মাদারীপুরের রাজৈরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক এডিটর খন্দকার আবদুস সালামকে (৫০) মারধরের কমপ্লেইন উঠে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মারধর শেষে সালাম খন্দকারকে তার মোটরসাইকেলসহ পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় বিচারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে।
বুধবার প্রভাতকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের থানার বৌলগ্রাম এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।
এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাষ্ট্রীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাজৈর থানা আওয়ামী লীগের আরেক অংশের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদা হাসান পল্লবী ও তার ছেলেদের বিচারের দাবিতে নানারকম শ্লোগান দিয়ে রাজৈরমুখী হয়। পরে পুলিশ বার্তা পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে অবস্থাকন্ট্রোলে আনে।
সড়ক অবরোধের ফলে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের দুই সাইডে যানজটের সৃষ্টি হলে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়।
মাদারীপুরের রাজৈরে থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক এডিটর খন্দকার আব্দুস সালামকে (৫০) মারধরের কমপ্লেইনউঠে গিয়েছে স্থানীয় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। মারধরের পর আদাব খন্দকারকে তার মোটরসাইকেলসহ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরবেলা রাজৈর থানা পরিষদে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর ১টার দিকে খন্দকার আব্দুস আদাব মোটরসাইকেল যোগে জমি রেজিস্ট্রেশনের জন্য থানা সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে যান। সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের প্রবেশ করতেই মোটরসাইকেল গতিরোধ করেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসিবুল হাসান ওরফে পিয়াল।
পরে পিয়ালের ভাইয়া আশিকুর রহমান পাভেলসহ ১০ থেকে ১২ জন খন্দকার আব্দুস সালামকে বেধড়ক মারধর করে থানা পরিষদের জলাশয়ে ফেলে দেয় । পরে সালামের ব্যবহত মটরসাইকেলটিও পুকুরে ফেলে দেয়।
পরে স্থানীয় লোকজন খন্দকার আব্দুস সালামকে উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলাশরীর কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। পরে তার শারীরিক সিচুয়েশনঅবনতি হলে পুষ্ট চিকিৎসার জন্য আব্দুস সালামকে মঙ্গলবার বিকালবেলাআচ্ছাদন মেডিকেল কলেজক্লিনিকে পাঠানোর সুপারিশ করে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত‘১৫ আগস্ট’উপলক্ষে ৩১ আগস্ট খালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চেষ্টায় এক আলোচনা সভায়বক্তব্য দেন খন্দকার আব্দুস সালাম। এ সময়আদাব রাজৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের আরেক অংশের যুগ্ম আহবায়ক ফরিদা হাসান ওরফে পল্লবীর সমালোচনা করে বলার যোগ্য দেন। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর ফরিদা হাসান বাদী হয়ে খন্দকার আব্দুস সালামসহ থানা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বিপক্ষে মানহানির মামলা করেন। এঘটনার জেরে ফরিদা হাসানের দুই ছেলে রাজৈর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি পিয়াল ও পাভেলের নেতৃত্বে আব্দুস সালামকে মারধর করেন।
মারধরের শিকার খন্দকার আব্দুস অভিবাদন বলেন, আমার একটিজমিরনথি নিতে উপজেলা সাব রেজিস্ট্রারের অফিসে গেলে পল্লবী নেতৃত্বে আমার উপর অর্তকিত হামলা চালানো হয় । এ হামলায় অংশ গ্রহণ করে ১০জনের বেশি। পরে আমাকে মারধর করে পুকুরে ফেলে দেয়। জলাশয়ে পানির মধ্যে নেমেও ওরা আমাকে প্রচন্ড মারধর করে। সব পোষাক ছিড়ে দেয়। পরে আমার মোটরসাইকেলটিও দিঘিতে ফেলে দেয়। তিনি এইরকম বলেন, আমার পকেটে নথিপত্র খরচের জন্য দুই লাখ টাকা, ১টি সোনার চেইন, হাতঘড়ি, মুঠো ফোন ফোন ছিল, সেগুলো সব নিয়ে গেছে তারা ।
মারধরের অভিযোগেরবিষয়টিকরে রাজৈর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসিবুল হাসান নামান্তরে পিয়াল মুঠোফোনে বলেন, ‘তিনি (খন্দকার আব্দুস সালাম) সিনিয়র মানুষ, তাকে কেন মারধর করবো? আমি রাজনীতি করি, এইজন্য আমার দিকে আঙ্গুল কেউ তুলতেই পারে। মারধরের ব্যপারে কিছুই জানি না বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন,‘পল্লবী ও তার পোলা পিয়াল এরা কেউ আওয়ামী লীগ বা টিমের কোন অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে নাই। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য শাজাহান লীগের কর্মী। এরাই থানায় হাঙ্গামা মারামারি করে পরিবেশ নষ্ট করে আসছে।
রাজৈর উপজেলারপর্যবেক্ষক (তদন্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, রাজৈরে আওয়ামী লীগের দুইটি পক্ষ। ১টি পক্ষ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির আরেকটি স্থানীয় সংসদ সদস্য শাজাহান খানের। মারধরের শিকার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দি আহম্মেদ মোল্লার অনুসারি। তাকে যারা মারধর করেছে তারা সংসদ সদস্য শাজাহান খানের অনুসারী। খন্দকার আব্দুস সালামকে চরথাপ্পর ও কিল-ঘুষি মারা হইছে। তার হার্টে ওপেন সার্জারি করা। তাই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
Welcome to Bangla BD Network, 'Bangla BD' main target is to provide content readers of this country with fantastic content. Another mark of ours is to one day establish ourselves as one of the best media platforms in the Bengali language with good quality content on academics, technology, biography, latest, special news, politics, Bangladesh, world, business, and entertainment.
0 coment rios: