মঙ্গলবার, ৩০ মে, ২০২৩

 ‘ভিসা নীতির’ প্রেক্ষাপটে কর্মসূচি নেবে বিএনপি

‘ভিসা নীতির’ প্রেক্ষাপটে কর্মসূচি নেবে বিএনপি

‘ভিসা নীতির’ প্রেক্ষাপটে কর্মসূচি নেবে বিএনপি

রাজধানী ঢাকাসহ কতিপয় বিভাগীয় শহরে ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ করার প্রস্তুতি বিএনপির।

কুমিল্লা মহানগর বিএনপির পদযাত্রা নবাববাড়ী চৌমুহনী হতে চালু হয়ে দলীয় কার্যালয় এরিয়ায় এলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। গতকাল কুমিল্লার লিবার্টি মোড়ে


অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় ইলেকশনের টার্গেটে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত ভিসা বিধান কান্ট্রিতে নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করছে বলে মনে করে বিএনপি। এই প্রেক্ষাপট সম্মুখে রেখেই নিউ ধাপে আন্দোলনের কৌশল ও কর্মসূচি ঠিক করার জন্য যাচ্ছে দলটি।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের অধীনেই নির্বাচনের ছক কষছে। এই ছক ভন্ডুল করে কোন বুদ্ধি করে বা কী ধরনের কর্মসূচি দিয়ে নির্দলীয় গর্ভনমেন্টের অধীনে নির্বাচনের দাবি করা যায়, নতুন ধাপের আন্দোলনের নিমিত্ত টার্গেট হবে সেটি।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্ষদ জাতীয় স্থায়ী আন্দোলনের পরের কর্মসূচি ও কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। আজ সোমবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। অবশ্য এই বৈঠকের আগেই টিমের ডগা নেতৃত্ব আন্দোলনের কৌশল ও নতুন কর্মসূচি কী হতে পারে, সে বিষয়ে স্থায়ী কমিটির প্রত্যেক সদস্যকে ভাবতে বলেছে। যাঁর যাঁর স্মরণ আজকের বৈঠকে তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্র বলছে, এবারের আন্দোলনে তরুণদের আরও বহু করে জড়িত করার উদ্যোগ থাকবে। এ লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ কয়েকটি বিভাগীয় শহরে ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ করারও পরিকল্পনা রয়েছে। বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং দুই অঙ্গসংগঠন যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক টিম এই তারুণ্যের অধিবেশন আয়োজন করবে। ইতিমধ্যে তিনটি সংগঠনের ডগা নেতারা যৌথ সভাও করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন শীর্ষ নেতা ১ম আলোকে বলেন, ‘২০০৮ বর্ষের পরে যাঁরা ভোটদাতা হয়েছেন, কিন্তু ২০১৪ ও ২০১৮ বর্ষের নির্বাচনে তাঁরা ভোট দিতে পারেননি; আমরা মনে করছি, সেই তরুণদের জন্য কতিপয় করা উচিত। উদ্বুদ্ধ করতে আমরা তারুণ্যের অধিবেশন করার কথা ভাবছি।’

ঈদের পর ১৩ মে থেকে বিএনপি ১০ দফা দাবিতে আবরণ মহানগরসহ সারা কান্ট্রিতে ৮২টি সাংগঠনিক জেলায় ধারাবাহিক ‘পদযাত্রা’ ও ‘জনসমাবেশ’ কর্মসূচি করেছে। আগামী জুনের শুরুতেই নিউ কর্মসূচি ঘোষিত হতে পারে।

তবে এই অধিবেশন কবে, কোথায় তার সাথে কোন সময় করা হবে, সেটা এখনো ঠিক হয়নি। আগামী জুন মাসের প্রথম দিকে কমপক্ষে একটি সমাবেশ করার জন্য চান বলে জানিয়ে দেন ছাত্রদলের ওই নেতা।

সরকারবিরোধী এবারের আন্দোলন কর্মসূচিতে দীর্ঘদিন ধরে ভোটের দখল হারানো প্রতিবাদী যুবক ও নবযৌবনপ্রাপ্ত শ্রেণিকে অগ্রভাগে পেতে চাইছে বিএনপি। গত সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে সারা দেশে বিভাগীয় সমাবেশগুলোকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীদের মধ্যে যে রকম মরিয়া মনোভাব নোটিশ গেছে, আবার সে রকম আন্দোলনমুখী পরিবেশ তৈরি করার জন্য চান বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। মূলত এ লক্ষ্যেই তারুণ্যের অধিবেশন করার প্রস্তুতি নেন বিএনপির আগা নেতৃত্ব।

এ বিষয়ে বিএনপির সাংগঠনিক এডিটর (ময়মনসিংহ) সৈয়দ এমরান সালেহ গত রাতেরবেলা ১ম আলোকে বলেন, ‘আমাদের এবারের কর্মসূচি হবে ছকে বাঁধা। ১টি পদক্ষেপে কী ফল আসবে, সেটা চিন্তা করে কর্মসূচি দেওয়া হবে। ব্যতিক্রমধর্মী কিছু কর্মসূচিও আসবে। সরকারের দমননীতি, জাতীয় ও ইন্টারন্যাশনাল প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে চিন্তাভাবনা করেই কৌশল সিলেক্ট করতে হচ্ছে।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল ৩০ মে। এ উপলক্ষে আজ ২৯ মে থেকে আগামী ৮ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচির মধ্যেই যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নানারকম টিম ও জোটের সাথে আলোচনা করে নিউ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি তাদের ১০ দফা দাবিকে এক জায়গায় এনে দ্রুততম টাইমের মধ্যে রাষ্ট্রশাসক গোষ্ঠী হটানোর এক দফার আন্দোলনে যেতে চাইছে। স্থায়ী কমিটির গত বৈঠকেও এ ব্যপারে আলোচনা হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর শশাঙ্ক রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকার সম্প্রতি থেকেই নির্বাচনের দিকে ধাক্কাচ্ছে। তারা তাদের বশবর্তিতা নির্বাচন করে নিজেদের নিরাপদ করার চেষ্টা করবে। তা সত্ত্বেও আমরা এই গর্ভনমেন্টের অধীনতা কোনো নির্বাচনে যাব না। সুতরাং সরকার যে নির্বাচনের দিকে ধাক্কাচ্ছে, সেটি ভন্ডুল করে নির্দলীয় গর্ভনমেন্টের দাবির ফয়সালা করার জন্য হবে আমাদের।’

আমাদের এবারের কর্মসূচি হবে ছকে বাঁধা। ১টি পদক্ষেপে কী ফল আসবে, সেটি স্মরণ করে কর্মসূচি দেওয়া হবে। ব্যতিক্রমধর্মী কয়েকটি কর্মসূচিও আসবে। গর্ভনমেন্টের দমননীতি, জাতীয় ও ইন্টারন্যাশনাল প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে চিন্তাভাবনা করেই কৌশল নির্ধারণ করার জন্য হচ্ছে

ঈদের পর ১৩ মে থেকে বিএনপি ১০ দফা দাবিতে আবরণ মহানগরসহ সারা কান্ট্রিতে ৮২টি সাংগঠনিক জেলায় ধারাবাহিক ‘পদযাত্রা’ ও ‘জনসমাবেশ’ কর্মসূচি করেছে। আগামী জুনের শুরুতেই নিউ কর্মসূচি ঘোষিত থেকে পারে। দলটির নেতারা মনে করছেন, নতুন করে ধারাবাহিক কর্মসূচির মধ্যেই এমন সিচুয়েশন সৃষ্টি হবে, যার মধ্য দিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন নিউ অবস্থায় নেওয়া পসিবল হবে।

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশকে ঘিরে সারা কান্ট্রিতে যে রকম রাজনৈতিক উত্তপ্ত তৈরি হয়েছিল, মার্কিন ভিসা নীতির প্রেক্ষাপটে নিউ করে সে রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যাবে।

এ ব্যপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির মেম্বার আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই প্রথম নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে। র‍্যাবের পর এই সময়ে ভিসা নিষেধাজ্ঞা। পৃথিবী মনে করে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই। মানুষ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসন ফিরে পাওয়ার জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন আজকাল ইন্টারন্যাশনাল আন্দোলনে পরিণত

শনিবার, ২০ মে, ২০২৩

 যে রেকর্ডে জয়াবর্ধনে-ওয়ার্নারের সাইডে গিল

যে রেকর্ডে জয়াবর্ধনে-ওয়ার্নারের সাইডে গিল

যে রেকর্ডে জয়াবর্ধনে-ওয়ার্নারের সাইডে গিল

একই বছর আইপিএলসহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ৩ সংস্করণেই সেঞ্চুরির কীর্তি রয়েছে ওয়ার্নার, জয়াবর্ধনে ও গিলের
যেখানে সম্ভাবনা, সেখানেই গিল। এগিয়ে যাও এবং পরবর্তী প্রজন্মকে নেতৃত্ব দাও। সৃষ্টিকর্তা তোমার মঙ্গল করুন’—গত রাত্রিতে আইপিএলে গুজরাট টাইটানসের হয়ে শুবমান গিলের সেঞ্চুরি দেখে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কথাগুলো কে লিখেছেন, জানেন? বিরাট কোহলি। তর্ক সাপেক্ষে যাঁকে সাম্প্রতিক প্রজন্মের সেরা ব্যাটসম্যান আশা করা হয়, সেই কোহলিই জাতীয় টিমের সতীর্থের ইনিংসে মুগ্ধ হয়ে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন।


ব্যাটিং–নৈপুণ্যের প্রদর্শনীতে গিল দেখিয়ে চলেছেন, সময়টা ইদানিং তাঁর। মাঠের চারদিকে নান্দনিক সব শট খেলবেন, রুপান্তর মস্তিষ্কে ইনিংসগুলো বিশাল করবেন, দলকে পৌঁছে দেবেন বিজয়ের বন্দরে—ব্যাপারগুলো যেন অভ্যাসে রুপান্তর করেছেন গিল। ৪৫ ম্যাচের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিন সংস্করণেই রয়েছে সেঞ্চুরি। সাত সেঞ্চুরির পাঁচটিই করেছেন এ বছর। ২৩ বছর বয়সী ওপেনারের আক্ষেপ বলতে ছিল আইপিএলে সেঞ্চুরি না পাওয়া। মরশুম সেটাও পেয়ে গেছেন।
আইপিএলে ব্যাট হাতে ১ম বার তিন অঙ্কের স্বাদ পেয়ে আসরের মেক্সিমাম রান সংগ্রাহকদের লিস্টে দুইয়ে (৫৭৬ রান) উঠে এসেছেন গিল। তাঁর ওপরে আছেন কেবল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ক্যাপ্টেন ফাফ ডু প্লেসি (৬৩১ রান)। গুজরাটও সবার প্রথমে কোয়ালিফায়ার শিওর করেছে।

এ তো গেল ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতা আর দলীয় অর্জনের কথা। ঋতু সেঞ্চুরি করে বিরল এক কীর্তিই গড়েছেন গিল। তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে একই বছর টেস্ট, ওয়ানডে, ইন্টারন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি ও আইপিএলে সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। এর প্রথমে এইরকম অর্জন ছিল শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে ও অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের। জয়াবর্ধনে রেকর্ডটা করেছিলেন ২০১০ সালে, ওয়ার্নার ২০১৯ সালে।

আইপিএলে গত রাতেরবেলা সেঞ্চুরির প্রথমে এ বছর ইন্ডিয়ার হয়ে পাঁচবার তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন গিল। তিনটি ওয়ানডেতে ও একটি করে টি-টোয়েন্টি ও টেস্টে। এর ভিতরে ১টি ডাবল সেঞ্চুরিও বিদ্যমান গিলের। মৌসুম যে দলের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করেছেন, সেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মাঠ রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে গত ১৮ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানেডেতে ২০৮ রান করেছিলেন। পাঁচ ম্যাচের সেই সিরিজে করেছেন অন্যটি সেঞ্চুরি।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে গিলের একমাত্র সেঞ্চুরিটাও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। কোথায়? আইপিএলে নিজের টিম গুজরাটের মাঠ নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। এ বছর টেস্টে সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন গত মার্চে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। আর সালের প্রথম সেঞ্চুরিটা করেছিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে ৫৩টি সেঞ্চুরি করা জয়াবর্ধনে ইন্টারন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি ও আইপিএলে এ স্বাদ পেয়েছেন একবার করে। সেটি ১৩ বছর আগে। ২০১০ সালে সব সংস্করণেই একটি করে সেঞ্চুরি করেছিলেন জয়াবর্ধনে। বছরের শুরুতেই মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় (আরেক দল ভারত) ওয়ানডে সিরিজে সেঞ্চুরি পান জয়াবর্ধনে। মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির পর এপ্রিলে আইপিএলে পাঞ্জাব কিংসের হয়ে তিন অঙ্ক ছোঁয়া করেন। সে বছর শুধুমাত্র টেস্ট সেঞ্চুরির লক্ষ্য পান কলম্বোয় ইন্ডিয়ার বিপক্ষে।

২০১৮ সালে বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির দায়ে এক বছর নিষিদ্ধ হন ওয়ার্নার। পরের বছর ফিরেই রুদ্ররূপ ধারণ করেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। ২০১৯ বছরের জুনে ওয়ানডে বিশ্বকাপ দিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে ফেরেন ওয়ার্নার। বিশ্বকাপে করেন ৩টি সেঞ্চুরি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের একমাত্র সেঞ্চুরিটা করেন অক্টোবরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। সালের শেষ অংশে কামরার মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে করেন টানা দুই সেঞ্চুরি। এর মধ্যে ক্যারিয়ারসেরা ৩৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংসটিও আছে। ব্রায়ান লারার ৪০০*-এর কীর্তিকে ভালোভাবেই তাড়া করছিলেন ওয়ার্নার। অথচ দলীয় স্বার্থ বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়ার সে সময়ের ক্যাপ্টেন দল পেইন ইনিংসের ইতি ঘোষণা করলে ৩৩৫-এ থামতে হয় ওয়ার্নারকে।

আর আইপিএল সেঞ্চুরি? সেটি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে ফেরার আগেই করেছেন ওয়ার্নার। সে বছর ৩১ মার্চ ১ম লেগে কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মুখোমুখি হয়ে গিয়ে ছিল ওয়ার্নারের হায়দরাবাদ। আগে ব্যাট করে হায়দরাবাদ গড়েছিল ২ উইকেটে ২৩১ রানের পাহাড়। সেদিন উদ্বোধনী বন্ধু জনি বেয়ারস্টোর পর সেঞ্চুরি করেছিলেন ওয়ার্নারও।

যে রেকর্ডে জয়াবর্ধনে-ওয়ার্নারের পাশে গিল
এবারের আইপিএল নিলামে ৪র্থ সর্বোচ্চ ১৬ কোটি ২৫ লাখ রুপিতে বেন স্টোকসকে ক্রয় করে নেয় চেন্নাই সুপার কিংস। স্টোকসের জন্য দামটা সম্ভবত মোটেই অনাকাঙ্ক্ষিত নয়। কিন্তু এত দামে কেনা ক্রিকেটারের কাছ থেকে চেন্নাই যা পেয়েছে, সেটা হয়তো ফ্র্যাঞ্চাইজিটি প্রত্যাশা করেনি। ১৬ কোটি ২৫ লাখ রুপিতে খরিদ স্টোকসকে মাত্র দুই ম্যাচের জন্য মাঠে পেয়েছে চেন্নাই।

পায়ের আঙুলে মমতা পাওয়ায় চেন্নাইয়ের হয়ে ২ ম্যাচ খেলেই ছিটকে যেতে হয়ে গিয়েছে স্টোকসকে। যে ২ ম্যাচ খেলেছেন, তাতেও খুব একটা অবদান রাখার জন্য পারেননি। ব্যাট হাতে করেছেন ১৫ রান, এক ওভার বোলিং করে ১৮ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। সেই চোট থেকে সেরে উঠতে না উঠতেই স্টোকস এইরকম একটি চোটে পড়েন। যদিও এই চোটের কথা চেন্নাই কোচ স্টিভেন ফ্লেমিং ব্যাখ্যা করেননি।
স্টোকস ম্যাচ খেলার জন্য ফিট হন গত সপ্তাহে। ততক্ষণে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল তাদের ১১শ গুছিয়ে নিয়েছে অনেকটাই। আর চোট হতে ফেরা স্টোকস খেলতে পারেন একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে। এজন্য ম্যাচ খেলার মতো ফিট হলেও ‘ব্যাটসম্যান’ স্টোকসের চান্স হয়নি একাদশে। চেন্নাই বৈদেশিক ক্রিকেটার হিসেবে ভরসা রেখেছে মঈন আলী, মাথিশা পাতিরানা, মহিশ থিকশানা ও ডেভন কনওয়ের ওপর।

ক্রিকেট–বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো জানিয়েছে, আইপিএলের গ্রুপ পর্ব সম্পন্ন করেই ইংল্যান্ডে ফিরে যাবেন স্টোকস। আগামী ১৬ জুন আরম্ভ হবে ৫ ম্যাচের অ্যাশেজের প্রথম ম্যাচ। এর আগে অ্যাশেজের প্রস্তুতি হিসেবে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট খেলবে ইংল্যান্ড। ১ জুন শুরু হতে যাওয়া সেই ম্যাচে ইংআইপিএলে চেন্নাইয়ের গ্রুপ পর্বের বাকি আছে এক ম্যাচ। সেই ম্যাচেও স্টোকসের একাদশে থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। অন্তত চেন্নাই কোচ ফ্লেমিংয়ের কথা শুনলে তেমনটাই মনে হবে। অর্থাৎ স্টোকসের এবারের আইপিএল মৌসুমে সম্পন্ন হলো মাত্র দুই ম্যাচেই।

নিজেদের লেটেস্ট ম্যাচে কলকাতার কাছে হারার পরও একাদশে পাল্টানো যে খুব একটা আসবে না, সেটা শিওর করে চেন্নাই কোচ বলেছেন, ‘বোলিং করা বেনের জন্য এই মুহূর্তে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। সে দিল্লিতে যাবে ব্যাটসম্যানদের বিকল্প হিসেবে। মঈন যেহেতু বোলিংটা ভালোই করছে, আর পরবর্তী ম্যাচ দিল্লিতে, যেখানে পিচে বাঁক থাকবে। আমার মনে হয়, দলে ভারসাম্য ঠিকই আছে। আর দেখুন আমরা পয়েন্ট তালিকার ২ নম্বরে আছি। একটা ম্যাচ হেরেছি, যেখানে পর্যাপ্ত কয়েকটি আমাদের পরিকল্পনামতো হয়নি বলেই দলে পাল্টানো আনব, এটা আমাদের সংস্কৃতি নয়। আমরা এমনটা করব না।’ল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা স্টোকসের।

সোমবার, ১৫ মে, ২০২৩

নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা কয়েকটি দেশকে বাংলাদেশ কিনবে না: শেখ হাসিনা

নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা কয়েকটি দেশকে বাংলাদেশ কিনবে না: শেখ হাসিনা

নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা কয়েকটি দেশকে বাংলাদেশ কিনবে না: শেখ হাসিনা

জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে আজ সোমবার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথনীয় দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেসব দেশ নিষেধাজ্ঞা (স্যাংকশন) দেবে, তাদের কাছ হতে কোনো কিছু কিনবে না বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে উনি অর্থ মন্ত্রণালয়কে আদেশ দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।

আজ এক খবর সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর সম্মন্ধে গণমাধ্যমকে অবহিত করার জন্য আজকের এ খোজ-খবর সম্মেলনের ব্যবস্থা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি টেলিভিশন ডিবিসি সংবাদের সর্বশ্রেষ্ঠ এডিটর মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম প্রশ্ন করেন, ‘বাংলাদেশকে যারা স্যাংকশন (নিষেধাজ্ঞা) দিচ্ছে তাদের সাথে বন্ধ করবেন বলে কথ্য এসেছে। সে ক্ষেত্রে কি শঙ্কিত হওয়ার কোনো রিজন আছে?’


এর উত্তর দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেন, 'আপনি আমাদের অ্যাপ্রুভ দিলেন কেন?'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারা জগৎ জঙ্গিবাদে জর্জরিত, সবাই আতঙ্কগ্রস্ত। সে সময় আমাদের কান্ট্রিতে একটিমাত্র ঘটনা ঘটেছে হোলি আর্টিজানে। অনেক মানুষ বলছিল, এটি বাংলাদেশ কেবল সামাল দেওয়ার জন্য পারবে না। তবুও আমাদের তো ২৪ ঘণ্টাও লাগেনি। তার মধ্যেই আমরা মানুষ জীবিতও উদ্ধার করলাম, যারা ঘটনার সাথে জড়িত, তাদের ওপরও আমরা আঘাত হানতে পেরেছি।’

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশে আর এ রকম সুবিশাল ঘটনা ঘটতে পারেনি। কারণ, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, সংস্থার নজরদারি ও এতভাবে কাজ করেছে যে আর কোনো ঘটনা ঘটাতে পারেনি। যাদেরকে দিয়ে সন্ত্রাস দূর করলাম। এর পরে স্যাংকশনটা কিসের জন্য? সে জন্যই তো আমার প্রশ্ন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি এ জন্য ডিসিশন নিয়েছিলাম এবং আমাদের অর্থ মন্ত্রণালয়কে, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে বলে দিয়েছি, আমরা যে বিদেশ হতে জিনিস ক্রয় করি, ওই জায়গা একটি ক্লজ (ধারা) থাকবে—যারা আমাদের ওপর স্যাংকশন দেবে তাদের কাছ হতে কোনো কিছু ক্রয় করব না। এতে সংকটের, ডরের কী আছে?’


বাংলাদেশ অধুনা আর কারও ওপর নির্ভরশীল না বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা উদ্ভাবন করে সে সমস্যার সমাধান করতে পারি। সেটি আমরা প্রমাণ করেছি। দেশের সাধারণ জেনে গেছে, যতটা অনাবাদি ভূমি আছে, তারা চাষাবাদ করছে।

এত দুশ্চিন্তার কী আছে—এমন প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কথা নাই বার্তা নাই, ওমনি স্যাংকশনের শঙ্কা দেখাবে। আর আমরা শঙ্কায় চুপ হয়ে বসে থাকব, কেন? আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। যারা আমাদেরকে সপ্তম নৌবহরের ভয় দেখিয়েছিল, সেটাও লঙ্ঘন করে জয় অর্জন করেছি। এ কথা ভুললে চলবে না। এই আত্মবিশ্বাসটা নিয়ে চলতে হবে। এক বেলা খেয়ে থাকব, তাতে অসুবিধা নাই।’

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয়টা হচ্ছে রাষ্ট্রের কিছু মানুষই বাংলাদেশের বদনাম করে। তাদের গরজ রক্ষা, তারা যে কত রকমের দুর্নীতি, অপকর্ম, মানি লন্ডারিং—কত কিছুর সঙ্গে জড়িত, সেগুলো তো সাংবাদিকেরা খুঁজে বের করেন না। বের করলে নোটিশ যাবে সেখানে অনেককেই পাওয়া যাবে। এরাই বাংলাদেশের বদনাম করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু লেবার লিডার (শ্রমিকনেতা) আছেন। নিজেরা খাবেন–দাবেন, ক্লিয়ারভাবে চলবেন, দামি গাড়িতে চলবেন। পরিবেশ নিয়ে আন্দোলন করেন। মামলা করেন, মামলা করে কয়টা মামলার রায় পাওয়া গেছে? প্রতিটি মামলার পর আলোচনা আসে। আলোচনা মানেই বিনিময়। বাংলাদেশের বদনাম আসে আয়েশার কাছ থেকে।

উর্বর জমির দেশ বাংলাদেশ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের ব্যক্তি পর্যাপ্ত শক্তিশালী। আমাদের নারীসমাজ, যুবসমাজ, সাধারণ প্রতিজনে কাজ করে। নিজেরা কাজ করে নিজেরা খাব।’

রবিবার, ১৪ মে, ২০২৩

উপকূলীয় এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অফ ঘোষণা

উপকূলীয় এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অফ ঘোষণা

প্রবল ঝড়বৃষ্টি মোখা: উপকূলীয় এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অফ ঘোষণা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’য় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপকূলীয় এলাকার সব শিক্ষা ইন্সটিটিউট অফ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।


শনিবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় সেকেন্ডারি ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরী গণমাধ্যমকে এ ইনফরমেশন শিওর করেন।
তিনি বলেন, ‘যেসব উপকূলে ঝঞ্ঝা প্রহার হানতে পারে এবং ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে সেসব এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার শিক্ষা ইন্সটিটিউট যথারীতি চলবে।’


এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ টেকনিক্যাল শিক্ষা বোর্ডের আয়ত্ত অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা দুই দিন স্থগিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী রবিবার (১৪ মে) তার সাথে সোমবার (১৫ মে) পাঁচটি শিক্ষাবোর্ডে ২০২৩ সালের প্রচলিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, যশোর শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ টেকনিক্যাল শিক্ষা বোর্ডের দুই দিনের স্থগিত এক্সামের তারিখ ও টাইম পরে জানিয়ে দেবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।




মোখার ইফেক্টে রবি ও সোমবার ৬ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষা স্থগিত

মোখার ইফেক্টে রবি ও সোমবার ৬ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষা স্থগিত

ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে রবিবারের পর সোমবারও ৬ শিক্ষাবোর্ডের চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এর প্রথমে ৫ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও নিউ করে এই তালিকায় যশোর শিক্ষা বোর্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, যশোর শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান দুই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করা হলো।

এ বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান হাবীব জনকণ্ঠকে বলেন, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার বেশকিছু পরীক্ষাকেন্দ্রকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। পরীক্ষা অ্যারেঞ্জমেন্টে প্রশাসনিক যে লোকবল চাই তারা সকলেই প্রবল প্রবল ঝড়বৃষ্টি মোখা মুকাবিলায় ব্যস্ত। এসব কারণে প্রশ্নপত্র সর্টিং থেকে পরীক্ষা অ্যারেঞ্জমেন্টে সমস্যা হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আপিলের প্রেক্ষিতে নিউ করে যশোর শিক্ষা বোর্ডকে পরীক্ষা না হওয়া বোর্ডের লিস্টে জয়েন করা হয়েছে।

৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে আগামী রবিবার পদার্থ বিজ্ঞান, বাংলাদেশের অতীত বৃত্তান্ত ও বিশ্বসভ্যতা তার সাথে ফিনান্স ও ব্যাংকিং পরীক্ষা আছে। সোমবার গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, কৃষি, সঙ্গীত, আরবি, সংস্কৃত, পালি, শারিরীক শিক্ষা ও চারু ও কারুকলা পরীক্ষা সংঘটিত হবে। তবে শিক্ষা বোর্ডের এই ডিসিশনের কারণে ৬টি বোর্ডের এসব পরীক্ষা পরে নেয়া হবে।

এ ব্যপারে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপক কুমার জনকণ্ঠকে বলেন, পরিস্তিতি অনুসারে আয়োজন নেয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের পর নতুন করে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করে তা পরীক্ষার্থীদের জানিয়ে দেয়া হবে।

শনিবার (১৩ মে) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রখর ঝঞ্ঝা ‘মোখা’র কারণে প্রচলিত এসএসসি বা সমমান পরীক্ষা ২০২৩-এর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, যশোর শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ টেকনিক্যাল শিক্ষা বোর্ডের আয়ত্ত ১৪ মে রবিবার এবং ১৫ মে সোমবার অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করা হলো। আদার্স বোর্ডের ওই তারিখের পরীক্ষা যথারীতি সংঘটিত হবে। স্থগিত হওয়া এক্সামের পরিবর্তিত শিডিউল প্রজ্ঞাপনের সাহায্যে পরে জানিয়ে দেয়া হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের আবেদন বলা হয়।
জলবায়ু ব্যবস্থাপনা স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি

জলবায়ু ব্যবস্থাপনা স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি

জলবায়ু ব্যবস্থাপনা স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তিপরিবর্তিত জলবায়ু উপযোগী কৃষি বলতে অভিযোজন, ব্যবস্থাপনা কৌশল এবং সর্বস্তরের যোগ্য জীববৈচিত্র্য

পরিবর্তিত জলবায়ু যোগ্য কৃষি বলতে অভিযোজন, ব্যবস্থাপনা কৌশল তার সাথে সর্বস্তরের সক্ষম জীববৈচিত্র্য আনয়ন ইত্যাদি বোঝায়, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করে টেকসই কৃষির উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে কয়েকটি ইম্পোর্টেন্ট শ্রেষ্ঠ ফসলের উপর এরই ভিতরে বৈরী প্রভাব তৈরি হয়েছে। এ ব্যতীত প্রাইমারি শিক্ষা গ্রহণের সার্বজনীন সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি, শিশুবিবাহ ও শিশুশ্রম বন্ধ, ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূরীকরণের মতো জলবায়ু বদলানোর কারণে বাংলাদেশের উন্নয়নমূলক অর্জন হুমকির মুখে।

ভৌগোলিক অবস্থান ও বিপুল জনগোষ্ঠীর কৃষির ওপর নির্ভরশীলতার কারণে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির তালিকায় বাংলাদেশ ওপরের দিকে অবস্থান করে। খরা, লবণাক্ততা, বন্যা, সাইক্লোন, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস, বহির্দেশের বালাইয়ের অনুপ্রবেশ, নদীভাঙন প্রভৃতি বাংলাদেশের কৃষিকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। বড় জনসংখ্যার খাদ্য ও পুষ্টি জোগানের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আর্থ-সামাজিক অবস্থার অগ্রগতি ও দারিদ্র্য দূরীকরণে কৃষি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল। এজন্য ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের বড় জনসংখ্যার আহার সিকিউরিটি নিশ্চিতকরণ অধিক জরুরি। তা সত্ত্বেও কৃষি জমির উপর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার অব্যাহত চাপ, প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য হারে কৃষি কৃষিখেত অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে।

কৃষিতে জলবায়ুর ইফেক্ট আজ আর তেমন অপরিচিত নেই। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে নানা প্রকারের রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে যেমন- অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস, উজানের ঢল, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি। যার ফলে ফসল, জান ও মালের ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এর কারণে প্রতি বছর বিকৃত হলো কোটি কোটি ধনের ফসল ও সম্পদ। এ অবস্থা হতে পরিত্রাণ পেতে হলে আমাদের এ পরিবর্তিত জলবায়ুর সাথে খাপ খাওয়াতে হবে।

জলবায়ু সংস্কার অভিযোজনে করণীয় : আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি-ভাসমান বীজতলা সৃষ্টি করা, কচুরিপানায় মাদা বা বেড প্রস্তুত করা এবং ভাসমান মাদায় সবজি এবং ফল চাষ করা, জলাভূমি খনন করে পাড় অভিজাত করা, আগাম কৃষি আবহাওয়ার সার্বিক ইনফরমেশন পূর্বেই জানিয়ে দেওয়া (ওয়েদার ফোরকাস্টিং), বানের পূর্বে বিভিন্ন শ্রেনীভেদ অন্ন কালেক্ট করে রাখা, মাছ প্রথমে ধরে কোথাও বিক্রি করা, হাঁস-মুরগির ওষুধ টিকা বানের পূর্বে দেওয়া, হাঁস-মুরগির কামরার মেঝে চুন বা ছাই ছিটানো, বানের পানি দূরে গেলে রোপা-আমন মৌসুমের লস পুষিয়ে নিতে শাইল বংশের যেমন- বিনা শাইল, নাইজার শাইল, ঝিংগা শাইল, রাজু শাইল, ইন্দ্রো শাইলসহ স্থানীয় বংশের ধান চাষ করা।

তাছাড়া কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে অভিযোজিত জাত ও টেকনোলজি প্রয়োগ আরম্ভ হয়েছে। প্রত্যেকটি খাতে জলবায়ু সহনশীল রিসার্চে নতুন নিউ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান পরিস্থিতি (পরিসংখ্যান)-বাংলাদেশ ও পৃথিবীর বন্যা, খরা, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতির বিগত ডাটা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ও জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৭, ২৮ কে পরিকল্পনায় রেখে, রাষ্ট্রের ডেল্টা পরিকল্পনা ২০২১ এর লক্ষ্য সিলেক্ট করা হয়েছে। জলবায়ু বদলানোর প্রভাবে সৃষ্ট নানারকম বিপদের কারণে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের মানুষ। সমুদ্রপৃষ্ঠের হাইট বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, বায়ুম-লীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইড, বৈশ্বিক উষ্ণতা, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের কারণে ভেক্টর বাহিত রোগ, ভাপ-প্রবাহ, তাপমাত্রার চাপ, বায়ুদূষণ তার সাথে খাদ্য নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দ্রুত স্টেপ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টেকনোলজি মানব নির্মিত বুদ্ধিমত্তা (এআই) হয়ে উঠে গিয়েছে শিক্ষা এবং স্মার্ট কৃষিক্ষেত্রে অপরিসীম সম্ভাবনার অংশ।

এরই ভিতরে কৃষিতেও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা মানব নির্মিত বুদ্ধিমত্তা, আইওটি (আইওটি), ন্যানো টেকনোলজি প্রয়োগ চালু হয়েছে। কৃষিতে এআই প্রযুক্তি সংবলিত মুঠোফোন অ্যাপ্লিকেশন হয়েছে। এ অ্যাপ্লিকেশন দিয়ে ফসলের আক্রান্ত স্থানের পিকচার তুললেই বলে দেবে আপনার ফসলের সমস্যা ও সমাধান তার সাথে কৃষিতে এআই টেকনোলজি সংবলিত ড্রোন অর্থাৎ ড্রোনের সঙ্গে এআই কাস্টমাইজ করে মানব নির্মিত বুদ্ধিমত্তাকে ইন্টিগ্রেট করলে ড্রোন একবার ফসলের ক্ষেতের ওপর দিয়ে উড়ে গেলে ওই এলাকার যে সার্বিক অবস্থা জানিয়ে দেন দিতে আগামীতে উপযুক্ত তা হলো- ফসলের মাঠের আর্দ্রতা গণনা করা, ফসলে উপকরণের উপস্থিতি নির্ধারণ করা, শস্য রোপণ ডিজাইন , বীজ রোপণ, পোকার আক্রমণ জানা (চিত্র প্রযুক্তি), কীটনাশক স্প্রে করা, সেচ নজরদারি করা, ফসলের জানা, ফসলের সার্বিক পর্যবেক্ষণ, মাটির পুষ্টি, আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, পিএইচ, লবণাক্ততা, ফসল জানা নিউট্রেন্টের অপ্রাচুর্য জানা, ফসলের রোগ ও পোকামাকড় জানা, উপস্থিতি জানা, কৃষি ওয়েদার ফোরকাস্টিং অ্যান্ড আগাম অ্যালার্মিং দেওয়া, ফসলের আগাম সম্ভাব্য ফলনের পূর্বাভাস দেওয়া ইত্যাদি।

এই এআই যন্ত্রের প্রত্যেকটি অনুসর্গই জলবায়ু সংস্কার মোকাবিলা, আহার নিরাপত্তা ও টেকসই কৃষি বিনির্মাণ করে কৃষিকে স্মার্ট তথা স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামীতে কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই প্রযুক্তি) সম্প্রসারণ করে; পরিবর্তিত জলবায়ু যোগ্য কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে- কৃষিকে সাশ্রয়ী, টেকসই, বুদ্ধিদীপ্ত প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার এখনই সময়।
আইটি প্রতিবেদক

শনিবার, ১৩ মে, ২০২৩

 ইলেকশন টানছে না ভোটারদের

ইলেকশন টানছে না ভোটারদের

ইলেকশন টানছে না ভোটারদের

গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র হয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। সে টাইম সাইডে ছিলেন দলীয় নেতাকর্মীরা। পেয়েছিলেন প্রশাসনের সহযোগিতাও। অথচ এবারের নির্বাচনে কারেন্সির উল্টা পিঠ দেখছেন তিনি। ক্ষমা পাওয়ার পর আশা জেগেছিল নৌকা পাওয়ার। কিন্তু গণেশ উল্টে যায়। পরে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে গিয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এমন আশঙ্কা থেকেই তার মা জায়েদা খাতুনের নামেও মনোনয়নপত্র তুলেছিলেন। এখন মাকে নিয়েই উনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। জায়েদা খাতুনের টেবিল ঘড়ি মার্কা নিয়ে তিনি নির্বাচনী ময়দানে। অথচ গত ইলেকশনের মতো দলীয় নেতাকর্মীরা তার সাথে নেই।

আগামী ২৫শে মে নির্বাচন। জাহাঙ্গীর আলম তার মায়ের সর্বশ্রেষ্ঠ নির্বাচনী সমন্বয়ক। আবার গাজীপুর সিটি করপোরেশন ইলেকশনে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকার মাঝি হয়ে গেছেন আজমত উল্লা খান। বিএনপি হতে দেয়া হয়নি কোনো প্রার্থী। নির্বাচনে মেয়র হওয়ার দৌড়ে আরও রয়েছেন জাতীয় পার্টির এমএম নিয়াজ উদ্দিন (লাঙল) জাকের পার্টির রাজু আহমেদ (গোলাপ ফুল), স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ নুর ইসলাম রনি রাষ্ট্রশাসক বিভাগ (হাতি), হারুন অর রশিদ লড়ছেন ঘোড়া প্রতীক নিয়ে।

শুক্রবার সকাল বেলা ১০টা। গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার টঙ্গী দিয়ে এগুচ্ছে বাস। সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি। ক’দিন বাদে নির্বাচন। অথচ পরিবেশ দেখে তা বোঝার উপায় নেই। ব্যানার, পোস্টার আখিতে পড়লো গুটি কয়েক। শুক্রবার হওয়ায় কিছুটা ফাঁকা এলাকা। বাস থেকে নেমেও আখিতে পড়লো না ইলেকশনের তেমন আলামত। গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার বোর্ড বাজার। পুরো গাজীপুর সিটির মতোই কারখানার আধিপত্য। বেশির ভাগ বাসিন্দাই এলাকার ভোটদাতা নন। এলাকার রাস্তা ধরে এগুলেও নেই পোস্টার, ব্যানারের ছোয়া। কিন্তু কয়েক কাউন্সিলরের পোস্টার ঝুলছে রাস্তায়। ভোটারদের মাঝে আলোচনা, আগ্রহ তেমনটা না থাকলেও নেতাকর্মীদের মাঝে নির্বাচন নিয়ে ছক কষছেন সবাই। নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ও তার মা জায়েদা খাতুন।

এলাকাবাসীর ভাবনা: চায়ের দোকানগুলোতেও সেই অর্থে নেই ইলেকশনের আলোচনা। উৎসাহ দেখা যায়নি নিউ ভোটারদের মাঝেও। বোর্ড বাজার অঞ্চলে প্রভাতে চায়ের কাপে আশ্রম দিচ্ছিলেন এলাকার প্রবীণ অধিবাসী ক’জন। জানতে চাইলে তারা বলেন, ভোট নিয়ে মাথাব্যথা নাই। তবে ইচ্ছা বিদ্যমান ইলেকশন দেওয়ার জন্য যাবো। প্রাক্তন ওস্তাদ আসগর আলী বলেন, আমার এই এরিয়ায় জন্ম। সেই হিসেবে ৭৪ বছর ধরে অঞ্চলে থাকি। মেয়র আসে মেয়র যায়, রাস্তাঘাট করে। কেউ বহু করে কেউ কম। আমরা খুঁজি মন্দের ভালো। আমার এরিয়ায় কোনো একটা বাসা যদি কেউ করে মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা দেয়া লাগে। এক তালা থাকার জায়গা দুই তালা করলে মিস্টি খাওয়ান লাগে। কথার সঙ্গে একমত পোষণ করলেন অন্যরাও। মো. আলী আরেক প্রবীণ ভোটার বলেন, এটি এলাকার নিয়ম হয়ে দাঁড়াইছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি আমাদের চাই ভোটের পরিবেশ। এই যে দুই সপ্তাহ পর নির্বাচন কারও কোনো মাথাব্যথা নাই। কেন নাই এটা হলো কথা। এই আলোচনায় যোগ দিলেন চা দোকানদার মো. সৌমিক। দোকানের সামনের রাস্তা দেখিয়ে বলেন, এই রাস্তা কাঁচা আছিল। বৃষ্টি হইলে হাঁটা যায় না। এই রাস্তা করছে মেয়র জাহাঙ্গীর।

বেলা গড়িয়ে দুপুর। শুক্রবার হওয়ায় কর্মব্যস্ততা কম। ডেগেরচালা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নামাজ শেষে অনেকেই আড্ডায় বসলেন চায়ের দোকানগুলোতে। আলোচনা চলছিল ভিন্ন বিষয়ে। হঠাৎই এক কাউন্সিলরের লিফলেট হাতে নিয়ে এলেন একজন। সেই হতে আরম্ভ হচ্ছে নির্বাচনের আলোচনা। তারা হিসেব কষছিলেন কোন এলাকায় কোন মেয়রপ্রার্থী বেশি ইলেকশন পাবেন। জানতে চাইলে আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমার মার্কা নৌকা। আজমত উল্লা খান দূরদর্শী রাজনীতিবিদ। তাকে দল মনোনয়ন দিয়েছে নিশ্চয়ই অনেক ভালো বুঝেই। প্রাক্তন মেয়র জাহাঙ্গীর উন্নয়ন করেছে। সেতো আর নিজের টাকায় করে নাই। নিউ যে মেয়র হবে সেও করবে। প্রকৃতপক্ষে উন্নতি করতেছে শেখ হাসিনা। তিনি আরও বলেন, ভোটের মাঠে জাহাঙ্গীর সাহেবের প্রচুর ইলেকশন আছে। উনি যেহেতু মাকে দাঁড় করিয়েছেন তার ইলেকশন কয়েকটি পাবে। অথচ এটা ভুলে গেলে চলবে না জাহাঙ্গীর মেয়র তা সত্ত্বেও হয়ে গিয়ে ছিল নৌকা মার্কা নিয়ে।

আবার তার সাইডে থাকা আশিকুর রহমান বলেন, জাহাঙ্গীর এলাকার যে উন্নতি করছে তা গাজীপুরে কেউ আগে করে নাই। বাসনা ছিল বলেই তো করছে। ইদানিং তার মা যেহেতু প্রার্থী হয়েছে আমরা চাইবো আবার মেয়র সেই বাড়ি থেকেই হোক। উন্নয়ন হোক। আজমত উল্লা বেশ ভালো ব্যক্তি ও যোগ্য নেতা। আমরা আশাবাদী তিনিও গাজীপুরবাসীর জন্য উন্নতি করবেন।

সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মালেকের বাড়ি, ড্যাগের চালা, হাজিরপুকুর, বাইপাশ, কুমারঝুরি ও হারিকেন এই এলাকাগুলোতে একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রান্তিক পর্যায়ে পর্যাপ্ত ভোট আছে জাহাঙ্গীরের। সম্প্রতি যেহেতু মাঠে বিএনপি প্রার্থী নেই সেহেতু নৌকা বিরোধী ভোটগুলো কোন দিকে যায় সেটাও দেখার বিষয়। অধিকাংশই বলছেন, সুষ্ঠু ইলেকশন হলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। গতকাল সারাদিনে মেয়র প্রার্থীদের কোনো প্রচার নয়নে না পড়লেও একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থীর মাইকিং কানে আসে।

উৎসাহ নেই নিউ ভোটারদের: বোর্ড বাজার এরিয়া হতে সাইনবোর্ড। নেই পোস্টার। নাই কোনো নির্বাচনী প্রচারণা। এই এলাকার একটি সড়ক ধরে ছোট একটা বাজার। ওখান আখড়া দিচ্ছিলেন কয়েকজন যুবক। যাদের অধিকাংশই প্রথম ভোটার। তাদের এক উত্তর, কোনো বিশেষ প্রবৃত্তি নাই। একজনতো বলেই বসলেন, কবে ইলেকশন তাই জানি না। ভোট দিলে দিতেও পারি। সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের ছাত্র আহমেদ সাদ বলেন, ১ম ভোটার, ইলেকশন দেবো। এটা বয়স হবার পর প্রথম বখশিশ বলতে পারেন। অথচ আমি যে ইলেকশন দেবো তা নিয়ে কোনো আগ্রহ পাচ্ছি না। ভোট নিয়ে গত বছরের যে পরিবেশ তা বিবেচনা করে ভোট নিয়ে মাথাব্যথা নেই। আবার প্রশ্নও ওঠে আমার ভোটের আদৌও কি কোনো প্রয়োজন আছে?

আলোচনায় নেই বিএনপি: ভোটারদের সাথে দীর্ঘ আলোচনায় কোথায় যেন অনুপস্থিত রাষ্ট্রের বড় অন্যটি দল বিএনপি’র নাম। বিএনপি দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থী না দিলেও মেয়র হবার দৌড়ে পায়ে শান দিচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান উদ্দিন রাষ্ট্রের ভাতিজা স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহানুর রহমান রনি। এই এলাকাগুলো ঘুরে বিএনপির এক সমর্থক বলেন, এরিয়ায় আমাদের অবস্থা এরূপ হয়ে গিয়েছে যে চুপ থাকা শ্রেয়। কোনো আলোচনায় আমাদের নাম সত্যি যেন বিপদ। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিএনপির কোনো কার্যক্রমে যোগ দেই নাই। আবার এবারের ইলেকশনে যেহেতু বিএনপির কোনো প্রাথী নাই তাই কোনো আগ্রহও নাই। তিনি বলেন, বিএনপি’র একটা বিশাল ভোটতো আছেই। তবুও দেশের সিচুয়েশনে আমরা ইলেকশন দিতে পারবো কিনা, সেই ইলেকশন আদৌও পরিমাপ হবে কিনা তা নিয়ে ডর আছে।

চাঁদাবাজি থেকে খালাস চান এলাকাবাসী: শিল্প কলকারখানানির্ভর গাজীপুর রাষ্ট্রের বৃৃহত্তম সিটি করপোরেশন। জবের সুবাদে অধিকাংশই বাসস্থান গড়েছেন এই এলাকায়। প্রায় ২৭ বছর ধরে হারিকেন এরিয়ায় থাকেন মো. আব্দুল্লাহ। জমি কিনে থাকার জায়গা করেছেন তিনি প্রায় এক যুগ আগে। তিনি বলেন, আমার বাড়ির পিছনের একটা সড়ক পাকা করার জন্য আমরা একাধিকবার আগের মেয়র ও সংসদ সদসস্যের কাছে দাবি জানাই। অথচ জাহাঙ্গীর এই রাস্তা করেছেন। আমরা প্রয়োজন যেই ক্ষমতায় আসুক উন্নয়ন হোক। কিছু পথের কাজ ও ড্রেনেজের কাজ বাকি বিদ্যমান সেগুলোও ঠিকমতো করা হোক। উন্নয়ন হলেও, এই এলাকায় কোনো বাসা বানালে এক তালা হতে দোতালা করলেই মিষ্টি খাওয়ার টাকা দেওয়ার জন্য হয়। ব্যবসা করলেও চলে আসে তারা। আমরা নতুন মেয়রের নিকট এই মিষ্টি খাওয়ার নামের চাঁদাবাজি হতে অব্যাহতি চাই।

আহমেদ নুর নামে কুড়িগ্রামের ভোটার, গাজীপুরের বাসিন্দা বলেন, আমি গাজীপুরে থাকি প্রায় ২৫ বছর। প্রথমে এলাকায় মারামারি, সহিংসতা ছিল যা এখন অনেক কম। তবে আজকাল বাড়ি গঠন বা ব্যবসা পরিচালনায় চাঁদাবাজি আছে। নতুন মেয়রের কাছে ব্যাকুল আবেদন থাকবে যাতে এই চাঁদাবাজি না হয়।

জাহাঙ্গীরের বাসার চিত্র: সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর অর্থাৎ জায়েদা খাতুনের বাসা মূল সড়কের পাশেই ড্যাগের চালা এলাকায়। বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, গুটিকয়েক নেতাকর্মীর ভিড়। বাড়ির সম্মুখে স্বল্প কয়েক পোস্টার। ৪তলা বিশিষ্ট বাড়ির পিছনে বড় একটি ফাঁকা স্থান। ওই জায়গা প্যান্ডেল পাতা, ঘুরপাক খাচ্ছে স্ট্যান্ড ফ্যান। কয়েকজন কর্মী বসে আছেন। ওখান গিয়ে জানা যায়, শালনা অঞ্চলে গণসংযোগে গেছেন তিনি।

সেখানে অপেক্ষারত সুলতানা বেগম নামে একজন বলেন, জায়েদা আপার জন্য আমরা ইলেকশনের দিন পর্যন্ত মাঠে থাকবো। আমার আপার জন্য লিফলেট নিয়ে মানুষের নিকট কাছে যাবো। আপার জন্য ভোট চাইবো। অপরজন বলেন, এলাকার নকশা সংস্কার করে দিয়েছে জাহাঙ্গীর। আজকাল আমাদের দায়িত্ব তার হয়ে কাজ করা। জাহাঙ্গীর ভাইয়ের নমিনেশন যেহেতু বাদ হয়েছে সেহেতু আমরা আজকাল তার আম্মার জন্য কাজ করবো। প্রশ্নের উত্তরে উনি বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের সহযোগী অথচ জাহাঙ্গীর ভাইয়া আমাদের আপনজন।

মুদ্রার উল্টো পিঠে জাহাঙ্গীর: গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আলোচিত নিসর্গ হয়ে উঠেছেন জাহাঙ্গীর। নির্বাচনে সরাসরি ভাবে না থাকলেও মায়ের হয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ ভূমিকা পালন করছেন তিনি। আগের ইলেকশনে তার বিরুদ্ধে কমপ্লেইন ছিল প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবার। এ ছাড়াও ইলেকশনে বিএনপি প্রার্থীর প্রতিনিধি এবং সমন্বয় করা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার তীরও তার দিকে ছিল। তা সত্ত্বেও বদলে গেছে সময়। বর্তমান এই সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর মায়ের হয়ে লড়ছেন গভর্নমেন্ট দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও গাজীপুর অঞ্চলে নির্বাচনী পোস্টারে সাঁটিয়েছেন নিজের ছবিও। তার মা জায়েদা খাতুন প্রচারণায় কথা বলছেন খুবই কম। আবার ৩রা মে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’র আলোচনাতেও অংশ নেননি তিনি। এ ছাড়াও নানারকম প্রচারণায় গিয়ে কথা বলছেন মূলত জাহাঙ্গীর।

জাহাঙ্গীরের ট্রাস্টেড পূর্বের ছাত্রলীগের কর্মী ও আধুনিক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাদেকুল হাসান বলেন, গেল বার নৌকা হতে মননয়ন পেয়েছিলেন তিনি। এইজন্য তার সাথে ছিলাম। মেয়র নির্বাচিত হবার পরও তার সাথে ছিলাম। ইদানিং যেহেতু আওয়ামী লীগ হতে আজমত উল্লাকে নমিনেশন দিয়েছে আমরা আজমত উল্লার সঙ্গেই কাজ করবো। এদিকে পূর্বের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যে সকল কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীরের জন্য গাজীপুর চষে বেড়িয়েছেন এবার তারাই লড়ছেন আজমত উল্লাহর হয়ে। ডেইলি কেন্দ্রীয় নেতারা ঢাকনা হতে গিয়ে তার পক্ষে ইলেকশন চাইছেন। দলীয় কোন্দল নিরসনে ব্যস্ত সময় লঙ্ঘন করছেন। স্থানীয় নেতারা বলছেন, একেই সম্ভবত বলে কারেন্সির অপর পিঠ।