বুধবার, ৩ মে, ২০২৩

রুনা খানের ফ্ল্যাটে সিলিং ফ্যান নেই কেন?

রুনা খানের ফ্ল্যাটে সিলিং ফ্যান নেই কেন?

রুনা খানের ফ্ল্যাটে সিলিং ফ্যান নেই কেন

পিন্টারেস্টে অন্দরসজ্জা দেখা শুরু করেন রুনা খান। সেখান থেকে ধারণা নিয়ে নিজের ফ্ল্যাটের জায়গা মিলিয়ে কাজ আরম্ভ করেন রুনা খান। বাড়িতে প্রাধান্য পেল নিজের প্রিয় শ্বেত রং। রুনা খান মনে করেন, সাদাতেই উনি সবচেয়ে মায়াবী। নির্ঝঞ্ঝাট মনের শুভ্রতারই বাহ্যিক প্রতিফলন তাঁর ঘরে

সুনীলের উপন্যাসে পড়া ‘শ্বেতপাথরের টেবিল’ আর বিদেশি চলচ্চিত্র দেখে মাথায় কঠিন হয়ে গেড়ে বসা ‘কাঠের বাড়ি’—এই দুইটি বিষয়কে ধারণ করেই যেন ১ হাজার ৫০০ বর্গফুটের ভিতরে এক সাম্রাজ্য গড়েছেন গুণী অভিনয়শিল্পী রুনা খান। ২০১৬ সালে সদ্য নির্মিত ফ্ল্যাটের চাবি হাতে দিয়ে স্বামী এষণ ওয়াহিদ যখন বললেন, ‘এটা তোমার মতো করে সাজাও।’ সেই সময় আক্ষরিক অর্থেই নিজের মতো করে সুবিন্যস্ত করা চালু করলেন নিজেদের সেই নীড়। বাড়িতে প্রাধান্য পেল নিজের সুপ্রিম ধলা রং। রুনা খান মনে করেন, সাদাতেই উনি সর্বাপেক্ষা মায়াবী। আর নির্ঝঞ্ঝাট মনের শুভ্রতারই বাহ্যিক প্রতিফলন এ ঘর।



ফ্ল্যাটের গতানুগতিক ঢাকনা বদল করতে সময় লেগেছে ছয় মাসের মতো।স্বামীর কাছের ফ্রেন্ড ও তাঁর (রুনাখানের) সহকর্মী ইরেশ যাকেরের উপদেশে পিন্টারেস্টে অন্দরসজ্জা নোটিশ শুরু করেন। সেখান থেকে ধারণা নিয়ে নিজের ফ্ল্যাটের জায়গা মিলিয়ে কাজ চালু করেন রুনা খান।নিজের লাইকের সঙ্গে মিলিয়ে ঘরের আসবাবগুলোতে রেখেছেন ধলা রং।রুনা খান বলেন, ‘এমনকি দেয়ালের দুই সাইডের লাইটগুলো নয়ন থেকে কতটুকু দূরত্বে রাখলে সেটা অধিক কার্যকর হবে, সেসবওপড়াশোনা করে জেনেছি।’
রুনা খানের ফ্ল্যাটে সিলিং ফ্যান নেই কেন

ঘরে ঢুকতেই চোখে পড়ে সিলিংয়ের উপর আয়তাকার দুইটি আয়না, যার নিম্নদেশে দাঁড়ালে নিজের প্রতিবিম্ব আর ঘরের একেক অংশ অন্য রকম নোটিশ যায়। এ ধারণাও তিনি পেয়েছেন পিন্টারেস্ট থেকে।


অভিনেত্রী রুনা খানের ফ্ল্যাটের অন্দরসজ্জা অনেকটা ইউরোপীয় ঘরানার। তাই আখিতে পড়বে না কোনো সিলিং ফ্যান। দরজা খুলে কেউ ভেতরে ঢুকতেই যে দেয়াল নয়নে পড়বে, সেটি তৈরি করা হয়েছে ক্লাডিং টাইলসে, সে দেয়ালেই ফ্রেমে বাঁধানো নীল জলরাশির ভিতরে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা পাতাহীন একটি উদ্ভিদের ছবি। ছবিটি দেখলে আগন্তুকমাত্রই জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে নেবেন—অনেক সংকটেও কীভাবে বৃক্ষের মতোই অটল দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।




ডান পাশে টাইলসের মেঝের উপর কাঠের নকশা। এতে এক কোনায় রাখা আছে ডিভান। এই ডিভানেই তাঁর ফেমেলির তিন মেম্বারের মিলনমেলা। সামনে টিভি, বাঁয়ে বইয়ের তাক এবং ডানে খোলা স্থান মিলে ডিভানটিই তাঁর প্রিয় কর্নার। রুনা খান দেখালেন, এ জায়গায় বসেই অবসরে প্রিয় কবি বিভূতিভূষণের বইয়ে ডুবে থাকেন তিনি। রাতেরবেলা দেয়ালের ধবল আলোকসজ্জা আর কাঠের মেঝের নিচ থেকে আসা অল্প আলো যেন জুমঘরে আসা বিলাসী জ্যোৎস্না।


ডাইনিংসহ সব টেবিলই শ্বেতপাথরের। রুনা খান জানালেন, ডাইনিংয়ে বসে সকালের কফি খেতে খেতে দেখেন দক্ষিণমুখী বারান্দায় সন্তানসম গাছগুলোর প্রতিদিন বড় থেকে থাকা। এখানে বাগানজুড়ে রয়েছে বাগানবিলাস, কৃষ্ণচূড়া, হাসনাহেনা, জুঁই। টাঙ্গাইলে বেড়ে ওঠার টাইম এই অভিনেত্রীর বাবার ক্রয় ২৫ কাঠা ভূমির অনেকটাজুড়েই ছিল বাগান। গাছপালার ভেতর থাকার সেই অভ্যাস সবুজের প্রতি মনোরম মায়া সৃষ্টি করে দিয়েছে তাঁর মধ্যে। রুনা খান জানান, ছোটবেলায় বাড়ির বাগানে ২০০ থেকে ২৫০টি গোলাপ ফুটত। এইরকম থাকত হাসনাহেনা, গন্ধরাজের মতো ফুল। তাঁর বন্ধুরাও জানতেন তাঁদের সেই বাড়ির বাগানের বিশেষত্ব।


রুনা খানের ফ্ল্যাটে সিলিং ফ্যান নেই কেন



ডাইনিং টেবিলের ধরনে রেখেছেন ভিন্টেজ–ছোঁয়া। হাতের নাগালে পাওয়া দূরত্বেই পরিপাটি করে সাজানো ডাইনিং। সব মাজা তাক আর ড্রয়ার শ্বেত ও ক্রিম রঙের মিশেলে করা।

ডাইনিং থেকে সোজা এগোলেই সুবিশাল আয়না। নিজের সুপ্রিম সব নতুন–পুরোনো গয়না সেই আয়নার পেছনেই সাজানো থাকে। এ আয়নার ডানে শুধুমাত্র কন্যা রাজেশ্বরীর বাড়ি আর বাঁয়ে নিজেদের শোবার ঘর। স্বামীর কেবলমাত্র একটাই কল্পনা করা ছিল, কক্ষে এক্সট্রা আসবাবে যেন দমবন্ধ না লাগে। আর নিজেরও যেহেতু সরল চিত্র পছন্দ, তাই দুটো ঘরের নকশাই ‘মিনিমাল ইন্টেরিয়র ডিজাইনে’ করা। তবে সেসবেও সাদা রঙেরই প্রাধান্য।


রুনা খানের ফ্ল্যাটে সিলিং ফ্যান নেই কেন?


রাজেশ্বরীর কক্ষে রাখা বাবার কিনে দেওয়া প্রথম চেয়ার–টেবিল। স্মৃতিময় এটা ছাড়া সব আসবাবই ধানমন্ডি ছেড়ে আসার সময় পরিবর্তন করে নিয়েছেন। ছোটবেলার সেই চেয়ারের একটিতে বসেই পিয়ানো বাজানো শেখে রাজেশ্বরী। কোনো সময়েই কক্ষনো সেই পিয়ানোয় ভেসে আসে সেই বিশুদ্ধ সুর—‘কী জানি কিসেরও লাগি মন করে হায় হায়!’

আলোকবাতি, মোমবাতি আর আয়নার প্রতি প্রচণ্ড মমতা এই অভিনয়শিল্পীর। তাই বিশেষ দিবস অথবা ভিন্ন অ্যারেঞ্জমেন্টে বাড়িতে শোভা পায় সুগন্ধী মোমবাতি আর তাজা ফুল। রজনীগন্ধা, হাসনাহেনা পক্ষান্তরে গোলাপের তোড়া যেন কৃত্রিমতাবর্জিত এক সাধারণ জীবনেরই সুবাস দেয়।



রুনা খানের ফ্ল্যাটে সিলিং ফ্যান নেই কেন


রুনা খান বলেন, ‘এটি আমার সাদা পাথরের ছোট্ট একটি গুহা। যেখানেই থাকি, দিন শেষে কিংবা কাজ শেষে এখানে ফেরার জন্যই অধীর হয়ে পড়ি। কারণ, সদর দরজা হতে বাড়ির শেষ জানালা—প্রতিটিই নিজের হাতে গড়া।’ অল্পতেই সুখী থাকতে পারা এই শিল্পীর জীবনের পুরোটাজুড়ে বিদ্যমান পরিবার, প্রিয়জন ও কাজ। আর ফেমেলি নিয়ে নিজের লাইকের বাড়িতে দিনযাপন যেন স্বপ্নকেই লালন করা।

শেয়ার করুন

Author:

Welcome to Bangla BD Network, 'Bangla BD' main target is to provide content readers of this country with fantastic content. Another mark of ours is to one day establish ourselves as one of the best media platforms in the Bengali language with good quality content on academics, technology, biography, latest, special news, politics, Bangladesh, world, business, and entertainment.

0 coment rios: