শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

গণঅভ্যুত্থানে ছেলেকে সাহস জোগানোর ভিডিও ভাইরাল, যা ঘটেছিল সেদিন

গণঅভ্যুত্থানে ছেলেকে সাহস জোগানোর ভিডিও ভাইরাল, যা ঘটেছিল সেদিন

গণঅভ্যুত্থানে ছেলেকে সাহস জোগানোর ভিডিও ভাইরাল, যা ঘটেছিল সেদিন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এমবিএ গ্র্যাজুয়েট সানিয়াতকে ডিবি পুলিশ আটক করে। ২৪ জুলাই অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত পুলিশের হেফাজতেই বন্দি ছিলেন তিনি। 

রোববার (২৮ জুলাই) রাতে সবেমাত্র তাহাজ্জুদ নামাজ শেষ করেন শামীমা বারকাত লাকি। বড় ছেলে ওমর শরীফ মোহাম্মদ ইমরান, যাকে সবাই সানিয়াত নামে চিনে সে তখনও পুলিশের হেফাজতে। মায়ের মন। ছেলের চিন্তায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। আচমকা ফোন বাজলো। চার অঙ্কের ফোন নাম্বারের কল রিসিভ করতেই ছেলের যন্ত্রণাক্লিষ্ট ও কান্নাভেজা কণ্ঠ পাওয়া গেলো। নির্মম প্রহারের শিকার হচ্ছিল তার ছেলে।  লাকি যেন সেই মুহূর্তে সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে গেলেন। ফোনে ছেলের নাম ধরে চিৎকার করে মিনতি করলেন, যেন তাকে আর না মারা হয়। তাতে তো কোনো লাভ হলো না। ছেলেকে আরও বেশি নির্যাতন করা হয় কারণ তাদের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, হাতকড়া পরা সানিয়াত যখন আদালত থেকে বের হচ্ছিলেন, তার মা পেছন থেকে ছুটে যান তার দিকে। মাকে দেখে সানিয়াত হাতকড়া পরা হাত দিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন, আর মা বারবার তাকে আশ্বস্ত করেন, ‘ভয় পাস না, কিছু হবে না।’ ভিডিওটি অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার পর পুরো পুলিশ বিভাগ সানিয়াতের ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

সেদিন মধ্যরাতের কথা। সানিয়াতের মাকে নিয়ে তার বাবা তখন হাসপাতালে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসাটিতে শুধু সানিয়াত আর তার ছোট ভাই। তাদের বাবা বারকত উল্লাহ বুলু, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। সামিয়াতের ছোট ভাই সামির মোহাম্মদ ইরফান, ডাউন সিন্ড্রোমে আক্রান্ত। হুট করে রাতের বেলা পেস্ট্রি খাওয়ার আবদার করে বসে। সানিয়াত বের হন। কেক কিনেন। কেক নিয়ে দোকান থেকে বের হতেই, ডিবি'র জ্যাকেট পরা একদল অফিসার তাকে ঘিরে ধরল। পাশেই বেশ কয়েকটি গাড়ি এবং একটি বড় হাইএস ভ্যান দরজা খুলে দাঁড়িয়ে ছিল। দুটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল তাক করা তার দিকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাকড়াও করা হয়। বাবার রাজনৈতিক পরিচয়টিকে ব্যবহার করে তাকে আটক করা হয়। পরের দিন ছিল কারফিউ। অসুস্থ থাকায় সামিয়াতের মা অ্যাম্বুলেন্সে করেই বেরিয়ে পড়েন ছেলের খোঁজে। কিন্তু থানা কিংবা ডিবি অফিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সংস্থাই তার ছেলের ব্যাপারে কোনো তথ্য দেয়নি। সানিয়াতকে অন্তত ৭০ জনের সঙ্গে সেলে রাখা হয়। যাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন বিএনপির নেতা ও সমর্থক। পরবর্তীতে, সানিয়াতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। চোখ বেঁধে ফেলা হয় তার। 

সানিয়াত জানান, জিজ্ঞাসাবাদে তাদের মূল অভিযোগ ছিল, রামপুরা থেকে উত্তরা পর্যন্ত পুরো এলাকার সহিংস কার্যক্রম নাকি আমি আর এসএম জাহাঙ্গীর মিলে নিয়ন্ত্রণ করছিলাম। মেট্রোরেল ভাঙচুরের মাস্টারমাইন্ডও বলা হলো আমাকে। অথচ এগুলো সব মিথ্যা অভিযোগ।

প্রথম দিনের রিমান্ড ছিল তুলনামূলকভাবে সহনীয়, কিন্তু দ্বিতীয় দিন থেকে নির্যাতন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়। তার শরীরের নিচের অংশ ফুলে রক্ত জমাট বাঁধে। তৃতীয় দিনে নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। এমনকি তার নখের ওপর প্লায়ার ব্যবহার করারও চেষ্টা করা হয়েছিল। পানি খেতে অনুরোধ করলে, অফিসাররা পানি না দিয়ে বরং শাস্তি হিসেবে তাকে দুইজন লোকের সাহায্যে হাঁটতে বাধ্য করত। এরপর ফোনে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের ছবি নিয়ে আবার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। এক পর্যায়ে, তারা তার গোড়ালিতে লাথি মারতে শুরু করে। চতুর্থ দিনের নির্যাতন ছিল ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে। 

পঞ্চম দিনে অন্যদের সাক্ষী রেখে, তিনজন সিনিয়র নেতা এবং সানিয়াতকে লাইনে দাঁড় করিয়ে পুলিশ একে একে তাদের মারধর করতে থাকে। এরপরের দিন, সানিয়াতকে আদালতে তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তার মা ভোরে আদালত প্রাঙ্গণে এসে সানিয়াতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। আদালতে নিয়ে আসার পর, সানিয়াতের বিরুদ্ধে মেট্রোরেলে ভাঙচুর এবং বিদেশি অর্থ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়। মেট্রোরেল ভাঙচুরের মাস্টারমাইন্ড বলা হয় তাকে। এ ছাড়াও তারেক রহমানের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন প্রকল্পে হামলার জন্য একটি ‘বিশেষ মিশন’ পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত করে। আদালতের কাছে তার জন্য আরও পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।

রবিবার থেকে খোলা থাকবে সব পোশাক কারখানা: শিল্প উপদেষ্টা

রবিবার থেকে খোলা থাকবে সব পোশাক কারখানা: শিল্প উপদেষ্টা

ভাঙচুরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস

দেশের সব পোশাক কারখানা রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

শনিবার দুপুরে বিজিএমইএ ভবনে তৈরি পোশাক কারখানায় চলমান সংকট ও উত্তরণের পথ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

উপদেষ্টা আদিলুর রহমান বলেন, কোনো কারখানায় অস্থিরতা তৈরি হলে বিশেষ ব্যবস্থা নেবে সরকার। দেশের অর্থনীতিকে বিপদে ফেলতে কেউ যদি কারখানা বন্ধ রাখার অপচেষ্টা করেন, সেটাও মনে রাখা হবে।

উপদেষ্টা বলেন, পোশাক শিল্পে অস্থিরতা মালিক শ্রমিক কারোই কাম্য নয়। পোশাক শিল্পে সংঘাতময় পরিস্থিতির সুযোগ নেবে তৃতীয় পক্ষ। এতে মালিক শ্রমিক কারোরই লাভ হবে না। 

বিজিএমইএ সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করেন বলেন, সরকার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ায় আগামীকাল সব পোশাক কারখানা খোলা থাকবে। তবে কোনো কারখানায় অস্থিরতা তৈরি হলে আগামী পরশু দিন থেকে সেই কারখানা শ্রম আইনের ১৩/১ ধারা (কাজ নেই, বেতন নেই) অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। 

শ্রম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হওয়ায় অনেকের মতো শ্রমিকেরাও নিজেদের কথা বলছেন। শ্রমিকদের অভিযোগ সমাধানে শ্রমসংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সব অভিযোগ ও দাবি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। তবে শ্রমিকের আন্দোলনে একদমই যে ষড়যন্ত্র নেই, এমনও নয়।

শ্রম উপদেষ্টা আরও বলেন, ইতিমধ্যে শ্রমিকদের জন্য কোন প্রক্রিয়ায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা যায়, সে বিষয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার। এ ছাড়া গত বছরের শেষ দিকে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের সময় যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তবে এই সব প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে যারা অস্থিরতা করবে, তাদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে না।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছাড়া পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারাসহ শ্রমিক নেতারা।



সতর্ক থাকতে হবে, চক্রান্তের মধ্যে যেন পথ না হারাই: মির্জা ফখরুল

সতর্ক থাকতে হবে, চক্রান্তের মধ্যে যেন পথ না হারাই: মির্জা ফখরুল

সতর্ক থাকতে হবে, চক্রান্তের মধ্যে যেন পথ না হারাই: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘গণতন্ত্রের সংগ্রামে, বীর শহীদের স্মরণে সভায়’ বক্তব্য দেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর

দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থেই একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের শুধু সতর্ক থাকতে হবে। চক্রান্তের মধ্য দিয়ে আমাদের কেউ যেন বিপথে নিয়ে যেতে না পারে। আমরা যেন কোনোমতেই পথ না হারাই।’

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘গণতন্ত্রের সংগ্রামে, বীর শহীদের স্মরণে সভায়’ এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল। আজ শনিবার বিকেলে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি।

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ও বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে আজ শহীদ মিনারে স্মরণ সভা করেছে দলটি।

পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচিকে আজ বেলা সাড়ে তিনটা থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেলা আড়াইটা থেকেই দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা শহীদ মিনারে জড়ো হতে থাকেন। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই শহীদ মিনারের এই কর্মসূচিতে অংশ নেন হাজারো নেতা-কর্মী। অনবরত বৃষ্টির কারণে অনেকে ছাতা হাতে নিয়ে শহীদ মিনারে দাঁড়ান। অনেকে বৃষ্টিতে ভিজেই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এই কর্মসূচিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি ও তাঁদের স্বজন, নিহত ব্যক্তিদের স্বজন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন। সভা থেকে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও অংশ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে প্রতিবাদী গান পরিবেশন করা হয়েছে। বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাসের আয়োজনে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ছাত্র-জনতার ওপর চালানো জুলুম–নিপীড়নের চিত্র মূকাভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।


বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘হয়তো স্বাধীন হয়েছি। তবে এখনো চতুর্দিকে নাগিনীরা ছাড়ছে নিশ্বাস। তারা বিভিন্নভাবে চক্রান্ত করে আমাদের বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ইস্পাতদৃঢ় ঐক্য। ঐক্য নিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর লড়াই করেছি, সেই ঐক্যকে অটুট রাখতে হবে। কোনোমতেই তাদের চক্রান্তে পা দেওয়া যাবে না।’

সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি

বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ১৬ বছর ধরে যেসব মামলা হয়েছে, তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘১৬ বছরে ধরে আমরা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছি, আমরা অত্যন্ত নির্যাতিত হয়েছি, নিপীড়িত হয়েছি। আমাদের প্রায় সাত শ ভাইবোন গুম হয়েছেন। সেই মানুষগুলোকে খুঁজে বের করার ব্যবস্থা করতে হবে।’ তিনি বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪৫ হাজার মামলা হয়েছে। ১৭ বছরে ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অবিলম্বে এবং অতি দ্রুত সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।


১৬ বছর ধরে এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রের তরফ থেকে ক্ষতিপূরণ ও ভাতা দেওয়ার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। জনগণ প্রত্যাশা করে, এই সরকার এমন একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ (সবার জন্য সমান সুযোগ) তৈরি করে দেবে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংস্কার করে এমন একটি জায়গায় আনবে, যেখানে সত্যিকার অর্থেই একটি অর্থবহ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যায়।

গোপালগঞ্জে হামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, তারা এখনো হায়েনার মতো লুকিয়ে আছে। যেকোনো সময় আক্রমণ করবে। সেই আক্রমণকে প্রতিহত করতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ভুক্তভোগীরা বিচার চান

স্মরণসভায় এসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ইয়ামিনের বাবা মহিউদ্দিন বলেন, সাঁজোয়া যান থেকে তাঁর ছেলেকে ফেলে দেওয়ার দৃশ্য এখনো নিতে পারছেন না। ইয়ামিনের মতো আর কারও যাতে এই অবস্থা না হয়। আর কোনো মা–বাবাকে যাতে এমন কষ্টের মুখোমুখি হতে না হয়।

শহীদ মিনারে আয়োজিত সভায় পুলিশের গুলিতে দুই চোখ হারানো টাঙ্গাইলের হিমেলের মা বলেন, ‘আমার ছেলে আন্দোলনে গিয়ে দুটি চোখ হারাইছে। আমরা খুবই গরিব। দেখার কোনো লোক নাই। সরকারের কাছে আবেদন, সে যাতে একটা চোখ দিয়ে দুনিয়া দেখতে পারে।’ আন্দোলনে নিহত লিটন চন্দ্র শীলের মা রুবী শীল শেখ হাসিনার বিচার চেয়ে আকুতি জানান।


 টাঙ্গাইলের নিহত মো. ইমনের ছোট ভাই মো. সুজন বলেন, তিন ভাইয়ের মধ্যে ইমন বড় ছিলেন। তাঁর বড় ভাই সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাদের বাবা মারা যান। বড় ভাই পরিবারের সবকিছু দেখাশোনা করতেন। এখন তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন। ভাইয়ের হত্যার বিচার বাংলার জমিনে দেখতে চান বলে জানান সুজন।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিনের সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, ১২ দলীয় জোটের নেতা সৈয়দ এহসানুল হুদা, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। আরও বক্তব্য দেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম ও দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন প্রমুখ।


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠক, আলোচনায় ডলার–সংকট ও আইনশৃঙ্খলা

মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠক, আলোচনায় ডলার–সংকট ও আইনশৃঙ্খলা

মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠক, আলোচনায় ডলার–সংকট ও আইনশৃঙ্খলা

দেশের শিল্পকারখানার চলমান অস্থিরতাসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। ব্যবসা–বাণিজ্যে স্বাভাবিক ধারার ফিরিয়ে আনতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন তাঁরা। বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন কোম্পানির দেশীয় প্রধানেরা সফররত একটি মার্কিন সরকারি প্রতিনিধিদলের কাছে এ মনোভাব তুলে ধরেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির অর্থ বিভাগের আন্তর্জাতিক অর্থায়নবিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি ব্রেন্ট নেইম্যান। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর গুলশানে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিনিয়োগ পরিবেশ, ব্যাংক ও আর্থিক খাত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর লভ্যাংশ ও সরকারের কাছে পাওনা অর্থের বিষয়টিও বৈঠকের আলোচনায় উঠে আসে।


মার্কিন জ্বালানি খাতের কোম্পানি শেভরন, বিমা কোম্পানি মেটলাইফ, প্রযুক্তি কোম্পানি মাইক্রোসফট, কোমল পানীয় কোম্পানি কোকাকোলা, বহুজাতিক আর্থিক কোম্পানি সিটি ব্যাংক এনএ, মাস্টারকার্ড, জেনারেল ইলেকট্রনিকস বা জিইসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ প্রধানেরা বৈঠকে অংশ নেন। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হেলেন লাফেভসহ সফররত প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।


বৈঠক অংশ নিয়েছেন এমন একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশে কার্যরত মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা ব্যবসা–বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। বেশির ভাগ ব্যবসায়ী বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ে তাঁদের উদ্বেগের কথা জানান। এ সময় তাঁরা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারে ব্যবসায়ীদের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় তাঁদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।


আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের (অ্যামচেম) সভাপতি ও এক্সপেডিটরস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ এরশাদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিদল মূলত বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ছিল। এ দেশে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো কী এবং সমস্যাগুলো থেকে উত্তরণে কী পদক্ষপে নেওয়া দরকার, তা জানতে চেয়েছেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। ব্যবসায় যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং দেশের পরিবর্তিত অবস্থায় পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে কি না, তা–ও তাঁরা জানতে চেয়েছেন।



সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, ব্যবসায়ীদের অনেকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হয়রানির কথা উল্লেখ করে বলেছেন যে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ ক্ষেত্রে বেশ উন্নতি ঘটেছে। ব্যবসায়ীদের অনেকে বলেছেন যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে শিল্প পুলিশকে সক্রিয় করা দরকার। এ ছাড়া বন্দরে পণ্য ওঠানামায় যে জট রয়েছে, সে ক্ষেত্রেও উন্নতি ঘটনো প্রয়োজন। ডলার–সংকটের কারণে যে সমস্যা হচ্ছে, সেই বিষয়ও আলোচনায় আসে।


বৈঠকে মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশ প্রধানেরা ব্যাংক খাতের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য এবং ব্যাংক খাতে সুশাসনের ঘাটতিকে ব্যবসা–বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন। পাশাপাশি করব্যবস্থার বৈষম্য ও হয়রানি বিনিয়োগ ও ব্যবসা–বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে জানান এসব ব্যবসায়ী।


যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিনিধিদলকে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের করব্যবস্থা এমন যে যারা সব আইনকানুন মেনে কর প্রদান করে থাকে, তাদের ওপর করের চাপ বেশি পড়ে। যেহেতু বহুজাতিক কোম্পানিগুলো আইন মেনে ব্যবসা–বাণিজ্য করে, তাই তাদের ওপর করের বোঝা প্রতিবছর বাড়তেই থাকে। এ কারণে করব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। দেশি–বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা।


বৈঠক সূত্রে জানা যায়, এ দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন বিমা কোম্পানি মেটলাইফ চার বছরের বেশি সময় ধরে তাদের লভ্যাংশের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে না পারার বিষয়টি তুলে ধরে। পাশাপাশি সরকারের কাছে পাওনা বাবদ শেভরনের বিপুল অনাদায়ি অর্থের কথাও প্রতিনিধিদলকে অবহিত করা হয়। বাংলাদেশ থেকে মুনাফা পাঠাতে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটার পক্ষ থেকে। ব্যবসায়ীরা জানান, এ ধরনের পরিস্থিতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে।


সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, ডলার–সংকটসহ বিভিন্ন কারণে ২০১৯ সালের পর থেকে মেটলাইফ যুক্তরাষ্ট্রে তাদের মুনাফার অর্থ পাঠাতে পারেনি। ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ এ দেশে আটকে আছে। একইভাবে শেভরনও দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছ থেকে তাদের পাওনা বুঝে পাচ্ছে না।


এদিকে বৈঠক শেষে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, জ্বালানি–নিরাপত্তা থেকে শুরু করে ডেটা সেন্টার ও পরিবহন খাতের মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। সঠিক অর্থনৈতিক সংস্কার হলে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাত বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে সহায়তা করতে পারে।


অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন