আদালত অবমাননায় সাজাপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা ক্ষমা পাবেন কি না সে বিষয়ে আপিল বিভাগের রায় ১২ ডিসেম্বর।
বুধবার (৬ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চ রায়ের জন্যে এদিন ধার্য করেন।
এর আগে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ গত ১২ অক্টোবর আদালত অবমাননায় সোহেল রানাকে (কুমিল্লার সাবেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, এখন আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত) এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেন। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার শর্তে তিন ঘণ্টার মাথায় একই বেঞ্চ সোহেল রানাকে ৩০ দিনের জামিন দেন। এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে ওই দিনই আবেদন করেন তিনি। বিকেলে ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালত তার কারাদণ্ড ও জরিমানার রায় স্থগিতের আদেশ দেন।
একই সঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে সোহেল রানার করা আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে ২০ নভেম্বর শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়। এরই মধ্যে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন সোহেল রানা। আগের ধারাবাহিকতায় ওই আপিল শুনানির জন্য আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় ১২ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।
আদালতে সোহেল রানার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম ও এম হারুনুর রশীদ খান।
আতঙ্কিত বিচারকেরা, নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশকে চিঠি
প্রধান বিচারপতি সারা দেশের সব আদালত ও ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ এবং বিচারকদের বহনকারী গাড়ি ও বাসভবনের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বৃদ্ধির নির্দেশনা দিয়েছেন। এই নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে পৃথক স্মারকে সারা দেশের সব আদালত ও ট্রাইব্যুনাল এবং বিচারকদের গাড়ি ও বাসভবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবরে মঙ্গলবার চিঠি পাঠানো হয়েছে।
দুটি স্মারকে হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মুন্সী মো. মশিয়ার রহমানের সই রয়েছে। আইজিপি বরাবর পাঠানো স্মারকে বলা হয়, সম্প্রতি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ও খুলনা জেলা জজ আদালতে বোমা হামলা হয়েছে। এর আগে কুমিল্লা আদালতে বিচারকের খাস কামরায় বিচারপ্রার্থীকে হত্যার ঘটনা ও সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোতে সারা দেশের বিচারকেরা চরমভাবে উদ্বিগ্ন, আতঙ্কিত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দেশের বিচারব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দেশের সব আদালত ও ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ, বিচারকদের বহনকারী গাড়ি এবং বাসভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অতি জরুরি।
প্রধান বিচারপতি সারা দেশের সব আদালত ও ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ এবং বিচারকদের বহনকারী গাড়ি ও বাসভবনের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বৃদ্ধির নির্দেশনা দিয়েছেন উল্লেখ করে আইজিপিকে পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়, এমতাবস্থায় সারা দেশের সব আদালত ও ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ, বিচারকদের বহনকারী গাড়ি এবং বাসভবনে সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারা ও পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স প্রদানসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং প্রধান বিচারপতির ওই নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবর পাঠানো স্মারকে বলা হয়, এমতাবস্থায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৯ হেয়ার রোডে অবস্থিত প্রধান বিচারপতির বাসভবন, কাকরাইলে জাজেস কমপ্লেক্স ও বিচারপতি ভবন এবং ঢাকা মহানগর এলাকায় অবস্থিত সব আদালত প্রাঙ্গণ ও আজিমপুরে জাজেস কোয়ার্টারে সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারা ও পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স প্রদানসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।
আরও পড়ুন >> সুরক্ষা সচিব ও আইজি প্রিজন্সের আপিল বিভাগে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা
আরও পড়ুন >> মির্জা আলমগীরের জামিন শুনানি বৃহস্পতিবার






0 coment rios: