শয়তানদের কুমন্ত্রণা হতে নিরাপদ থাকার উপায়
মহান আল্লাহপাক আল কুরআনে ইরশাদ করেছেন : আর যদি শয়তানের কুমন্ত্রনা তোমাকে প্ররোচিত করে কিন্তু আল্লাহর ছায়া চাইবে, নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সূরা আল আরাফ : ২০০)।
তত্ত্বকথা : ১. শয়তানের কুমন্ত্রনা মানুষের জীবনে দুই ধরনের বিপদ-আপদ ডেকে আনে। প্রথমত : জাগতিক বিপদ-আপদ এবং দ্বিতীয়ত : পারলৌকিক বিপদ-আপদ। জাগতিক বিপদ-আপদের তুলনায় পারলৌকিক বিপদ-আপদের ক্ষতি খুবই গুরুতর। তাই, কুরআনুল কারীমের ১১৪ নং সূরা আন্ নাস-এ পারলৌকিক বিপদ-আপদ থেকে আল্লাহর আচ্ছাদন আশা করার আদেশ প্রদান করা হয়েছে।
তত্ত্বকথা : ২. খোদা রাব্বুল ইজ্জতের হেল্প এবং অকপট সড়কের মধ্যেই মানুষের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কামিয়াবী নিহিত। তা সত্ত্বেও এই পথচলার সর্বত্রই অভিশপ্ত শয়তানের কুমন্ত্রনার জাল বিছানো থাকে। এই জাল ছিন্ন করার কার্যকর পন্থা হচ্ছে আল্লাহর ছায়া গ্রহণ করা। আল্লাহর আচ্ছাদন লাভকারীদের কোনো ক্ষতি অভিশপ্ত শয়তান ও তার সঙ্গী-সাথীরা করতে পারে না।
তত্ত্বকথা : ৩. তিনটি দল মানুষকে কুমন্ত্রনা দিয়ে থাকে। একটি হচ্ছে অভিশপ্ত জ্বিন শয়তান এবং দ্বিতীয়টি হলো লোক শয়তান। জ্বিন শয়তানের কুমন্ত্রনা হয় অলক্ষ্যে ও গোপনে। আর লোক শয়তানের কুমন্ত্রনা হয় প্রকাশ্যে।
এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : মানুষের হৃদয়ে ও মনে দু’টি প্রকোষ্ঠ বা আবাস রয়েছে-এর একটিতে সাহায্যকারী ফেরেশতা এবং অপরটিতে অভিশপ্ত শয়তান আস্তনা গাড়ে। ফেরেশতা সৎকাজে এবং শয়তান অসৎকাজে উদ্ভুদ্ধ করে। কিন্তু যখন আল্লাহর জিকির করে, তখন শয়তান পেছনে সরে যায়, সরে সরতে থাকে। তবুও যখন আল্লাহর জিকির থেকে গাফেল হয়ে যায়, সেই সময় শয়তান তার নয়ন বা ঠোঁট দ্বারা মানুষের বুকে কুমন্ত্রনা দিতে থাকে। (মোসনাদে আহমাদ)।
মানুষের হৃদয়ে অভিশপ্ত জ্বিন শয়তান ও মানুষ শয়তান উদাহরণসরূপ খারাপ কাজের ঝোঁক তৈরি করে, তেমনি ৩য় টিম হলো স্বয়ং মানুষের নাফসে আম্মারা যা মানুষকে খারাপ কাজেরই প্ররোচনা দেয়। অথচ যারা আল্লাহপাকের নিকট নাফসের কুমন্ত্রনা থেকে, অভিশপ্ত শয়তানের কুমন্ত্রনা হতে এবং লোক শয়তানের কুমন্ত্রনা হতে আশ্রয় চায়, এই তিন শ্রেণির কোনোটিই মানুষের কোনো শ্রেনীভেদ ক্ষতিসাধন করার জন্য পারে না।
তত্ত্বকথা : ৪. কি বলে আল্লাহপাকের নিকট আশ্রয় চাইবে? সে কথাটিও আল কুরআনে এভাবে বিবৃত হয়ে গিয়েছে : হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার আশ্রয় আশা করি, শয়তান সমূহের কুমন্ত্রনা ও প্ররোচনা থেকে। (সূরা আল মুমিনুন : ৯৭)। মোটকথা, জ্বিন শয়তান, ব্যক্তি শয়তান ও নাফসে আম্মারার প্ররোচনা হতে নিরাপদ থাকার এটি ১টি মোক্ষম উপায়।
তত্ত্বকথা : ৫. আল কুরআনের সূরা আনাস নং 114 এ নাস শব্দটি পাঁচবার ব্যবহৃত হয়েছে: যথা: ১. প্রথম ‘নাস’ বলে সামান্য বয়স্ক ছেলে-মেয়েদের প্রতি আভাস করা হয়েছে। একারণে এর পূর্বে রাব্বুল অর্থাৎ পালনকর্তা শব্দটি যোগ করা হয়েছে। রিজন অল্প বয়স্ক ছেলে-মেয়েরা লালন-পালনের বেশি মুখাপেক্ষী।
২. দ্বিতীয় ‘নাস’ বলে যুবক শ্রেণির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ জন্য এর পূর্বে মালিক শব্দটি আনা হয়েছে। কারণ শাসন কার্য সম্পাদন করা যুবকদের জন্য খুবই উপয্ক্তু। ৩. তৃতীয় ‘নাস’ বলে এবাদতে মশগুল, সংসার বিরাগী বৃদ্ধ শ্রেণির লোকদের প্রতি আভাস করা হয়েছে। একারণে এবাদতের অর্থ ধারণকারী ইলাহ শব্দকে এর আগে এজন্যই আনা হয়ে গিয়েছে যে, ইলাহ শব্দটি তাদের জন্য খুুবই উপযোগী।
৪. ৪র্থ ‘নাস’ বলে আল্লাহর নেক্কার ও সৎকর্ম পরায়ণ বান্দাহদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ওয়াসওয়াসাতুন্ শব্দটি একথারই এজাহার বহন করছে। রিজন অভিশপ্ত শয়তান নেক্কার লোকদের শত্রু। সে তাদের অন্তরে কুমন্ত্রনা দিতে সর্বদাই ট্রাই করে। ৫. পঞ্চম : ‘নাস’ বলে বদকার, দুষ্কৃতকারী লোকদের প্রতি আভাস করা হয়েছে। যারা নাফসে আম্মারার আজ্ঞাবহ দাস। সুতরাং তাদের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর ছায়া কামনা করার আদেশ প্রদান করা হয়েছে।



0 coment rios: