শুক্রবার, ২৯ মার্চ, ২০২৪

বাংলাদেশের ৭ জানুয়ারি নির্বাচন না বৈধ, না অংশগ্রহণমূলক: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফেডারেশন

বাংলাদেশের ৭ জানুয়ারি নির্বাচন না বৈধ, না অংশগ্রহণমূলক: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফেডারেশন

 মানবাধিকার লঙ্ঘন মোকাবেলায় সরকারকে চাপ দিতে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলির প্রতি আহ্বান


বাংলাদেশের ৭ জানুয়ারি নির্বাচনকে উপহাসে পরিণত করেছে সরকার বলে মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফেডারেশন (এফআইডিএইচ) বলেছে, এ নির্বাচন না হয়েছে বৈধ আর না অংশগ্রহণমূলক।

এছাড়া বাংলাদেশে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি বলেছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের একজন সদস্য হয়েও বাংলাদেশ সরকারের এহেন আচরণ অশোভনীয়।

২৫ মার্চ এক বিবৃতিতে এই মন্তব্য করে এফআইডিএইচ।

সংস্থাটি বাংলাদেশের বিষয়ে সার্বজনীন পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনার (ইউপিআর) দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের (ইউএন) মানবাধিকার কাউন্সিলের ৫৫তম অধিবেশন চলাকালীন একটি বিবৃতি প্রদান করে।

বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন, মৃত্যুদণ্ড এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়মুক্তি, সেইসাথে লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা সহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনগুলিকে মোকাবেলা করতে অস্বীকৃতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা দীর্ঘস্থায়ী মানবাধিকার লঙ্ঘনগুলি মোকাবেলায় সরকারকে চাপ দেয়ার জন্য জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফেডারেশন (এফআইডিএইচ) বাংলাদেশে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের অনেক সদস্য রাষ্ট্রের উদ্বেগকে বৈধতা দেয়ার পাশাপাশি এবিষয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের একজন সদস্য হয়েও বাংলাদেশ সরকারের এহেন আচরণ অশোভনীয়। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সুশীল সমাজের ওপর দমনপীড়ন সার্বজনীন পর্যালোচনার দাবি রাখে। সরকার আবারও বলপূর্বক গুমের ঘটনা অস্বীকার করেছে। পাশাপাশি বলপূর্বক গুম থেকে সকল ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে কনভেনশনের প্রটোকলের সমস্ত সুপারিশ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। উপরন্তু, সরকার মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত সমস্ত সুপারিশ গ্রহণ করেনি, তারা বিস্ময়করভাবে মৃত্যুদণ্ডকে ‘শাস্তির একটি বৈধ রূপ’ হিসাবে বর্ণনা করেছে।

সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের সুপারিশ গ্রহণ করার পরেও দেশের জাতীয় নির্বাচন উপহাসে পরিণত হয়েছে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচন সরকারের রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং সুশীল সমাজের উপর আক্রমণের কারণে বিঘ্নিত হয়েছিল। এটাও উপহাসের বিষয় যে, সরকার সুশীল সমাজের কর্মী, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক থেকে রক্ষা করার সুপারিশ গ্রহণ করেও সব ধরনের ভিন্নমতকে নীরব করার জন্য বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে চলেছে। প্রবাসে ভিন্নমতাবলম্বীদের ভয় দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশে মানবাধিকার রক্ষাকারীদের অপরাধীর তকমা দেয়া হচ্ছে। আমরা জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী মানবাধিকার লঙ্ঘন, দায়মুক্তির অবসান, জবাবদিহিতা, ক্ষতিপূরণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি না হওয়ার গ্যারান্টি নিশ্চিত করতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানাই।

বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৪

বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ এবং মুক্ত গণতন্ত্র বাস্তবায়নে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাবে যুক্তরাষ্ট্র: মিলার

বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ এবং মুক্ত গণতন্ত্র বাস্তবায়নে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাবে যুক্তরাষ্ট্র: মিলার


বাংলাদেশে অবাধ, পূর্ণাঙ্গ এবং মুক্ত গণতন্ত্র বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র অব্যাহতভাবে কাজ করে যাবে বলে জানিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

গণতান্ত্রিক শাসন জোরদার ও মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের জনগণের পাশে থাকার অঙ্গিকার পুর্নব্যক্ত করে স্বাধীনতা দিবসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন যে বিবৃতি দিয়েছেন সেই অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে বুধবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার।

বাংলাদেশের জনগণ যখন কর্তৃত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনে নির্যাতিত হচ্ছে সে প্রেক্ষাপটে বাইডেন প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপের কথা ভাবছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট করসপন্ডেন্ট মুশফিকুল ফজল আনসারীর করা এই প্রশ্নের জবাবে মিলার জানান বাইডেন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির সর্বোচ্চগুরুত্বের তালিকায় রয়েছে গণতন্ত্রের বিকাশ।

বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে প্রত্যাশা ছিলো তার কথা উল্লেখ করে তিনি এই প্রতিবদেককে বলেন, বাংলাদেশে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্রিফিংয়ে নির্বাচন পূর্ব মুর্হূতে অবাধ এবং সুষ্ঠু নিয়ে "আমি এবং আপনি প্রায় সময়ই কথা বলেছি"।

ব্রিফিংয়ে মুশফিকুল ফজল আনসারী জানতে চান, "যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে পাঠানো এক বিবৃতিতে দেশটির তরফে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা জোরদার ও মানবাধিকার রক্ষায় জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বাংলাদেশ এখন কর্তৃত্ববাদী এক প্রধানমন্ত্রীর শাসন চলছে, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের অভাবে দেশটির জনগণ নির্যাতিত হচ্ছে, এরকম একটি পরিস্থিতি বাইডেন প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বিষয়টা কী খোলাসা করে বলবেন?"

জবাবে মিলার বলেন, "বাংলাদেশ ইস্যুতে বলছি, সুনির্দিষ্ট কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে সে বিষয়ে পর্যালোচনা করে বলার মতো কিছু আমার হাতে এখন নেই। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপের বাইরে আমরা যেটা স্পষ্ট করে বলেছি, প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেনের পররাষ্ট্রনীতির  সর্বোচ্চ গুরুত্বের তালিকায় রয়েছে গণতন্ত্রের বিকাশ। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সংলাপের সময় অব্যাহতভাবে এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে আমরা কথা বলে যাচ্ছি।"

তিনি আরও বলেন, "অবশ্যই যেটা না বললেই নয়, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকে সমানে রেখে প্রায় সময়ই আপনি (মুশফিক) এবং আমি এ ইস্যুতে কথা বলেছি। বিষয়টা ছিলো অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে। আমরা বাংলাদেশে একটি অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চেয়েছিলাম। বাংলাদেশে অবাধ, পূর্ণাঙ্গ এবং মুক্ত গণতন্ত্র বাস্তবায়নে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।"

শুক্রবার, ২২ মার্চ, ২০২৪

ভারতীয় পণ্য বর্জন ইস্যুতে মুখোমুখি আওয়ামী লীগ-বিএনপি

ভারতীয় পণ্য বর্জন ইস্যুতে মুখোমুখি আওয়ামী লীগ-বিএনপি


 

ভারতীয় পণ্য বয়কটের নামে বিএনপি বাজার ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। চাদর পোড়ানোসহ নেতাদের ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব আখ্যা দিয়ে কার স্বার্থে বিএনপি এমন আচরণ করছে, এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি। অপরদিকে নির্বাচনে ভারত আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করায় জনগণ দেশটির পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। আর তারা এই ডাকে সংহতি জানিয়েছে।

ভারতীয় পণ্য বয়কটের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) নিজের গায়ের ভারতীয় চাদর ছুড়ে ফেলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিএনপি নেতাদের এমন আচরণকে উগ্রতা ও পাগলামির পাশাপাশি কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত আখ্যা দেন তিনি। অভিযোগ করেন, ভারতীয় পণ্য বয়কটের নামে বিএনপি বাজার ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করতে চায়।


বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, একটা রাজনৈতিক দল কতটা দেউলিয়া হলে, কতটা উগ্র মানসিকতা সম্পন্ন অবিবেচক হলে, কতটা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত হলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে বয়কটের মতো কথা বলে। ভারতীয় পণ্য বয়কটের নামে বিএনপি বাজার ব্যবস্থাকে অস্থির করার গভীর ষড়যন্ত্র করছে।
বিএনপি কাকে খুশি করতে এমন আচরণ করছে- এমন প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, জনগণের স্বার্থরক্ষা করেই সরকার ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারতের গুরুত্ব তুলে ধরে সেতুমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে বাংলাদেশের চারপাশে প্রায় ভারত। একপাশে কেবল মিয়ানমার। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ভারতের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক আমাদেরই ক্ষতি করেছে সবচেয়ে বেশি। এখন ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেক ভালো।

রিজভীর চাদর পোড়ানো পাগলামি মন্তব্য করে কাদের বলেন, আওয়ামী লীগকে ভারতীয় এজেন্ট বলে সাম্প্রদায়িক আচরণ করেছে বিএনপি। আন্দোলনে পরাজিত হয়ে, নির্বাচনে না এসে যে ভুল বিএনপি করেছে তার জন্য এসব করছে। বিএনপির রাজনীতি এখন এলোমেলো। বিএনপি পথহারা পথিকের মতো দিশেহারা হয়ে যা খুশি বলছে ও করছে। বিএনপি আসলে কাকে খুশি করতে চাইছে-সেই প্রশ্ন তোলেন ওবায়দুল কাদের।

এদিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিতর্কিত দাবি করে বিএনপি নেতারা বলছেন, ভারত এই নির্বাচনে সরকারকে সহযোগিতা করেছে। আর তাই জনগণ ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছে। যাতে সংহতি জানিয়েছে বিএনপি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে আমরা দেখতে পাচ্ছি, জনগণ ভারতীয় পণ্য বর্জন করছে। আমরা এতে সংহতি প্রকাশ করছি।’

সব গণতান্ত্রিক দেশের কাছে ৭ জানুয়ারির নির্বাচন অগ্রহণযোগ্য দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ভারত এই নির্বাচনে সরকারকে সহযোগিতা করেছে। তাই জনগণ ভারতীয় পণ্য বয়কট করছে। ভারতীয় পণ্য বয়কটের আহ্বানে বিএনপির সংহতি অব্যাহত থাকবে।’

ফারুক বলেন, ‘চলমান রাজনৈতিক সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ডামি সরকার দেশের মানুষের অধিকার সংরক্ষণ করতে পারেনি। গণতন্ত্রের কথা মুখে বলে উল্টো গণতন্ত্র হরণ করছে তারা।’

জিয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনে শেষে নেতারা জানান,

মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০২৪

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে পুতুল সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে : সজীব ওয়াজেদ

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে পুতুল সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে : সজীব ওয়াজেদ


প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্য প্রমাণ করে তারা‘পুতুল সরকার’ প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক তিনি পেজে লিখেছেন,‘বাংলাদেশে যদি পুতুল সরকার ক্ষমতায় না আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের মতে, কোনো নির্বাচনই ত্রুটিমুক্ত নয়!’

বিগত কয়েক মাসে বেশ কয়েকজন পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি বাংলাদেশের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির পদক্ষেপকে প্রশ্নবিদ্ধ ও সমালোচনা করেছেন।

বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদদের ধারাবাহিক কলাম ও সংবাদ বিশ্লেষণে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে নবীন দেশটিকে ‘এককভাবে আলাদা’ করে ফেলার মনোভাব খুঁজে পেয়েছে।

ইসরায়েল ও গাজায় মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গিও দেশের অভ্যন্তরে এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে কারণ এটি গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবিতে জাতিসংঘের প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে, ইসরাইলকে সহায়তা করেছে এবং মানবাধিকার সম্পর্কে প্রচার অব্যাহত রেখেছে।

এর আগে ব্লুমবার্গের ‘বাইডেন’স ডেমোক্রেসি ক্রুসেড গো’জ এস্ট্রে ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক নিবন্ধে বলা হয়, ‘ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও বক্তৃতা যুক্তরাষ্ট্রকে অনেকের কাছে কেবল পক্ষপাতদুষ্ট ও স্বেচ্ছাচারী করে তুলছে।’

এমনকি ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ওপর মার্কিন ভিসা নীতি প্রয়োগ নিয়ে রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে বিদেশী কূটনীতিকের‘নজিরবিহীন আক্রমণ' বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের সদস্য ও সাংবাদিক নেতারা।

রবিবার, ১৭ মার্চ, ২০২৪

বাংলাদেশের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের মান ক্ষুণ্ন হয়েছে: এনডিআই-আইআরআই

বাংলাদেশের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের মান ক্ষুণ্ন হয়েছে: এনডিআই-আইআরআই


 বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ৭ই জানুয়ারির নির্বাচনের গুণগত মান বেশ কিছু কারণে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এর মধ্যে আছে- রাষ্ট্র, শাসক দল এবং বিরোধীদের সহিংসতা, নির্বাচনের আগে জিরোসাম রাজনীতি, রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সহিংসতার মনোভাব, নাগরিক স্বাধীনতার সংকোচন, বাক স্বাধীনতা ও সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতার অবনতি। বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত রিপোর্টে এসব কথা বলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) এবং ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)।

তারা আরও বলেছে, নির্বাচনে কার্যকর নির্বাচনী প্রতিযোগিতার অনুপস্থিতি ছিল। ক্ষমতাসীন দলকে সুবিধা দিতে অসম বিধি প্রয়োগ করা হয়েছে। বিরোধীদের দমন কর হয়েছে, যা ন্যায়সঙ্গত ছিল না। আইন প্রয়োগকারীদের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আছে। ভোট নিয়ে নারী ও দুর্বল গোষ্ঠী উচ্ছেদ আতঙ্কে ছিলেন। আর প্রতিশোধের ভয়ে মিডিয়া স্বেচ্ছা সেন্সরশিপ করেছে।

এ বিষয়ে তাদের টেকনিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট মিশন (টিএএম) চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলেছে, মিশন সদস্যরা দেখতে পেয়েছেন- ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময়ে, প্রচারণার সময়ে, নির্বাচনের দিন সহ অন্য সময়ে আগের নির্বাচনের তুলনায় শারীরিক ও অনলাইন সহিংসতা হয়েছে কম। তার বলেছে, দেশজুড়ে কার্যকর নির্বাচনী প্রতিযোগিতার অনুপস্থিতি ছিল। দ্বিতীয়ত নিরাপত্তায় সরকারের বাড়তি নজর ছিল।

এনডিআইয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক মনপ্রীত সিং আনন্দ বলেছেন, এই প্রতিবেদন ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের একটি মূল্যবান রোডম্যাপ হিসেবে অবদান রাখবে। অহিংস রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল, সরকার এবং নাগরিক সমাজসহ সামাজিক-রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নেতাদের নির্বাচনী রাজনীতির নিয়ম, অনুশীলন ও আইন সংস্কার করার প্রয়োজন আছে।

শনিবার এ বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিজস্ব ওয়েবসাইটে। এতে বলা হয়, এনডিআই এবং আইআরআই সারাবিশ্বে নির্বাচনী প্রক্রিয়াগুলোকে নিরীক্ষণের জন্য পর্যবেক্ষক ও কারিগরি বিশ্লেষক দল নিয়োগ করে। আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সুপারিশ করে।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনের আগে ৮ থেকে ১১ই অক্টোবর আইআরআই এবং এনডিআই একটি প্রাক নির্বাচন মূল্যায়ন (পিইএএম) সম্পন্ন করেছে। এই দলের সদস্য ছিলেন আইআরআইয়ের কো-চেয়ার বনি গ্লিক, এনডিআই কো-চেয়ার সাবেক ডেপুটি ইউএসএআইডি প্রশাসক; কার্ল এফ ইন্টারফারথ, দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মারিয়া চিন আবদুল্লাহ, মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক সদস্য; জামিল জাফর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাবেক সহযোগী কাউন্সেল; জোহানা কাও, আইআরআই সিনিয়র ডিরেক্টর, এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগ; এবং মনপ্রীত সিং আনন্দ- এনডিআইয়ের আঞ্চলিক পরিচালক, এশিয়া প্যাসিফিক।

রিপোর্টে আরও বলা হয়, পিইএম- নির্বাচন কমিশন, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার একাধিক মন্ত্রী ও অন্য সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক মহলের দলগুলোর নেতারা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, নাগরিক নির্বাচক পর্যবেক্ষক দলের নেতাসহ, সংসদের নারী সদস্য, যুব, প্রতিবন্ধী, ব্যক্তি এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সঙ্গে জড়িত সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি, মিডিয়া প্রতিনিধি, আইনি সম্প্রদায়ের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এবং কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। মিশন শেষে পিইএএম পাঁচটি সম্পাদনাযোগ্য প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশের নির্বাচনী অংশীজনদের জন্য সুপারিশগুলো শান্তিপূর্ণ পথে একটি রোডম্যাপ হিসেবে অনুসরণ করার জন্য স্বচ্ছ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন রয়েছে।

এর মধ্যে আছে ১) মধ্যপন্থি রাজনৈতিক বক্তৃতা, ২) মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা, ৩) অহিংসতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া, ৪) নির্বাচনে অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা এবং ৫) একটি অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ সৃষ্টি করা।

ফলাফল এবং অগ্রাধিকার সুুপারিশের সারসংক্ষেপ: রিপোর্টে বলা হয়েছে, অংশীজন প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করে যে- ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময়কাল, প্রচারের সময়কাল, নির্বাচনের দিনসহ অন্যান্য সময়ে, পূূর্ববর্তী নির্বাচনের তুুলনায় শারীরিক এবং অনলাইন সহিংসতা কম হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে বাংলাদেশ সরকার নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য বেশ কিছুু পদক্ষেপ নিয়েছে, নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য বাজেট বাড়ানো, দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিপুুলসংখ্যক নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করার জন্য অ্যাডহক সমন্বয় ইউনিট গঠন। তারপরও অনেক অংশীজন অভিযোগ করেছেন যে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে সুুবিধা দিতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিষেবা এবং বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান বারবার অসমভাবে নির্বাচনী বিধি প্রয়োগ করেছে। বিরোধী দলের সদস্যদের গ্রেফতার এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত বা ব্যাহত করার জন্য সরকারের প্রচেষ্টা সন্তোষজনক ছিল না, ন্যায়সঙ্গত ছিল না এবং এর ফলে নির্বাচনকালীন সময়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সম্পর্কে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের ধারণা তৈরি হয়েছিল।

বিরাষ্ট্রীয় ব্যক্তিদের দ্বারা নির্বাচনী সহিংসতা প্রথমত দুই ভাবে ঘটেছে। যার প্রথম রূপটি ছিল প্রার্থী এবং সমর্থকদের প্রতিযোগিতার মধ্যে। নির্বাচনী এলাকায় প্রচারাভিযান কেন্দ্রিক নির্বাচনী সহিংসতা যা সাধারণত আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ছিল, যদিও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক প্রার্থীদেরও টার্গেট করা হয়েছে। যেসব সহিংস ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে উল্লেখ্য ছিল সমর্থকদের গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ, প্রচার মিছিলে হামলা, প্রচার কার্যালয় ধ্বংস বা অগ্নিসংযোগ, মৌখিক হুমকি, এবং ভাংচুুর বা সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ।

সহিংসতার দ্বিতীয় রূপটি চালিত হয়েছিল বিরোধীদের বয়কট প্রচেষ্টার দ্বারা, যদিও বিরোধী দল ধারাবাহিকভাবে অহিংসার আহ্বান করেছে, নির্বাচন ঠেকাতে এর সমাবেশ, অবরোধ এবং ধর্মঘটের কৌশলের কথা বলেছে। তারপরেও অগ্নিসংযোগ, শারীরিক হামলা, ভাংচুুর, ভীতি প্রদর্শশন সহ সহিংসতা মাঝে মাঝে ঘটেছে এবং একজন পুুলিশ অফিসারের মৃত্যুও ঘটেছে। প্রাান্তিক গোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী এবং হিন্দুুরাও নির্বাচনী সহিংসতার সম্মুুখীন হয়েছে। প্রতিবেদন এবং অংশীজনদের প্রতিক্রিয়ায় পাওয়া যায় যে, নারীদের লক্ষ্য করে নির্বাচনী সহিংসতা অতীতের তুুলনায় কম ছিল। টিএএম দেখেছে যে বাংলাদেশের আইনি কাঠামো লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা সম্পূূর্ণভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে, বিশেষ করে নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে। এতে প্রতীয়মান হয় যে শীর্ষ পর্যায়ের রাজনীতিবিদ ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে এবং তাদের সক্ষমতা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

এই নির্বাচনে মহিলা প্রার্থীরা টিএএমকে বলেছেন যে, তারা অপমানিত হয়েছেন এবং জনসমক্ষে এবং অনলাইনে হুমকি, বিশেষ করে পুুরুষ প্রতিপক্ষ এবং তাদের অনুুগামীদের কাছ থেকে, এবং বলেছেন যে রাষ্ট্র কর্মকর্তারা তাদের অভিযোগের জবাব দেননি। অংশীজনরা আরও উল্লেখ করেছেন যে নারী ভোটার ও অন্য দুর্বল গোষ্ঠীর ভোটাররা ভোট দেয়ার জন্য অর্থনৈতিক চাপের সম্মুুখীন হয়েছিল, যার মধ্যে উচ্ছেদ বা রাষ্ট্রের কল্যাণমুুখী সুুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার হুমকি অন্তর্ভুুক্ত ছিল।

বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুুরাও উল্লেখযোগ্য নির্বাচনী সহিংসতার সম্মুুখীন হয়েছে। উপলব্ধ থাকাকালীন প্রতিবেদন এবং স্টেকহোল্ডারদের প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করে যে বিগত নির্বাচনের তুুলনায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুুদের লক্ষ্য করে নির্বাচনী সহিংসতা কম ছিল, হিন্দুু জনগোষ্ঠী এবারও উল্লেখযোগ্যভাবে ভীতি ও সহিংসতার সম্মুুখীন হয়েছে বিশেষভাবে প্রচারণার সময়ে।

সবশেষে, তথ্য প্রবাহে ভিন্ন প্রবণতা দেখা গেছে। বিশিষ্ট সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলিতে এবং ক্ষমতাসীন দল এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগ সম্পর্কের সমালোচনামূূলক বিবৃতি ও প্রতিবেদনের জন্য কিছুু জায়গা অন্তর্ভুুক্ত ছিল। যাই হোক, অংশীজনরা আরও উল্লেখ করেছেন যে সরকারের প্রতিশোধ নেয়ার ভয়ের ফলে মিডিয়া স্ব-সেন্সরশিপ করে।

শুক্রবার, ১৫ মার্চ, ২০২৪

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছেই, চাপে দিশেহারা ভোক্তারা

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছেই, চাপে দিশেহারা ভোক্তারা

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছেই, চাপে দিশেহারা ভোক্তারা

বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো পদক্ষেপই কাজে আসছে না। শুক্রবার নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে লেবু, শশা, ধনিয়া পাতা, টমেটোর দাম। বাজার ভেদে প্রতি ডজন লেবু বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২৪০ টাকায়। মানভেদে শশার কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা। দাম বাড়ার দৌড়ে আরও এগিয়েছে খেজুর। সব থেকে কম দামি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৫০০ টাকায়। ভালো মানের খেজুর ২৫০০ টাকা পর্যন্ত।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজানে চাহিদার শীর্ষে থাকা তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা কেজি দরে। সেই হিসেবে ছোট সাইজের একটি তরমুজ কমপক্ষে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা। ইফতারী সামগ্রী প্রস্তুতে ব্যবহৃত বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়।

ভরা মৌসুমে আলু জাত ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৫০ টাকায়। আর টমেটো বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকায়। বেড়েছে কাচা মরিচের দাম। প্রতিকেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আবহাওয়া খারাপ থাকায় গত সপ্তাহ থেকে সব ধরণের সবজির আমদানি কম। তাই সবজির বাজার চড়া।

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে চাপে থাকার কথা জানিয়ে কাওরান বাজারে বাজার করতে আসা ইউসুফ বলেন, বাইরের দেশ গুলোতে রমজান মাস আসলে সব ধরণের জিনিস পত্রের দাম কমে। আর আমাদের দেশেই মনে হয় রমজান মাস আসলে সব থেকে বেশি দাম বাড়ে। বাজারে সকল জিনিসের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও সবকিছুর দামই প্রায় বেড়েছে। আমাদের উপর চাপ অনেক বাড়ছে।

এদিকে বাজারে আমন ধানের চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও বিআর-২৮, পাইজাম, গুটি ও মিনিকেট চালের দাম গত তিনদিনের ব্যবধানে কেজিতে দুই টাকা করে বেড়েছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এর আগে ভোটের পরপর চালের দাম কেজিতে ৬ টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল। এরপর কিছুটা কমে মাস দেড়েক স্থিতিশীল ছিলো। এখন আবার মিল পর্যায়ে প্রতি বস্তা চালের দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। পাইকারি বিক্রেতাদের দাবি, তাদের কেনা দাম বেশি। অন্যদিকে মিলারদের দাবি, উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় ধানের দাম বেড়েছে।

ওদিকে গত সোমবার সরকার অতি সাধারণ মানের খেজুরের দাম প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকা এবং দেশে বহুল ব্যবহৃত জাইদি খেজুরের দাম প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও তার প্রভাব দেখা যায়নি। বেঁধে দেয়া দামে কেউ বিক্রি করছেন না এসব খেজুর। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি জাইদি খেজুর ২৮০ থেকে শুরু করে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অতি সাধারণ ও নিম্নমানের খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকায়। সাধারণ মানের খেজুর প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে ভালো মানের খেজুর এক হাজার থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৪

বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন হয়নি: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল

বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন হয়নি: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল

 তৃতীয় গণতন্ত্র সম্মেলন উপলক্ষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি বাইডেনের দুই বিশেষ সহকারি


বাংলাদেশের 'নির্বাচন' অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে নিজেদের অবস্থান জানান দিলো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল (এনএসসি)। দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠেয় তৃতীয় গণতন্ত্র সম্মেলনের প্রাক পর্যালোচনা উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংএ বাইডেন প্রশাসনের পক্ষে এমন অবস্থান ব্যক্ত করেন এনএসসিতে সংযুক্ত প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বিশেষ সহকারি এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক সিনিয়র পরিচালক ক্যালি রাজ্জুক। বুধবার ওয়াশিংটনের ফরেন প্রেস সেন্টারে আয়োজিত এই বিশেষ  ব্রিফিংএ আরও বক্তব্য রাখেন এনএসসি'র উপ-সহকারি এবং ইন্টিলিজেন্স এবং নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক সমন্বয়ক মাহের বিটার।

প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেট মুশফিকুল ফজল আনসারী জানতে চান- "সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষ তৃতীয় গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রণ পাচ্ছেনা বলে আমার ধারণা। আমার প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজনে বাইডেন প্রশাসনের যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও কেনো আমরা এই জালিয়াতির নির্বাচনের পর দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখছিনা? যেমনটি আমরা দেখেছি নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, গুয়েতামালা কিংবা কম্বোডিয়ার মতো দেশের বেলায়।" 

জবাবে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বিশেষ সহকারি ক্যালি রাজ্জুক বলেন, "আমি শীর্ষ সম্মেলনের আমন্ত্রণের প্রসঙ্গে কথা বলছিনা। কেনোনা এটি এবারের সম্মেলনের আয়োজক দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে সম্পন্ন হবে। কিন্তু নির্বাচন সম্পর্কে, আপনার প্রশ্ন সম্পর্কে, আমরা মতামত দিতে চাই, অন্যান্য পর্যবেক্ষকদের সাথে আমরা একমত যে – নির্বাচন অবাধ বা সুষ্ঠু হয়নি। এবং আমরা ব্যাথিত যে, সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। রাজনৈতিক বিরোধী দলের সদস্যদের গ্রেপ্তারের বিষয়েও আমরা উদ্বিগ্ন। সামনের দিকে অগ্রসর হতে একটি অবাধ এবং মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তুলতে অভিন্ন লক্ষে পৌঁছতে বাংলাদেশের সাথে অংশীদারিত্ব নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র। আমরা দুই দেশের জনগণের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে চাই এবং এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা বাংলাদেশ সরকারের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাবো।"

বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দাবিদার ভারতের গণতন্ত্র বিকাশে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন জানতে চেয়ে অপর এক প্রশ্নে মুশফিক বলেন, "আমরা দেশটিতে গণতন্ত্র - মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি হুমকির মুখে দেখছি।"  

জবাবে রাজ্জুক বলেন, "আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছি যে প্রতিটি গণতন্ত্র আলাদা এবং গণতন্ত্রের কোনো নীলনকশা নেই। আমরা স্পষ্টতই এই বিভিন্ন দেশের সাথে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেছি। আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনের উদ্দেশ্য- আমরা বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের উপর খুব মনোযোগী এবং কীভাবে আমরা সর্বোত্তম অনুশীলনগুলি ভাগ করে নিতে পারি এবং গণতন্ত্রকে সুদৃঢ়  করতে পারি। আমি ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, ২০২৪ সালটি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে নির্বাচনের বছর। এবং তাই আমরা খুব মনোযোগি যুবসমাজের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার দিকে, যাতে আমরা এই সমস্ত স্টেকহোল্ডারদের একত্রিত হতে দেখতে পারি এবং বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র বিকাশে  পরবর্তী পদক্ষেপে গ্রহণে শীর্ষ সম্মেলনে সেরা অনুশীলনগুলি ভাগ করে নিতে সক্ষম হই।"

প্রসঙ্গত, আগামী ১৮-২০ মার্চ কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের রাজধানী সিউলে বসছে তৃতীয় গণতন্ত্র সম্মেলন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন এই সম্মলেনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন। ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট বাইডেন আহুত প্রথম গণতন্ত্র সম্মেলন হতে গণতান্ত্রিক শাসন, মানবাধিকার রক্ষা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ গণতন্ত্রিক বিশ্বের  সরকার, সুশীল সমাজ এবং বেসরকারি পর্যায়ে শত শত নেতাদের একত্রিত করে আসছে।

তৃতীয় শীর্ষ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে স্পাইওয়্যারের অপব্যবহার প্রতিরোধের বিশ্বব্যাপি প্রচেষ্টা জোরদার।

নমরুদ-ফেরাউনও টিকে নাই, আওয়ামী লীগের ক্ষমতাও চিরস্থায়ী নয়: মির্জা আব্বাস

নমরুদ-ফেরাউনও টিকে নাই, আওয়ামী লীগের ক্ষমতাও চিরস্থায়ী নয়: মির্জা আব্বাস


 

একটা কথা মনে রাখতে হবে, নমরুদ, ফেরাউনও টিকে থাকতে পারে নাই। আওয়ামী লীগের ক্ষমতাও চিরস্থায়ী নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

রোজার প্রথম দিন মঙ্গলবার রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনের লেডিস ক্লাবে ইফতার মাহফিলে মির্জা আব্বাস এ কথা বলেন। আলেম ওলামা ও এতিমদের সম্মানে ইফতারের এ আয়োজন করে বিএনপি।


সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ নানা কারণে দেশের মানুষ ভালো নেই। একটা কথা মনে রাখতে হবে, নমরুদ ও ফেরাউনও টিকে থাকতে পারে নাই। এদের (আওয়ামী লীগের) ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, তবে চিরস্থায়ী নয়। পৃথিবীর কোনো স্বৈরশাসন টিকে থাকতে পারে নাই, পারবেও না।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শাসনামলেই প্রথম এতিমদের সঙ্গে ইফতার মাহফিল শুরু হয়। তিনি কমলাপুর মাদ্রাসায় গিয়ে ইফতার করেছিলেন। কিন্তু আজকে পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা একটি জায়গায় এতিমদের আমন্ত্রণ জানিয়ে ইফতার আয়োজন করছি। খালেদা জিয়া কারাবন্দি। আল্লাহ তাকে সুস্থ রাখুন।

ইফতার মাহফিলে দেয়া বক্তব্যে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, দেশের ক্ষমতা চিরদিনের জন্য যারা ধরে রাখতে চায়, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই- আমরা যতদিন আছি ততদিন বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে বেঁচে থাকবে। সুখে থাকবে।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, দলের কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল বারী ড্যানি, অমলেন্দু দাস অপু, ইকবাল হোসেন শ্যামল, বিএনপির চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ।
 
ইফতার মাহফিলে তেজগাঁও ইসলামি মিশন এতিম খানা ও শান্তিনগর মাদ্রাসার ছাত্ররা অংশগ্রহণ করেন।
সরকার বিদায় নিলেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আসবে: মঈন খান

সরকার বিদায় নিলেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আসবে: মঈন খান


 

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ সরকারের বিদায় না হওয়া পর্যন্ত জনগণের মুক্তি মিলবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। বলেন, একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসায় জনগণের কাছে জবাবদিহি নেই সরকারের।

বুধবার (১৩ মার্চ) সকালে রাজধানীর শাহজাহানপুরে সদ্য কারামুক্ত দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল আলম মজনুকে তার বাসায় দেখতে গিয়ে এ কথা বলেন ড. আবদুল মঈন খান।


তিনি দাবি করেন, ৭ জানুয়ারি সরকার তামাশার নির্বাচন করেছে যা জনগণ ভোট না দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সরকার জনগণের সঙ্গে বিদ্রুপ করছে। দেশের মানুষকে বাঁচাতে সরকার পতনের কোনো বিকল্প নেই।  

মঈন খান বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে দাবি আদায় করতে চায়। লগি-বৈঠার রাজনীতি বিএনপি করে না। কিন্তু ২৮ অক্টোবর সরকার ভীত হয়ে সমাবেশ পণ্ড করে দিয়েছে। এরপর ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে।
বিএনপি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না। জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরেয়ে দিতে চায় বলেও মন্তব্য করেন এই বিএনপি নেতা।

উপস্থিত দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, প্রতিটি নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন করেছে ক্ষমতাসীনরা। নির্যাতন করে আন্দোলন থামানো যাবে না। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত সরকারবিরোধী আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

আর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস বলেন, নির্বাচন হবে এবং ভোট দেবে জনগণ। সেই অধিকার ফিরিয়ে দিতে চায় বিএনপি। গত ১৫ বছর আমি ভোট দিতে পারিনি। ভোট দিতে চাই। অধিকার ফিরে পেতে চাই। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে আন্দোলন চলবে।
 
ক্ষমতাসীনদের পতনের বিকল্প নেই বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

বুধবার, ১৩ মার্চ, ২০২৪

বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই : হেলাল উদ্দিন

বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই : হেলাল উদ্দিন

 


বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদিন।

মঙ্গলবার রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বঞ্চিত অসহায় মানুষের মাঝে পবিত্র মাহে রমাদান উপলক্ষে সাহরি ও ইফতারির ফুড প্যাকেট বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য ও নিউমার্কেট থানা আমির মাওলানা মহিব্বুল হক ফরিদের সভাপতিত্বে প্রথম রামজানে এলাকার অসচ্ছল ও দরিদ্রদের মাঝে ফুড প্যাকেট উপহার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ আল আমিন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন থানা নায়েবে আমির বদরুল আলম, থানা সেক্রেটারি গোলাম সারোয়ারসহ নিউমার্কেট থানার কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদিন বলেন, রামজান মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম ও সহানুভূতির মাস। কিন্তু বর্তমান ফ্যাসিবাদী জালিম সরকার পবিত্র রমজান মাসেও রোজাদারদের ওপর গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির বোঝা চাপিয়ে রীতিমতো শোষণ, জুলুম ও নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার মদের ওপর ট্যাক্স কমিয়ে খেজুরের ওপর ট্যাক্স বাড়িয়ে মূল্য বৃদ্ধি করেছে। সরকারের মন্ত্রী প্রহসনমূলক বক্তব্য দিয়ে খেজুর না খেয়ে বরই দিয়ে ইফতার করার নসিহত করে রোজাদারদের সাথে হাসি-তামাশা করে চলেছে।

তিনি বলেন, দেশের অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষ দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে দু'বেলা খেয়ে পরে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সরকারের উচিৎ ছিল সকল শ্রেণির মানুষের জন্য ভর্তুকি দিয়ে হলেও পণ্যের দাম কমিয়ে দেয়া। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এ ব্যাপারে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। মূলত ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করায় জনগণের কাছে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।

তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।

তিনি আরো বলেন, অসহায় বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে ইসলামের সু-মহান আদর্শের ভিত্তিতে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। যেখানে মানুষ তার মৌলিক অধিকার ফিরে পাবে এবং মানবতার পাশে সকলে দাঁড়াবে। জামায়াতে ইসলামী এদেশকে একটি সুখী সমৃদ্ধ ও কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যবধি দেশের প্রতিটি দূর্যোগ ও সঙ্কটে বঞ্চিত অসহায় মানুষের পাশে থেকে তাদের মানবিক সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রমজান মাস আসার আগে থেকেই আমরা রাজধানীতে বসবাসরত সুবিধা বঞ্চিত অসহায় মানুষের পাশে থাকার জন্য আমাদের সীমিত সামর্থ নিয়ে এগিয়ে এসেছি। আগামী দিনেও আমাদের এই কল্যাণকামী কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

খিলগাঁও এ রমজানের ফুড প্যাকেট বিতরণ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের খিলগাঁও দক্ষিণ থানার উদ্যোগে আজ পবিত্র মাহে রমাদান উপলক্ষে সাহরি ও ইফতারের ফুড প্যাকেট উপহার প্রদান করা হয়। ফুড প্যাকেট উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবু ফাহিম।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য ও খিলগাঁও দক্ষিণ থানা আমির সাজেদুর রহমান শিবলীর সভাপতিত্বে ফুড প্যাকেট উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য ও সহকারী প্রচার সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন। থানা সেক্রেটারি খোরশেদ আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য জহিরুল হক সেলিম, মো: আব্দুল্লাহ, আবিদুর রহমান, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

শাহজাহানপুরে সেহরি ও ইফতারের ফুড প্যাকেট বিতরণ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের শাহজাহানপুর পুর্ব থানার উদ্যোগে প্রথম রমজানে এলাকার অসচ্ছল ও দরিদ্রদের মা‌ঝে সেহরি ও ইফতারের ফুড প্যাকেট উপহার প্রদান করা হয়েছে।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপ‌স্থিত থেকে এই ফুড প্যাকেট উপহার প্রদান করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক ও মতিঝিল শাহজাহানপুর জোনের সহকারী পরিচালক আশরাফুল আলম ইমন। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিশে শূরা সদস্য ও শাহজাহানপুর থানা সেক্রেটারি সারোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে : আপিল বিভাগ

রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে : আপিল বিভাগ


পবিত্র রমজান মাসে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ কে এম ফয়েজ।

এর আগে সোমবার (১১ মার্চ) রমজানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত না করে বিষয়টি আপিল বিভাগে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন চেম্বার আদালত। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন। এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ কে এম ফয়েজ।

শুনানিতে এ কে এম ফয়েজ বলেন, রমজান মাস পবিত্র মাস। করোনার সময় দুই বছর সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। রমজানে ১০-১৫ দিন স্কুল বন্ধ রাখলে পড়ালেখার কোনো ক্ষতি হবে না। বরং খোলা রাখলে যানজটের সৃষ্টি হবে, অভিভাবকরা সমস্যায় পড়বেন। এ ছাড়া স্কুল বন্ধ রাখতে অভিভাবকরা বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন করে যাচ্ছেন।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, স্কুল খোলা রাখা সরকারের পলিসির বিষয়। হাইকোর্ট এখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। সোমবার সকালে রমজানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

এর আগে গেল ১০ মার্চ রমজান মাসজুড়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল খোলা রাখা সংক্রান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন হাইকোর্ট। এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ১০ মার্চ বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মাহমুদা খানম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মো. সাইফুজ্জামান।

প্রসঙ্গত, ৮ ফেব্রুয়ারি ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি আংশিক সংশোধন করে রমজানে ১৫ দিন মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানায়, রমজানে ১০ দিন ক্লাস চলবে। তাদের এমন সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক।

বাংলাদেশে শ্রম আইনের সংস্কারের স্বার্থে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার তাগিদ

বাংলাদেশে শ্রম আইনের সংস্কারের স্বার্থে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার তাগিদ


বাংলাদেশে শ্রম আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। এ জন্য সরকার ও অংশীজনদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

আইএলওর পথনকশা অনুযায়ী শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের পেশ করা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটির খসড়া পর্যবেক্ষণে এমন মতামত উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আইএলওর চলতি ৩৫০তম অধিবেশনে বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল আইএলওর পথনকশা অনুযায়ী কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা তুলে ধরবে। জেনেভায় অনুষ্ঠেয় ওই আলোচনায় বিশ্লেষণ করা হবে শ্রম অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি।

আইএলওর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অধিবেশনটি শুরু হয়েছে ৪ মার্চ। চলবে ১৪ মার্চ পর্যন্ত। চলতি অধিবেশনে মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশ গত ২৯ জানুয়ারি আইএলওর কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে বলা হয়, ৭ জানুয়ারির নির্বাচন ও এর আগে শ্রম আইনে যে সংশোধনটি আনা হয়েছিল, তা কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে বিলটি ফেরত পাঠান রাষ্ট্রপতি। তাই বিলটি পাস হয়নি। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে শ্রম আইনের বিলটি পাস হবে বলে সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

অবশ্য গত ৩০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৫ মার্চ দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়েছে। বর্তমান জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রস্তাবিত শ্রম আইনের বিল উত্থাপিত হয়নি।

আইএলও বাংলাদেশের উপস্থাপিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। ৮ মার্চ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই পর্যবেক্ষণে আইএলও বলেছে, সামগ্রিকভাবে ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে আইএলওর কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে জোরালো অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে। শ্রম আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে সরকার ও অংশীজনদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা এগিয়ে নিতে হবে। প্রয়োজনে আইএলওর কারিগরি সহায়তা এবং মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

আইএলওর কাছে দেওয়া প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বলেছে, আইএলওসহ সংশ্লিষ্টদের সুপারিশ অনুযায়ী বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করে। সেই অনুযায়ী শ্রম আইন সংশোধনের বিলটি শুরুতে মন্ত্রিসভা ও পরে বিগত সরকারের সংসদের শেষ অধিবেশনের মাধ্যমে পাস করানো হয়। এরপর বিলটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। তবে রাষ্ট্রপতি কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে বিলটি ফেরত পাঠান।

এরপর ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন সরকার শ্রম আইন সংশোধনপ্রক্রিয়া শুরু করে। রাষ্ট্রপতির সুপারিশ ও আইন পর্যালোচনা কমিটির আলোচনার পর গত ২৩ জানুয়ারি শ্রম আইনের সংশোধনে আরও সংস্কার এনে চূড়ান্ত করা হয়। চূড়ান্ত সংশোধনটি জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদের (এনটিসিসি) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি এনটিসিসি অনুমোদন দিলে তা মন্ত্রিসভায় তোলা হবে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বলেছে, শ্রম অধিকার ও নিরাপত্তাসহ শ্রম খাতের সংস্কার নিয়ে ২০২১-২০২৬ সালের পথনকশা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক। এ খাতের প্রশাসনিক, আইনি ও নীতিগত সংস্কারগুলো নিয়ে সাম্প্রতিক অগ্রগতির প্রতিবেদন ইতিমধ্যে সরকার জমা দিয়েছে। এ সংস্কার অগ্রগতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, মজুরি, দক্ষতার উন্নয়ন এবং শ্রমকল্যাণ। সম্প্রতি আইএলওর পরিচালনা পরিষদের বৈঠকে তাতে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সরকারের সময়মতো গৃহীত এসব উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে।
সরকারের দেওয়া পথনকশায় আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারগুলো জড়িত। এর সঙ্গে আইন বাস্তবায়ন ছাড়াও প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য বিষয়ও রয়েছে। এতে প্রধান চারটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো শ্রম আইনের সংস্কার, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন, শ্রম পরিদর্শন ও আইন প্রয়োগ এবং অন্যায্য শ্রমচর্চা, শ্রমিকের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ট্রেন ইউনিয়নের বিষয়ে বৈষম্য।

আইএলও চাইছে যে শিল্পকারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে শ্রমিকদের নিবন্ধনের হার ১০ শতাংশ করা হোক। তবে এ ক্ষেত্রে শ্রমিক ও মালিকপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে যা সিদ্ধান্ত নেবে, তা বাস্তবসম্মত হিসেবে মনে করে সরকার। ট্রেন ইউনিয়ন গঠন, শ্রম পরিদর্শন, সমাবেশের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলোতে আইএলও এখনো সন্তুষ্ট হতে পারেনি। তবে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে এগুলো সংস্কারে জোর দিয়ে আসছে সংস্থাটি। বাংলাদেশ শ্রম আইন সংস্কারে যেসব প্রতিশ্রুতি করেছে, তার সবগুলোর অগ্রগতি আগামী ৩৫২তম অধিবেশনে দেখতে চায় আইএলও।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আইএলওর এবারের শুনানিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বাংলাদেশ। কারণ, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে সরকারের প্রতিশ্রুত পথনকশার অনেক কিছুই এখনো পালন করতে পারেনি। এ বিষয়গুলো আইএলওকে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে ২০২৬ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী শ্রম আইন সংশোধনের সবকিছুই করবে বাংলাদেশ, সেই প্রতিশ্রুতিতে এখনো অটল রয়েছে।

বাংলাদেশের দেওয়া প্রতিবেদনে, সরকার শ্রম খাতের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন সহজীকরণ, অনলাইনে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন, শ্রম পরিদর্শক নিয়োগ, আরও শ্রম আদালত গঠন, হেল্পলাইন স্থাপন, পুরোনো মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি, সচেতনতা বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অগ্রগতিগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

মঙ্গলবার, ১২ মার্চ, ২০২৪

পণ্য বয়কট প্রচারণা নজরে এসেছে, ক্রেতার পছন্দের বিষয়ে মন্তব্য নয়: মুখপাত্র মিলার

পণ্য বয়কট প্রচারণা নজরে এসেছে, ক্রেতার পছন্দের বিষয়ে মন্তব্য নয়: মুখপাত্র মিলার

 'ড. ইউনূস প্রসঙ্গে পিটার হাসের মন্তব্য যথাযথ'

বাংলাদেশে চলমান 'ভারতীয় পণ্য বয়কট' প্রচারণা  যুক্তরাষ্ট্রের নজরে এসেছে উল্লেখ করে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ক্রেতাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো মন্তব্য করবেনা।

সোমবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফ্রিংয়ে বাংলাদেশে চলমান 'ভারতীয় পণ্য বয়কট' কর্মসূচি প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার।

নোবেলজয়ী ড. ইউনূসকে সমর্থন জানিয়ে কথা বলায় যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবি যে দাবি জানিয়েছেন সে প্রসঙ্গে মিলার বলেন, সোজা কথায় বলতে গেলে, রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ড. ইউনূস প্রসঙ্গে যে মন্তব্য করেছেন সেটা তিনি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একজন শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি হিসাবে নিজ দেশের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করেছেন।

ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করার সময় মিলারকে পবিত্র রমজান মাসের শুভেচ্ছা জানান স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেন্ট মুশফিকুল ফজল আনসারী।

রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে উদ্দেশ্য করে দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবির মন্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুশফিক জানতে চান, "ম্যাথিউ, আপনাকে পবিত্র রমজান মাসের শুভেচ্ছা। আজ রমজানের প্রথম দিন। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সমর্থন করে কথা বলায় বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। আপনি জানেন যে, সরকার রাজনৈতিক কারণে ইউনূসকে হয়রানি করছে এবং সরকারের এরকম আচরণের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ক্রমাগত প্রতিবাদ জানিয়ে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে। এ বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী?"

জবাবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রধান মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, "আপনি যে মন্তব্যের কথা বলেছেন (পিটার হাসের মন্তব্য) এবং প্রশ্ন করেছেন সে বিষয়ে, অর্থাৎ মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো নিয়ে আমাদের উদ্বেগের জায়গাগুলো নিয়ে এর আগেও কথা বলেছি। আমরা মনে করি যে, বাংলাদেশে প্রয়োগ করা আইনের মাধ্যমে হয়রানি, হুমকি  এবং ভীতি প্রদর্শনে এসব আইনের অপব্যবহার হতে পারে। সোজা কথায় বলতে গেলে, পিটার হাস ড. ইউনূস প্রসঙ্গে যে মন্তব্য করেছেন সেটা তিনি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একজন শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি হিসাবে নিজ দেশের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করেছেন।"

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় 'ইন্ডিয়া আউট' কর্মসূচি তীব্রতর হবার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে মুশফিক জানতে চান, "গণমাধ্যমের রিপোর্ট বলছে, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে 'ইন্ডিয়া আউট' কর্মসূচি ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে। বাংলাদেশে জালিয়াতির নির্বাচনের পর দেশটির জনগণ ভারতীয় পণ্য বয়কটের প্রচারণা শুরু করেছে। তাদের অভিযোগ ভারতের ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষ  শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে অদৃশ্যভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে আপনারা কীভাবে দেখছেন?"

জবাবে মিলার বলেন, এমন কর্মসূচির প্রচারণার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। একজন ক্রেতা কী সিদ্ধান্ত নিবেন, সেটা নিয়ে স্পষ্টতই আমি কোনো মন্তব্য করবোনা, সেটা বাংলাদেশ কিংবা বিশ্বের যেকোনো দেশের ক্ষেত্রে । বাংলাদেশ এবং ভারত উভয়ের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মূল্যায়ন করি। একটি মুক্ত, নিরাপদ এবং সমৃদ্ধ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের লক্ষ্যে দুই দেশের সরকারের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।"

শনিবার, ৯ মার্চ, ২০২৪

২০২৪ সালের সংসদীয় নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট দিলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন

২০২৪ সালের সংসদীয় নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট দিলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন


২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনের ফলাফল সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মিশন।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচন কিছু গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার যার মধ্যে সমাবেশ, সমিতি, আন্দোলন, এবং বক্তৃতা অন্তর্ভুক্ত -এগুলো প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য হলেও বাংলাদেশের নির্বাচনের ক্ষেত্রে তা সীমাবদ্ধ ছিল। বিচারিক কার্যক্রম এবং গণগ্রেপ্তারের মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক দলগুলোর আসন ভাগাভাগি চুক্তি এবং আওয়ামী লীগের নিজস্ব প্রার্থী ও দলের সাথে যুক্ত 'স্বতন্ত্র প্রার্থীদের' মধ্যে প্রতিযোগিতা ভোটারদের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়নি। মিডিয়া এবং সুশীল সমাজও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ছিল না, সমালোচনামূলক পাবলিক বিতর্কও সীমিত ছিল। ১২তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাংবিধানিক সময়রেখা মেনে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দল টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিলো । এই নির্বাচন ছিল একটি অত্যন্ত মেরুকৃত রাজনৈতিক পরিবেশে পরিচালিত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তার জোট শরিকরা নির্বাচন বয়কট করায় সত্যিকারের প্রতিযোগিতার অভাব ছিলো। বিরোধীরা সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচন পরিচালনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানিয়েছিলো, যা প্রত্যাখ্যান করা হয়।

প্রাক-নির্বাচনকালীন সময়ে বিরোধী দলের ধারাবাহিক বিক্ষোভের অংশ হিসেবে ব্যাপক সহিংসতা ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর গুরুতর রূপ নেয়।

পরবর্তীতে বিএনপি নেতাদের গণগ্রেপ্তার ও আটকের ফলে দেশের নাগরিক ও রাজনৈতিক পরিবেশের উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়। নির্বাচনের পুরো সময় জুড়ে বিরোধী দলগুলোর সমাবেশ, সমিতি, আন্দোলন এবং বক্তৃতার স্বাধীনতা কঠোরভাবে সীমিত করা হয়। গ্রেপ্তার এড়িয়ে যে কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষমতা বিএনপির পক্ষে অসম্ভব ছিল কারণ প্রায় সব সিনিয়র নেতৃত্বকে কারাবন্দি করা হয়। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঠেকাতে ফৌজদারি অভিযোগ গঠন ব্যাপকভাবে একটি কৌশলের অংশ হিসাবে অনুভূত হয়েছে। বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক আচরণের জন্য মৌলিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার অপরিহার্য, যা বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক চুক্তিতে বলা আছে। কিন্তু এই অধিকারগুলো ক্ষুণ্ন করা হয় আইন দ্বারা যা অযথা বাক স্বাধীনতার অধিকারকে সীমাবদ্ধ করে।

সমান ভোটাধিকারের নীতিকে পুরোপুরি সম্মান করা হয়নি। বিদ্যমান আসনের সীমানা নির্ধারণের ভিত্তিতে সংসদীয় আসন প্রতি ভোটার সংখ্যায় তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ন্যূনতম আইনি প্রয়োজনীয়তা মেনে চলে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ তার আইনি আদেশের এখতিয়ারের মধ্যে ছিলো এবং লজিস্টিক প্রস্তুত ছিল। তবে কমিশনের ব্যাপক ক্ষমতা থাকলেও আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল। তাই তারা একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দিতে সক্ষম হয়নি বলে মনে করে কিছু স্টেকহোল্ডার । তাদের ধারণা, ভোটদান এবং গণনা প্রক্রিয়ার সময় কমিশনের স্বাধীন মর্যাদা সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত করা হয়নি। স্টেকহোল্ডারদের মতে, ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছে যার ফলে নিয়মিত আপডেট এবং ডেটা মিলেছে। ১ জানুয়ারি ২০২৩ এর মধ্যে যারা ১৮ বছরে পৌঁছায়নি তারা এই নির্বাচনে ভোট দিতে অযোগ্য ছিলেন।

ফলস্বরূপ, ২০২৩ সালে ১৮ বছর বয়সে পৌঁছেছেন এমন ব্যক্তিদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানোর অযোগ্যতার কিছু কারণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। অযথাই প্রার্থীদের অধিকারকে সীমিত করা হয়। নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশ যেমন আন্দোলন এবং বক্তৃতার স্বাধীনতার উপর ব্যাপক সীমাবদ্ধতার প্রতিফলন ঘটে। যার ফলে একটি সম্পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের অভাব ছিলো। নির্বাচনী প্রচারের সময়কাল অতিমাত্রায় নির্দেশমূলক আইনি বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল। আওয়ামী লীগই ছিল একমাত্র রাজনৈতিক দল যে বৃহৎ প্রচার র‍্যালিসহ যেকোনও উল্লেখযোগ্য জনসাধারণের কার্যক্রম সংগঠিত করতে পেরেছে।

প্রার্থীদের উপর প্রচারণা ব্যয়ের সীমা আরোপ করা হয়েছিল। আর্থিক সীমা অবশ্য ছিল খুব কম এবং প্রচার কার্যক্রম ছিল সীমিত। এটি ব্যয়ের আন্ডার রিপোর্টিংকেও উৎসাহিত করেছে এবং প্রার্থীরা তাদের প্রচারণার জন্য তহবিল দেয়ার নিয়ম এড়িয়ে গেছেন। অনলাইন বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণকারী-সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ বিশেষ করে মিডিয়া এবং অনলাইনে বাকস্বাধীনতার উপর এর প্রভাবের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে। পূর্ববর্তী আইনে কিছু প্রান্তিক উন্নতি সত্ত্বেও তা আন্তর্জাতিক মানের হয়নি। অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অস্পষ্ট বিধানগুলি অযৌক্তিকভাবে অনলাইনে সীমাবদ্ধ করে।

সংসদে নারীরা কম প্রতিনিধিত্ব করে এবং জনজীবন ও নির্বাচিত পদে পূর্ণ অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে চলেছে। মাত্র ২০ জন নারী নির্বাচিত হয়েছেন; এটাই সংসদে সরাসরি নির্বাচিত আসনের ৬.৬ শতাংশ। আরও ৫০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের অনুপাতের উপর ভিত্তি করে। অসামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবহারের ফলে উল্লেখযোগ্য চাপ এবং স্ব-সেন্সরশিপ হয়েছে এই সেক্টরে। অভ্যন্তরীণ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে স্বচ্ছতার অভাব ভোটকেন্দ্রের স্তর ক্ষুণ্ন করেছে। নির্বাচনের কোনো স্বাধীন মূল্যায়ন নির্দলীয় নাগরিক সমাজ দ্বারা পরিচালিত হয়নি ।

প্রাক-নির্বাচনের আবেদনগুলো সবই প্রার্থী মনোনয়ন সংক্রান্ত ছিল। প্রার্থী প্রথমে নির্বাচন কমিশনে এবং পরে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারেন। এগুলো মোকাবিলা করা হয় দ্রুতগতিতে। যদিও আন্তর্জাতিক অধিকার পূরণে কিছু ত্রুটি ছিল। বেশ কয়েকজন মন্তব্য করেছেন যে এর জন্য খুব কম সময় দেয়া হয়েছে। এই মামলা নিষ্পত্তির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়া হয়নি। কেউ কেউ মনে করেন, আদালত কিছু অসামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যার দ্বারা কিছু নির্দিষ্ট মানুষ উপকৃত হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতিও আস্থার অভাব ছিল। প্রচারণা এবং নির্বাচনের দিন আদর্শ আইন এবং আচরণবিধি প্রয়োগ অসঙ্গত ছিল। রিপোর্ট করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন এগুলোকে অযথা নম্রভাবে মোকাবেলা করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে কঠোরতা দেখিয়েছে।

সাধারণভাবে সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নির্বাচনের দিন সহিংসতার বিচ্ছিন্ন ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। ব্যালট বাক্স ভর্তি এবং জালিয়াতির প্রচেষ্টাসহ নির্বাচন কমিশনে স্থানীয় প্রার্থীরা ভোটে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন । এর মধ্যে কয়েকটির তাতক্ষণিকভাবে মোকাবিলা করা হয়েছিল। ২৫টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। তবে অন্যান্য ঘটনা অবহেলিত ছিল এবং পর্যাপ্তভাবে তদন্ত করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটের হার ছিল ৪১.৮ শতাংশ। এটাই সারা দেশে ব্যাপক বৈষম্যের চিত্র প্রদর্শন করে। চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ফলাফল অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল প্রার্থীরা ২২৩টি আসন, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২টি, জাতীয় পার্টি পায় ১১টি আসন। আসন ভাগাভাগির চুক্তিতে আরও দুটি দল একটি করে আসন পেয়েছে। চূড়ান্ত আসনটি কল্যাণ পার্টি জিতেছে।

নির্বাচনী কিছু এলাকায় উন্নতির জন্য কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হলো -

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ সহ সংসদীয় সম্পর্কিত সমস্ত আইন, প্রবিধান এবং বিধিগুলোর একটি ব্যাপক পর্যালোচনা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের আইনি নিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনার বোর্ড নিয়োগের ব্যবস্থা যোগ্যতাভিত্তিক ও স্বাধীন নিয়োগের মাধ্যমে হওয়া উচিত। যা জনস্বার্থে কাজ করার লক্ষ্যে কমিশনের হাত শক্তিশালী করবে। সর্বোত্তম অনুশীলনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ একটি স্বাধীন প্যানেল বিষয়টি তত্ত্বাবধান করতে পারে।

বাকস্বাধীনতার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বিধান মেনে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট, ২০২৩-এর বিধানগুলির পর্যালোচনা করতে হবে। অস্পষ্ট এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিধিনিষেধগুলি সরানো যেতে পারে।

সুশীল সমাজ যাতে নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য বিদেশি অনুদান (স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম) আইনের বিধান, ২০১৬ এর সীমাসহ সুশীল সমাজের কার্যক্রম এবং অতিমাত্রায় এর ওপর আমলাতান্ত্রিক নিবন্ধনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

ভোট ও গণনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য বর্ধিত সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা যেতে পারে। তার জন্য ভোট কেন্দ্রের আশেপাশে রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের উপর সম্পূর্ণ স্থগিতাদেশ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সোমবার, ৪ মার্চ, ২০২৪

সরকারের দুর্নীতি প্রতিরোধ ও ভারতীয় পণ্য বয়কটের আহ্বান ১২ দলীয় জোটের

সরকারের দুর্নীতি প্রতিরোধ ও ভারতীয় পণ্য বয়কটের আহ্বান ১২ দলীয় জোটের


 সরকারের দুর্নীতি প্রতিরোধ ও ভারতীয় পণ্য বয়কটের আহ্বান জানিয়ে লিফলেট বিতরণ করেছে ১২ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ।

আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে পলওয়েল মার্কেট ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ‘ভারতীয় পণ্য বর্জন ও আগ্রাসন প্রতিরোধে রুখে দাঁড়ান’ শীর্ষক লিফলেট বিতরণকালে জোটের শীর্ষ নেতারা এসব কথা বলেন। এসময় তারা মার্কেটের দোকানদার, পথচারী ও সাধারণ মানুষের হাতে লিফলেট তুলে দেন।

লিফলেটে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার গায়ের জোরে ভোট চুরির মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করে আসছে। তারা লুটপাট করতেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়িয়েছে। এই সিন্ডিকেট সরকারকে ‘না’ বলুন। একইসাথে সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা, বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সহ বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে ভারতীয় পণ্য বর্জনের আহ্বান জানানো হয়।

১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বলেন, গুম, খুন ও ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা জবরদখলকারী আওয়ামী লীগ সরকার আরো বেশি মাত্রায় দুর্নীতি করার লক্ষ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষের পকেট কেটে সরকারি দলের লোকজন বিত্ত বৈভবের মালিক হচ্ছেন। তাদের লুটেরা সিন্ডিকেটের কারণে দ্রব্যমূল্য লাগামহীন বাড়ছে। আর সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।

তারা বলেন, প্রতিবেশী দেশের ইন্ধনে আওয়ামী লীগ আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এমতাবস্থায় দেশ ও জনগণের স্বার্থে অবিলম্বে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটাতে হবে। একইসাথে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সহ নিত্যপণ্যের বর্ধিতমূল্য প্রত্যাহার এবং ভারতীয় পণ্য বর্জনের আহ্বান জানান ১২ দলের শীর্ষ নেতারা।

লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, জাতীয় পার্টির মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার নোয়াব আলী আব্বাস খান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সিনিয়র সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল করিম, বাংলাদেশ এলডিপির অতিরিক্ত মহাসচিব তমিজ উদ্দিন টিটু , জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন প্রধান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আবু হানিফ, বাংলাদেশ জাতীয় দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুল আহাদ, জামিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি জাকির হোসেন, ইসলামী ঐক্য জোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা শওকত আমিন, লেবার পার্টির যুগ্ম মহাসচিব শরিফুল ইসলামসহ জোট নেতৃবৃন্দ।

এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নেতারা বলেন, গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচনের নামে এক অদ্ভুত নাটক মঞ্চায়িত হয়েছে। ভারতের মতো একটি আগ্রাসনবাদী শক্তি এই সরকারের মদদ যোগাচ্ছে। এ কারণে আমাদের সামনের দিনের আন্দোলন আরো সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে বিবেচনায় নিতে হবে। বস্তুতপক্ষে আওয়ামী লীগ সীমান্তের ওপার থেকে নিয়ন্ত্রিত।

তারা আরো বলেন, আন্তর্জাতিক টানাপোড়নের মধ্যে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ায় যে খেলা শুরু হয়েছে। তার মধ্যে এত সহজে এই খেলায় কারো ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যাবে, তা আমি বিশ্বাস করি না। এ কারণে আমাদের একটা দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

তারা বলেন, প্রতিবেশী দেশের আগ্রাসনে বাংলাদেশের বৃহৎ শিল্প, চিনি শিল্প, চামড়া শিল্প ধ্বংস হয়ে গেছে। গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংসের উপক্রম। আমি সবাইকে আহ্বান জানাব, তাদের পণ্য বর্জনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গণজাগরণ সৃষ্টি করুন।

শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, প্রতিবেশী দেশ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে গণতন্ত্রবিহীন সরকার ব্যবস্থা কায়েম করেছে। আমরা রক্ত দিয়ে কেনা স্বাধীনতা কারো হাতে তুলে দিতে পারি না। এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমরা সবাই তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব। তাদের পণ্য কিনব না। জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব, ইনশা আল্লাহ।

জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত আমাদের বাংলাদেশকে করদ রাজ্যে পরিণত করেছে। সিকিম বানানোর চক্রান্ত চলছে। সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের পাখির মতো গুলি চালিয়ে হত্যা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ তাদের বিরুদ্ধে বয়কটের ডাক দিয়েছে। তারা কখনো বাংলাদেশকে সিকিম হতে দিবে না।

তিনি বলেন, ইনশা আল্লাহ আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে ভারতের এই পুতুল সরকারের পতন ত্বরান্বিত করব এবং ভারতীয় আগ্রাসন প্রতিরোধ করব। আমাদের আন্দোলন চলছে এবং অব্যাহত থাকবে।