সরকার গঠন হলো সংসদীয় পদ্ধতিতে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করার প্রক্রিয়া। যদি কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ন্ত্রণ না করে, তাহলে কোন দলগুলো জোট সরকারের অংশ হবে তা নির্ধারণ করাও এতে জড়িত থাকতে পারে। এটি সাধারণত একটি নির্বাচনের পরে ঘটে, তবে একটি বিদ্যমান সরকারের প্রতি অনাস্থা ভোটের পরেও ঘটতে পারে।
রাষ্ট্রশাসক বিভাগ ঘেঁষা ইসলামী দলগুলোর নতুন জোট গঠনের ট্রাই
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামি দলগুলোর ভিতরে নানা রকম মেরুকরণ হচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে সখ্য রয়েছে, এ ধরনের ১৫-২০টি দলের ১টি জোট গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এর প্রায় সব কটিই ইসলামি দল। কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক কয়েকটি দল নিয়ে অন্যটি জোট গঠনের উদ্যোগ আছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের। এতে ইসলামি দলের বাইরের দলও থাকতে পারে।
জাতীয় সংসদ ইলেকশনের আট মাসের মতো অবশিষ্ট আছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর শরিকেরা সংবিধান মেনে শেখ হাসিনার অধীনে অন্যটি ইলেকশনের প্রিপারেশন আরম্ভ করেছে।
অন্যদিকে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলন করছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামি দলগুলোর তৎপরতা বেড়েছে। আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে এ তৎপরতা এইরকম বাড়বে বলে ইসলামি দলগুলোর নেতাদের অনেকে বলছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও ইসলামি দলগুলোকে নিকট রাখার লক্ষ্যে নানা কৌশল নিয়েছে।
জোটের উদ্যোগে ইসলামী আন্দোলন:
চরমোনাইয়ের পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মাস ধরে ধর্মভিত্তিক ইসলামি দলসহ অন্য কয়েকটি দল নিয়ে ১টি জোট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এখনো তা চূড়ান্ত রূপ পায়নি।
দলটির সূত্র জানায়, তাদের অতুলনীয় লক্ষ্য কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলগুলোকে নিয়ে জোট করা। ইসলামি দলের বাইরেও কিছু দলকে তারা জোটে রাখতে চায়। কিন্তু কোনো জোট করলে গভর্নমেন্ট ক্ষিপ্ত হয় কি না, এমন চিন্তাও রয়েছে এ চেষ্টায় থাকা কিছু দলের নেতাদের। সে স্মরণ থেকে তাঁরা কিছুটা টাইম নিতে চাইছেন।
ইসলামী আন্দোলনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আশরাফ আলী আকন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের টিম এখন পাঁচ সিটির ইলেকশন নিয়ে ব্যস্ত। তারপর জোট গঠনের ব্যাপারটা তাঁরা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
সরকারের ঘনিষ্ঠদের উদ্যোগ:
আওয়ামী লীগের সাথে সখ্য আছে, এরূপ ১৫টি দল নিয়ে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (আইডিএ) নামের একটি জোটের আত্মপ্রকাশ হয়েছিল ২০১৭ সালে। এর উত্তম নেতা বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী। কো-চেয়ারম্যান তরীকত ফেডারেশনের প্রাক্তন নেতা এম এ আউয়াল। এই জোটের আর অস্তিত্ব নেই। তিনটি টিম ২০১৮ বর্ষের ইলেকশনের আগেই বিকল্পধারার সঙ্গে ভিড়ে যায়। ১১টি টিমের নেতা ছিলেন এম এ আউয়াল নিজেই।
এর মধ্যে হত্যা মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন তিনি। ইদানিং জামিনে মুক্ত হয়ে আবার ইসলামিক গণতান্ত্রিক কনসার্ট গড়ন করেছেন এম এ আউয়াল। বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট এবং ইসলামিক ফ্রন্ট নিয়ে আরেকটি নতুন জোটের আলোচনা ঘটমান বলে জানান এম এ আউয়াল। এর ভিতরে ইসলামি দলের বাইরে প্রয়াত নাজমুল হুদার তৃণমূল বিএনপির সঙ্গেও তাদের আলোচনা হয়েছে। চলমান মাসের শেষ দিকে জোট ঘোষণার ট্রাই আছে।
এ উদ্যোগের সাথে যুক্ত আছেন, এইরকম একের অধিক নেতা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সংকেত পেয়েই এই জোট গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। মিছবাহুর রহমান চৌধুরীও ২০০৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগের মিত্র হিসেবে আছেন।
মিছবাহুর রহমান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার একটা বৈঠক আছে। এতে জোটের রূপরেখা সঠিক হবে। এরপরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। উনি বলেন, জোট গঠনের বিষয়ে ১৫-২০টি দলের সাথে আলোচনা চলছে। বিএনপি ভোটে এলে তাদের জোটের কৌশল এক রকম হবে। আর ইলেকশনে বিএনপি না এলে হবে অন্য রকম।
জাপা বিকল্প গন্তব্য:
২০১৮ বর্ষের জাতীয় সংসদ ইলেকশনের আগে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাইরে প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নামসর্বস্ব ৫৯টি দল নিয়ে এক জোট করেছিলেন। সেই জোটে বেশির ভাগই ছিল ইসলামি দল। এর নাম দেওয়া হয়েছিল সম্মিলিত জাতীয় জোট। সংসদ ইলেকশনের দেড় বছর পরই এরশাদ মারা যান। পরে এই জোটের অস্তিত্বের কথা আর শোনা যায় না।
আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জাপা) আওয়ামী লীগের সঙ্গেই থাকবে—এ কথা এখনো সামনে ঘোষণা দেয়নি জাপা। সমাপ্ত পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমেই দলটি ভোটে অংশ নেবে—এমনটাই মনে করছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা।
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানায়, সম্পন্ন পর্যন্ত কতিপয় ধর্মভিত্তিক ইসলামি দলকে জাপার সঙ্গে ভিড়িয়ে দেওয়ার চিন্তাও রাষ্ট্রের রয়েছে। এর মধ্যে জাকের পার্টিসহ কিছু দল থাকতে পারে। কিন্তু জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ১ম আলোকে বলেন, এই যাত্রায় জোট করলে তাঁরা ফলপ্রসূ কিছু করবেন। আগের মতো সংখ্যায় বহু দেখিয়ে ঢাউস কোনো জোট নয়, কার্যকর জোট চান তিনি।
ধর্মভিত্তিক ইসলামি দল:
নির্বাচন ছাড়ে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক টিমের ভিতরে ইসলামি টিম ১০টি। এর মধ্যে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক টিম বিদ্যমান ৬টি। সেগুলো হলো ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও খেলাফত মজলিস।
চরমোনাই পীরের টিম ইসলামী আন্দোলন ব্যতীত বাকি পাঁচটি দলই হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই পাঁচ দল একসময় বিএনপির সঙ্গে জোটে ছিল। নানামুখী চাপে ওই পাঁচ দলের কোনোটিই বর্তমান বিএনপির সঙ্গে নেই। এর বাইরে তরিকতপন্থী দলগুলো হচ্ছে জাকের পার্টি, তরীকত ফেডারেশন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। আওয়ামী লীগের সাথে তরীকতপন্থী এই দলগুলোর সখ্য দীর্ঘদিনের।
আওয়ামী লীগের কৌশল:
আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির আন্দোলনের পটভূমিতে আওয়ামী লীগ তাদের ঘনিষ্ঠ ইসলামি দলগুলোর জোট গঠনের উদ্যোগে সহায়তা করবে। সেইম সাথে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক কোম্পানি হেফাজতে ইসলাম এবং কয়েকটি ইসলামি দলের ওপর গর্ভনমেন্টের একটা নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এর বাইরেও ইসলামি দলে যারা রয়েছে, তাদের ওপরও একটা নিয়ন্ত্রণ সৃষ্টির চেষ্টা থাকবে ক্ষমতাসীনদের।
হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে বৈঠক, নানারকম ইসলামি দলের কর্মসূচিতে উপস্থিতি দেখা যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাথে ধর্মীয় দলগুলোর একটা বৈরী রিলেশন ছিল। তারা মনে করত আওয়ামী লীগ ধর্মকর্ম মানে না। অথচ ইদানিং তারা দেখছে উল্টোটা। আওয়ামী লীগ বরং ইসলামের জন্য পর্যাপ্ত কিছু করছে।’
ভোটের রাজনীতির কারণে ইলেকশনের সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—বড় দুই টিমের নিকট ইসলামি দলগুলোর সোহাগ বাড়ে। ইসলামি দলগুলোরও দলীয় প্রয়োজনের পাশাপাশি নানা রকম দরকারের ভাবা থাকে। ফলে এসব টিমের ভিতরে নানা মেরুকরণের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের আনুকূল্যও থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
Welcome to Bangla BD Network, 'Bangla BD' main target is to provide content readers of this country with fantastic content. Another mark of ours is to one day establish ourselves as one of the best media platforms in the Bengali language with good quality content on academics, technology, biography, latest, special news, politics, Bangladesh, world, business, and entertainment.
0 coment rios: