শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৪

কেন চাকরি ছাড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুদকের ৭২ কর্মকর্তা?

কেন চাকরি ছাড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুদকের ৭২ কর্মকর্তা?


বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের ৭২ কর্মকর্তা চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এরমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫৭ জন কর্মকর্তা এবং দুদকের ১৫ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই দুই প্রতিষ্ঠানের বড় সংখ্যক কর্মকর্তা চাকরি ছাড়ায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তারা কেন চাকরি ছেড়েছেন সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

যদিও প্রতিষ্ঠান দুটির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসসহ (বিসিএস) অন্য চাকরিতে যোগ দেয়ার জন্য এসব কর্মকর্তা চাকরি ছেড়েছেন। কারো কারো অন্য কারণও আছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন- একজন উপপরিচালক ও একজন অফিসার। বাকি ৫৫ জন সহকারী পরিচালক। তাদের মধ্যে ৪৮ জনের পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল)।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন , অন্য যে কোনো চাকরির মধ্যে তুলনামূলকভাবে ব্যাংকের বেতন বেশি। ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের চাকরিতে নানাভাবে উৎসাহিত করার ব্যবস্থা ছিল। সব ক্ষেত্রে মেধাবীদের প্রাধান্য ছিল। ২০১৮ সাল পর্যন্ত সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদানের পর একাডেমিক রেজাল্টের ভিত্তিতে চারটি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট দেয়া হতো।

২০১৯ সালের এডি ব্যাচ থেকে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়া ২০২২ সালের আগ পর্যন্ত তিন বছর পূর্ণ হলে পদ খালি থাকা সাপেক্ষে পরবর্তী ধাপে পদোন্নতির যোগ্য হতেন কর্মকর্তারা। এখন পদ খালি থাকলেও ৫ বছর না হলে পদোন্নতি পান না তারা। আগে যোগদানের পর ৯ মাসের ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ করানো হতো। এখন এক থেকে তিন মাসে নামিয়ে আনা হয়েছে। আবার এই প্রশিক্ষণে ৮০ শতাংশ নম্বর পেলে অতিরিক্ত একটি ইনক্রিমেন্ট দেয়া হতো। সেটিও এখন বন্ধ। এসব কারণে কর্মকর্তারা প্রশাসন সহ সরকারের অন্যান্য চাকরিতে চলে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে দুদকের ১৫ জন কর্মকর্তা চাকরি ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে দুদক সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (ডুসা) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিসিএসের বিভিন্ন ক্যাডারের চাকরিতে যোগ দেয়ার জন্য তারা দুদকের চাকরি ছেড়েছেন। বৃহস্পতিবার তাদের বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে ডুসা। দুদকের সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত মো. আতাউর রহমান (প্রশাসন), আকিব রায়হান (প্রশাসন), শাওন হাসান অনিক (প্রশাসন), তালুকদার ইনতেজার (প্রশাসন), চৌধুরী বিশ্বনাথ আনন্দ (প্রশাসন), আশরাফুল হোসেন (পুলিশ), সুজনুর ইসলাম সুজন (পুলিশ) ও মো. ইমাম হোসেন (পুলিশ) সংশ্লিষ্ট ক্যাডারে যোগ দেবেন। উপ-সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত খাইরুল ইসলাম, শেখর রায়, সিদ্দিকা মারজান, আসিফ আরাফাত, পপি হাওলাদার ও রয়েল হোসেন শিক্ষা ক্যাডারে এবং মাহমুদুল হাসান তিতাস কৃষি ক্যাডারে যোগ দেবেন বলে জানানো হয়েছে।

পাবনায় অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ১০ কোটি টাকা উধাও, গ্রেপ্তার ৩

পাবনায় অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ১০ কোটি টাকা উধাও, গ্রেপ্তার ৩


পাবনার অগ্রণী ব্যাংক কাশিনাথপুর শাখার ভল্ট থেকে ১০ কোটি ১৩ লাখ ৬২ হাজার ৩শ’ ৭৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই ব্যাংকের প্রধান তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে অগ্রণী ব্যাংক কাশিনাথপুর শাখা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে তাদের সাঁথিয়া থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুর এলাকার মৃত জান বক্সের ছেলে ও অগ্রণী ব্যাংক কাশিনাথপুর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার আবু জাফর, ব্যবস্থাপক হারুন বিন সালাম, তার বাড়ি সুজানগর দুর্গাপুর গ্রামে এবং ব্যাংকের ক্যাশিয়ার সুব্রত চক্রবর্তী -বেড়া উপজেলার নতুন ভারেঙ্গা গ্রামের মৃত শুশীল চক্রবর্তীর ছেলে। টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছে ওই শাখার ক্যাশিয়ার সুব্রত চক্রবর্তী।

সাঁথিয়া থানা ও অগ্রণী ব্যাংক সুত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে অগ্রণী ব্যাংক রাজশাহী বিভাগীয় ও পাবনা আঞ্চলিক শাখা থেকে ৫ জন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আকস্মিক অডিটে আসেন অগ্রণী ব্যাংক কাশিনাথপুর শাখায়। অডিট শেষে সেখানে ১০ কোটি ১৩ লাখ ৬২ হাজার ৩৭৮ টাকার আর্থিক অনিয়ম দেখতে পান তারা। পরে সাঁথিয়া থানাকে অবহিত করলে পুলিশ অভিযুক্ত ওই তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় অগ্রণী ব্যাংক পাবনা আঞ্চলিক শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক রেজাউল শরীফ বাদী হয়ে সাঁথিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাঁথিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, অভিযুক্তদের ৫৪ ধারা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার আদালতে প্রেরণ করা হবে।

ভারতের লেন্স দিয়ে বাংলাদেশকে দেখেনা যুক্তরাষ্ট্র

ভারতের লেন্স দিয়ে বাংলাদেশকে দেখেনা যুক্তরাষ্ট্র

 ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজির সংবাদ সম্মেলনে মার্টিন

ভারতের লেন্স দিয়ে বাংলাদেশকে দেখেনা যুক্তরাষ্ট্র বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা ম্যাক্সওয়েল মার্টিন। এছাড়া দ্বি-পাক্ষিক এই সম্পর্কে ভারত, চীন, রাশিয়া বা তৃতীয় কোনো দেশের প্রভাব নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে আইপিএস নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ম্যাক্সওয়েল মার্টিন এ মন্তব্য করেন। ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি (আইপিএস) ও বাংলাদেশের জন্য এর তাৎপর্য নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস।

এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে করা এক প্রশ্নের উত্তরে ম্যাক্সওয়েল মার্টিন বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কটা আমরা দ্বিপক্ষীয় প্রেক্ষাপট থেকেই দেখি। এই সম্পর্ককে আমরা অন্য দেশের লেন্স (দৃষ্টি) দিয়ে দেখি না। গণমাধ্যমসহ নানা জায়গায় শুনেছি যে ভারতের লেন্স দিয়ে বাংলাদেশকে দেখে যুক্তরাষ্ট্র। এটা সত্যি না। আমরা যদি দ্বিপক্ষীয় অভিন্ন স্বার্থের নিরিখে দেখি তাহলেই আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি। এটাই আমরা সরকার, গণমাধ্যমসহ সবাইকে জোর দিয়েই বলছি।’

বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কটা বহুমাত্রিক। আইপিএস এই সম্পর্কে কী মাত্রা যোগ করেছে, জানতে চাইলে ম্যাক্সওয়েল বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ফোর্সেস গোল-২০৩০–কে সমর্থন করে। এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশকে নানাভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। আইপিএসের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখেই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাড়তি পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি আগের সহযোগিতাগুলো এগিয়ে নিয়ে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের কোন দেশ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে ম্যাক্সওয়েল মার্টিন বলেন, ‘চীনের মতো কয়েকটি দেশ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এমনকি ভবিষ্যতেও জোর খাটাতে পারে। যেটা দক্ষিণ চীন ও তাইওয়ানের ক্ষেত্রে ঘটেছে। আইপিএসের ক্ষেত্রে আমরা এ ধরনের আধিপত্যপাদী আচরণ দেখতে চাই না।’

ম্যাক্সওয়েল মার্টিন বলেন, আইপিএসের মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখবেন বিশ্বের বাণিজ্যের বড় অংশটা হয় এই অঞ্চলজুড়ে। অর্থনৈতিক উন্নয়নও হচ্ছে এই অঞ্চল ঘিরে। তাই বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল অবাধ ও মুক্ত ভবিষ্যৎ, অর্থনীতি এবং সমৃদ্ধির স্বার্থের বিষয়গুলোতেই জোর দেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছেন ম্যাক্সওয়েল মার্টিন। তিনি এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘এটা ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকেই বলছি। এই অঞ্চলের সব দেশ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সামর্থ্য রাখে এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অন্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে পারে। গঠনমূলক ও টেকসই দৃষ্টিভঙ্গির প্রেক্ষাপট থেকে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিবাচক নিরাপত্তা কাঠামোর পরিপ্রেক্ষিতে থেকেই  দিক থেকে বলছি। কেন এটা বলছি? স্বাধীনতার পর থেকে দ্রুততার সঙ্গে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই অঞ্চলে বাংলাদেশের সামর্থ্য ও অবদানের সক্ষমতা দেখেছি। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিতের সামর্থ্যের পাশাপাশি অন্যের সহায়তাও বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশের অংশীদার হিসেবে আমরা গর্বিত। উদাহরণ হিসেবে মিয়ানমারের প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তা এক বিরাট দৃষ্টান্ত।’

মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪

জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই ভিসা নিষেধাজ্ঞাঃ যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার রিপোর্ট প্রকাশের ব্রিফিংএ গিলক্রিস্ট

জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই ভিসা নিষেধাজ্ঞাঃ যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার রিপোর্ট প্রকাশের ব্রিফিংএ গিলক্রিস্ট

খালেদা জিয়ার আটকাদেশ রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চক্রান্ত


স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেট 

বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বাধা, মানবাধিকারের ব্যাপক লঙ্ঘন, মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক অধিকারে বাধা প্রদানের মতো ঘটনায় সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব ডেমোক্রেসি, রাইটস এন্ড লেবারের শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যাম্বাসেডর রবার্ট গিলক্রিস্ট।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মানবাধিকার রিপোর্ট-২০২৩ প্রকাশ উপলক্ষে স্টেট ডিপার্টমেন্টে অনুষ্ঠিত বিশেষ ব্রিফিংএ এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।

ব্রিফিংএ প্রকাশিত মানবাধিকার রিপোর্টের ওপর সূচনা বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থোনি ব্লিংঙ্কেন। মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার সঞ্চালনায় কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দেন গিলক্রিস্ট। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করেন স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেট মুশফিকুল ফজল আনসারী।

এসময় মুশফিক জানতে চান-আপনার রিপোর্টে নির্বিচারে হত্যা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক কারাবাস সহ উল্লেখযোগ্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, বিশেষ করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতার ক্ষেত্রে - যেমন আপনি উল্লেখ করেছেন, তার আটকাদেশ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরানোর একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত। তাহলে আপনি কীভাবে নিশ্চিত করবেন যে এই রিপোর্টগুলি বাস্তব পরিবর্তনের দিকে পরিচালিত করে এবং ক্ষমতাসীন সরকারকে তাদের চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিণতির মুখোমুখি করে?

জবাবে অ্যাম্বাসেডর গিলক্রিস্ট বলেন, “আমি মনে করি যে কিছু ঘটবে তা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। নিশ্চিতভাবেই মানবাধিকার রিপোর্টের সাথে আমাদের প্রত্যাশা নির্দিষ্ট বিষয় এবং নির্দিষ্ট মানবাধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগের উপর আলোকপাত করে, আমরা সরকার এবং শাসনব্যবস্থার দ্বারা একটি ইতিবাচক দিক পরিবর্তন করতে সহায়তা করতে সক্ষম হবো।”

বাইডেন প্রশাসনের এই কর্মকর্তা বলেন, “বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, ২০২৩ সালের মে মাসে ভিসা নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছিল, নির্বাচনের আগে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন পদক্ষেপগুলিকে প্রতিরোধ করার জন্য। যা এখনো বিদ্যমান। এই মুহুর্তে ঘোষণা করার জন্য আমার কাছে নতুন কিছু নেই, কিন্তু আমাদের দীর্ঘদিনের প্রথা অনুযায়ী, আমরা প্রায়শই নীতি বা ভিসা সংক্রান্ত পদক্ষেপের প্রিভিউ করিনা। কিন্তু আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে দমন করার প্রচেষ্টা নিয়ে আমরা অব্যাহতভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করছি - সংবাদমাধ্যম, সংবাদকর্মি, সভা-সমাবেশের স্বাধীনতাসহ সকল প্রকার মৌলিক স্বাধীনতা
এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে আমাদের উদ্বেগ এখনও ঠিক একই রকম”।

 

মানবাধিকার রিপোর্টে যা আছে-
বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা বলেছে, বাংলাদেশে স্বাধীন আন্দোলনে বাধা দেয়া হয়। আছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের সরকার পরিবর্তনে নাগরিকদের অক্ষমতা। রাজনৈতিক অংশগ্রহণে গুরুতর ও অযৌক্তিক বাধা। বাংলাদেশে সরকারে আছে মারাত্মক দুর্নীতি। দেশের ভিতরে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলোর ওপর আছে সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ অথবা হয়রানি। সরকারের তরফ থেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্বক গুম, নিষ্ঠুর নির্যাতন, অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণ ও শাস্তি দেয়া হয়। আছে জীবনের প্রতি হুমকি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর সমস্যা, রাজনৈতিক বন্দি ও আটক। বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তায় হুমকি এমন অজুহাতে মিথ্যা অভিযোগসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর ওপর ভিত্তি করে বার্ষিক মানবাধিকার রিপোর্টে এসব কথা বলেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে ওই বছরে বাংলাদেশে যেসব ঘটনা ঘটেছে তা পুনঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, ওই বছরও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপারসনকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে বিদেশে যেতে দেয়া হয়নি। পক্ষান্তরে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে বাংলাদেশের হাসপাতালে। এতে বলা হয়, ২০১৮ সালে ২০০৮ সালের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় তাকে ১০ বছরের জেল দেয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে তাকে জেলখানা থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ২০২০ সালে সেখান থেকে তাকে স্থানান্তর করে গৃহবন্দি করা হয়। রাজনৈতিক বন্দি ও আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ও দেশের ভিতরকার আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার তথ্যপ্রমাণে ঘাটতি আছে। এ থেকে বোঝা যায় যে, তাকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য রাজনৈতিক ছক সাজানো হয়েছে। পক্ষান্তরে প্রসিকিউটররা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বেশ কিছু দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার করেছেন। এই রিপোর্টে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার দিকেও দৃষ্টি দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সংবিধান সংবাদ মাধ্যম ও মিডিয়ার সদস্যসহ সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। কিন্তু সরকার এই অধিকারে ঘন ঘন হস্তক্ষেপ করেছে। এক্ষত্রে মত প্রকাশের স্বাধীনতায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সীমাবদ্ধতা আছে। সরকারের হয়রানি অথবা প্রতিশোধ নেয়ার ভয়ে সরকারের সমালোচনার ক্ষেত্র মিডিয়ার সদস্যরা ও ব্লগাররা নিজেরাই সেন্সর করেছেন। এতে তুলে ধরা হয়েছে সরকারি পর্যায়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র, বিচারের ক্ষেত্রে হয়রানি, খেয়ালখুশিমতো গ্রেপ্তারসহ নানা রকম নিষ্পেষণের কথা। উল্লেখ্য, প্রতি বছর সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সময় গত রাতে এই রিপোর্ট প্রকাশ হয়। তাতে বাংলাদেশ অধ্যায়ে আরও বলা হয়, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং মিডিয়ার স্বাধীনতায় মারাত্মক বিধিনিষেধ আছে বাংলাদেশে। এর মধ্যে আছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা অথবা সহিংসতার হুমকি। সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয় অথবা বিচার করা হয়। সেন্সরশিপ করা হয়। ইন্টারনেট স্বাধীনতায় আছে মারাত্মক বিধিনিষেধ। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ অথবা স্বাধীন সমাবেশের ক্ষেত্রেও আছে বড় রকমের হস্তক্ষেপ। আছে সংগঠন, অর্থায়ন ও বেসরকারি এবং নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে আছে নিবর্তনমূলক আইন। মুক্তভাবে চলাচলে আছে বিধিনিষেধ। রিপোর্টে বলা হয়, মানবাধিকার লঙ্ঘন, নির্যাতনের বিষয়ে ব্যাপকভাবে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে বাংলাদেশে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বা নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের সদস্যদের শনাক্তে বা শাস্তি দিতে সরকার বিশ্বাসযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেয় না।

এতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যেসব যুদ্ধাপরাধ ও নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছে তার বিচার করার জন্য ২০১০ সালে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। সেই আদালত শাস্তি দিয়েই যাচ্ছে। এর মধ্যে আছে মৃত্যুদণ্ড। অনেক পর্যবেক্ষক এই প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দেখেন। কারণ, আদালত বিশেষত বাছাই করে অভিযুক্ত করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্যদের। এতে খেয়ালখুশিমতো ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সহ বেআইনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বলা হয়েছে, পুলিশের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তার তদন্ত নিজেরাই করেছে। তারা এমন সব ঘটনা ঘটিয়েছে যেখানে তাদের শারীরিক মারাত্মক প্রহারে মানুষ আহত হয়েছে অথবা মারা গেছেন। নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের হাতে কতজন মানুষ মারা গেছেন তার মোট কোনো সংখ্যা সরকার প্রকাশ করেনি। এমনকি এসব ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তও করেনি। এই তদন্ত যারা করেছেন তাদের স্বাধীনতা ও পেশাগত মান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো। 

রিপোর্টে বলা হয়েছে, সারা বছরেই আইন প্রয়োগকারীরা তল্লাশি বা রেইড দিয়েছে কথিত সন্ত্রাস বিরোধী কর্মকাণ্ড, মাদক ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের বিরুদ্ধে। কোনো কোনো ঘেরাওয়ের কালে, গ্রেপ্তারকালে সন্দেজজনক কিছু মৃত্যু ঘটেছে। একই ঘটনা ঘটেছে অন্য আইন প্রয়োগকারীদের অপারেশনেও। রিপোর্টে আরও বলা হয়, আগের বছরের তুলনায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কমে যায় গত বছর। মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন আইন ও শালিশ কেন্দ্র রিপোর্ট করেছে যে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিচারবহির্ভূত হত্যকাণ্ড, অথবা হেফাজতে থাকা অবস্থায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন আটজন। এর মধ্যে দুজন আইন প্রয়োগকারী এজেন্সির গুলিতে নিহত হয়েছেন। তিনজন নিহত হয়েছেন নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়ার আগে বা হেফাজতে নেয়ার পর শারীরিক নির্যাতনে। ২৬শে মার্চ সুলতানা জেসমিন র‌্যাবের হেফাজতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা যান। র‌্যাব কর্মকর্তারা বলেছেন, তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন আটক অবস্থায়। কিন্তু তার পরিবারের সদস্যরা এটাকে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা এক্ষেত্রে প্রমাণ হিসেবে মাথার ক্ষতের কথা তুলে ধরেছে। র‌্যাবের ইউনিটের কমান্ড কর্মকর্তারা মিডিয়াকে বলেছেন, জেসমিন আর্থিক প্রতারণায় জড়িত থাকার জন্য তাকে তুলে নেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা আছে।

ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে চাকরিপ্রত্যাশিতদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। তার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করে ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে সরকার একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি একটি রিপোর্ট জমা দেয় আগস্টে। কিন্তু সেই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। অক্টোবরে হাই কোর্টের দু’জন বিচারক বলেন, এই রিপোর্ট অস্পষ্ট। গ্রেপ্তার ও আটকের বিষয়ে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা নেই এতে। এমন মন্তব্যের সময়ে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। ১৮ই মার্চ সাদা পোশাকে র‌্যাব কর্মকর্তারা এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে। এতে আহত হন একজন। ওই রিপোর্টে বলা হয়, মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ এবং মিডিয়ার রিপোর্টে বলা হচ্ছে গুম এবং অপহরণ অব্যাহত আছে। অভিযোগ আছে এসব করছে নিরাপত্তা সার্ভিসের লোকজন। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর সময়ের মধ্যে একটি স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন রিপোর্ট করেছে যে, এ সময়ে ৩২ জনকে জোরপূর্বক গুম করা হয়েছে। এসব ঘটনা প্রতিরোধে, তদন্তে বা শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে সীমিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো রিপোর্ট করেছে যে, জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছেন যারা তারা বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও ভিন্ন মতাবলম্বী। গুমের অভিযোগের পর নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা কোনো রকম অভিযোগ ছাড়া কিছু মানুষকে ছেড়ে দিয়েছে। গ্রেপ্তার করেছে অন্যদের। ফ্রিডম হাউসের ‘ফ্রিডম ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৩ কান্ট্রি রিপোর্টে’ উল্লেখ করেছে যে, জোরপূর্বক গুম, গোপন জেলখানার ব্যবহার, খেয়ালখুশিমতো গ্রেপ্তার ও নির্যাতন সহ মানবাধিকার লঙ্ঘন অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তা বিষয়ক এজেন্সিগুলো। বছরজুড়ে জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে দিতে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যেসব সদস্য অপহরণে জড়িত তাদের বিচারের। ভিকটিমের পরিবারগুলোর সংগঠন মায়ের ডাক র‌্যালি করেছে। বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলেছে, তাদের কোনো সদস্য আইনগতভাবে, প্রশাসনিক, বিচারিক কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। মায়ের ডাক ও স্থানীয় মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অধিকারকে হয়রানির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটি চিঠি লিখেছেন জোরপূর্বক ও অনিচ্ছায় গুমের শিকার বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ বিষয়ক জাতিসংঘের চেয়ার-র‌্যাপোর্টিউর সহ জাতিসংঘের র‌্যাপোর্টিউররা। মার্চে সরকার জানায়, তারা ২৮ জন জোরপূর্বক নিখোঁজ ব্যক্তির বিষয় দেখছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের কাছে জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের সংখ্যা ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে উপস্থাপনের জন্য নাগরিক সমাজের সংগঠনের সমালোচনা করে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ দেশে ফেরার একটি ট্রাভেল পাস নিশ্চিত করেন জুনে। তিনি বাংলাদেশ থেকে জোরপূর্বক গুম করার পর বৈধ কাগজ ছাড়া অবস্থানের কারণে ভারতে আট বছর আটকে আছেন। ২০১৫ সালে তাকে ঢাকার বাসা থেকে তুলে নেয় হয়। ভারত সীমান্তের কাছে তাকে ছেড়ে দেয়ার আগে দুই মাস নিখোঁজ ছিলেন।

প্রতিবেদনে মিডিয়ার স্বাধীনতা অংশে বলা হয়, আইনে ঘৃণাপ্রসূত বক্তব্যকে সীমিত করা হয়েছে। কিন্তু পরিষ্কারভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিরুদ্ধে কথা বলাকে সরকার বিধিনিষেধ দিয়েছে বলেই মনে হয়। সাংবিধানিক কোনো পরিষদের সমালোচনাকে আইনে ফৌজদারি অপরাধ করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে স্বাধীনতা যুদ্ধ, জাতীয় সঙ্গীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে প্রাপাগাণ্ডা ছড়ানোর কারণে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান আছে। সরকারের সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে সারাবছরই সরকার ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। আইনমন্ত্রী রিপোর্ট করেছেন যে, সারাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কমপক্ষে ৭০০০ মামলা মুলতবি আছে। আগস্টে সরকার ঘোষণা দেয়, তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে পরিবর্তন করে সাইবার নিরাপত্তা আইনে পরিণত করবে। পার্লামেন্ট এই আইন পাস করেছে সেপ্টেম্বর মাসে। আইন ও সালিস কেন্দ্র রিপোর্ট করেছে যে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১১৯টি ঘটনায় সাংবাদিকদের হয়রানি করা হয়েছে। আরেকটি মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন বলেছে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সাংবাদিকদের ওপর ৩০৯টি হামলা বা হয়রানির ঘটনা ঘটছে। আহত হয়েছেন ১৩৮ জন সাংবাদিক। রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নষ্ট ও সুনাম নষ্ট করার জন্য প্রিন্ট, অনলাইন এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া ব্যবহারের অভিযোগে প্রথম আলোর সম্পাদক ও একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মার্চে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন আওয়ামী লীগ পন্থি একজন আইনজীবি। এ অভিযোগে সাংবাদিক শামসুজ্জামান শামসকে আটক করে পুলিশ। এতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বৃদ্ধি পায়। এই আইনকে সংশোধন বা বাতিলের দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থী, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী, নাগরিক সমাজের সংগঠন, সম্পাদক পরিষদ ও রাজনৈতিক দলগুলো। জুনে জামালপুরে একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সাংবাদিক গোলাম রাব্বানি নাদিমকে হত্যার অভিযোগে পুলিশ আটক করে আরও কয়েকজনকে।

শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৪

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অধিকার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অধিকার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে

আটলান্টিক কাউন্সিলের প্রতিবেদন


স্বাধীনতা ও সমৃদ্ধির বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশ পিছিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাধীনতা সূচকে ১৬৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪১তম এবং সমৃদ্ধি সূচকে ৯৯তম। বাংলাদেশ ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বাধীনতাবঞ্চিত’ এবং সমৃদ্ধির সূচকে ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ নয়’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত আটলান্টিক কাউন্সিলের বৈশ্বিক প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০০ সালে স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১১৬। আর সমৃদ্ধি সূচকে ১০৭।

প্রতিবেদনে দুটি পৃথক সূচক রয়েছে—স্বাধীনতা সূচক ও সমৃদ্ধি সূচক। বিশ্বের ১৬৪টি দেশের স্বাধীনতা ও সমৃদ্ধির ধরন অনুযায়ী ক্রম বা অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। আইন, অর্থনীতি ও রাজনীতিকে বিবেচনায় নিয়ে স্বাধীনতা সূচক এবং আয়, স্বাস্থ্য, অসমতা, পরিবেশ, সংখ্যালঘু অধিকারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সমৃদ্ধি সূচকে। জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংকসহ ১১টি সংস্থার তথ্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গবেষণার ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি) ও দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন যৌথভাবে আটলান্টিক কাউন্সিলের বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ফলাফল জানাতে মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আটলান্টিক কাউন্সিলের ফ্রিডম অ্যান্ড প্রসপারিটি সেন্টারের পরিচালক জোসেফ লেমোইন। তিনি বলেন, উপাত্তগুলোয় দেখা গেছে, যেসব দেশে বেশি স্বাধীনতা রয়েছে, সেসব দেশে অধিকতর সমৃদ্ধিও দেখা যায়। অন্যদিকে যেসব দেশে স্বাধীনতা কম, সেখানে সমৃদ্ধির মাত্রা কম।

জোসেফ লেমোইন আরও বলেন, যেসব দেশ শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থাসহ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে উৎসাহিত করে, তারা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি করে স্বাগত জানায়। এসব দেশ কম স্বাধীনতা থাকা দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভুটান (৬১), নেপাল (৮৬), শ্রীলঙ্কা (৯৭), ভারত (১০৪) ও পাকিস্তান (১১৩)। এর মধ্যে ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভারত ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বাধীন’ এবং পাকিস্তান ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বাধীন নয়’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। সার্কভুক্ত দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ আফগানিস্তান রয়েছে তালিকার সর্বশেষ ১৬৪তম অবস্থানে।

সমৃদ্ধির সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে শ্রীলঙ্কা। সূচকে শ্রীলঙ্কার অবস্থান ৭২তম এবং দেশটি ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ’। এই সূচকে বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে ভুটান (১১১), নেপাল (১৩১), ভারত (১৪৬), পাকিস্তান (১৫০) ও আফগানিস্তান (১৬৩)।

অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, প্রতিটি দেশ দুর্নীতি দমন এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষিত রাখার জন্য লড়াই করছে। কিন্তু মূল বিষয় হলো সমস্যাগুলো এড়িয়ে যাওয়া নয়, সক্রিয়ভাবে স্বীকার ও মোকাবিলা করা জরুরি।

রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, ‘সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে দেখেছি, ক্ষমতাসীন দল নিজেরাই তাদের দলীয় গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ করে দিয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের অংশগ্রহণই বলে দেয় যে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন কতটা জরুরি। আর আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনেও আমরা এটা দেখতে পাব।’

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘পিছিয়ে থাকার রাজনৈতিক প্রবণতা আগামী দিনের বাংলাদেশের বর্ধনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এটি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের আরেকটি রাজনৈতিক বোঝাপড়ার প্রয়োজন।’

গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, রাজনৈতিক স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার যে প্রবণতা, সেটা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এটি যেমন বৈশ্বিক একটি প্রবণতা, এটি আঞ্চলিক প্রবণতাও বটে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অধিকার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। অর্থনৈতিক উন্নতি হলেও গণতন্ত্র ও সুশাসনের স্বাধীনতায় পিছিয়ে বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ তার রূপকল্প–২০৪১ নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক অগ্রগতির প্রতি অগ্রাধিকার, বাংলাদেশের জনগণের ক্ষমতায়ন ও গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে মজবুত করার অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

সাম্প্রতিক ঘটনাবলি বিশেষ করে জানুয়ারির সংসদ নির্বাচন ‘দলীয় আধিপত্য’–ব্যবস্থার প্রবণতাকে শক্তিশালী করেছে, যেখানে আওয়ামী লীগ তার শাসনকালের মেয়াদ বাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতি স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি দিলেও এ ধরনের ব্যবস্থা সুশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এসব ঝুঁকি কমাতে রাজনীতি, সরকার ও অর্থনীতিতে সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪

৪০ ডিগ্রি ছাড়াল তাপমাত্রা

৪০ ডিগ্রি ছাড়াল তাপমাত্রা


সিলেট ও নেত্রকোণা জেলা ছাড়া সারা দেশে মৃদু থেকে মাঝারী ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে অধিকাংশ জেলার তাপমাত্রা শূন্য দশমিক তিন থেকে এক দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, আগামী আরও কিছু দিন তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে।

সোমবার সন্ধ্যায় ৬টায় খেপুপাড়ায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই জেলায় তাপমাত্রা বেড়েছে এক দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রাজধানী ঢাকায় আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা শূন্য দশমিক তিন ডিগ্রি বেড়ে ৩৭ দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে। গতকাল ছিল ৩৭ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিন পটুয়াখালী, কুমারখালী ও মোংলায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর মধ্যে পটুয়াখালীতে গতকালের তুলনায় এক দশমিক সাত ও মোংলায় এক দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।

পটুয়াখালীতে গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক তিন ডিগ্রি ও মোংলায় ৩৭ দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আজ বান্দরবান, সীতাকুণ্ড ও রাজশাহীতে তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ঈশ্বরদীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসব জেলায় শূন্য দশমিক তিন থেকে শূন্য দশমিক নয় ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বেড়েছে।

তবে রাঙ্গামাটিতে তাপমাত্রা কিছুটা কমে ৩৯ দশমিক ছয় ডিগ্রি হয়েছে। গতকাল রোববার এই জেলায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

প্রসঙ্গত, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক নয় ডিগ্রি পর্যন্ত মৃদু, ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক নয় পর্যন্ত মাঝারী, ৪০ থেকে ৪১ দশমিক নয় ডিগ্রি পর্যন্ত তীব্র ও ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বিবেচনা করা হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়া মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আজ খেপুপাড়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ালেও এখনই আমরা তীব্র তাপপ্রবাহ বলছি না। আশে পাশের জেলাগুলো তাপমাত্রা তুলনামূলক কম আছে।'

পূর্বাভাস অনুসারে, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের দুএক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। হতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি, অস্থায়ীভাবে বয়ে যেতে পারে দমকা হাওয়া। বিক্ষিপ্তভাবে কোথাও কোথাও শিলা বৃষ্টি হতে পারে।

কবির বলেন, 'বৃষ্টি হলে সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আবহাওয়া প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।'

ইসরায়েল ফের হামলা করলে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে ইরান

ইসরায়েল ফের হামলা করলে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে ইরান


ইসরায়েলের আকাশসীমাও ভেদ করা যায়, তিন শতাধিক ড্রোন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যা দেখিয়ে দিলো ইরান। পাল্টা হামলার পক্ষে ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা মত দিলেও, বন্ধু বা‌ইডেনের তরফ থেকে নেই সবুজ সংকেত। এদিকে পাল্টা আক্রমণ এলে জবাবও মিলবে দাঁতভাঙ্গা। এমন হুঁশিয়ারি তেহরানের ঢাকার দূতের।

দেশটি রাষ্ট্রদূত মানসুর চাভোসি বলেন, ইসরায়েল যদি আবার দুঃসাহসিক কোন ঘটনা ঘটায় তবে এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে। এবং এর দায়-দায়িত্ব বর্তাবে স্বয়ং ইসরায়েল ও তাদের সহযোগীদের উপর।

তিনি আরও জানান, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল নেতানিয়াহু প্রশাসনকে সতর্ক করা। মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিসহ সার্বিক পরিস্থিতির কথা ভেবেই, ইসরায়েলে হামলা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরান ইসরায়েলের সহযোগী দেশগুলো রয়েছে তাদের যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে তা হলো, এ আক্রমণ আরও কঠিন হবার কথা ছিলো। মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের কথা এবং বিশ্ব পরিস্থিতিক কথা চিন্তা করে ইরান সর্বনিম্ন পদক্ষেপটিই নিয়েছে।

ইরান-বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব রাষ্ট্রের কাছে তেহরানে চাওয়া, ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান।

ফরিদপুরে বাস-পিকআপ সংঘর্ষ : নিহত বেড়ে ১৩

ফরিদপুরে বাস-পিকআপ সংঘর্ষ : নিহত বেড়ে ১৩


ফরিদপুরের সদরের কানাইপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বাস পিক-আপ মুখোমুখী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ১১ জন নিহত হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, সেখানে মৃত্যু হয়েছে আরো দুজনের।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা এ্যাবলুম হাইওয়ে রেষ্টুরেন্টের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে একই পরিবারে চারজন রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানাগেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মাগুরাগামী ইউনিক পরিবহনের সাথে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী পিক-আপের সাথে মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে নারীসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে নেয়ার পর আরো দু’জনের মৃত্যু হয়।

করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হতাহতদের নাম ঠিকানা জানা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, একটি পরিবারের লোকজন পিক-আপ ভাড়া করে ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন।

ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক বিএনপির সস্তা রাজনীতি : হানিফ

ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক বিএনপির সস্তা রাজনীতি : হানিফ


আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক বিএনপি নেতাদের সস্তা রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই না, এতে কোনো সুফল আসে না বরং রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

আজ শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়নপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের মহাসম্মেলন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, নির্দোষ প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত তাকে দণ্ড দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদারতায় তাকে বাসায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু বিএনপি নেতারা বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, যারা নাশকতা কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিএনপি সন্ত্রাসের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে বলতে পারছে পুলিশী রাষ্ট্রের কথা।

এসময় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ হাসান মেহেদী, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে ভাষা-সংস্কৃতি, স্বাধীনতার নিরাপত্তা থাকে না : রিজভী

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে ভাষা-সংস্কৃতি, স্বাধীনতার নিরাপত্তা থাকে না : রিজভী


আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার নিরাপত্তা থাকে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এ সময় তিনি আরো বলেন, পহেলা বৈশাখ নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য দূরভিসন্ধিমূলক।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রোববার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন- জাসাসের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি বাঙালি সংস্কৃতিকে সহ্য করতে পারে না।’ এ কথা বলে তিনি আসলে তলে তলে ‘প্রভু’দের খুশি করতে চাইছেন। তার এ বক্তব্য উদ্দেশ্যমূলক।”

সরকার সংস্কৃতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে রিজভী প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কোন সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করেন? বিএনপি এক হাজার ইফতার পার্টি করতেই পারে। গরিব-দুঃখীদের নিয়ে ইফতার করেছে। কিন্তু অন্য দেশ থেকে নায়ক-নায়িকা নিয়ে এসে পার্টি করেন, ওখানে টাকা খরচ হয় না?’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে ভাষা, সংস্কৃতি, স্বাধীনতার নিরাপত্তা নেই। সরকার সংস্কৃতিকে পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সাথে বিএনপি জড়িত উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘যারা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চায়, তারা কেউ ভালো নেই।’

সব জায়গায় লুটপাটের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘চালের দাম চড়া। চালের দাম কমানোর কথা বলে সরকার দাম আরো বাড়িয়েছে। সরকারের লোকজন সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। সিন্ডিকেন্ডের কারণে ব্যাংকগুলো মুখ থুবড়ে পড়ছে। ব্যাংক একত্রিতকরণ করার নামে লুট হওয়া ব্যাংকগুলোকে আরো দেউলিয়া করার সুযোগ করে দিচ্ছে। ঋণখেলাপিরা সরকারের ঘনিষ্ঠ লোক। ঋণের পর ঋণ নেয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হচ্ছে তাদের।’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এবার ঈদে কেনাকাটা অনেক কম হয়েছে দাবি করে রিজভী বলেন, ‘সব মিলিয়ে ঈদ সাধারণ মানুষদের আনন্দ কান্নায় পরিণত হয়েছে।’

জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, তারিকুল আলম তেনজিং, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সদস্য বেলাল উদ্দিন সরকার তুহিন, কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াসউদ্দিন আল মামুন প্রমুখ।

দেশকে অপশাসন মুক্ত করতে আলেমদের ভূমিকা রাখতে হবে : ড. রেজাউল করিম

দেশকে অপশাসন মুক্ত করতে আলেমদের ভূমিকা রাখতে হবে : ড. রেজাউল করিম


 বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, ‘আলেম সমাজ উম্মাহর পদপ্রদর্শক ও জাতির কাণ্ডারী। সমাজের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও সম্মানীয় হচ্ছেন আলেম সমাজই। তাই তাদের পক্ষে এমন কোনো কাজ করা উচিত হবে না যাতে জাতি বিভক্ত এবং জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।’

তিনি ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অপশাসন-দুঃশাসন মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দেশের আলেম সমাজ ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার সকালে লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় একটি মিলনায়তনে লক্ষ্মীপুর শহর ১১ নম্বর ওয়ার্ড উন্নয়ন ফোরাম আয়োজিত স্থানীয় ওলামায়ে কেরামের ঈদ প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় তিনি পবিত্র মাহে রমজানের তাকওয়া ও তাজকিয়ার শিক্ষা বাস্তবজীবনে প্রতিফলনের মাধ্যমে দেশের এই ক্রান্তিকালে জাতিকে দিকনির্দেশনা দিতে আলেম সমাজকেই অকূতোভয় কাণ্ডারীর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

ড. রেজাউল করিম বলেন, “আলেমরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। হাদিসে রাসূল সা.-এ তাদের নায়েবে নবী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অতীতে দেশ ও জাতির যেকোনো ক্রান্তিকালে আলেম সমাজই জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং এখনো দিয়ে যাচ্ছেন। আর আলেমরাই আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কালামে হাকিমের সূরা আল ফাতিরের ২৮ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই আল্লাহকে বেশি ভয় করেন।’ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, ‘আলেম যিনি আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করেন না। আল্লাহ তা’য়ালার কৃত হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম মনে করেন। তার আদেশ যথাযথভাবে পালন করেন। আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস রাখেন এবং বিশ্বাস রাখেন যে তার আমলের হিসাব হবে।’ (ইবনু কাসীর) তাই আলেম সমাজকে জালিমের সকল রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দেশ, জাতি, ইসলাম ও উম্মাহর কল্যাণে ময়দানে আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে আলেম সমাজকে জনগণের সাথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, “আলেমদের কাজই হলো দেশ, জাতি ও উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ করা। সঙ্গত কারণেই তাদের উচিত ইখতিলাফি বিষয়ে উপসংহার বা প্রান্তিকতায় না গিয়ে ইখতিলাফকে ইখতিলাফের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা। যেসব বিষয়ে ইমাম এবং মুজতাহিদগণ একমত হতে পারেননি, সেসব বিষয় নিয়ে টানাহেঁচরা করলে নিজেদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি হবে। এতে উপকৃত হয় ইসলামবিরোধী ও কুফরী শক্তি। মনে রাখতে হবে, ইসলামে ইখতিলাফের গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও বিভেদ সৃষ্টি করা হারাম। এ প্রসঙ্গে তিরমিজি শরীফের ৩১৩৮ নম্বর হাদিসে বলা হয়েছে, কা’ব বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইলম শিখে এ জন্য যে তার দ্বারা সে আলেমদের সাথে বিতর্ক করবে ও মুর্খদের সাথে ঝগড়া করবে কিংবা মানুষকে তার দিকে আকৃষ্ট করবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।”

ফোরামের সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা নাসির উদ্দিন মাহমুদ। আরো বক্তব্য রাখেন শহর আমির অধ্যক্ষ আবুল ফারাহ নিশান, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাদরাসার মুহতামিম, অধ্যক্ষ ও মসজিদের খতিব-ইমামগণ।

ঈদ প্রীতি সমাবেশের বক্তব্যে সম্মানিত ওলামায়ে কেরাম বৃহত্তর ইসলামী ঐক্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সমাবেশ শেষে উপস্থিত সকলকে ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৪

ভারতে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে জাতিসংঘের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত, জয়শঙ্করের মন্তব্য আমলে নেননি ডোজারিক

ভারতে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে জাতিসংঘের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত, জয়শঙ্করের মন্তব্য আমলে নেননি ডোজারিক


 মুশফিকুল ফজল আনসারী, জাতিসংঘ স্থায়ী সংবাদদাতা

ভারতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ এবং সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য যে আহ্বান জানিয়েছিলো জাতিসংঘ সে আহ্বানে সংস্থাটি অটল রয়েছে বলে জানিয়েছেন মহাসচিব আন্থোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডোজারিক। এছাড়া, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের করা মন্তব্য প্রসঙ্গে এই মুখপাত্র বলেছেন, আমি আমার করা মন্তব্যের বাইরে কারো বক্তব্যের জবাবে পাল্টা বক্তব্য চালিয়ে যেতে আগ্রহী নই।

সোমবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ভারতে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা নিয়ে ডোজারিকের মন্তব্যের জবাবে জয়শঙ্করের তীর্যক মন্তব্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নিজেদের অবস্থানের কথা পুর্নব্যক্ত করে জাতিসংঘ।

ডোজারিক ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের জবাবে বলেন, জাতিসংঘ ভারতের নির্বাচন নিয়ে যা বলেছে তা যথার্থ।

এর আগে গত ২৮ মার্চ জাতিসংঘের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী ভারতে নির্বাচনের পূর্বে বিরোধীদলের নেতাকে গ্রেফতার এবং কংগ্রেসের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা নিয়ে সংস্থাটির অবস্থান জানতে চাইলে ডোজারিক বলেন, "অন্যান্য দেশের ন্যায় ভারতেও আমরা দেখতে চাই যে, নাগরিক অধিকারসহ জনগণের রাজনৈতিক অধিকারের সুরক্ষা রয়েছে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।জনগণের রাজনৈতিক অধিকারেরও সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত। প্রত্যেকেই যেনো অবাধ এবং সুষ্ঠু পরিবেশে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।"

গত ৪ এপ্রিল ভারতের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের মন্তব্যের বিষয়ে কেরলায় এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জয়শঙ্করকে প্রশ্ন করেন দেশটির সাংবাদিকরা।

তাদের প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, "আমাদের নিবার্চন অবাধ এবং সুষ্ঠু হওয়া উচিত- জাতিসংঘের কাছ থেকে এরকম কথা শোনার কোনো দরকার আমার নেই"

জাতিসংঘের সোমবারের ব্রিফিংয়ে আবারও উঠে আসে  ভারতে গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং জয়শঙ্করের মন্তব্য প্রসঙ্গ।

ডোজারিকের কাছে ভারত সরকারের মনোভাবের কথা তুলে ধরে মুশফিক জানতে চান,  "আমাদের নিবার্চন অবাধ এবং সুষ্ঠু হওয়া উচিত- জাতিসংঘের কাছ থেকে এরকম কথা শোনার কোনো দরকার আমার নেই, বলে সংস্থাটির সুষ্ঠু ভোটের আহ্বান এভাবেই প্রত্যাখান করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন?"

জবাবে ডোজারিক বলেন, "ইতিমধ্যেই আমি স্পস্ট করেই আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছে। যে বিষয়ে মন্তব্য করেছি তার জবাবে বক্তব্য কিংবা পাল্টা বক্তব্য দিয়ে অগ্রসর হতে আমি আগ্রহী নই।"

এসময় এই প্রতিবেদক জানতে চান, "আমি শুধু ভাবছি যে কোনো সদস্য রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অধিকার যদি হুমকির মধ্যে পতিত হয়, বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন, গণমাধ্যমের ওপর হামলা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ শাণিত হয়,জাতিসংঘের কি উচিত নয় এসব মৌলিক অধিকারের পক্ষে দাঁড়ানো?"

জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্পষ্ট ভাষায় জাতিসংঘের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, "কিছু বিষয়ে আমি খুব স্পষ্টভাবে কথা বলেছি। যা বলেছি সে অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াচ্ছিনা।"

তিনি আরও বলেন, "আমি কোনো বিষয়ে কথা বলার পর তার ওপর অন্য লোক কী বলেছে তা নিয়ে মন্তব্য, আবার পাল্টা মন্তব্য করে চালিয়ে যেতে চাইনা। আমরা যা বলেছি তার স্বপক্ষে আমাদের অবস্থান অটুট রয়েছে।"

'পিটার হাস গা ঢাকা দিয়েছিলেন' ভারতের কূটনীতিক পিনাক রঞ্জনের মন্তব্য উড়িয়ে দিলেন মিলার

'পিটার হাস গা ঢাকা দিয়েছিলেন' ভারতের কূটনীতিক পিনাক রঞ্জনের মন্তব্য উড়িয়ে দিলেন মিলার


 মুশফিকুল ফজল আনসারী, স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেন্ট

বাংলাদেশে ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পূর্ব মুর্হূতে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস গা ঢাকা দিয়েছিলেন- ভারতের কূটনীতিক ও ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় হাই কমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর এমন মন্তব্যকে আমলে নেয়নি স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

সোমবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রদূত পিনাক রঞ্জনের এমন মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার হাস্যরসের সঙ্গে বিষয়টিকে উড়িয়ে দেন এবং এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২৮ মার্চ দিল্লির থিংক ট্যাংক 'অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনে' নিজের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে পিনাক রঞ্জন বলেন, "আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি— ভারতের পক্ষ থেকে তখন এই কড়া বার্তাটা যুক্তরাষ্ট্রকে শুনিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যার পরিণতিতে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত, যিনি তার কিছু দিন আগেও অমুক বিএনপি নেতাকে দাওয়াত দিয়ে বাড়িতে ডেকে আনছিলেন বা তমুক বিএনপি নেতার বাসায় গিয়ে হাজির হচ্ছিলেন– তাকে আর ভোটের সময় দেখাই গেল না! কোথায় যে তিনি গা ঢাকা দিলেন সেটা তিনিই জানেন!"

ভারতের রাষ্ট্রদূতের এমন মন্তব্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাংবাদিক মুশফিক জানতে চান, "ভারতের চাপের কারণে বাংলাদেশের ৭ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পূর্ব মুর্হূতে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত গা ঢাকা দিয়েছিলেন বলে, নয়াদিল্লিতে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেছেন ঢাকায়  হাই কমিশনারের দায়িত্ব পালন করে যাওয়া এক ভারতীয় কূটনীতিক। সত্যি কী তাই ঘটেছিলো?"

উত্তরের শুরুতে হাস্যরসের সাথে মুখপাত্র মিলার বলেন, "নয়াদিল্লিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের সবগুলো অনুষ্ঠান আমি ফলো করছিনা! তবে উত্তর হচ্ছে- না, এটা সঠিক নয়।” এসময় এপি'র করেসপন্ডেট ম্যাথিউ লি জানতে চান, কেনো ফলো করছেননা? জবাবে মিলার বলেন, আমার আরও অনেক বিষয় পড়ে রয়েছে। যেগুলো নিয়ে ব্যস্ত থাকাটা ভালো মনে করি।"

রবিবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৪

আধিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে : ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ

আধিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে : ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, আধিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

শনিবার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের পল্টন দক্ষিণ থানার উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীর পল্টন এলাকায় ঈদ সামগ্রী উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি উপস্থিত থেকে এই ঈদ উপহার প্রদান করেন। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য ও পল্টন দক্ষিণ থানা আমির শাহীন আহমদ খানের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, মহানগরীর মজলিসে শূরা সদস্য ও পল্টন উত্তর থানা আমির মুজিবুর রহমান, পল্টন দক্ষিণ থানা কর্মপরিষদ সদস্য ওমর ফারুক, মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন, জিয়া উদ্দিন ও জামায়াত নেতা আল আমিন রাসেলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানের জন্য কল্যাণ কামনা করবেন এটাই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্দেশ। আমি ভালো থাকব আর আমার পাশে আরেকজন ভাই, আমার প্রতিবেশী কষ্টে থাকবেন এটা মুসলমানিত্বের পরিচয় বহন করে না। আমরা সেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্দেশ পালনে রাজধানীর সুবিধা বঞ্চিত ভাই-বোনদের হাতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ঈদের উপহার তুলে দিতে পেরে মহান রবের শুকরিয়া আদায় করছি। আজ রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল বঞ্চিত মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের কাছে ঈদের সামগ্রী পৌছে দেয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, এরকম কল্যাণমূলক রাষ্ট্র আজো আমরা গড়ে তুলতে সক্ষম হইনি। ফলে জনগণ কল্যাণ রাষ্ট্রের সুফল ভোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এমতাবস্থায় একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা ব্যতিত জনগণের মুক্তি সম্ভব নয়। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে সুখি ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। যেখানে সকল নাগরিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বঞ্চিত অসহায় মানুষের সাথে ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করতে সমাজের বিত্তবানদের সহায়তার হাত নিয়ে এগিয়ে আসার উদাত্ব আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আল্লাহর ওয়াদা হচ্ছে যেখানে ইসলাম বিজয়ী হবে সেখানে আসমান ও জমিনের বরকতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হবে। অন্যদিকে যদি আল্লাহর বিধান ব্যতিত অন্য কোনো মতবাদ দেশে প্রতিষ্ঠিত থাকে তাহলে গজবের চরম শঙ্কা আছে। আজ এদেশের মানুষ হয়তো সেই গজবেই দিনাতিপাত করছে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বমুখিতে দেশের মানুষ দিশেহারা। আমাদের দেশে শুধু ভোট ডাকাতিই হয়নি, এখন সারাদেশে ব্যাংক ডাকাতি শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকারই আজ বলছে এতে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের উস্কানি আছে। বাংলাদেশে বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে সাধারণ জ্ঞানেই বলা সম্ভব যে আসমান জমিনের বরকতের পরিবর্তে আমাদের জন্য গজবের দরজা খোলা আছে। আধিপত্যবাদী শক্তির কড়াল গ্রাসে পড়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির মুখে। এই অপশক্তির হাত থেকে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে রক্ষা ও তাদের সকল প্রকার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা পালনের উদাত্ত আহ্বান জানান। একইসাথে তিনি দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরে বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সকল জিনিসপত্রের দাম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য সরকারের কাছে জোড় দাবি জানান।

যাত্রাবাড়িতে ঈদ সামগ্রী বিতরণ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের যাত্রাবাড়ী উত্তর থানার উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আজ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ঈদ সামগ্রী উপহার প্রদান করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ঈদ সামগ্রী প্রদান করেন। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শুরা সদস্য ও যাত্রাবাড়ী উত্তর থানা আমির মাওলানা জাকির আহমদের সভাপতিত্বে ও থানা সেক্রেটারি রাসেল মাহমুদের সঞ্চালনায় ঈদ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য ও সহকারী জোন পরিচালক এম আব্দুর রহিম, এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগরী মজলিসে শুরা সদস্য ও যাত্রাবাড়ী দক্ষিণ থানা আমির নওশের আলম ফারুক, থানা কর্মপরিষদ সদস্য কর্মপরিষদ হানিফ গাজী, আব্দুল হালিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

ওয়ারীতে পবিত্র কোরআন বিতরণ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সুত্রাপুর গেন্ডারিয়া ওয়ারী জোনের উদ্যোগে আজ শনিবার পবিত্র মাহে রমাদানে উপলক্ষে রাজধানীতে পবিত্র কুরআন বিতরণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কুরআন বিতরণ করেন। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের সভাপতিত্বে কোরআন বিতরণ কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য যথাক্রমে ওয়ারী পুর্ব থানা আমির মুতাসিম বিল্লাহ, গেন্ডারিয়া দক্ষিণ থানা আমির তৌহিদুল ইসলাম মুকুল, সুত্রাপুর উত্তর থানা আমির রবিউল ইসলাম, গেন্ডারিয়া পশ্চিম থানা সেক্রেটারি ফারুকুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জামায়াত নেতৃবৃন্দ।