শনিবার, ২০ মে, ২০২৩

যে রেকর্ডে জয়াবর্ধনে-ওয়ার্নারের সাইডে গিল

যে রেকর্ডে জয়াবর্ধনে-ওয়ার্নারের সাইডে গিল

একই বছর আইপিএলসহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ৩ সংস্করণেই সেঞ্চুরির কীর্তি রয়েছে ওয়ার্নার, জয়াবর্ধনে ও গিলের
যেখানে সম্ভাবনা, সেখানেই গিল। এগিয়ে যাও এবং পরবর্তী প্রজন্মকে নেতৃত্ব দাও। সৃষ্টিকর্তা তোমার মঙ্গল করুন’—গত রাত্রিতে আইপিএলে গুজরাট টাইটানসের হয়ে শুবমান গিলের সেঞ্চুরি দেখে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কথাগুলো কে লিখেছেন, জানেন? বিরাট কোহলি। তর্ক সাপেক্ষে যাঁকে সাম্প্রতিক প্রজন্মের সেরা ব্যাটসম্যান আশা করা হয়, সেই কোহলিই জাতীয় টিমের সতীর্থের ইনিংসে মুগ্ধ হয়ে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন।


ব্যাটিং–নৈপুণ্যের প্রদর্শনীতে গিল দেখিয়ে চলেছেন, সময়টা ইদানিং তাঁর। মাঠের চারদিকে নান্দনিক সব শট খেলবেন, রুপান্তর মস্তিষ্কে ইনিংসগুলো বিশাল করবেন, দলকে পৌঁছে দেবেন বিজয়ের বন্দরে—ব্যাপারগুলো যেন অভ্যাসে রুপান্তর করেছেন গিল। ৪৫ ম্যাচের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিন সংস্করণেই রয়েছে সেঞ্চুরি। সাত সেঞ্চুরির পাঁচটিই করেছেন এ বছর। ২৩ বছর বয়সী ওপেনারের আক্ষেপ বলতে ছিল আইপিএলে সেঞ্চুরি না পাওয়া। মরশুম সেটাও পেয়ে গেছেন।
আইপিএলে ব্যাট হাতে ১ম বার তিন অঙ্কের স্বাদ পেয়ে আসরের মেক্সিমাম রান সংগ্রাহকদের লিস্টে দুইয়ে (৫৭৬ রান) উঠে এসেছেন গিল। তাঁর ওপরে আছেন কেবল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ক্যাপ্টেন ফাফ ডু প্লেসি (৬৩১ রান)। গুজরাটও সবার প্রথমে কোয়ালিফায়ার শিওর করেছে।

এ তো গেল ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতা আর দলীয় অর্জনের কথা। ঋতু সেঞ্চুরি করে বিরল এক কীর্তিই গড়েছেন গিল। তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে একই বছর টেস্ট, ওয়ানডে, ইন্টারন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি ও আইপিএলে সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। এর প্রথমে এইরকম অর্জন ছিল শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে ও অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের। জয়াবর্ধনে রেকর্ডটা করেছিলেন ২০১০ সালে, ওয়ার্নার ২০১৯ সালে।

আইপিএলে গত রাতেরবেলা সেঞ্চুরির প্রথমে এ বছর ইন্ডিয়ার হয়ে পাঁচবার তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন গিল। তিনটি ওয়ানডেতে ও একটি করে টি-টোয়েন্টি ও টেস্টে। এর ভিতরে ১টি ডাবল সেঞ্চুরিও বিদ্যমান গিলের। মৌসুম যে দলের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করেছেন, সেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মাঠ রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে গত ১৮ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানেডেতে ২০৮ রান করেছিলেন। পাঁচ ম্যাচের সেই সিরিজে করেছেন অন্যটি সেঞ্চুরি।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে গিলের একমাত্র সেঞ্চুরিটাও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। কোথায়? আইপিএলে নিজের টিম গুজরাটের মাঠ নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। এ বছর টেস্টে সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন গত মার্চে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। আর সালের প্রথম সেঞ্চুরিটা করেছিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে ৫৩টি সেঞ্চুরি করা জয়াবর্ধনে ইন্টারন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি ও আইপিএলে এ স্বাদ পেয়েছেন একবার করে। সেটি ১৩ বছর আগে। ২০১০ সালে সব সংস্করণেই একটি করে সেঞ্চুরি করেছিলেন জয়াবর্ধনে। বছরের শুরুতেই মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় (আরেক দল ভারত) ওয়ানডে সিরিজে সেঞ্চুরি পান জয়াবর্ধনে। মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির পর এপ্রিলে আইপিএলে পাঞ্জাব কিংসের হয়ে তিন অঙ্ক ছোঁয়া করেন। সে বছর শুধুমাত্র টেস্ট সেঞ্চুরির লক্ষ্য পান কলম্বোয় ইন্ডিয়ার বিপক্ষে।

২০১৮ সালে বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির দায়ে এক বছর নিষিদ্ধ হন ওয়ার্নার। পরের বছর ফিরেই রুদ্ররূপ ধারণ করেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। ২০১৯ বছরের জুনে ওয়ানডে বিশ্বকাপ দিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে ফেরেন ওয়ার্নার। বিশ্বকাপে করেন ৩টি সেঞ্চুরি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের একমাত্র সেঞ্চুরিটা করেন অক্টোবরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। সালের শেষ অংশে কামরার মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে করেন টানা দুই সেঞ্চুরি। এর মধ্যে ক্যারিয়ারসেরা ৩৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংসটিও আছে। ব্রায়ান লারার ৪০০*-এর কীর্তিকে ভালোভাবেই তাড়া করছিলেন ওয়ার্নার। অথচ দলীয় স্বার্থ বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়ার সে সময়ের ক্যাপ্টেন দল পেইন ইনিংসের ইতি ঘোষণা করলে ৩৩৫-এ থামতে হয় ওয়ার্নারকে।

আর আইপিএল সেঞ্চুরি? সেটি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে ফেরার আগেই করেছেন ওয়ার্নার। সে বছর ৩১ মার্চ ১ম লেগে কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মুখোমুখি হয়ে গিয়ে ছিল ওয়ার্নারের হায়দরাবাদ। আগে ব্যাট করে হায়দরাবাদ গড়েছিল ২ উইকেটে ২৩১ রানের পাহাড়। সেদিন উদ্বোধনী বন্ধু জনি বেয়ারস্টোর পর সেঞ্চুরি করেছিলেন ওয়ার্নারও।

যে রেকর্ডে জয়াবর্ধনে-ওয়ার্নারের পাশে গিল
এবারের আইপিএল নিলামে ৪র্থ সর্বোচ্চ ১৬ কোটি ২৫ লাখ রুপিতে বেন স্টোকসকে ক্রয় করে নেয় চেন্নাই সুপার কিংস। স্টোকসের জন্য দামটা সম্ভবত মোটেই অনাকাঙ্ক্ষিত নয়। কিন্তু এত দামে কেনা ক্রিকেটারের কাছ থেকে চেন্নাই যা পেয়েছে, সেটা হয়তো ফ্র্যাঞ্চাইজিটি প্রত্যাশা করেনি। ১৬ কোটি ২৫ লাখ রুপিতে খরিদ স্টোকসকে মাত্র দুই ম্যাচের জন্য মাঠে পেয়েছে চেন্নাই।

পায়ের আঙুলে মমতা পাওয়ায় চেন্নাইয়ের হয়ে ২ ম্যাচ খেলেই ছিটকে যেতে হয়ে গিয়েছে স্টোকসকে। যে ২ ম্যাচ খেলেছেন, তাতেও খুব একটা অবদান রাখার জন্য পারেননি। ব্যাট হাতে করেছেন ১৫ রান, এক ওভার বোলিং করে ১৮ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। সেই চোট থেকে সেরে উঠতে না উঠতেই স্টোকস এইরকম একটি চোটে পড়েন। যদিও এই চোটের কথা চেন্নাই কোচ স্টিভেন ফ্লেমিং ব্যাখ্যা করেননি।
স্টোকস ম্যাচ খেলার জন্য ফিট হন গত সপ্তাহে। ততক্ষণে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল তাদের ১১শ গুছিয়ে নিয়েছে অনেকটাই। আর চোট হতে ফেরা স্টোকস খেলতে পারেন একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে। এজন্য ম্যাচ খেলার মতো ফিট হলেও ‘ব্যাটসম্যান’ স্টোকসের চান্স হয়নি একাদশে। চেন্নাই বৈদেশিক ক্রিকেটার হিসেবে ভরসা রেখেছে মঈন আলী, মাথিশা পাতিরানা, মহিশ থিকশানা ও ডেভন কনওয়ের ওপর।

ক্রিকেট–বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো জানিয়েছে, আইপিএলের গ্রুপ পর্ব সম্পন্ন করেই ইংল্যান্ডে ফিরে যাবেন স্টোকস। আগামী ১৬ জুন আরম্ভ হবে ৫ ম্যাচের অ্যাশেজের প্রথম ম্যাচ। এর আগে অ্যাশেজের প্রস্তুতি হিসেবে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট খেলবে ইংল্যান্ড। ১ জুন শুরু হতে যাওয়া সেই ম্যাচে ইংআইপিএলে চেন্নাইয়ের গ্রুপ পর্বের বাকি আছে এক ম্যাচ। সেই ম্যাচেও স্টোকসের একাদশে থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। অন্তত চেন্নাই কোচ ফ্লেমিংয়ের কথা শুনলে তেমনটাই মনে হবে। অর্থাৎ স্টোকসের এবারের আইপিএল মৌসুমে সম্পন্ন হলো মাত্র দুই ম্যাচেই।

নিজেদের লেটেস্ট ম্যাচে কলকাতার কাছে হারার পরও একাদশে পাল্টানো যে খুব একটা আসবে না, সেটা শিওর করে চেন্নাই কোচ বলেছেন, ‘বোলিং করা বেনের জন্য এই মুহূর্তে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। সে দিল্লিতে যাবে ব্যাটসম্যানদের বিকল্প হিসেবে। মঈন যেহেতু বোলিংটা ভালোই করছে, আর পরবর্তী ম্যাচ দিল্লিতে, যেখানে পিচে বাঁক থাকবে। আমার মনে হয়, দলে ভারসাম্য ঠিকই আছে। আর দেখুন আমরা পয়েন্ট তালিকার ২ নম্বরে আছি। একটা ম্যাচ হেরেছি, যেখানে পর্যাপ্ত কয়েকটি আমাদের পরিকল্পনামতো হয়নি বলেই দলে পাল্টানো আনব, এটা আমাদের সংস্কৃতি নয়। আমরা এমনটা করব না।’ল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা স্টোকসের।

শেয়ার করুন

Author:

Welcome to Bangla BD Network, 'Bangla BD' main target is to provide content readers of this country with fantastic content. Another mark of ours is to one day establish ourselves as one of the best media platforms in the Bengali language with good quality content on academics, technology, biography, latest, special news, politics, Bangladesh, world, business, and entertainment.

0 coment rios: