে ভোরে গরু চোরাকারবারিদের ধাওয়া করার সময় বিএসএফের ছোড়া গুলিতে আহত হন মোহাম্মদ রইশুদ্দীন নামের ওই বিজিবি সদস্য। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাকে ভারতের বনগাঁ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

ইইউর বাণিজ্য নিয়ম না মানলে নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা হতে পারে

ইইউর বাণিজ্য নিয়ম না মানলে নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা হতে পারে


 ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কর্মকর্তারা বলেছেন, মানবাধিকার ও পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশকে ডিউ ডিলিজেন্স বা নিয়মকানুন যথাযথভাবে পালন করতে হবে। নিয়ম না মানলে নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের জন্য ব্র্যান্ডগুলোকে বাধ্য করা হবে। তবে স্থানীয় উৎপাদকেরা মনে করেন, নিয়মের সংখ্যা ও তা পরিপালনের খরচ অনেক বেশি। সে কারণে তারা ক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্যের ন্যায্যমূল্য চেয়েছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ‘আইনের যথাযথ পরিপালন’ বিষয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীরা। গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেছে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি)।

আইবিএফবি সভাপতি হুমায়ুন রশীদের সভাপতিত্বে গোলটেবিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডেপুটি হেড অব ইইউ মিশন বার্নড স্প্যানিয়ার।

অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান, নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন এবং আইবিএফবি সহসভাপতি এম এস সিদ্দিকী। অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জানান আইবিএফবি উপদেষ্টা মুহাম্মদ আবদুল মজিদ।

মানবাধিকার ও পরিবেশ সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো মানতে একগুচ্ছ নিয়মকানুন তৈরি করছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলো। নিয়ম না মানলে উৎপাদক, ক্রেতা ও ব্র্যান্ড—যে কাউকেই দেওয়া হতে পারে নিষেধাজ্ঞা, বা আরোপ করা যেতে পারে বড় ধরনের জরিমানা।

আলোচনা অনুষ্ঠানে ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি বলেন, যে ডিউ ডিলিজেন্স আইন করা হয়েছে, তা শুধু ক্রেতা–বিক্রেতার বিষয় না; সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত সবার পালনের জন্যই তা করা হয়েছে। এসব নিয়মকানুনের মধ্যে শিশুশ্রম, বাধ্যতামূলক শ্রম, দাসত্ব (স্লেভারি), বন ধ্বংস, পরিবেশদূষণ, ইকোসিস্টেমের ক্ষতি করা ও মানবাধিকারের মতো বিষয় রয়েছে। সুতরাং এসব শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নের একার স্বার্থ নয়, এর সঙ্গে বৈশ্বিক স্বার্থ যুক্ত।

ডিউ ডিলিজেন্স বিধিবিধানগুলোকে আলাদা হিসেবে দেখা ঠিক হবে উল্লেখ করে চার্লস হোয়াইটলি বলেন, ২০২৬ সাল নাগাদ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পথে বাংলাদেশকে অনেক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তাই ডিউ ডিলিজেন্স আইনকে আলাদা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এ–সম্পর্কিত প্রায় ৩২টি কনভেনশন রয়েছে। বাংলাদেশকে এগুলো শুধু অনুসমর্থন নয়, বরং তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বেশ কিছু বিধিবিধান পাস হয়েছে। যদিও এসবের মূল সারমর্ম প্রায় একই, তারপরও প্রতিটির জন্য আলাদা নিরীক্ষা করতে হয়। এটি নিঃসন্দেহে সময় ও আর্থিক দিক থেকে টেকসই না। সুতরাং আইনগুলো সার্বজনীন ও বৈশ্বিকভাবে পালনযোগ্য হওয়া উচিত।

ফারুক হাসান আরও বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে টেকসই ও নৈতিক চর্চা পালন করা হচ্ছে। তবে মনে রাখতে হবে, এটি একক কোনো কাজ নয়, এই প্রক্রিয়াকে সফল করতে হলে ক্রেতা–বিক্রেতা উভয়ের সমর্থন প্রয়োজন। ক্রেতাদের মধ্যে পণ্যের কম দাম দেওয়ার জন্য এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতা রয়েছে। ব্যবসা ক্ষেত্রে এ ধরনের অসদাচরণ মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মূল বক্তব্যে বার্নড স্প্যানিয়ার বলেন, ‘স্থানীয় দুর্বল নিয়ম ও কম দামে ক্রয়াদেশ নেওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ খাতে অনেকেই নিয়মকানুন মেনে চলেন না। আমরা বাংলাদেশে রানা প্লাজাধসের ঘটনা এবং করোনার সময় কিছু ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের অদায়িত্বশীল আচরণ দেখেছি। এসব ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো স্বেচ্ছায় নিয়মকানুন মানছে না। এ জন্য সরবরাহ খাতে সুশাসন থাকা প্রয়োজন। এই বাস্তবতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কিছু আবশ্যক পালনীয় আইন বাস্তবায়ন করছে।’

ডিউ ডিলিজেন্স বাধ্যবাধকতা দুভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথমত, মানবাধিকার ও পরিবেশ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হলে ভুক্তভোগী যে কেউ নির্দিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে ইউরোপীয় আদালতে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, ইইউর তদারককারী কর্তৃপক্ষগুলো নিজেরাই পর্যবেক্ষণ করবে যে সরবরাহ শৃঙ্খলে কেউ নিয়ম ভাঙছে কি না। যথাযথভাবে নিয়ম না মানলে ইইউ কর্তৃপক্ষ যেকোনো নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে, যার আর্থিক মূল্য ওই কোম্পানির বৈশ্বিক আয়ের ৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

তবে বর্তমান আর্থিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের উৎপাদকদের পক্ষে এত ধরনের পরিপালন মেনে চলার বাস্তবতা নেই বলে জানান আইবিএফবি সহসভাপতি এম এস সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘বিশ্বে সামাজিক ও পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স একেক অঞ্চলে একেক রকম। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আমরা সবচেয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করছি, অথচ আমাদের ওপর একের পর এক নিয়মকানুনের বোঝা চাপানো হচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক আইনগুলো প্রয়োজনীয় সংশোধন করে একক ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।’

সব অঞ্চলের জন্য একক নিয়ম চেয়েছেন অন্য ব্যবসায়ী নেতারাও। যেমন নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘দাম নিয়ে সব সময়ই আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। ক্রেতা দেশগুলোর বিভিন্ন আইনের পরিপালনের লক্ষ্যে কয়েক ধরনের অডিট পদ্ধতি মেনে চলতে হয় উৎপাদকদের। এতে ব্যবসার সময় ও খরচ অনেক বেড়ে যায়। এসব অডিট পদ্ধতিকে একত্রীকরণ করা প্রয়োজন।’

বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, ‘বিভিন্ন বিধিবিধানের পরিপালন করতে আমাদের মূলত ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেই সনদ নিতে হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য এটা বড় ধরনের ব্যবসা। আমরা সব ধরনের শর্ত মানলেও পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাই না। সুতরাং সব কমপ্লায়েন্স মানার শর্ত দিলে, এই ভারী বোঝা বহনের শক্তিও আমাদের দিতে হবে। অর্থাৎ পণ্যের ন্যায্যমূল্য দিতে হবে।’

এ বিষয়ে ডেপুটি হেড অব ইইউ মিশন বার্নড স্প্যানিয়ার বলেন, ‘দাম নির্ধারণ হচ্ছে ক্রেতা–বিক্রেতার মধ্যে নেগোসিয়েশনের বিষয়। এ বিষয়ে আমরা কাউকে বাধ্য করতে পারি না।’

অন্যদিকে, ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা যে একটি একক অডিট পদ্ধতির কথা বলছেন—এটি একটি ভালো প্রস্তাব। আমরাও এটি নিয়ে কথা বলব। তবে বাংলাদেশের অবশ্যই সরবরাহ শৃঙ্খলে নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে।’

রবিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৪

হামাসকে সৃষ্টি করেছে, অর্থ দিয়েছে ইসরাইল: জোসেফ বোরেল

হামাসকে সৃষ্টি করেছে, অর্থ দিয়েছে ইসরাইল: জোসেফ বোরেল


 গাজায় যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাসকে ‘সৃষ্টি’ এবং ‘অর্থ সহযোগিতা’ দেয়ার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক জোসেফ বোরেল। শুক্রবার তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনের ফাতাহ গোষ্ঠীকে দুর্বল করতে হামাসকে অর্থ সহায়তা দিয়েছে ইসরাইলি সরকার।

তিনি আরও বলেন, শান্তি আনার জন্য বাইরে থেকে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান চাপিয়ে দেয়া উচিত। যদিও আমি জানি হামাসকে সৃষ্টি করার অভিযোগ বার বার অস্বীকার করবে ইসরাইল। উল্লেখ্য, প্রথম প্যালেস্টাইনিয়ান ইন্তিফাদা বা অভ্যুত্থানের পর ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বরে ইসরাইলি দখলীকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সৃষ্টি হয় হামাস। ২০০৭ সালের জুনে গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেয় হামাস। অন্যদিকে দখলীকৃত পশ্চিম তীরের আংশিক প্রশাসন থাকে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বে। ওদিকে ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের যেসব বর্ণনা আল জাজিরায় পাওয়া যাচ্ছে তাতে দেখা যায়, গত মাসে গাজায় কিভাবে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে ইসরাইল। জাতিসংঘের নারী বিষয়ক এজেন্সি সতর্ক করেছে যে, এই যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিনে মানসিক ক্ষত নিয়ে বড় হবে একটি প্রজন্ম। তথ্যে দেখা যায় প্রতি এক ঘন্টায় গাজায় দু’জন করে মাকে হত্যা করছে ইসরাইল। এর মধ্যে দখলীকৃত পশ্চিমতীর জুড়ে ইসরাইলের অভিযান অব্যাহত আছে।

৭ই অক্টোবরের পর সেখানে ৩৬৯ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে তারা। জাতিসংঘের রিপোর্টে বলা হচ্ছে, জানুয়ারির প্রথম অর্ধাংশে গাজার উত্তরাঞ্চলে মাত্র ২৯টি মানবিক সহায়তা মিশন অনুমোদন দিয়েছে ইসরাইল। তারা শতকরা ৯৫ ভাগ জ্বালানি এবং ওষুধ সরবরাহ দেয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ৭ই অক্টোবর থেকে ইসরাইলের নৃশংসতায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা কমপক্ষে ২৪ হাজার ৭৬২। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬২ হাজার ১০৮ জন।

কয়েক হাজার ফিলিস্তিনিকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে গোপন কারাগারে রেখেছে ইসরাইল। সেখান থেকে যারা মুক্তি পেয়েছেন, তারা বর্ণনা করেছেন তাদের সঙ্গে কি নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছে। অনেকে বলেছেন, তাদেরকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। একজন বলেছেন, তার পিঠে এখনও দাগ আছে। সেই দাগই বলে দিচ্ছে তিনি কি বেদনা বহন করছেন। তিনি বলেন, ইসরাইলিরা আমাকে আটক করে পোশাক খুলে নেয়ার নির্দেশ দেয়। আমার হাম বেঁধে ফেলা হয়। চোখ বেঁধে ফেলা হয়। তারা আমার মাথা কামিয়ে ফেলে। তাদেরকে বলি আমার স্বাস্থ্যগত সমস্যা আছে। কাঁধে আছে প্রোস্থেটিক সমস্যা। কিন্তু তারা অব্যাহতভাবে আমাকে আঘাত করতে থাকে। আমার বাম বাহুতে সব রকম অনুভূতি হারিয়ে ফেলেছি। আমাকে অপমান করা হয়েছে। প্রহার করা হয়েছে। উপর্যুপরি মুখে থাপড়ানো হয়েছে।

ওদিকে গাজায় আন্তর্জাতিক আইন ইসরাইল অনুসরণ করছে কিনা তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়নি বৃটেন। দেশটির সরকারের আইন বিষয়ক পরামর্শরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। ইসরাইলে অস্ত্র রপ্তানির আভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। তাতে দেখা হয় ইসরাইল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করছে কিনা। এক্ষেত্রে নভেম্বরে মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করে বৃটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইসরাইল থেকে নিশ্চয়তা পাওয়ার পর কর্মকর্তারা বলেন যে, তাদের হাতে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ নেই।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে : এফবিসিসিআই সভাপতি

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে : এফবিসিসিআই সভাপতি


 দেশে চলমান গ্যাস সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেছেন, বেশ কয়েক মাস ধরেই শিল্পকারখানায় গ্যাস সংকট চলছে। সরবরাহ না থাকায় দিনের পর দিন বিভিন্ন কারখানা বন্ধ থাকছে। এতে উৎপাদনে ধস নেমেছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে শিল্পোৎপাদন গভীর সংকটে পড়বে। ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। শিল্পকারখানা বন্ধ হলে কিংবা বেতন দিতে না পারলে লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে। দেশের অর্থনীতিতেই পড়বে চাপ। তাই গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এফবিসিসিআই সভাপতি গণমাধ্যমকে আরও বলেন, গ্যাস আমদানিনির্ভর একটি জ্বালানি। বর্তমানে বৈশ্বিক পরিস্থিতিও ভালো নয়।

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহিদের নিয়ন্ত্রণ ও হামলার কারণে লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প পথে জাহাজ চলাচলের কারণে দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি খরচ, জাহাজ ভাড়া তথা আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তার ওপর আছে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি। শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতেও ব্যয় বাড়ছে। চলমান গ্যাস সংকট মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসাবে দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন।

এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। পাকিস্তান ও ইরানের পালটাপালটি হামলা এ অঞ্চলে অশান্তি তৈরি করছে। তাই সরকারকে সাবধানে পা ফেলতে হবে। শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ দিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়েকে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার কথাও বলেন তিনি।

তিনি বলেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের কথা বলছে। মাত্র ‘২৪ সাল শুরু হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের জন্য যদি দুই বছর অপেক্ষা করতে হয় সেই সময়টা অনেক বেশি। এফএসআরইউ বা রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট সংস্কারজনিত কারণে গ্যাস সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং এই সমস্যা সাময়িক বলে দাবি করছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। এফবিসিসিআই চায় ইউনিট সংস্কার করে শিল্প কারখানায় দ্রুত গ্যাস সরবরাহ দেয়া হোক।

‘সাময়িক’ সংকট নিরসন করে শিল্পের চাকা সচল রাখবে। একইসঙ্গে গ্যাসের পর্যাপ্ত আমদানি এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহে সরকার দ্রুত ও যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সরকার বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে হাস্যরসে পরিণত করেছে: রিজভী

সরকার বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে হাস্যরসে পরিণত করেছে: রিজভী


 ভোটবিহীন ডামি নির্বাচন করে অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে হাস্যরসে পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার সকালে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে মহিলা দলের উদ্যোগে 'সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে' দু:স্থদের মাঝে কম্বল বিতরণকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে না এসে দেশের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করার চেষ্টা করছে। ওবায়দুল কাদেররা এই দেশটাকে দোজখে পরিণত করেছে। আমরা তো সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনার আন্দোলন করছি। আপনারা তো সার্বভৌমত্বকে বন্ধক রেখেছেন। দেশের সার্বভৌমত্বকে বন্ধক রেখে একটি ভোটবিহীন ডামি নির্বাচন করে দেশকে আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে হাস্যরসে পরিণত করেছেন। আমরা যদি সার্বভৌমত্ব বন্ধক রাখতাম, প্রভুদের কথা শুনতাম, নিজেদের শক্তি বলে আন্দোলন করতাম না। এদেশের জনগণ আমাদের শক্তি তাদের ভরেই আমরা রাজনীতি করছি। কোন প্রভুদের ভরে নয়। যারা প্রভু রাষ্ট্রের ভরে রাজনীতি করে তারাই এদেশের সার্বভৌমত্বকে বিক্রি করে।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে আমরা চলছি, যার কারণে দুর্নীতিবাজ সরকারের নির্যাতনের মধ্যেও আমাদের আন্দোলন চলমান। এই ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতিবাজ সরকার আমাদের দলের নেতাকর্মীদের ওপর জেল, জুলুম ও অত্যাচার তো করছেই, সেই সঙ্গে আমাদের নারী নেত্রীদের ওপর জুলুম ও অত্যাচার করছে এরমধ্যেও আমাদের নারী নেত্রীরা পুরুষ নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলন ও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আজ আমরা নদীর পানি আনতে পারি না।

টিপাইমুখ বাঁধ, পদ্মা বাঁধ আটকে রেখেছে। আপনার (আওয়ামী লীগ) কথা বলতে পারেন না। কারণ আপনারা সার্বভৌমত্ব বিক্রি করা লোক। জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে একদলীয় কর্তৃত্ববাদ হয়েছেন শেখ হাসিনা। এরমধ্যেও আমাদের এখানে যারা নেতৃবৃন্দ আছেন তারা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও শক্তিশালী করার জন্য জীবনকে বাজিয়ে রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের জীবন চলে যাবে তারপরও বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটি ইজারা দিতে দেবো না আমরা। এটাই হচ্ছে বিএনপি।

এসময় বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বান্দরবানে সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দুই পর্যটক নিহত

বান্দরবানে সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দুই পর্যটক নিহত


 বান্দরবানে রুমা-বগালেক-কেওক্রাডং সড়কে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে একটি পর্যটকবাহী জিপ গাড়ি পাহাড়ি খাদে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীসহ দুই পর্যটক মারা গেছেন। এ ঘটনায় ১০ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। হতাহতরা সবাই নারী। ‘ভ্রমণ কন্যা’ নামের একটি সংগঠনের হয়ে তাঁরা কেওক্রাডং ভ্রমণে গিয়েছিলেন।

রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মাহবুবুল হক ঘটনাস্থল থেকে জানিয়েছেন, গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ৫০০ মিটার পাহাড়ি খাদে পড়ে যায়।

গাড়িতে পর্যটক ছিলেন ১৩ জন। দুজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। নিহত দুজনের মধ্যে ফিরোজা বেগম (৫৩) । অন্যজন জয়নাব খাতুন (২৪) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী। আহতরা হলেন রাফান (১২), উষসী নাগ (১৫) ও জবা রায় নাগ (৪৫), মাহফুজা ইসলাম (৪৫), আমেনা বেগম (৬০), তাহমিনা তানজিম তালুকদার (১৯), তাননিম, রিজভী (৩৪), আঞ্জুমান হক (৩৫), ইতু (১৬) ও স্বর্ণা (২৩)।

হতাহতদের সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার করে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেছে। গাড়ির চালক পলাতক রয়েছেন।

ঘটনাস্থল থেকে পর্যটকদের গাইড মুনথাং বম বলেন, পর্যটক দলটি ক্রেওক্রাডং দেখে ফিরছিলেন। এ সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে উল্টে যায়। হতাহতদের প্রথমে স্থানীয় লোকজন ও সঙ্গে থাকা পর্যটকেরা উদ্ধারের চেষ্টা করেন।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজনের সূত্রে জানা গেছে, 'ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ—ভ্রমণকন্যা' সংগঠনের ৫৭ জনের একটি দল চারটি চাঁদের গাড়ি নামে পরিচিত ফোর হুইল জিপ গাড়িতে আজ সকালে বগালেক থেকে কেওক্রাডং পাহাড় চূড়ায় গিয়েছিলেন। কেওক্রাডং ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে দার্জিলিংপাড়া ও রুমসংপাড়ার মাঝামাঝি এলাকায় একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ি খাদে পড়ে যায়। অন্য গাড়িতে থাকা ভ্রমণকারীরা স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় প্রাথমিকভাবে হতাহতদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালায়।

রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) মো. আব্দুল্লাহ আল হাছান জানিয়েছেন, দুজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের প্রথমে বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সের সহযোগিতা নিয়ে বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

রাজনীতিকে নির্বাসন দেয়া হয়েছে: মঈন খান

রাজনীতিকে নির্বাসন দেয়া হয়েছে: মঈন খান


 বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদু্ল মঈন খান অভিযোগ করে বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে রাজনীতিকে নির্বাসন দেয়া হয়েছে। এখন চলছে শুধু ক্ষমতা, টাকা এবং অর্থের রাজনীতি। বিগত ১৫ বছর ধরে সরকার বারবার বিরোধীদলকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে একটি সন্ত্রাসী দল হিসেবে। জঙ্গি সংগঠন বলছে। তাদের এ কথা এবার কোন কাজে দিবে না। এটা মনে রাখবেন। সর্বশেষ গত দুই মাস আগে একই কার্য সম্পাদন করতে চেষ্টা করেছে।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ইউনাইটেড ল'ইয়ার্স ফ্রন্টের উদ্যোগে 'গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পেশাজীবীদের ভূমিকা' শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

মঈন খান বলেন, ১/১১ নিয়ে অনেক কিছু বলার আছে, আজকের আলোচনা কিন্তু এটা সম্পর্কহীন নয়। আজ আমরা কোন সাম্রাজ্যে বসবাস করছি! স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্র আর তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের দারিদ্র্য মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। ৯ মাসে যুদ্ধ করেছিলাম আমরা সাম্যের আশায়। আমরা যে মূল্যের জন্য স্বাধীনতা করেছিলাম ৫২ বছর আগে, তবে আজ কেনো বলতে হয়, আমাদের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার নাই।

কেউ যদি মুক্তির কথা বলে, গণতন্ত্রের কথা বলে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এজন্যই কি আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম?
তিনি বলেন, আজকের এই আন্দোলন কিন্তু বিএনপি বনাম আওয়ামী লীগ নয়। আজকের আন্দোলন নিরস্ত্র জনগণ বনাম রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগতকারী দল। গত ২৮শে অক্টোবরে ঘটনা বিশ্ব কিভাবে দেখেছে, সেটা দেখতে হবে। তারা কি বলছে। তারা বলছে ২৮শে অক্টোবর সরকার ক্রাকডাউন করেছে বিরোধীদলের ওপর। আর ৭ই জানুয়ারি নির্বাচন নিয়ে বিশ্ব বলছে, এটা সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি।

ড. মঈন বলেন, আওয়ামী লীগ অনেক নাম পরিবর্তন করতে পারলেও নিজেদের নাম পরিবর্তন করতে পারেনি। তাদের আওয়ামী লীগ শব্দটি উর্দু। আওয়ামী মুখে যা বলে তা করে না। যা বলে না তাই করে। মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাকশাল কায়েম করছে। তারাই আবার গণতন্ত্রের প্রবক্তা দাবি করে।

তিনি আরও বলেন, রাজনীতি এখন ক্ষমতার উৎস, আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় আছে, ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে। আরও ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারে। কারণ আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে বাংলাদেশটা তাদের পারিবারিক জমিদারি। তারা বলে আজীবন ক্ষমতায় থাকবে। আমরা নির্বাচন ঠেকাতে পারিনি। এটা সত্য। তবে এ দেশের ১৮ কোটি জনগণ ও ১২ কোটি ভোটারের মন ঠিকই জয় করতে পেরেছি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিনের সভাপতিত্বে সভায় গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

শনিবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৪

রাজধানীতে র‍্যালির অনুমতি পায়নি ছাত্রদল, নয়াপল্টনে পুলিশ মোতায়েন

রাজধানীতে র‍্যালির অনুমতি পায়নি ছাত্রদল, নয়াপল্টনে পুলিশ মোতায়েন


 বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে র‌্যালি করতে চেয়েছিল ছাত্রদল। সেজন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)তে অনুমতি চেয়ে চিঠিও দিয়েছিল সংগঠনটি। কিন্তু ডিএমপি থেকে তাদের র‌্যালির অনুমতি দেয়া হয়নি। গতকালই ছাত্রদলকে সেটি জানানো হয়েছে। অনুমতি না পেয়ে রাজধানীর দুই মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজসহ জেলায় জেলায় র‌্যালি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।

এসব তথ্য জানিয়েছেন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বলেন, ডিএমপি থেকে আমাদের র‌্যালির অনুমতি দেয়া হয়নি। তারা ঘরোয়া প্রোগ্রাম করার কথা বলেছে। অনুমতি না পাওয়ায় নয়াপল্টনে র‌্যালিটি করবো না আমরা। তবে রাজধানীর দুই মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজসহ জেলায় জেলায় র‌্যালি করার জন্য সব ইউনিটকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিকে এই কর্মসূচিকে ঘিরে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নয়াপল্টনের বিভিন্ন অলি-গলিতেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দেখা গেছে।

চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ, রেস্তোরাঁয়ও মিলছে না খাবার

চট্টগ্রাম নগরের কোথাও আজ শুক্রবার সকাল থেকে সরবরাহ লাইনে গ্যাস পাননি গ্রাহকেরা। গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) কর্তৃপক্ষ আগে থেকে কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রচার না করায় এ নিয়ে গ্রাহকদের কোনো রকম প্রস্তুতিও ছিল না। সকালে গ্যাস বন্ধ থাকায় অনেকেই রেস্তোরাঁয় খাবারের জন্য লাইন দিয়েছেন। কিন্তু বহু রেস্তোরাঁয় রান্নাও হয়নি। অনেক এলাকায় বৈদ্যুতিক চুলা ও লাকড়ি জ্বালিয়ে রান্নার কাজ সারতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

এদিকে হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নগরের ফিলিং স্টেশনগুলোতেও গ্যাস মিলছে না। এ কারণে সড়কে কমে গেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চলাচল। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় এ নিয়ে ভোগান্তি ছিল তুলনামূলক কম।

আজ সকাল ১০টায় চট্টগ্রামে পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) মহাব্যবস্থাপক আমিনুর রহমান। তিনি বলেন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে চট্টগ্রামে সরবরাহ করা হয়। আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে পাইপলাইনে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি গত ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। এটি গতকাল বৃহস্পতিবার চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চালু করা যায়নি। এ ছাড়া পেছনের গতি বা ব্যাক প্রেশার না থাকার কারণে সামিট এলএনজি টার্মিনালটিও গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। এ কারণে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

আমিনুর রহমান আরও বলেন, আজ সারা দিন গ্যাস না পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, সামিটের টার্মিনালটি খালি করা হচ্ছিল। এটিও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যাওয়ার কথা আছে। সব মিলিয়ে কখন পরিস্থিতি ভালো হবে বলা যাচ্ছে না।

গ্রাহকদের দুর্ভোগ
গ্যাস না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রাহকেরা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আদনান মান্নান থাকেন নগরের কাতালগঞ্জ এলাকায়। তিনি জানান, গ্যাস না থাকায় বিপাকে পড়েছেন তিনি। চুলা জ্বলছে না।

নগরের মোমেনবাগ এলাকার বাসিন্দা রিদুয়ানুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাসায় গ্যাস না থাকায় সকালের নাশতা করতে দোকানে গিয়েছিলাম। কিন্তু দোকানেও কোনো নাশতা তৈরি হয়নি। না খেয়ে আছি।’

বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা সালমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিন মাস ধরে গ্যাসের তীব্র সংকটে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এসব যেন দেখার কেউ নেই।

নগরের হামজারবাগ, মোমেনবাগ, হিলভিউ, আসকার দিঘীরপাড়, এনায়েতবাজার, লাভলেন, আন্দরকিল্লার ১০ গ্রাহক প্রথম আলোকে বলেন, হোটেলে গিয়েও খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে তাঁদের কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে মাটির চুলা ব্যবহার করছেন। কেউ সিলিন্ডার কিনেছেন।

এদিকে গ্যাস না পাওয়ায় সড়কে গ্যাসচালিত যানবাহনের সংখ্যাও কমে গেছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা নেই বললেই চলে। হাতে গোনা দু–চারটি চলাচল করছে। মুরাদপুরে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মুরাদ পারভেজ বলেন, গতকাল কোনোরকমে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিয়েছিলেন তিনি। আজ দুপুর পর্যন্ত চলবে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামে কেজিডিসিএলের গ্রাহক সংযোগ ৬ লাখ ১ হাজার ৯১৪টি। এর মধ্যে গৃহস্থালি সংযোগ ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১টি, বাকিগুলো শিল্প-বাণিজ্যসহ অন্য খাতে। এসব খাতে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু স্বাভাবিক সময়ে মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল থেকে পাওয়া যায় ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ১ নভেম্বর থেকে কমবেশি ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছিল। এ কারণে সব ধরনের গ্রাহকই বিপাকে পড়েন।

কেজিডিসিএলের কর্মকর্তারা বলছেন, মার্কিন টার্মিনালটি চালু হলেও সংকট যাবে না। কারণ, সামিটের টার্মিনালটি রক্ষণাবেক্ষণে যাবে। দুটি সমানতালে চালু থাকলেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ আছে। দুটি টার্মিনাল মিলে দিনে ৮৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। এ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়।

ভোটের পর খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

ভোটের পর খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ


 বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ভোটের পর থেকেই ক্রমাগত হারে বাড়ছে খাদ্যপণ্যের দাম। সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা পর্যন্ত। বেড়েছে সব ধরনের ডাল, মসলা, আটা-ময়দা, ডিম, চিনিসহ বেশির ভাগ খাদ্যপণ্যের দাম। মাছ-গোশতের বাজারে যেন আগুন। ছোট তরকারির চিংড়িও (লইল্লা) প্রতি কেজি আট শ’ টাকার উপরে। অস্বাভাবিক দামে পরিবারের সদস্যদের খাবার জোগাতে অধিকাংশ মানুষের হিমশিম অবস্থা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৭ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর হতেই বেড়ে চলেছে সব ধরনের চালের দাম। সিদ্ধ চাল সর্বনি¤œ মানের ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২৫ শ’ টাকা এবং মাঝারি মানের সিদ্ধ চাল বস্তাপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ শ’ টাকা। মাঝারি মানের হাফ সিদ্ধ ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৩৯ শ’ টাকা। মাঝারি মানের কাটারিভোগ আতপ চালের ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৩৭ শ’ ৫০ টাকা থেকে ৪২ শ’ টাকা পর্যন্ত। সর্বনিম্ন মানের ৫০ কেজির আতপ চাল বিক্রি হচ্ছে ২৫ শ’ টাকা বস্তা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভোটের পর হতে গত ১০ দিনে সব ধরনের ডালের দাম বেড়েছে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত। এর মধ্যে মুগডালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২৫ টাকা পর্যন্ত। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে প্রতি কেজি মুগডাল বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায় যা ভোটের আগে ছিল ১৪৫ টাকা। গতকাল খেসারি ডাল ১০৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় যা ভোটের আগে ছিল ৯০ টাকা। প্রতি কেজি ছোলার ডাল ১০০ টাকা, মটর ডাল ৭৪ টাকা এবং মসুর ডালের মধ্যে মোটা জাতের ১১০ টাকা এবং সরু জাতের দেশীয় মসুর ডাল ১৪৪ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।

অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে সব ধরনের মসলার দাম। গতকাল প্রতি কেজি এলাচ মানভেদে ২৭ শ’-৩২ শ’ টাকা, দারুচিনি-৪৮০ টাকা, গোলমরিচ আট শ’ টাকা, লবঙ্গ ১৭ শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়।

বেড়েছে রসুনের দামও। গতকাল প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হচ্ছিল ২৪০ টাকা দরে। কয়েক দিনের ব্যবধানেই পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২০ টাকা। ভরা মৌসুমেও কমছে না সবজির দাম। গতকালও প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৫২ টাকায়।

সামান্য বেড়েছে চিনির দামও। ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ছয় হাজার ৭৫০ টাকায় এবং খুচরায় কেজি প্রতি ১৩৭ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা ভোটের আগে ছিল কেজিপ্রতি ১৩৫ টাকা।

মাছ-গোশতের দিকে সাধারণ মানুষ তাকাতেও যেন হিমশিম খাচ্ছে। গতকাল চট্টগ্রামের বাজারে গরুর গোশত কেজিপ্রতি ৯ শ’ টাকা এবং হাড়সহ ৭৫০ টাকা দরে, খাসি-১২ শ’ টাকা দরে, প্রতি জোড়া কবুতর সাইজভেদে তিন শ’-চার শ’ টাকা, দেশীয় জাতের মুরগি কেজিপ্রতি ৫৬০ টাকা, প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হতে দেখা যায়।

মাছের মধ্যে সামুদ্রিক মাছ সাধারণের একেবারেই নাগালের বাইরে। হাতেগোনা অপ্রচলিত ও নিম্নমানের ছাড়া সব ধরনের সামুদ্রিক মাছের দাম কেজিপ্রতি ছয় শ’ টাকার উপরে। লইট্টা মাছও কেজিপ্রতি আড়াই শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। দেশীয় খাল-বিলের মাছের মধ্যে প্রতি কেজি শোল- ৮শ’, শিং-৬শ’, মাগুর-৭শ’, কই- দেশীয় ৮শ’ ফার্মের ৩শ’, তেলাপিয়া ছোট-আড়াই শ’, আইড়-৮শ’, বাটা-৭শ’, কোরাল- ছোট সাইজের ৭শ’, কাতলা- ৩৫০-৪শ’, রুই- সাড়ে ৩শ’ হতে সাড়ে ৪শ’, কালিবাউস-৪শ’, বাগদা-৬শ’-৮শ’, লইল্লা-৮শ’-৮৮০ টাকা, কার্প ৩শ’, মৃগেল ২৮০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।

এছাড়া ডিমের দামেও স্বস্তি নেই। গতকাল প্রতি ডজন ফার্মের লাল ডিম ১৫০ টাকা, সাদা ডিম-১৪০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ২২০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। ফলে সাধারণ মানুষের বাজারের হিসাব মিলাতে নাভিশ্বাস উঠছে।

বেসরকারি এক পদস্থ কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে বলেন, বাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্য নিয়ে মানুষ যে কত কষ্টে আছে তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ যেন বুঝার নেই। সব মানুষ এখন পুরনো সঞ্চয় ভেঙেই সংসার টানছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

‘লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করব’

‘লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করব’

জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে বিএনপির প্রতিশ্রুতি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৮তম জন্মবার্ষিকীতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন চলমান আছে, নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখব। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব। ইনশাআল্লাহ।’

একই সাথে দলটির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘যতদ্রুত সম্ভব লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে, এদেশের গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষ ও গণমাধ্যমের সহায়তায় আমরা দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করব, ইনশাআল্লাহ।’

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার মাজারে ফুলেল শ্রদ্ধা ও মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তারা।

ড. মঈন খান বলেন, ‘দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী পালন করছি আজ। আমাদেরকে উপলদ্ধি করতে হবে এই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল গণতন্ত্রের জন্য। এদেশের গনতন্ত্র আজ মৃত। এটা শুধু আমাদের কথা নয়, বাংলাদেশের মানুষের কথা নয়। বিশ্বের মানবাধিকার, গণতন্ত্রকামী সকল দেশ ও প্রতিষ্ঠান বলেছে, বাংলাদেশ আজ এক দলীয় শাসনে পরিণত হয়েছে। এখানে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা নেই, মানুষের কোনো মৌলিক অধিকার নেই, ভোটের অধিকার নেই।’

অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে এদেশের মানুষ উপার্জন করে ট্যাক্স দেয়। তবুও তাদের মাথার ওপরে ৩০ হাজার কোটি টাকার ঋণ থেকে যায়। আজকের সরকার তেভাগা আন্দোলনের নামে লুটপাট করে বাংলাদশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে।’

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের যে আদর্শ সেটি নষ্ট করা হচ্ছে, তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্র আজ নেই, সেটিকে মেরে ফেলা হয়েছে, আর সেই গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করার লড়াই চলছে।’

নির্বাচন নিয়ে টিআইবির প্রকাশ করা প্রতিবেদনকে সরকার বলছে যে ‘বিএনপির হয়ে কাজ করছে টিআইবি’- এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপির নেতা মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান হেসে বলেন, ‘এত বছর ধরে বিএনপি যে বিষয় নিয়ে কথা বলেছে বিশ্বের কোনো প্রতিষ্ঠান, কোনো দেশ, কোনো সরকার বলেনি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। সবাই বিএনপির কথা রিপিট করেছে। তারা বলছে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। আর টিআইবি যা বলছে সেটি জনগণের জনমতের প্রতিফলন।’