ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনীর আগে সাইড লাইনে ওই বৈঠক হয়। বৈঠকের পর নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ৪০০ মিলিয়ন ইউরোর একটি সমঝোতা সই হয়। ইউরোপীয় কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ইইউ এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক সম্প্রসারণ ও বিকাশের জন্য একটি নতুন অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির উপর আলোচনার সূচনা করেন। এ উপলক্ষে ইইউ, ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি) এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের টেকসই সবুজ পরিবর্তন এবং দেশের জলবায়ু প্রশমন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অবদান রাখতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের জন্য ৪০০ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া ৭০ মিলিয়ন ইউরোর সমমূল্যের পাঁচটি অতিরিক্ত সহযোগিতা চালু করা হয়েছে। বৈঠক পরবর্তী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, ইইউ এবং বাংলাদেশ ৫০ বছর ধরে একে-অন্যের নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত অংশীদার। এখন আমরা এই অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। ইউরোপীয় কমিশন, ইআইবি এবং বাংলাদেশ পুনর্বিকরণযোগ্য শক্তিকে সমর্থন করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার বাহিনীতে যোগ দেবে। এই ৪০০ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণ তথা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে, অবকাঠামোগত ঘাটতি পূরণ করতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং আরও অনেক কিছুতে বিনিয়োগে সক্ষম করে তুলবে। গ্লোবাল গেটওয়ে হলো বন্ধুত্ব, অংশীদারিত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক নির্ভরতার একটি প্রতীক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ঢাকাস্থ ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি বলেন, গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরাম শুরু হওয়ার আগে দুই নেতার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৪০০ মিলিয়ন ইউরোর একটি সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছে। বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হলো। এদিকে এক টুইটে উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকীতে আমাদের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আমরা গ্লোবাল গেটওয়ের অধীনে নতুন প্রকল্প চালু করছি, যার মধ্যে ৪০০ মিলিয়ন ইউরোর নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রকল্প রয়েছে।
এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও ইইউ’র কাছে জিএসপি সুবিধা চান প্রধানমন্ত্রী: এদিকে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা করতে বাংলাদেশকে জিএসপি+ সুবিধা দেয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইইউ’র সদর দপ্তরে বেশ ক’টি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এক বিবৃতিতে বলেন, আমি আশা করি যে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আমাদের উন্নয়নে সহায়তার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে জিএসপি+ সুবিধা দেবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইউরোপীয় কমিশনের চেয়ারম্যান উরসুলা ভন ডার লিয়েন ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি)’র মধ্যে ৩৫০ মিলিয়ন ইউরো অর্থায়ন চুক্তিসহ বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর প্রত্যক্ষ করেন।



0 coment rios: