বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

গণতন্ত্র মঞ্চের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ, জোনায়েদ সাকি আহত

গণতন্ত্র মঞ্চের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ, জোনায়েদ সাকি আহত


দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের অর্থ লোপাট ও অর্থপাচারের প্রতিবাদে সচিবালয় অভিমুখে গণতন্ত্র মঞ্চের বিক্ষোভ মিছিলে দুই দফা লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা জোনায়েদ সাকিসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে গণতন্ত্র মঞ্চ। সমাবেশ শেষে সচিবালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গুলিস্থানের জিরো পয়েন্টে পৌঁছালে পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়েন তারা। এসময় মঞ্চের নেতাকর্মীরা ব্যারিকেড ভাঙতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়।

পুলিশের হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলাম কিন্তু পুলিশ আমাদের বাধা দিয়েছে। আমাদের অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তাদের হসপিটালে পাঠানো হয়েছে। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিকে অনেক মেরেছে পুলিশ। তিনিও আহত, তাকে নিয়ে এখন আমরা হাসপাতালে যাব।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের এডিসি শাহ্ আলম মোহাম্মদ আক্তারুল ইসলাম বলেন, উনারা অনুমতি ছাড়াই এখানে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসেছেন। তারপর আমরা তাদের বারবার বলেছি যে তাদের এখানে অনুমতি নেই।

কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনেননি। উনারা আমাদের কথা দিয়েছিলেন যে সচিবালয়ের সামনে এসে শান্তিপূর্ণ মিছিল করে চলে যাবেন। কিন্তু আমাদের দেয়া বেরিক্যাড অতিক্রম করে সচিবালায় ঢোকার চেষ্টা করেছেন তারা। আমরা বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও উনারা বেরিক্যাড ভেঙে ভেতরে ঢুকতে চেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, যারা বেরিক্যাডগুলোতে ধাক্কাধাক্কি করছিল তাদের দেখেই মনে হচ্ছিল এরা বেরিক্যাড ভাঙার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোক। আমাদের মনে হয়েছে এদের ভাড়া করে নিয়ে এসেছে।

কত জন আটক হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা লাঠি হাতে নিয়ে পুলিশকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছে আমরা তাদের মধ্য থেকে দু-একজনকে আটক করেছি। তবে কতজন এখন পর্যন্ত আটক হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মিছিলের আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জোনায়েদ সাকি বলেন, একটা মহল এই সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে আছে। সরকার মেগা প্রকল্প করে মেগা লুটপাটের জন্য। এই লুটের টাকা সবাই ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে। মাঠে না নামলে এই সরকারকে হঠানো যাবে না। বিদেশিদের ওপর ভরসা করবেন না। তারা শুধু সুবিধা নেয়। জনগনের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই এই সরকারকে বিদায় করে আমাদের জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সরকার যতই হাবভাব দেখাক না কেন রোজায় দাম কমাতে পারবে না। বাংলাদেশ এখন যেভাবে চলছে এর থেকে খারাপভাবে একটা দেশ চলতে পারে না।

ড. ইউনূসের বায়োগ্রাফি কথা বলে: জাতিসংঘ

ড. ইউনূসের বায়োগ্রাফি কথা বলে: জাতিসংঘ


বাংলাদেশে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান হয়রানির প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির  মুখপাত্র মনিকা গ্রেইলে বলেছেন, ড. ইউনূসের বায়োগ্রাফি (জীবন কর্ম) কথা বলে। 

ড. ইউনূস ইস্যুতে বাংলাদেশ পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে ঢাকায় অবস্থানরত জাতিসংঘ টিম বলে জানিয়েছে এই বিশ্বসংস্থাটি।

বুধবার জাতিসংঘের ব্রিফিংয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান হয়রানি এবং গ্রেফতারের আশঙ্কা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সোজাসাপ্টা উত্তর দেন সাধারণ অধিবেশনের মুখপাত্র  মনিকা। তিনি বলেন, ড. ইউনূসের বিষয়টি নিয়ে যা চলছে আমরা সেটার শেষের জন্য অপেক্ষা করছি। তবে আমি মনে করি, ড. ইউনূসের বায়োগ্রাফি (জীবন কর্ম) কথা বলে।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন ইস্যুতে আয়োজিত ব্রিফিং এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতিসংঘের স্থায়ী সংবাদদাতা মুশফিকুল ফজল আনসারী জানতে চান, "নোবেল বিজয়ী এবং ক্ষুদ্র ঋণের প্রবর্তক প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে যা হচ্ছে সে বিষয়ে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট কী অবগত রয়েছেন? দ্য ওয়্যারে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে "কারাবন্দী হবার অপেক্ষায় ড.ইউনূস।" একদিন আগেও সিএনএন'র সাংবাদিক ক্রিস্টিয়ানা আমানপোরকে দেওয়া সাক্ষাতকারে নিজেকে নিয়ে চরম আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন প্রফেসর ইউনূস।"

জবাবে মনিকা বলেন, "বাংলাদেশে ড. ইউনূস ইস্যুতে যা ঘটছে তার দিকে নজর রাখছেন প্রেসিডেন্ট। মুশফিক, আমি মনে করি এর আগে জাতিসংঘের মুখপাত্র ডোজারিকসহ অন্যরা যা বলেছেন এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমি একমত। এরপর যা বলবো, আমরা প্রফেসর ইউনূসের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে যাচ্ছি। আমরা প্রফেসর ইউনূসের ইতিহাস জানি, তিনি কাজের মাধ্যমে যেসকল অবদান রেখেছেন তাও জানি। প্রকৃতপক্ষে তিনি জাতিসংঘের খুব ভালো একজন বন্ধু। ড. ইউনূসকে নিয়ে চলমান বিষয়ের শেষ দেখার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। তবে আমি মনে করি, ড. ইউনূসের বায়োগ্রাফি (জীবন কর্ম) কথা বলে।"

এর আগে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ইউনূস ইস্যুতে জাতিসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মুশফিক জানতে চান, "বাংলাদেশে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে যা ঘটছে সেই পরিস্থিতিকে জাতিসংঘ কীভাবে নজরে রেখেছে?"

জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডোজারিক বলেন, "বাংলাদেশ জাতিসংঘের যে টিম রয়েছে তারা ড. ইউনূসের ঘটনাবলির ওপর গভীর নজর রাখছে।"

তিনি বলেন, "প্রফেসর ইউনূস জাতিসংঘের একজন ঘনিষ্ট বন্ধু। ক্যারিয়ারের পুরো সময়জুড়ে জাতিসংঘের সঙ্গে নানা ভাবে তিনি জড়িয়ে আছেন। আজ আমরা উন্নয়নের জন্য যা করছি সেই বিবেচনায় মনে করি ড. ইউনূসের কাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।"

বাংলাদেশে বিরোধীদলের কারাবন্দি অবশিষ্ট নেতা-কর্মীদের মুক্তির আহ্বান জাতিসংঘের

বাংলাদেশে বিরোধীদলের কারাবন্দি অবশিষ্ট নেতা-কর্মীদের মুক্তির আহ্বান জাতিসংঘের


বাংলাদেশে ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত 'ডামি'  নির্বাচনের পূর্বে কারাগারে আটক ২৫ হাজারের অধিক বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের মুক্তির আহ্বান পুর্নব্যক্ত করেছে জাতিসংঘ।

বুধবার জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে বিরোধীদলের ওপর চলমান নিপীড়ন এবং কারাবন্দি নেতা-কর্মীদের মুক্তি ইস্যুতে জাতিসংঘের বর্তমান অবস্থান জানতে চাইলে মহাসচিব আন্থোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডোজারিক বলেন, বিরোধীদলের কারাবন্দি নেতা-কর্মীদের মুক্তির বিষয়ে তারা পূর্বের অবস্থানে অনঢ় রয়েছেন।

ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের স্থায়ী সংবাদদাতা মুশফিকুল ফজল আনসারী জানতে চান, "৭ জানুয়ারির জালিয়াতির নির্বাচনের পূর্বে বিরোধীদলের ২৫ হাজার নেতা-কর্মীকে জেলে বন্দি করা হয়। এরই মধ্যে বিরোধীদলের ১৩ কর্মী কারা হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে কয়েকজনকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এখনো যারা জেলে বন্দি আছেন তাদের মুক্তির জন্য জাতিসংঘ কী  আহ্বান জানাবে?"

জবাবে ডোজারিক বলেন, "আমি মনে করি জাতিসংঘ এ বিষয়ে তার অবস্থানে অনঢ় রয়েছে। শান্তিপূর্ণ উপায়ে শুধুমাত্র মত প্রকাশের অপরাধে যাদেরকে জেলে বন্দি করা হয়েছে তাদেরকে মুক্তি দিতে আমরা অব্যাহতভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।"

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রধান বিরোধীদল বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধীদলের ২৫ হাজারের বেশী নেতা-কর্মীকে ৭ জানুয়ারির জালিয়াতির নির্বাচনের পূর্বে গ্রেফতার করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। বিরোধীদল বিএনপি গত ৯ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছে কারাহেফাজতে দলটির ১৩ নেতা-কর্মী মৃত্যুবরণ করেছে।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বিরোধীদলের অল্প কয়েকজন নেতা-কর্মীকে মুক্তি দিয়েছে সরকার। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গত বছরের ২৮ অক্টোবর বিএনপির শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের যৌথ হামলার পর ২৯ অক্টোবর গুলশানের বাসা থেকে মির্জা ফখরুল এবং ২ নভেম্বর আমীর খসরুকে গুলশানের একটি বাসা থেকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে তাদেরকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে। মহাসমাবেশে হামলার পর তাকেও গত বছরের ৩১ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয়েছিলো। 

বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের শিক্ষাব্যবস্থা করা হচ্ছে : শফিকুল ইসলাম মাসুদ

তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের শিক্ষাব্যবস্থা করা হচ্ছে : শফিকুল ইসলাম মাসুদ


 তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের শিক্ষাব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

তিনি বলেন, ৯২ শতাংশ মুসলমানের এই বাংলাদেশে পরিকল্পিতভাবে ইসলামী শিক্ষাকে দূরে ঠেলে দিয়ে শিক্ষা কারিকুলামে সমকামীতা ও বেহায়াপনা ঢুকিয়ে জাতি ধ্বংসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও ইসলাম শিক্ষার প্রসার রোধে নানামুখি ষড়যন্ত্র চলছে। আজকে গ্রামে গঞ্জে তাফসির মাহফিল ও ওয়াজের অনুষ্ঠানে সরকারের অনুমতির কথা বলে তা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য চরম লজ্জার বিষয়।


মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের লালবাগ বংশাল জোনের ৭টি থানায় পৃথক ভাবে অগ্রসর কর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকার উন্নয়নের জিকির তুলে এদেশের মানুষের বাক-স্বাধীনতাকে হরণ করেছে। জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকারকে কেড়ে নিয়েছে। আজ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ইসলাম ও নৈতিকতাকে সরিয়ে দিয়ে এদেশের ছাত্র সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করা হচ্ছে। শিক্ষিত তরুণ যুবকেরা শহরে ঘুরে ঘুরে চাকরি না পেয়ে বেকারত্বের যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছে। এমনকি ক্ষুধার তাড়নায় তারা ৩ বেলা ভাতের বিনিময়ে টিউশনিকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দেশের ক্ষমতার মসনদে বসে থেকে উন্নয়নের জিকির তোলা আওয়ামী লীগ সরকারকে এর জবাব দিতে হবে। মুলত এই স্বৈরাচারী সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই এদেশের জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। ইতিহাস সাক্ষী অতিতে কোনো স্বৈরাচার সরকার জুলুম নির্যাতন চালিয়ে পার পায়নি আপনারাও পাবেন না ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা ট্রাজেডি দিবস চলে গেল। আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই আধিপত্যবাদী শক্তি এদেশীয় দোশরদের সহযোগিতায় বিডিআর বিদ্রোহের নামে এই হত্যাযজ্ঞ ঘটায়। যেখানে ৫৭ জন সেনা অফিসার শহীদ হয়। অথচ দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও এতগুলো সেনা অফিসার নিহত হয়নি। দেশপ্রেমিক যেকোনো সরকারের জন্যই এদিন জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা আবশ্যক ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে আমাদের দূর্ভাগ্য যে, আধিপত্যবাদের দোশর এই সরকার এ ব্যাপারে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। মুলত এ দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন না করার অর্থই হল দেশের সেনাবাহিনীকে অসম্মান ও অবজ্ঞা প্রদর্শন করা ছাড়া আর কিছুই নয়। আধিপত্যবাদী এই আগ্রাসী শক্তি আমাদের অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সকল ক্ষেত্রে গোলামীর শিকলে আবদ্ধ করতে চায়। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাড়াতে হবে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে ইসলামের মূল স্প্রিট থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। নিজেদের ঈমান ও আমল ঠিক রাখার প্রয়োজনে সঠিকভাবে দ্বীন ইসলামকে জানতে হবে। আজকে রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় যথেষ্ট ত্রুটি থাকার কারণে ইসলামের মুল চেতনা শিখতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি।

শিক্ষা শিবিরে থানা ভিত্তিক পৃথক পৃথক স্পটে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির যথাক্রমে আব্দুস সবুর ফকির ও অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি যথাক্রমে দেলাওয়ার হোসেন ও কামাল হোসাইন।

এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা ফরিদুল ইসলাম, ড. মোবারক হোসাইন, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, আব্দুল হাই, ড. শামীমুল বারী, মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া ও মতিউর রহমান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।


ড. মাসুদ বলেন, প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সা:-যে আদর্শের মাধ্যমে তার সাথীদেরকে উন্নত নৈতিকতায় সমৃদ্ধ করে একটি সোনার রাষ্ট্র তৈরি করেছিলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও সেই আদর্শকে ধারণ করে এদেশে একদল মানুষকে সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। আজ এদেশের জনগণ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তনে সত্যিকার নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দেখতে চায়। তারা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বকে গ্রহণ করতে ব্যাকুল হয়ে আছে। দেশে যদি নিরপেক্ষ কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে দেশের অধিকাংশ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের গণমুখী চরিত্রের অধিকারী হয়ে সমাজের মানুষের সেবা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

খাবারের জন্য অপেক্ষারত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি হামলার নিন্দা জামায়াতের

খাবারের জন্য অপেক্ষারত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি হামলার নিন্দা জামায়াতের


 খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি সৈন্যদের এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ও বোমা বর্ষণ করে অসংখ্য ফিলিস্তিনিকে হত্যা ও আহত করার ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দলটির ভারপ্রাপ্ত আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন,‘ইসলাম ও মানবতার দুশমন বর্বর ইসরাইলি সৈন্যরা ত্রাণের খাদ্যের জন্য অপেক্ষমান ফিলিস্তিনি ক্ষুধার্ত শিশু, নারী ও পুরুষের ওপর নির্বিচারে গুলি এবং বোমা বর্ষণ করে অসংখ্য ফিলিস্তিনিকে হত্যা ও আহত করে মানবতাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে।

যুদ্ধ বন্ধের জন্য জাতিসঙ্ঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও শান্তিকামী রাষ্ট্র প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মানবতার দুশমন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর একগুঁয়েমির কারণে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা সফল হচ্ছে না। ফিলিস্তিনের বিরাজমান পরিস্থিতিতে শান্তিকামী বিশ্ব উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। রমজান মাস শুরুর পূর্বেই ফিলিস্তিনে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা প্রয়োজন। আসন্ন রমজানের পূর্বেই ফিলিস্তিনে মানবতার দুশমন ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হামলা ও রক্তপাত বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা বিশ্ববাসীর পবিত্র দায়িত্ব।

আসন্ন রমজানের পূর্বেই যেকোনো মূল্যে ফিলিস্তিনে অবৈধ ইসরাইলি বাহিনীর অন্যায় ও অমানবিক যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে বাধ্য করার জন্য আমরা জাতিসঙ্ঘ, ওআইসি, মুসলিম উম্মাহ, সকল আন্তর্জাতিক সংস্থা, গণতান্ত্রিক দেশ এবং শান্তিকামী বিশ্ববাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

ডিআইজি মিজানের ১৪ বছরের কারাদণ্ড বহাল

ডিআইজি মিজানের ১৪ বছরের কারাদণ্ড বহাল

 


অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচার আইনের মামলায় বরখাস্ত পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে দেয়া ১৪ বছরের সাজা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি কামরুল হাসান মোল্লার একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

এর আগে গত বছরের ২১ জুন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক মঞ্জুরুল ইমাম তার ১৪ বছরের সাজা ঘোষণা করেন।

এরও আগে গত ৫ জুন একই আদালত রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২১ জুন দিন ধার্য করেন। এ মামলায় ডিআইজি মিজানসহ আসামি সংখ্যা চারজন।

এ মামলায় ডিআইজি মিজান কারাগারে আটক রয়েছেন। জামিনে রয়েছেন তার ছোটভাই মাহবুবুর রহমান ও ভাগ্নে মাহমুদুল হাসান। তবে মিজানের স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না শুরু থেকে পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

বিএনপিকে ধ্বংস করার মাস্টারপ্ল্যান চলছে : মির্জা ফখরুল

বিএনপিকে ধ্বংস করার মাস্টারপ্ল্যান চলছে : মির্জা ফখরুল


 আওয়ামী লীগ সরকারকে ডামি উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপিকে ধ্বংস করার মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে ডামি আওয়ামী সরকার।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযোদ্ধা দলের পুরানা পল্টন কার্যালয় থেকে সংগঠনটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত-কে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান মির্জা ফখরুল।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি-কে ধ্বংস করার মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে ডামি আওয়ামী সরকার। আগ্রাসী ফ্যাসিবাদ এখন ভয়াল মূর্তি ধারণ করেছে। দেশের মানুষের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়ে কর্তৃত্ববাদ চিরস্থায়ী করার জন্য এ সরকার এক নির্দয়-হিংসাশ্রয়ী নীতি অবলম্বন করেছে। ৭ জানুয়ারি ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারীদের দৌরাত্ম সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। গুম-খুন-হামলা-মামলা-গ্রেফতার ও ফরমায়েশি সাজা প্রদানের দ্বারা বিরোধী নেতা-কর্মীদের নাজেহাল করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠলেও আওয়ামী সরকার জনগণের সাথে নিষ্ঠুর তামাশা করছে। সরকারের অনাচার থেকে জনদৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে নিতেই মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের হিড়িক থামছে না। ইশতিয়াক আজিজ উলফাতই কেবল বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, তার পুরো পরিবারও মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িত ছিল, এমনকি তার বড় ভাই শহীদ হয়েছেন। আজ মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত-কে গ্রেফতারের মাধ্যমে প্রকারন্তরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই অবমাননা করা হলো।’

বিবৃতিতে ইশতিয়াক আজিজ উলফাত -এর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারসহ অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির জোর আহ্বান জানান ফখরুল।

এসবের শেষ কোথায়, আমাদের জানা নেই: বিচারিক হয়রানি প্রসঙ্গে ড. ইউনূস

এসবের শেষ কোথায়, আমাদের জানা নেই: বিচারিক হয়রানি প্রসঙ্গে ড. ইউনূস


১৯৭১ সালের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনাকালে কেবলই নিজ দেশের মানুষকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে ফিরে আসার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং পরে ফিরে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সিএনএন-এর তারকা সাংবাদিক ক্রিস্টিয়ান আমানপোরকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেন। প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে সিএনএন-এর খবরে বলা হয়, বাংলাদেশে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ইউনূসের সমর্থকরা বলছেন, তিনি ওই দেশের প্রধানমন্ত্রীর টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। যদিও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে দেশটির সরকার। নিজের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুরু করে তিনি সারা বিশ্বের হতদরিদ্র লাখ লাখ মানুষকে সাহায্য করেছেন। এরপর আমানপোরের প্রথম প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, এখন মারাত্মক সব ঘটনা ঘটছে। ৩৫ জনের একটা গ্রুপ আমাদের বিল্ডিংয়ে ঢুকে পড়ে যেখানে আমাদের সামাজিক ব্যবসার অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অনেকগুলোই দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এতে সবাই উদ্বিগ্ন হয়, ভয় পেয়ে যায়।

নিজ প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোকজন এসে এসবের মালিকানা দাবি করার বিষয়ে ড. ইউনূস বলেন, যেহেতু এগুলো আইনি বিষয়- তাদের কোনো দাবি-দাওয়া থাকলে তারা আদালতে যেতে পারতো, সমঝোতার উদ্যোগ নিতে পারতো। কিন্তু, আপনি তো ভবনে ঢুকে এর মালিকানা দাবি করতে পারেন না। সংবাদ সম্মেলনের পর অনুপ্রবেশকারীরা আর ভবনে প্রবেশ করেনি বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

বারাক ওবামার মতো ডজন ডজন নোবেলজয়ী আপনার বিরুদ্ধে বিচারিক হয়রানি বন্ধ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে চিঠি লিখেছেন। এসব মামলার পরিণতি কি হতে পারে? আপনি কি জেলে যেতে পারেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, আমাকে ইতিমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। সুতরাং, জামিনের মেয়াদ শেষ হলে আমাকে ফের জামিন দিতে পারে, নয়তো আমিসহ অন্য যাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তারা সবাই জেলে যেতে পারি। ৩রা মার্চে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা আরেকটি নতুন মামলা হচ্ছে। আমাদের দুর্নীতি, মানি লন্ডারিংসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। ওই মামলায় সাজার মেয়াদ আরও দীর্ঘ। এসবের শেষ কোথায়, আমাদের জানা নেই।

আপনার বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগ আনা হয়েছে? এগুলো কেন আনা হয়েছে? কারণটা কি? এমন প্রশ্নে ড. ইউনূস বলেন, শুধু আমি-ই যে এগুলো অস্বীকার করছি তা নয়, যত আইনজীবীর সঙ্গে আমরা আলাপ করেছি, তা সে স্থানীয়-ই হোক, আর আন্তর্জাতিক-ই হোক, তারা সবাই এ বিষয়ে একমত যে-এসব মামলার কোনো ভিত্তি নেই। শ্রম আইন সংক্রান্ত মামলার ইতিহাসেও এসব অভিযোগে কারও বিচার হয়েছে বলে তারা শোনেননি। সুতরাং, এগুলো হয়রানির জন্যই করা হচ্ছে, যাতে আমি বা আমরা এই বার্তা পাই যে, তোমাদের সাদরে গ্রহণ করা হচ্ছে না।

অধ্যাপক ইউনূসকে নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রীর করা মন্তব্য উল্লেখ করে আমানপোর জানতে চান-শেখ হাসিনা কি আপনাকে তার রাজনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে ভেবে উদ্বিগ্ন হচ্ছেন? জবাবে ড. ইউনূস ‘তিনি কী ভাবেন আমি জানি না’- মন্তব্য করে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ‘না’ করে দেন। ওয়ান ইলেভেনে সরকার প্রধান হওয়ার প্রস্তাব পেয়েও সেটি গ্রহণ না করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি বারবার বলেছি, রাজনীতি করার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। আমার বলার দরকার ছিল না। তাও বলেছি যাতে কোনো দ্বিধার জন্ম না হয়।’

সমপ্রতি রাশিয়ার কারাগারে নিহত হয়েছেন দেশটির বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনি। নাভালনির মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধরত ইউক্রেনে অবস্থানরত আমানপোর ড. ইউনূসের কাছে জানতে চান, আপনি কি বিদেশে থাকার কোনো প্রস্তাব পেয়েছেন?

ড. ইউনূস বলেন, ‘আমার অনেক বিদেশি বন্ধুই আমাকে দেশত্যাগ করতে বলেছেন। তাদের দেশে থাকার সকল সুযোগ-সুবিধাসহ, সারা দুনিয়ায় আমার কাজগুলো চালিয়ে নেয়ার নিশ্চয়তাসহ। আমি ১৯৭১ সালের শেষে (মিডল) টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনাকালীন দেশে ফিরে আসার ঘোষণা দিয়েছিলাম এবং আমি দেশে ফিরেছিলাম। আমি শুধু মানুষকে সাহায্য করতেই ফিরেছিলাম।

ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে কীভাবে মানুষের কল্যাণ হচ্ছে এবং কীভাবে সারা দুনিয়ায় সেটি সাদরে গ্রহণ করা হচ্ছে তার উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, আমরা এগুলো নিয়েই ব্যস্ত। আমরা অনেক খুশি। সারা দুনিয়ায় চমৎকার সাড়া পাচ্ছি। কিন্তু, যেকোনো ভাবেই হউক আমার নিজের দেশেই বিষয়গুলো ঠিকঠাক চলছে না।-

রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

বিএনপির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতিনিধি দলের বৈঠক, বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী গ্রেফতার, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

বিএনপির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতিনিধি দলের বৈঠক, বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী গ্রেফতার, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরিন আখতার। শনিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় বলা হয়, বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মীর কারাবন্দী থাকা ও বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতেও বিএনপির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। তবে বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে কিছু বলা হয়নি।

এর আগে আজ সকালে আফরিন আখতারসহ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা এসে পৌঁছান। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে আফরিন আখতার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। অন্যদিকে মির্জা ফখরুল ইসলামের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের মধ্যে ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।

বৈঠক শেষে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘উনারা আমাদের ইনভাইট করেছেন...আমরা এসেছি...কথাবার্তা বলেছি। এতটুকু বলতে পারব। এর বেশি কিছু বলার নেই।’

বৈঠকে কী কথা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, ‘কথা হয়েছে, উনারা দাওয়াত করেছেন, আমরা এসেছি...দ্যাটস অল।’

বিএনপি কী বলেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, ‘কিছু বলার নেই।’ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নেরও সরাসরি কোনো জবাব না দিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘একটাই উত্তর হবে, কিছু বলার নেই।’

সাড়ে তিন মাস কারাভোগের পর ১৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপির এই দুই নেতার বিদেশিদের সঙ্গে এটি প্রথম বৈঠক।

একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠনের পর প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফরে ঢাকায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল।

এর আগে গত বছরের ১৬ অক্টোবর ঢাকায় এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরিন আখতার।

সে সময় বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পও পরিদর্শন করেন।

শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

বাজারের নিয়ন্ত্রকরাই সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করছে: রিজভী

বাজারের নিয়ন্ত্রকরাই সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করছে: রিজভী


 বাজারের নিয়ন্ত্রকরাই এখন সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের লুটেরা সিন্ডিকেট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় এখন বাজারের উপর নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রতিদিন মানুষের পকেট থেকে এরা শতশত কোটি টাকা বাড়তি হাতিয়ে নিচ্ছে। মানুষের এখন জান বাঁচানো দায়। ডামি সরকার লোক দেখানো হাঁকডাক দিলেও বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। বাজারের নিয়ন্ত্রকরাই এখন সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রতিটি পণ্যের দাম যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, এ অবস্থায় নিম্ন আয়ের শুধু নয়, মধ্যবিত্তরাও চরমভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন, পূর্ব নির্ধারিত ফলাফলের নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে একদলীয় রাজ্যাভিষেকের পর নতুন করে দেশের নিত্যপণ্যের বাজার, জ্বালানী, ব্যাংক, অর্থনীতি, আইন-আদালত, শাসন-প্রশাসন, বিচার-আচার, টাকা-পয়সা, ব্যবসা বানিজ্য-সর্বত্রই চলছে বেপরোয়া অরাজকতা ও নিয়ন্ত্রণহীন বিশৃঙ্খলা। সরকার আর মুনাফাখোর বাজার সিন্ডিকেট এখন একাকার। এদের দুই এর অশুভ আঁতাত দেশের মানুষকে নিঃস্ব করে ফেলছে।

রিজভী বলেন, গতকাল গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে সরকার উৎখাতে আন্দোলনকারীদের তাদেরও কিছু কারসাজি আছে।” উনার এ ধরণের কথা বলার অর্থ তার স্বেচ্ছাতন্ত্র পচে গলে বিকৃত হয়ে গেছে। এসমস্ত বক্তব্য বিকারগ্রস্ত মনেরই বহিঃপ্রকাশ।

এ কারণে হাস্যকর মিথ্যাচার করছেন। তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন দ্রব্যমূল্য বেড়েছে সীমাহীন। নিজেদের ব্যর্থতা, লুটপাট-চুরি-চামারি করে সেই অপকর্মের দায় নির্লজ্জের মতো বিএনপির ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার অভ্যাস তাদের পুরানো। বিএনপি যদি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করে, তবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে বন্দি। এরপরেও বিএনপি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করেছে? সরকার প্রধান হয়ে যখন অসাধু ব্যবসায়ীদের কনট্রোল করতে পারছেন না, তখন অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকতে ব্যর্থতার দায় বিএনপির ওপর চাপানোর অপপ্রচার চালাচ্ছেন আপনি।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী গতকাল বলেছেন, ‘ভাতের জন্য হাহাকার ছিল। একটু নুন ভাত। একটু ফ্যান চাইত’। শেখ হাসিনা অসংখ্য মিথ্যা কথা বলেন কিন্তু তার এই কথাটা সত্য। গত ১৫ বছর ধরে শেখ হাসিনার বিনাভোটের সরকারের দুর্নীতি, দুঃশাসন, টাকাপাচার, আর আওয়ামী বাজার সিন্ডিকেটের কারণে দেশে আবারো ১৯৭৪ এর অবস্থা বিরাজমান। দেশে এখন নীরব দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পেটের ক্ষুধার জ্বালায় শুরু হয়েছে সন্তান বিক্রি করার হিড়িক। ৭ জানুয়ারি ডামি নির্বাচনের পূর্বে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির আন্তর্জাতিক চক্রান্ত চলছে বলে ‘ডামি প্রধানমন্ত্রী’ জানিয়েছিলেন। গতকালও এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করলে তিনি আশঙ্কা উড়িয়ে দেননি, বরং ষড়যন্ত্র চলছে বলে জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “যারা সরকার উৎখাতের আন্দোলন করছে তারা এর জন্য দায়ী, এখানে তাদেরও কিছু কারসাজী আছে।” ৭ জানুয়ারী ডামি নির্বাচনের পর আওয়ামী ফ্যাসিবাদ পুনরায় নতুন পৈশাচিকতায় আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে- প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য সেটিরই আলামত। এহেন বক্তব্য কান্ডজ্ঞানহীন, সুপরিকল্পিত ও মনোরোগের বর্ধিত প্রকাশ।

পুলিশি বাধায় ১২ দলীয় জোটের বিক্ষোভ মিছিল পণ্ড

পুলিশি বাধায় ১২ দলীয় জোটের বিক্ষোভ মিছিল পণ্ড


 পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়েছে ১২ দলীয় জোটের ডাকা বিক্ষোভ মিছিল। শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) প্রেসক্লাবের সামনে জোটটির ডাকা বিক্ষোভ মিছিলের পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশের জন্য দাড়ালে বাধা দেয় পুলিশ। ১২ দলীয় জোটের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে # INDIA OUT, Boycott India, বয়কট ইন্ডিয়া এমন ফেস্টুনে বিক্ষোভ মিছিল ডাক দিয়েছিল জোটটি।

প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, ১২ দলীয় জোটের বিক্ষোভ মিছিলের পূর্ব প্রস্তুতি জন্য সংক্ষিপ্ত সমাবেশে করতে নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের ব্যানার কেড়ে নেয়। এ সময় পুলিশের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন নেতারা। এরপর নেতারা সেখান থেকে চলে এসে ঝটিকা মিছিল করে করে। মিছিলটি প্রেসক্লাবের অপর পার্শ্বের সড়ক দিয়ে পল্টনমুখী হলে মেহের প্লাজায় এসে শেষ হয়।

১২ দলীয় জোটের নেতাদের পুলিশের কর্মকর্তা জানান ' আপনারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে কর্মসূচি করতে পারেন। এখানে আমাদের তরফ থেকে কোনো বাধা নেই। কিন্তু কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কর্মসূচি করতে দিতে পারি না

বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাধা ও লাঠিচার্জ করেছে এমন অভিযোগ করে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, একটি বাকশাল রাষ্ট্র কায়েম করেছে সরকার। কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন বাধা দিয়েছে সরকার। সরকারের পুলিশ বাহিনী আমাদের বিক্ষোভের ফেস্টুন কেড়ে নিয়েছে। আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ছবি তুলতে গেলে তাদের ফোন কেড়ে নেয়।

এমনকি বাধার মুখে চলে আসার সময় পেছনের নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন বলেন, আজকে আমরা বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের ব্যানার ছিনিয়ে নিয়েছে, হুমকি দিয়েছে। আজকে মানুষের কথা বলার কোনো অধিকার নেই। এভাবে একটি রাষ্ট্র চলতে পারে না।

বিক্ষোভ মিছিলে আরো উপস্থিত ছিলেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল করিম, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির একাংশের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, বাংলাদেশ এলডিপির মো. ফরিদ উদ্দিন, আব্দুল হাই নোমান, যুব জাগপার নজরুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ।

কর্মসূচির শুরুতে ১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, মহাসচিব আহসান হাবীব লিংকন উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকায় পৌঁছেছে মার্কিন প্রতিনিধিদল

ঢাকায় পৌঁছেছে মার্কিন প্রতিনিধিদল


 তিন দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছে মার্কিন প্রতিনিধিদল। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

শনিবার থেকে সোমবার তিন দিনের জন্য ঢাকায় সফরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল, ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এবং এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএআইডি) এই প্রতিনিধিদল।

তারা হলেন, ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এনএসসি) দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ডিরেক্টর আইলিন লাউবেচার , ইউএসএআইডির এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মাইকেল শিফার এবং ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আফরিন আক্তার।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে পারস্পরিক স্বার্থের অগ্রগতির জন্য কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন তারা। তরুণ অ্যাক্টিভিস্ট, সুশীল সমাজ, শ্রম সংগঠক এবং মুক্ত গণমাধ্যমের বিকাশে নিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি


 ঢাকায় সফরে আসা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল, ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এবং এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএআইডি) প্রতিনিধি দলেরের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বিএনপি। আজ বেলা ৩টায় রাজধানীর গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে এ বৈঠক শুরু হয়। বিএনপির পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে স্হায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ অংশ নেন।

মার্কিন প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এনএসসি) দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ডিরেক্টর আইলিন লাউবেচার, ইউএসএআইডির এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মাইকেল শিফার এবং ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আফরিন আক্তার। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, শনিবার সকাল ১১টায় ঢাকায় আসে মার্কিন প্রতিনিধি দলটি। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে পারস্পরিক স্বার্থের অগ্রগতির জন্য কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন তারা। তরুণ অ্যাক্টিভিস্ট, সুশীল সমাজ, শ্রম সংগঠক এবং মুক্ত গণমাধ্যমের বিকাশে নিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সাইফুজ্জামানের দুর্নীতি নিয়ে ব্লুমবার্গের রিপোর্ট সম্পর্কে অবগত যুক্তরাষ্ট্র: স্টেট ডিপার্টমেন্ট

সাইফুজ্জামানের দুর্নীতি নিয়ে ব্লুমবার্গের রিপোর্ট সম্পর্কে অবগত যুক্তরাষ্ট্র: স্টেট ডিপার্টমেন্ট


 মুশফিকুল ফজল আনসারী, স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেন্ট

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি এবং সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়ে তোলা নিয়ে ব্লুমবার্গের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট সম্পর্কে অবগত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সরকার দলীয় এই এমপির বিদেশে টাকা পাচার করে সাম্রাজ্য গড়ে তোলা প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার।

মিলার জানান, বাংলাদেশের এই এমপি’র দুর্নীতির রিপোর্ট সম্পর্কে তারা অবগত রয়েছেন।

ব্রিফিংয়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর দুর্নীতি নিয়ে ব্লুমবার্গের রিপোর্টের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেন্ট মুশফিকুল ফজল আনসারী জানতে চান, "বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি এখন অনেকটাই উন্মুক্ত। রবিবার ব্লুমবার্গের এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে টাকা পাচার করে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের এক সামাজ্য গড়ে তুলেছেন। এই টাকার পরিমাণ বৈদেশিক রিজার্ভের এক শতাংশের সমতূল্য। এটা সরকারের অসংখ্য দুর্নীতির মধ্যে একটি নমুনা মাত্র। বাংলাদেশ সরকারকে জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নিবে?"

জবাবে মিলার বলেন, "আমরা এই রিপোর্টের বিষয়ে অবগত রয়েছি। বাংলাদেশ সরকারকে বলবো, তাদের সকল কর্মকর্তা যেনো দেশটির আইন এবং অর্থনৈতিক বিধি-বিধান মেনে চলে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে।"

উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্লুমবার্গের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রায় ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড বা বাংলাদেশি ২ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা মূল্যের ৩৫০টিরও বেশি সম্পত্তি নিয়ে যুক্তরাজ্যে রিয়েল এস্টেট সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

রিপোর্টে বলা হয়, লন্ডনের উত্তর-পশ্চিম এলাকায় একটি প্রপার্টি ২০২২ সালে ১১ মিলিয়ন পাউন্ডে বিক্রি হয়। রিজেন্টস পার্ক ও লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড থেকে একদমই কাছে অবস্থিত ওই প্রোপার্টিটি বৃটেনের রাজধানী লন্ডনের সবথেকে ধনী এলাকায় অবস্থিত। এই প্রপার্টির মালিক বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

ব্লুমবার্গের রিপোর্টে বলা হয়, বর্তমানে ওই প্রোপার্টির দাম ১৩ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি। এর মালিক বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশে যে মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে, তার অধীনে কোনো নাগরিক, বাসিন্দা এবং সরকারি কর্মচারী বছরে ১২ হাজার ডলারের বেশি দেশের বাইরে পাঠাতে পারেন না। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ ও অনুমোদন ছাড়া কোনো করপোরেশনও বিদেশে অর্থ স্থানান্তর করতে পারে না।

এই রিপোর্টে আরও বলা হয়, ২০১৬ সাল থেকে তার মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো বৃটেনে প্রায় ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের ৩৫০টিরও বেশি প্রোপার্টির রিয়েল এস্টেট সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। এসব প্রোপার্টির মধ্যে রয়েছে লন্ডনের একদম কেন্দ্রে থাকা বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে শুরু করে টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্টও। ইংল্যান্ডের সবথেকে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটির বাস এই টাওয়ার হ্যামলেটসেই। লিভারপুলে কিছু ছাত্রাবাসও রয়েছে তার।

ব্লুমবার্গ যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনে সাইফুজ্জামানের অন্তত পাঁচটি প্রপার্টি খুঁজে পেয়েছে। মিউনিসিপ্যাল প্রপার্টির নথি অনুসারে, এসব সম্পত্তি ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলারে কেনা।

গত ৭ জানুয়ারি একতরফা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্যের পদ বাগিয়ে নিয়ে  ভূমি সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদে আসীন হন।

মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

শহীদ দিবসে কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির

শহীদ দিবসে কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির


 মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহামচিব রুহুল কবির রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২১ ফেব্রুয়ারি ভোর ৬টায় নয়াপল্টনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন। এদিন সকাল ৬টায় কালো ব্যাজ সহকারে প্রভাত ফেরীতে অংশগ্রহণের জন্য বলাকা সিনেমা হলের সামনে দলীয় নেতাকর্মীদের জমায়েত এবং আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের মাজার জিয়ারত শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অভিমুখে যাত্রা এবং শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হবে।

তিনি জানান, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আগামীকাল ২০ ফেব্রুয়ারি বেলা ২টায় রাজধানীর রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের মিলনায়তনে বিএনপির পক্ষ থেকে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশ বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও ভাষা সৈনিকরা আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখবেন।

এছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সারাদেশে দলের জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও বিভিন্ন ইউনিট কার্যালয়ে সকাল ৬টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন, প্রভাত ফেরী এবং স্থানীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হবে। এদিন দেশব্যাপী দলের বিভিন্ন ইউনিট স্থানীয় সুবিধানুযায়ী ভাষা শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করবে।

বাজার সিন্ডিকেটের হাতে বর্গা দেওয়া হয়েছে: রিজভী

বাজার সিন্ডিকেটের হাতে বর্গা দেওয়া হয়েছে: রিজভী


 নিত্যপণ্যের বাজার লুটেরা, মাফিয়া-সিন্ডিকেটের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্গা দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ক্রমাগত দ্রব্যমূল্যের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে জনগণ। মাহে রমজানকে সামনে রেখে এখন থেকেই সরকারের সিন্ডিকেট চক্র জনগণের পকেট কাটতে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চাল, ভোজ্যতেল, চিনি ও খেজুর আমদানিতে শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিলেও বাজারে এর কোনো প্রভাব তো পড়েইনি, উল্টো গত ১০ দিনে রমজান সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। শুল্ক কমানোর পরে ঐ ৪টি পণ্যের দাম কেজিতে ৪০ টাকা কমার কথা, কিন্তু কমেনি তো বটেই। বরং এই চারটি পণ্যের দাম কেজিতে ১০/২০ টাকা বেড়ে গেছে। পাইকারি পর্যায়ে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৩৪ টাকা দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ১৩২ টাকায় বিক্রি হতো। এখন খুচরা বাজারে খোলা চিনির কেজি ১৪০ থেকে ১৪৫ এবং প্যাকেটজাত চিনি ১৪৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এখনও সেই দরে কিনতে হচ্ছে চিনি।

তিনি বলেন, গত সপ্তাহে পাইকারিতে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১৬১ টাকা, পাম অয়েল ১৩১ টাকা ও সুপার পাম অয়েল ১৩৪ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন সয়াবিন তেল ১৫৫ টাকা, পাম অয়েল ১৩৪ টাকা ও সুপার পাম অয়েল ১৩৭ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৭০ থেকে ১৭৩ এবং খোলা তেল ১৫৮ থেকে ১৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পাম অয়েলের লিটার কিনতে হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা দরে। চালের দাম এক আনাও কমেনি, বরং বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৭৫ থেকে ৮০, মাঝারি চাল ৫৫ থেকে ৬৫ ও মোটা চালের কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

রিজভী বলেন, শুল্ক ছাড়ের পর দাম কমার বদলে লাফিয়ে বাড়ছে ছোলার দাম। মাসখানেক আগেও রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ছোলার কেজি ছিল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। শনিবার মালিবাগ, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর ও কারওয়ান বাজারে ছোলার কেজি বিক্রি হয়েছে ১০৫ থেকে ১১৫ টাকায়। ছোলার মতো অ্যাংকর ডালের চাহিদাও বেশি থাকে রমজানে। এক-দেড় মাসের ব্যবধানে এ জাতের ডালের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। তবে সারা বছরই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় মসুর ডাল। বাজারে এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে আমদানি করা বড় দানার মসুর ডাল এখন ১০০ থেকে ১১০ এবং দেশি মসুর ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বছরের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ। কোনো কোনো পণ্যের দাম দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত বছর এই সময়ে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। অর্থাৎ দাম বেড়েছে তিন গুণের বেশি। একই অবস্থা মাংস ও মাছের বাজারেও। কেজি প্রতি ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির দাম বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকা। সোনালি জাতের মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকায়। অথচ দুই মাস আগে ব্রয়লারের কেজি ১৮০ ও সোনালি মুরগি ২৮০ থেকে ২৯০ টাকার মধ্যে ছিল। একই সঙ্গে চড়া দামে আদা ও রসুন দুই পদই বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা দরে।

নিত্যপণ্যের বাজার সিন্ডিকেট যে সরাসরি শেখ হাসিনা নিয়ন্ত্রিত তা বিভিন্ন সময় ইশারা ইঙ্গিতে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-নেতারা প্রকাশ্যে বলেছেন। সরকারের বাজার লুটের কারণে আজ জনগণ সর্বশান্ত। বাজারে দ্রব্যমূল্যের আগুনে পুড়ছে সাধারণ মানুষ আর অর্থ বিত্তের পুকুরে সাঁতার কাটছে সরকারের লোকজন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, শনিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশে বিএনপি সবচেয়ে বড় উগ্রবাদী দল। দেশে উগ্রবাদের জন্ম বিএনপির হাত ধরে। সরকার আত্মশক্তিতে বলিয়ান। ওবায়দুল কাদের সাহেবের কিছু বলার আর করার কিছু নেই। তিনি আওয়ামী লীগের জড়পদার্থে পরিণত হয়েছেন। যেভাবে চালানো হয় তিনি সেভাবেই চলেন। যে দেশে আওয়ামী লীগের মতো একটি দলের অস্তিত্ব থাকে সে দেশে উগ্রবাদ খুঁজতে যাওয়া মূর্খের স্বর্গে বাস করা।

মাত্র তিন মাসেই বিএনপির ৩৪ জন নেতাকর্মীকে খুন করেছে অভিযোগ জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকারি মদদে ও অবহেলায় কারাগারে ১৫ জন নেতাকর্মীর মৃত্যু নিশ্চিত করার পরও ওবায়দুল কাদের সাহেব আপনারা কাকে উগ্রশক্তি বলেন? ওবায়দুল কাদের সাহেবকে জিজ্ঞাসা করি-গণতান্ত্রিক বিশ্বের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই কেন? গণতন্ত্রের সূচকে বাংলাদেশের আরও পতন হচ্ছে কেন? পৃথিবীর বিশ্বাসযোগ্য মর্যাদাসম্পন্ন সংগঠনগুলির জরিপে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়? তার বক্তব্য বরাবরই বিরোধের ছায়াকে প্রলম্বিত করে। তিনি দখলদার মাফিয়া টিমের মুখপাত্র।

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেবে না সরকার : কাদের

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেবে না সরকার : কাদের


 বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেবে না সরকার। তবে আন্দোলনের সহিংসতার উপাদান যুক্ত হলে বাধা আসবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বাধা দেয়ার মতো সহিংস তৎপরতা, সন্ত্রাস, অগ্নি সন্ত্রাস এসব উপাদান যদি আন্দোলনে যুক্ত হয় তাহলে বাধা আসবে। তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিলে আমরা বাধা দেব কেন?

বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশে বিরোধী দলের রাজনীতির মূল ইস্যুই হচ্ছে ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ’ সরকার। সরকারই সব অপরাধে অপরাধী। তারা নালিশ করতে যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। বিএনপি নেতা মঈন খান মার্কিন দূতাবাসে গিয়ে নালিশ করেছেন, দেশে মানবাধিকার নেই, গণতন্ত্র নেই। এ হচ্ছে আমাদের প্রধান বিরোধীদলের অবস্থা।

তিনি বলেন, বিএনপি নেতাদের কাছে জানতে চাই, ৫৪ দলের সরকার বিরোধী যে ঐক্য জোট, এ জোটের শরিকরা কোথায়? সেই ঐক্য কোথায়? জগাখিচুড়ি ঐক্যজোট কোথায়? এখন সরকারের উপর দোষ দিয়ে পার পাওয়া যাবে?

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হেরেছে, বিএনপি জিতেছে- বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সবাই জানে নির্বাচনে কারা জিতেছে। নির্বাচনে অংশ না নিয়েই বিএনপি জিতে গেল? এটা পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কী?

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ব্যবস্থা হচ্ছে, নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করছি। দলে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যত কঠোর হওয়া দরকার, তাই হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কারাগারে অনেক নেতা-কর্মী অসুস্থ: মির্জা আব্বাস

কারাগারে অনেক নেতা-কর্মী অসুস্থ: মির্জা আব্বাস


 কারাগারে অসুস্থ বিএনপির নেতা-কর্মীদের ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সাড়ে তিন মাস পর সোমবার কারাগার থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, কারাগারে দলের অনেক নেতা-কর্মী রয়েছেন। তাদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের ভালো চিকিৎসা প্রয়োজন।

গত ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের কর্মীদের হামলার পর ৩১ অক্টোবর মির্জা আব্বাসকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এরপর রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা হয়।

সব কটি মামলায় জামিন হওয়ায় আজ সন্ধ্যার পর ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান মির্জা আব্বাস। কারাগারের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি সরকারকে বলব, যারা কারাগারে অসুস্থ রয়েছেন, তাদের জন্য ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। আমাদের আন্দোলন এভাবেই চলবে।’

এর আগে বিকাল থেকে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায়ের নেতৃত্বে কয়েক শ নেতা-কর্মী কারাগার এলাকায় মির্জা আব্বাসের মুক্তির জন্য অপেক্ষা করেন।


খালেদা জিয়ার সঙ্গে মির্জা আলমগীরের সাক্ষাৎ


সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন সদ্য কারামুক্ত দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের বাসায় (ফিরোজা) যান মির্জা ফখরুল। বের হন রাত সাড়ে ৯টার দিকে।  এসময় প্রায় এক ঘন্টা বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে কথা বলেছেন মির্জা ফখরুল।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান মির্জা ফখরুল ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গত ২৯ অক্টোবর গুলশানের বাসা থেকে মির্জা ফখরুল এবং ২ নভেম্বর আমীর খসরুকে গুলশানের একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে। পরবর্তীতে তাদেরকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।